চলে যেতে বলেছি -
তাই বলে সত্যিই চলে গেলে?
এরপর কতবারই তো বলেছি,
গোপনে অশ্রু ফেলেছি
ভিজিয়েছি সধবা শাড়ির আঁচল,
ফিরে আয়, ওরে ফিরে আয় -
কই ফিরে এলে?
তোর জন্য রেখেছিলাম
বেছে বেছে বড় আম,
কাঁচা আম পেঁকে সারা
মধুমাস গেলো বলে -
খোকা, তবু ফিরে এলেনা ।
তুই যে ঘরে থাকতিস
জানালা ছিলো খোলা,
বাতাস বইতো বেশ ।
ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতি
আর বাতাসের স্পর্শে হাসতো
তোর মাথার অবাধ্য কেশ ।
জানিস, আমার খুব ঈর্ষা হতো -
জানালার বাতাস যেনো সতীনের মতো !
হাতপাখা দিয়ে তোকে বাতাস দিতাম যদি,
লাগতো ভালো, মিটতো মনের আশ ।
খোকা, তুই-ই আমার স্বপ্ন,
বুকের মানিকরতন,
তুই আমার উচ্ছ্বাস ।
বাড়িটা খালি খালি লাগছে,
বুকের ভেতরটায় জ্বলছে আগুণ অনির্বাণ ।
সব যেনো হারিয়ে ফেলেছি;
একে একে খসে পড়ছে প্রেরণা,
বাঁচার ইচ্ছে,
স্বপ্নবিলাসী ভুলে গেছে স্বপ্ন নির্মাণ।
কতদিন তোকে দেখিনা,
তোর গন্ধ শুঁকবো বলে
আজ অনেক খোঁজাখুঁজির পর
আলমারির এক তাকের উপর,
পেয়েছি তোর রেখে যাওয়া একটাই শার্ট ।
যেদিন কিনে এনে আমাকে দেখিয়েছিলি
আমি বলেছিলাম, “বাহ! ছেলের পছন্দ আছে বটে,
ছেলে আমার যথেষ্ট স্মার্ট !
দেখবো যদি কপালে জুটে,
কেমন হয় আমার পুত্রবধূ !”
তুই রেগে গিয়ে বলেছিলি, “মা,
তুমি না শুধু শুধু..”
খোকা তুই এবার ফিরে আয়,
আচ্ছা মতন পিষবো ।
সেবারতো বেশ গলা ফাটিয়ে বলেছিলি,
“মা, আমি তো সিগারেট খাই না,
তাই ওদের সাথেই ঘুরবো, মিশবো ।”
আর এখন, পকেটে এটা কী শুনি?
তার মানে লুকিয়ে লুকিয়ে খেতি?
বদমাশের হাড্ডি কোথাকার,
মায়ের সাথে মিথ্যে কথা বলা?
তোকে এবার সামনে পেয়ে নিই
পা ভেঙ্গে ঘরে রেখে দিবো,
দূরূহ হবে চলা ।
আর -
আর তুই কখনো আমাকে একা ফেলে
পারবিনা হারিয়ে যেতে ।
খোকা ফিরে আয়,
করেছি তোর প্রিয় ছোট মাছের চচ্চরি,
আলুভর্তা আর ডাল;
গরম গরম তাড়াতাড়ি আয় খেতে ।
জুড়িয়ে গেলো সব আয়োজন
ফুরিয়ে গেলো দিন গুলো সব,
খোকা আসবি কবে?
ভাঙ্গবি কবে মান অভিমান?
মা যে তোর ভীষণ নীরব !
১৩.০৮.২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




