somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোন--- একটা শব্দ না, ভালবাসার প্রতীক

১৮ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন আমি ছোট ছিলাম, বাসায় বিদ্যুত ছিলনা
আমি আর আমার আপু দুইজনই হারিকেন এর আলোয় পড়াশোনা করতাম ।
হারিকেন তিন চার ঘন্টা জ্বালিয়ে রাখলে হারিকেন এর কাচের চিমনি তে কালি পরতো এবং অন্ধকার হয়ে যেত । আর এ কারণে প্রতিদিন হারিকেন জ্বালানোর আগে আগের দিন এর কালি মুছতে হতো । সাধারণত বিকেলেই আমি আর আপু চিমনি মোছার কাজ করতাম ।
আমি আর আপুর মধ্যে কে হারিকেন এর চিমনি মুছবে এই নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং শেষ সময় আপুই পরাজয় মেনে নিয়ে চিমনি মুছতো ।
আমি আর আমার বড় আপু এক বিছানায় থাকতাম অনেকদিন , গরমের দিন পরলে বাসায় মোটামুটি গরম পরতো ।
তবে বড় আপুর কাছে থাকার কারণে গরম কি জিনিস এটা আমি বুঝতাম ই না । সারারাত সে হাতপাখা দিয়ে আমাকে বাতাস করত আর আমি ঘুমাতাম। গভীর রাতেও ঘুম থেকে জাগা পেয়ে দেখি আপু বাতাস করছে । সম্ভবত আপুর ঘুমের মধ্যেও হাত চলত এবং বাতাস করত ।
আপুর যেদিন বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল এবং আপু চলে যাচ্ছিল সেইদিন ই সম্ভবত আমি সবচেয়ে বেশি কেদেঁছিলাম । আমার ভেতর থেকে কেন জানি মনে হচ্ছিল আপু বোধহয় পর হয়ে যাচ্ছে । আমার কান্না দেখে আপুও অনেক বেশি কেদেঁছিল।
মেয়েদের জীবনের চরম একটা বাস্তবতা হচ্ছে কোনো এক সময় মা-বাবাকে ছেড়ে স্বামীর ঘরে চলে যাওয়া । এবং সব মেয়েকেই এই চরম কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হয় । আমার আপুকেও এই চরম বাস্তবতা মেনে নিতে হয়েছিল ।
আর মেয়েকে বিদায় দেওয়া বা সপেঁ দেয়ার সময় যদি মা-বাবার নিষ্পাপ মুখের দিকে কেউ চায় তার হৃদয় কেদেঁ ঊঠবে নিঃসন্দেহেই এতে কোনো সন্দেহ নেই ।
আমি দেখেছি আমার ফুফা, আমার খালু এবং আমার বড় মামাকে , মেয়ে বিদায় দেয়ার সময় । এ দৃশ্য গুলো পৃথিবীর সব থেকে যন্ত্রনা দায়ক এবং কষ্টকর আমার মনে হয় । বুকের ভেতর এক চাপা কষ্ট যেন এসে ভর করে ।
এ পৃথিবীর কি এক অদ্ভুত নিয়ম !!!! মেয়ে বড় করে অন্যের হাতে তুলে দেয়া ।
তবে সবচেয়ে আনন্দের কথা এই যে মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পর যদি মেয়ে সুখে থাকে, শ্বশুর শ্বাশুড়ীর সাথে ভালো সম্পর্ক থাকে তবে কিন্তু মেয়ের বাবা-মা ই সবচেয়ে সুখী বলে নিজেকে দাবী করে ।
আল্লাহু সুবাহানুতাআলার অশেষ কৃপায় আমি তেমন কিছু দুলাভাই পেয়েছি যাদের কারণে বোন গুলোকে আজ সুখী দেখতে পাই ।
সত্যি বলতে একজন ভাই হিসেবে বোনদের সুখী দেখার মত আনন্দ বোধ হয় আর কিছু নেই ।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×