somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি ও আমার এক ছোট্ট দুঃখবিলাসী মন...

১৫ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.......বিকেল থেকেই কেমন জানি একধরনের বিষন্নতায় ভুগছি!!! মাঝে মাঝে আমার এমন হয়। তখন সব মানুষের উপর কেমন জানি একধরনের অভিমান জাগে!! নিজেকে খুব প্রতারিত মনে হয়!! এমন অবস্থায় মন ভালো করার জন্য গান শুনি। কিন্তু আজকে কেমন জানি কিছুতেই মন ভালো হচ্ছেনা...!! ভাবলাম বন্ধুদের সাথে দেখা করে আসি!!! অনেককেই ফোন দিলাম!! কেমন জানি কেউ ফোন রিসিভ করলনা!!! সবাই মনে হয় খুব ব্যস্ত...!! ব্যস্ততা মনে হয় তাদেরকে আমার কাছ থেকে দিন দিন অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে...!! আগে অনেক বন্ধুই সপ্তাহে একবারের জন্য হলেও খোঁজখবর নিত!! আর এখন???? ছয় মাসে হয়তোবা একবার ফোন করে!! আমি কেমন আছি সেইটা জানার জন্য না!! বরং আমি তাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি, সেইটা শোনার জন্য...!! আগে এই ধরনের স্বার্থপর আচরনের জন্য খুব কষ্ট লাগত..!! কিন্তু এখন আর লাগেনা!! কারন আমি নিজেও অভ্যস্ত হয়ে গেছি!! বন্ধুরা আমাকে ব্যবহারের জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করে, তবুও তো যোগাযোগ করে!!! সেটাই আমার জন্য অনেক!!!

.......ফোন রিসিভ করলনা দেখে ভাবলাম এক বন্ধুর বাসায় গিয়েই দেখা করে আসি!! কলিং বেল চাপতে গিয়েই কলিং বেলের পাশে ছোট্ট অক্ষরে লেখা বন্ধুর নামের পাশে বন্ধুর কর্মক্ষেত্রের উপাধিটাও দেখলাম!! ভালোই লাগল!! সেই সাথে কেমন জানি এক ধরনের হতাশা মনে ভর করল!!! হয়তোবা, আজ আমার নামের পাশে ঐরকম উপাধি শোভা পেতো...!! কিন্তু ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসে আজ আমি অনেক কিছু থেকে বন্চিত !! বাবার মার চোখে সবসময় আমাকে নিয়ে এক ধরনের সংশয় আমি এখনো দেখি!! কিন্তু কি করব!! তাদের সংশয় দুর করার সামর্থ সৃষ্টিকর্তা আমাকে এখনো দেয়নি!!!

.......বাবা-মার কাছে হাত খরচের টাকা চাইতেও এখন খুব লজ্জা লাগে..!!! তবুও চাইতে হয়!!! মা হয়তোবা আমার মনের কথা একটু বেশীই বোঝে, তাইতো পর পর কয়েকদিন হাত খরচের টাকা না চাইলে আমাকে জোর করেই টাকা হাতে দিয়ে যায়। নিতে লজ্জা লাগে!! তবুও নিই!!!

.......খুব ইচ্ছে করে বাবা মা কে কিছু কিনে দিই!! কিন্তু আমার সেই সামর্থ নেই!! তবুও হাত খরচের টাকা থেকে দুই-এক টাকা বাঁচিয়ে তাদের জন্য মাঝে মাঝে রাস্তার সস্তা খাবার কিনে আনি!!! আমি যখনই এই কাজটা করি তখনই বাবা-মার চোখে অশ্রু টলটল করতে দেখি!!! আমি জানি আনন্দ অশ্রু বলতে যা বুঝায়, এটাই সেটা!!! তাইতো তাদের মাঝে মাঝে কাঁদাতে চেষ্টা করি... !!! মা তো মাঝে মাঝে অশ্রু ভরা চোখে বলেই বসে "বাবা, দোয়া করি একদিন তোর অনেক হবে, সেই দিনটা দেখার জন্য আল্লাহ যেন আমাকে বাঁচিয়ে রাখে...!!!" (পরক্ষনেই এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে) "মনে হয় অতদিন বাঁচবনা........." মায়ের সেই দীর্ঘশ্বাসের অর্থ আমি বুঝি!!! কিন্তু কি করব!! ভাগ্য নামেও যে কিছু ব্যাপার-স্যাপার এই মানুষের পৃথিবীতে এখনো আছে......!!!

........বিলাসীতা কি জিনিস, তা কখনোই বোঝার সৌভাগ্য হয়নি আমার!! বন্ধুদের মত কথায় কথায় ফাস্ট ফুডে পার্টি দেওয়া আমার কখনোই হয়না!!! বরং আমার পকেটের সব টাকা দিয়েই তাদের মাঝে মাঝে সস্তা হোটেলে বসাতে চেষ্টা করি!! তারা হয়তো নাক সিটকায়...কিন্তু তারা একবারের জন্যও ভাবেনা যে, তাদের আপ্যায়নের জন্য আমি আমার কতগুলো সুখকে বলি দিচ্ছি....!! বন্ধুদের মত রাত জেগে মেয়ে পটানো আমার কখনোই হয়না!!! মেয়ে পটাতেও তো টাকা এবং সময় লাগে!! কিন্ত সেই সময় বা টাকা আমার কখনোই ছিলনা....!! একটা অপরিচিত মেয়ের পেছনে ১০ টাকা খরচ করাও আমার জন্য একধরনের বিলাসীতা.... তাইতো মাঝে মাঝে বন্ধুদের কাছ থেকে টিটকারী শুনতে হয়.... অনেকেই এব্যাপারে আমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করে...আমিও তাদের সুকৌশলে এড়িয়ে যাই... কারন ঐসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেকে অন্যের সামনে আরো একবারের জন্য অযোগ্য প্রমাণ করতে ইচ্ছে করেনা.... আর উত্তর দিলেও তারা বুঝবেনা......!!! কারন আমাকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কঠিন জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হবার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়, যা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহন করা আমার ঐ বন্ধুরা কখনোই বুঝবেনা!!! শুধু বন্ধুরা কেনো....???!!! কেউ বুঝবেনা....!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:১৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×