somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

একজন বুদ্ধিমান পাগল
কি যে লিখব কিছুই বুঝতে পারছি না!মাঝে মাঝেই এমন হয় মাথা আর আমার কাজ করে না! সবকিছুই যেন কেমন মত আটকে যায়!অবশ্য নতুন করে আটকানোর কিছু যদিও নেই!আমি তো ইতোমধ্যে আটকিয়েই আছি! সেই যে কতদিন আগে সে চলে গেল!তারপর থেকে তো আটকিয়েই আছি..........

অনুগল্প : নিহিনের সাথে আমার সম্ভাব্য জোৎস্নাবিলাস!

২৭ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইশ্... বাইরে কি সুন্দর আলো! আজ কি জ্যোৎস্না রাত? কি জানি,হবে হয়ত! তবে জ্যোৎস্না না হলেও সমস্যা নেই।বাইরের সবকিছু একেবারে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে! আবার খুব যে আলো তাও না।একেবারে পারফেক্ট!!

এরকম একটা রাতের জন্য কতো যে অপেক্ষা করেছি! এমন রাতে চাঁদের আলোয় আমি আর অনুপ দাঁড়িয়ে থাকব।অনেকটা জ্যোৎস্না বিলাসের মত!

কিন্তু এই অনুপ টাও না...! ও যে কি!! এরকম একটা রাতে কেউ রাগ করে থাকে??

এতো রাগ হলে কি হয়?? আর তার যত রাগ সবই আমার উপর! আজকেও রাগ করে বসে আছে! এখন আমি কি করি??

.

এসব কথা গুলো ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে একাই একাই বিড়বিড় করে বলছিল নিহিন!

খুব অভিমান হচ্ছে এখন ওঁর! এরকম সুন্দর রাতে অনুপের সাথে দেখা করার ইচ্ছা ওঁর চিরন্তন।কিন্তু কোথায় কি? বদ টা রাগ করে বসে আছে! আবার ফোন টাও বন্ধ করে রেখেছে!

আচ্ছা ওঁ তো অনুপ কে বলেওছিল যে "এরকম একটা রাতে আমরা দুইজন দেখা করব।"

তাহলে কি অনুপ ভুলে গেল??

এইবার সত্যি সত্যি কান্না আসছে নিহিনের!!

দৃষ্টি ঘোলা হয়ে এলো!

ঠিক তখনই কি যেন একটা জিনিস নিহিনের জানলার পাশে দেওয়ালে এসে লাগল! কিরকম যেন ধপ করে একটা শব্দ হল। মনে হল কেউ যেন কিছু একটা ছুড়ে মারল! হঠাৎ করে এমন হওয়াই নিহিন খানিকটা ভয়ই পেল।তাই তাড়াতাড়ি করে জানালা টা বন্ধ করতে গেল।

আর তখনই জিনিস টা ওঁ দেখতে পেল। জানলা থেকে খানিকটা দূরে পেয়ারা গাছটার নিচে!

প্রথম বারে চিনতে না পারলেও খুব বেশি দেরিও লাগেনি চিনতে! বড়ই পরিচিত অবয়ব যে এটা! হ্যা,অনুপ এসেছে! নিহিনের তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি গিয়ে পাগল টাকে জড়িয়ে ধরে। তখনই আবার অবয়ব টা যেন একটু নড়ে উঠল! মনে হচ্ছে হাত নাড়িয়ে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে....

.

উম্..... কি বোঝাতে চাইছে?

ঠিক বুঝতে পারছি না! আর পাগল টাও না....

দাঁড়াবি দাঁড়া তো একেবারে পেয়ারা গাছটার নিচেই দাঁড়িয়েছে।আলো ওখানে কম ঠিকমতন বোঝাই যাচ্ছে না! অবশ্য ঠিকই আছে। ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ালে আবার যদি কেউ দেখে ফেলে?? তাহলে তো সর্বনাশ!! নাহ্,একেবারে পাগল না... বুদ্ধিও আছে একটু!

.

এগুলো ভাবতে ভাবতেই আবার অনুপের ইশারাই মন দিল নিহিন!

মনে হচ্ছে,ফোনের কথা বলছে।এক মুহূর্ত দেরি না করে ঝট করে নিহিন ফোনের কাছে দৌড় দিল। ফোন টা এতোক্ষণ সাইলেন্ট মুডে ছিল।

ফোন হাতে নিয়েই নিহিন দেখল সতের টা মিসড কল,সবগুলাই অনুপের।

.

