কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদ হতে পারে জোরালোভাবে। তবে আমি প্রতিবাদ করতে চাই পরিবর্তনের জন্য। সুতরাং সেটা সবসময় জোরালো ভাষা ব্যবহার করে করাটাকে সমর্থন করিনা। যেমন, ১৯৭১ সালের আগেও দেশের পরিস্থিতি খারাপ ছিল, তখন বঙ্গবন্ধৃ স্বাধীনতার ডাক দেননি। তখন পাকিস্থানীদের অন্যায়ের প্রতিবাদের ধরন ছিল একরকম। তখনকার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানীদের পরিবর্তন করা। কিন্তু সেটাতে ব্যর্থ হতে হতে একটা সময়ে যুদ্ধে রুপান্তর হয়। আমাদের এখন অনলাইনে যেটা ঘটতেছে, কারও কারও কাজ দেখে মনে হচ্ছে কোথায় কোথায় কার কি সমস্যা আছে সেটা খুজে বের করা। আর সেটার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দেওয়া। এ বিষয়টাকেই আমি খারাপ বলতেছি।
একটা ঘটনা বলি। কিছুদিন আগে একটা ছেলে আমার ব্যপারে না জেনে সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে চিন্তা করে আমার বিরুদ্ধে মানুষের কাছে প্রচার শুরু করে। এবং ফেসবুকে আমাকে নিয়ে অনেক নোংরা ভাষাতে গালাগালি লিখে স্ট্যাটাস দেয়। অন্যরা হলে সেটাতে প্রতিবাদ করতে আরেকটা গালি দিয়ে স্ট্যটাস দিত। কিন্তু আমি একটা কথাও তাকে বলিনি। বরং অনেক নরমাল থাকি। কিছুদিন যেতে, সেই ব্যক্তির কোন একটা সাহায্যের প্রয়োজন হয়, সে আমার কাছেই সাহায্য চায়। তখন তার জন্য একটা জায়গাতে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেই। পরে সে আমার প্রতি অনেক খুশি হয়। এবং সে নিজে স্বীকার করে কেউ একজন তাকে আমার ব্যপারে উস্কানী দেয়। এখন সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আমার কাছে বসে কান্না করে তার ভুল বুঝার জন্য ক্ষমা চায়। এখন সে আমার অনেক বড় ফ্যান। যদি আমি তার লেখার মধ্যে উগ্রভাবে প্রতিবাদ করতাম, তাহলে তার মধ্যে এ পরিবর্তন আসতনা। আমি তার মধ্যে পরিবর্তন চেয়েছি।
আমাদের মহানবী (সঃ) এর পথে কাটা বিছাতো একজন বুড়ি। ঘটনাটা সবার জানা আছে নিশ্চয়। আমাদের নবীজি সেই বুড়িকে গালি দেয়নি, বকা দেয়নি। বরং বুড়ি অসুস্থ ছিল দেখে তার খোজ নিয়েছেন। এ ঘটনাটির মাধ্যমে নবীজি আমাদের শিখিয়ে গেছেন, এরকম পরিস্থিতিতেও আমাদের কি করা উচিত।
মনে রাখতে যুদ্ধ, ঝগড়া, উগ্রতা কখনও ভাল কিছু বয়ে আনেনা। আর এটাই দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। আমেরিকা তাদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে লাখ লাখ মানুষ মারে। তাদের প্রতিবাদের ক্ষমতা সর্বোচ্চটা ব্যবহার করেছে। আর আমরা প্রতিবাদ করি উগ্র শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে কারও বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে। আমরাও আমাদের ক্ষমতার সর্বোচ্চাটাই ব্যবহার করি। ক্ষমতার সর্বোচ্চটা ব্যবহার করে প্রতিবাদ করা্টাই উগ্রতা। আমাদের ক্ষমতার সর্বোচ্চটা ব্যবহার করার অভ্যাসটাই পরিবর্তন করা উচিত। তাহলেই শান্তি আসবে।
আমি প্রডাক্টিভিটিতে বিশ্বাস করি। শান্তিতে বিশ্বাস করি। উগ্রতা, ঝগড়াতে বিশ্বাস করিনা। বিশ্বাস করিনা যে, বোমা মেরেই শুধু প্রতিবাদ করা সম্ভব । বিশ্বাস করি, ভালবাসা দিয়ে, শান্তির মাধ্যমেও পরিবর্তন সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


