ইদানিং কেয়ামতের আলামত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক পোষ্ট আসতেছে, এই জন্য আমার মনে হল কেয়ামতের উপরে কিছুটা সলিড আলোচনা হওয়া দরকার, যাতে কোন বুদ্ধি প্রতিবন্ধির কথায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। আমি নিজে কোন জ্ঞানী লোক না, তবে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করার অভ্যাস আছে, সেইজন্য এইরকম বিষয়ে লেখার সাহস করলাম।
প্রথমে খুব সংক্ষেপে কেয়ামতের একটা চিত্র পাঠকদের দেওয়ার চেষ্টা করব, এর পরে ধাপে ধাপে কেয়ামতের আলামত সহ প্রাসংগীক বিষয়ে আলোচনা হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
এখন আসেন সংক্ষেপে দেখি কুরআন শরীফে কেয়ামতের ব্যাপারে কি বলা হয়েছে : (প্রথমে বোল্ড করা অংশগুলি খেয়াল করে পড়ে যান)
যখন প্রচন্ড- কম্পনে যমীন প্রকম্পিত হবে। আর যমীন তার বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ বলবে, ‘এর কী হল? সেদিন যমীন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, যেহেতু তোমার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে বের হয়ে আসবে যাতে দেখানো যায় তাদেরকে তাদের নিজদের কৃতকর্ম। অতএব, কেউ অণু পরিমাণ ভালকাজ করলে তা সে দেখবে আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলে তাও সে দেখবে। (সুরা জিলজাল)
নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে।(সূরা লুক্বমানঃ আয়াত-৩৪)
‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন-এরখবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃতকরে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখনতা তোমাদের উপর আসবে, তখন অজান্তেই এসে যাবে। (সূরা আ’রাফঃ আয়াত-১৮৭)
'বরং তা আসবে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে, অতপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দিবে,তখন তারা তা রোধও করতে পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।’ (সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত-৪০)
'যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন বড় নিদর্শন আসবে, সেদিন এমনকোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্য ফলপ্রসূ হবে না।’(সূরা আনআমঃ আয়াত-১৫৮)। --- এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূল্লাহ সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-’যখন কিয়ামতের সর্ব শেষ নিদর্শনটি প্রকাশিত হবে,অর্থাৎ সূর্যপশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে,তখন এ নিদর্শনটি দেখা মাত্রই সারা বিশ্বের মানুষ ঈমানের কালেমা পাঠ করতে শুরু করবে এবং সব অবাধ্য লোকও বাধ্যহয়ে যাবে; কিন্তু তখন কার ঈমান ও তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ ‘যেদিন শিংগায় ফুঁকদেয়া হবে; সেদিন হবে কঠিন দিন, কাফেরদের জন্যএটা সহজ নয়।’(সূরা মুদ্দাস্সিরঃ আয়াতঃ ৮-১০)।*
সৃষ্টি জগতের ধ্বংসলীলা-পাহাড় পর্বত-‘যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতএবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত।’(সূরা কারিয়াহঃ আয়াতঃ ৪-৫)।
'এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।’ (সূরা নাবাঃ আয়াত-২০)।
‘আর যখন পর্বতমালা উড়িয়ে দেয়া হবে।’(সূরা মুরসালাতঃ আয়াত-১০)।
‘আর যেদিন এই ভূমন্ডলকে রূপান্তরিত করা হবে অন্যভূমণ্ডলে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশ সমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে পেশ হবে।’(সূরা ইবরাহীমঃ আয়াত-৪৮)।
‘যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে আর নক্ষত্ররাজি খসে খসে পড়বে।’(সূরা তাকভীরঃ আয়াতঃ ১-২)।
‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে।’(সূরা ইনফিতারঃ আয়াতঃ ১-২)।
‘অতপর যখন নক্ষত্রসমূহ নির্বাপিত হবে।’ (সূরা মুরসালাতঃ আয়াত-৮)।
‘যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে।’(সূরা তাকভীরঃ আয়াত-৬)।
‘যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে। যখন বন্যপশুরা একত্রিত হয়ে যাবে।’(সূরা তাকভীরঃ আয়াতঃ ৪-৫)।
উপরের আয়াতগুলির বোল্ড করা অংশের চিত্র একত্র করলে মনে হয় কেয়ামত মানে শুধুমাত্র পৃথিবীর ধ্বংস না বরং বিশ্বজগতের একটা বড় ধরনের ট্রান্সফরমেশন যা একটা ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
অতর্কিতভাবে, প্রচন্ড- কম্পনে যমীন প্রকম্পিত, সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা , পর্বতমালা উড়িয়ে দেয়া , পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত হওয়া, এই ভূমন্ডলকে অন্যভূমণ্ডলে রুপান্তর করা>> এই কথাগুলোর মানে পৃথিবীর উপরিভাগ তছনছ হয়ে যাবে।
আবার, পরিবর্তিত করা হবে আকাশ সমূহকে, নক্ষত্রসমূহ নির্বাপিত হবে, ঝরে পড়বে, সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে, আকাশ বিদীর্ণ হবে >> এই কথার মানে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি এবং নক্ষত্র সমুহের জীবনিশক্তি শেষ হয়ে যাবে।
(সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্র আলোহীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি খেয়াল করুন) একই সাথে নক্ষত্র সমুহের লাইফ সাইকেলের ব্যাপারে বিজ্ঞান আমাদের যা বলে সেখানেও কিন্তুএকই কথা বলা হয়।
মানুষের এবং জীব জগতের কি প্রতিক্রিয়া হয়ে সেটা গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হওয়া (সম্পদের মায়া মন থেকে বের হয়ে যাওয়া), মানুষের হতবুদ্ধি হয়ে যাওয়া, বন্যপশুরা একত্রিত হয়ে যাওয়া, মানুষের বিক্ষিপ্ত পতংগের মত হয়ে যাওয়া, (সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে বের হয়ে আসবে যাতে দেখানো যায় তাদেরকে তাদের নিজদের কৃতকর্ম >> এইটা হাশরের ময়দানের পুনরায় উঠার দৃশ্য) এই কথাগুলির মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