সাথে সাথেই আবার ফোন টা একটু কেঁপে উঠল!
রিসিভ করলাম। কিন্তু বদ টা চুপ করে আছে। সারা জীবনের অভ্যাস.... কক্ষন ও আগে কথা বলবে না।
আমিই ডাকলাম
-অনুপ?
-হুম?
-এতো রাতে! কেন এসেছ??
খানিকটা চুপ করে থেকে অনুপ বলল
-এমনিই
-নাহ্।তুমি তো 'এমনি' কথাতে বিশ্বাসী না! তুমিই তো বল যে মানুষ এমনি কখনও কোন কাজ করে না!
- হ্যা,আসলে...
-কি??
- তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল!
-কি মনে পড়ছিল??
-তুমি এমন একটা রাতে আমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলে!!
কথাটি শুনে আমার এত্তো পরিমাণ ভাল লাগল আমি বলে বোঝাতে পারব না! মনে হচ্ছিল তখনই এক দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরি!
কিন্তু তবুও ওঁকে কিছু বুঝতে না দিয়ে বললাম
-তো! এখন কি করবে??
-একটুখানি বাইরে আসো....
আমি আর কিছু বললাম না! ফোন টা কেঁটে দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
.
কিন্তু একি!!
অনুপ কোথায়??
এখানেই যে ছিল! আরে...
হঠাৎ ই নিহিনের বুকের ধুকপুকুনি টা বেড়ে গেল! কিছুক্ষণ আগেও বুকের মধ্যে ধুকধুক করছিল! কিন্তু সেটা ভয়ে!
আর এখন যে ধুকপুকুনি টা হচ্ছে সেটা যে ঠিক কি কারণে তা ঠিক বুঝতে পারছে না।
.

হঠাৎই খুব ভাল লাগা কাজ কিরতে শুরু করল! আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম,কিছুক্ষণ আগেও যেমন আমার ভয় করছিল কিন্তু এখন আর ভয় করছে না।
অনুপ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে।
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আস্তে করে বললাম
-ছাড়ো!
অনুপ আমার কানের কাছে আস্তে আস্তে ফিসফিস করে বলল
-ছাড়বো না!
আমি আবারও বললাম
-কি হচ্ছে??ছাড়ো তো!
এইবার ওঁ কিছু না বলে ছেড়ে দিল!
আমার খানিকটা মন খারাপ হল!
আমি বললাম আর ছেড়ে দিল?? কি ভালই না লাগছিল!!
পাগলটাও না... কিচ্ছু বোঝে না!!রাগ হচ্ছে এইবার...
আমি বললাম
- কি ব্যাপার?? কি হচ্ছিল এটা?? কোথায় লুকিয়ে ছিলে?? আর এভাবে কেউ....
-কেউ কি??
-কিছুনা!
-........
-কি হলো? কথা বলছ না কেন?
- না এমনিই!
- থ্যাংকইউ
-কেন?
-আমার স্বপ্ন টাকে সত্যি করার জন্য!
-ঠিকাছে!এইবার আমি যাচ্ছি!
আমি কিছু না বলে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।
বুঝলাম ওঁর রাগ টা এখনো ঠিকমতন কমেনি! হয়ত কমেছিল কিন্তু আমাকে জড়িয়ে ধরার পর আমি যে ওঁকে বেশ রাগি গলায় ছেড়ে দিতে বলেছি সেইজন্যে আবার একটু অভিমান হয়েছে।তাই এভাবে চলে যেতে চাইছে!
এইবার আমি আর দেরি না করে ওঁকে আলতো করে সামনে থেকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু ওঁ আমায় কাছে টেনে নিচ্ছে না! একেবারে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে! বুঝলাম,একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে!
এবার আমি ওঁকে আরেকটু শক্ত করে ধরে বললাম
-সরি!
-.......
ওঁ কিছুই বলছে না!
আমি আবারও বললাম
-সরি বললাম তো...! প্লিজ,এবারের মতো... আর কক্ষনো এমন হবেনা।
-......
এবারো চুপ। মুখে কিছু বলল না শুধু বুঝলাম,কেউ যেন আমাকে খুব শক্ত করে চেপে ধরল!
একেবারে বুকের সাথে!! আমি স্পষ্টই তাঁর হৃদস্পন্দন গুলো বুঝতে পারছিলাম! এভাবে যে ঠিক কতক্ষণ ছিলাম আমার জানা নেই!!
.
ওঁ যখন আমাকে ছেড়ে দিল তখন বুকের মধ্যে কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল! তারপর আমার মুখের দুই পাশে হাত দিয়ে আস্তে করে একটু উঁচু মতো করল তারপর আলতো করে আমার কপালে একটা ছোট্ট চুমো দিল।
তারপর ওঁ ঠিক আমার চোখের দিকে তাকাল।একেবারে আমার চোখে....
ওঁর চোখের ভাষা যেন স্পষ্টই পড়া যাচ্ছিল!
মুখে না বললেও ওঁর চোখই আমাকে বুঝিয়ে দিল সবকিছু।
তারপর আস্তে আস্তে আমার গাল থেকে হাত দুটো শরে গেল,টের পেলাম।
ধীরে ধীরে ওঁ অন্ধকারে মিশে গেল!আড়াল হয়ে গেল চোখের....
.
আমার তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছিল,"অনুপ,আমিও ভালবাসি তোমায়।খুব ভালবাসি।"
.
কিন্তু পারলাম না! ওঁ চলে গেল! আমার বুকটা আবার ফাঁকা করে দিয়ে চলে গেল।
জানিনা আবার কবে আমাদের দেখা হবে! তবে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব আমারা দুজনেই........
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×