somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমস্যা কি মেয়েদের পোশাকে, নাকি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীতে?

১১ ই জুন, ২০১৫ রাত ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। নেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন।
“মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোষাকে ঘুরবে?”

গাড়িতে দুই মহিলার সাথে আলাপকালে তারা জানায়, সমস্যা আমাদের পোষাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই মহিলা যাত্রী। আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন। “বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে”
বাসে উঠলেন এক বোরকা পড়া মহিলা। তার কন্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। “আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোষাক পরি, তাহলে ছেলেরা এরকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোষাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এরকম ঘটতো না।”
আসলেই কি তাই? বোরকাই কি তাহলে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়?


রাস্তাঘাটে এরকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না ।

শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি। আমরা কেবল ধর্ষনকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা----এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে। মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব।

এ কথা কেও অস্বীকার করতে পারবে না যে, আমরা মোর অর লেস সেলফিস। সবাই আমরা নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভালবাসি। নিজের জন্য কাজ করি। স্নীয় উন্নতি করতে চাই।

বৈজ্ঞানিকরাও বলে থাকেন যে, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ জেনেটিকেলি কিছুটা স্বার্থপর।

নারীর প্রতি সহিংসতা বাংলাদেশে কোন নতুন জিনিস নয়। যুগ যুগ ধরে নারীরা নিষ্পেষিত হচ্ছে। পূর্বে যেহেতু অর্থনৈতিক কাজে নারীর অংশগ্রহণ ছিল কম, তাই সে নির্যাতিত হতে ঘরের ভেতর। আর বর্তমানে গৃহের ভেতর ও বাইরে উভয় স্থানে সমান ভাবে সে নির্যাতিত হচ্ছে। ভারতে যখন নির্ভয়া নির্যাতিত হল তখন সারা দেশ ফুসে উঠেছিল। প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল মুম্বাই থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত।

অথচ প্রায় একি ঘটনা যখন আমাদের দেশে কুড়িলে যমুনা ফিওচার পার্কের সামনে ঘটল তখন প্রতিবাদ যেন দায়সারা। প্রতিবাদ করতে হয় তাই প্রতিবাদ। কারণ ওই যে মানবের চরিত্র।

যখন আমরা শুনেছি যে নির্যাতিতা একজন সেলস গার্ল, গারো, ধর্ম বিশ্বাসে খ্রিস্টান এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সে গরীব। তখন আমরা একটু স্তিমিত হয়ে গেছি। আমাদের প্রতিবাদ সত্তা জেগে উঠেনি। কারণ নির্ভয়ার মত সে ধনীক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে না কিংবা উচ্চশিক্ষিত নয় সে। তাই আমাদের ছাত্রী, কর্মজীবী কিংবা হিন্দি সিরিয়াল দেখা গৃহ বধুরাও প্রতিবাদে ফেটে পড়েনি। একজন গারোর মাঝে আর যাই হোক নিজেকে খুজে পাওয়া যায় না!!!!!আর গার্মেন্টস কর্মী, সেলস গার্লরা নির্যাতিত হতেই পারে। এতে এত হতবাক হবার কি আছে??? যেহেতু সমাজের উচ্চ শ্রেণীর বিশেষ আগ্রহ নেই, তাই ব্রেকিং নিউজ খোজা মিডিয়াও নতুন কোন বাণিজ্যের পরসা খুঁজে পায় নি।

আগেই বলেছিলাম যে আমরা জিনগত ভাবেই স্বার্থপর। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোন কিছুর মর্মার্থ অনুধাবণ করতে বেরথ হয় যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা শিকারে পরিণত না হই। আমরা অন্যের কষ্ট কে নিজের বলে ভাবতে পারি না। অনুভব করতে চাই না কষ্টের তীব্রতা।

আমি বেচে আছি অথবা নিরাপদে আছি বলে যে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন তাকেই বলছি সত্যিই কি আপনি বেচে আছেন সত্যি ই কি নিরাপদে আছেন???-সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৫ রাত ১১:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×