বহু দিন আগে ইমন জুবায়ের লিখেছিলেন, শান্তরক্ষিত সম্বন্ধে ‘অতীশ দীপংকর’ বইয়ে দু’লাইন তথ্য পেয়েছেন।
জীবনীগ্রন্থটি যেহেতু আমার লেখা, তাই দেরিতে হলেও যতটা পারছি, উত্তর দিতে চেষ্টা করছি। আমার এই ছোট্ট লেখায় সেই মনীষী সম্বন্ধে সবটা জানা যাবে না জেনেও লিখছি।
শান্তরক্ষিত
মানুষের জানার ক্ষমতা অসীম হলেও, অতীতের অপার অন্ধকারে যা ডুবে আছে, তাকে উদ্ধার করার জন্যে চায় নিবিড় অনুসন্ধিৎসা আর প্রয়োজনীয় জ্ঞান। এ পর্যন্ত শান্তরক্ষিত সম্বন্ধে সাধ্যমতো খোঁজখবর করে যা জানতে পেরেছি, তা নিম্নরূপঃ
শান্তরক্ষিতের আর এক নাম শান্তিজীব। এই তথ্যটি পাওয়া যায় ডোম-তোন-পা (Brom-ston-pa) নামে অতীশের সমসাময়িক এক তিব্বতী শিষ্যের স্তোত্র থেকে, যেটি মুলত অতীশ দীপংকরের প্রতি নিবেদিত।
৩০ শ্লোকের এই স্তোত্রটি শুরুই হয়েছে এই ভাবে--
'I offer prayer to the feet of Dipangkara-sri, who was born in the noble Jiva-family of the kings of Sa-hor of tri-sampanna Bengal in the same line to which Santijiva (Santaraksita) belonged.'
বোধিসত্ত্ব নামেও তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে।
শান্তরক্ষিত ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের সাবেক বিক্রমপুর জেলার বিখ্যাত বজ্রযোগিনী গ্রামের সন্তান, যে গ্রামে এবং যে বংশে জন্মেছিলেন অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান। দীপংকরের জন্মের কমবেশি ৩০০ বছর আগে তাঁর জন্ম।
বহু হিসেবনিকেশ করে তিব্বতী সাল ধরে অতীশের জন্মকাল পণ্ডিতেরা নির্ণয় করেছেন ৯৮২ খ্রিস্টাব্দ। অর্থাৎ, দশম শতকের শেষ দিকে। শান্তরক্ষিতের জন্মকাল লেখা হয়েছে অষ্টম শতকে। কখন?
সুম-পা, এক তিব্বতী পণ্ডিত, এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন আমাদের। তাঁকে উদ্ধৃত এবং বিশ্লেষণ করে শরচ্চন্দ্র দাস (এস সি দাস), যিনি নিজেও তিব্বত গিয়েছিলেন, জানাচ্ছেন- শান্তরক্ষিত বেঁচে ছিলেন পালরাজা গোপাল (৭৫০) এবং ধর্মপাল (৭৫০- ৭৭২)-এর রাজত্বকালে। সুম-পা আরও জানাচ্ছেন, শান্তরক্ষিত অন্তত ৭৫০ থেকে ৮০২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। বি ভট্টশালী এবং পি এন বসু আর নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছেন, শান্তরক্ষিত ৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিব্বতে যান এবং সাম ইয়ে বিহার নির্মিত হয় ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে।
তাঁর জন্ম এবং জীবনকাল সম্বন্ধে এর বেশি কিছু জানা যায়নি।
শান্তরক্ষিতের অবদানঃ
'তত্ত্ব-সিদ্ধি-নাম-প্রকরণ' নামে তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেটি অতীশ তিব্বতে বসবাসের সময় লো-সা-বা অর্থাৎ রত্নভদ্রের সহায়তায় আরও বহু প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থের সঙ্গে অনুবাদ করেছিলেন তিব্বতী ভাষায়।
'তত্ত্বসংগ্রহ' নামে আরও একটি বই নিয়ে আলোচনা করেছেন পণ্ডিত দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী, তাঁর 'চার্বাক দর্শন' বইয়ের ১০, ১১, ১২ পৃষ্ঠায়। জানা সম্ভব হয়নি যে, দুটি বইই এক কী না। এটি সংস্কৃত এবং তিব্বতী-- উভয় ভাষাতেই আজও রয়েছে এশিয়াটিক সোসাইটিতে।
তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে শান্তরক্ষিতের ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতে সুবিশাল আর বিখ্যাত সাম ইয়ে বিহারটি তিব্বতবাসীরা এই সাধকের নামে উৎসর্গ করেন। সেখানে শান্তরক্ষিতের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তিও দেখেছিলেন অতীশ , যদিও কালের চিহ্ন লেগে সেটি জীর্ণ।
তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের যে কা-দম-পা মতের জন্ম হয় অতীশের প্রধান শিষ্য ডোম-তোন পা-র নেতৃত্বে, তাতেও অবদান আছে শান্তরক্ষিতের।
শান্তরক্ষিতের প্রধান শিষ্যের নাম কমলশীল। ইনিও ভারতীয়। তবে বাঙালি কিনা, জানা যায়নি।
আপাতত এটুকুই জানতে পেরেছি সেই বৌদ্ধ শ্রমণ সম্বন্ধে।
একরাম আলি
১৫ মে ২০১৫
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৫ রাত ১২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



