somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়তে যে যুদ্ধে আপনাকে অংশগ্রহণ করতেই হবে

২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে ধর্ম নিজেই নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারেনা, সেই ধর্ম কিভাবে মানুষকে সুরক্ষা দিবে ? যে ধর্ম রক্ষা করার জন্য একটার পর একটা কল্লা কাটা হয় সে ধর্ম কিভাবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিবে ? খুবই যৌক্তিক কথা ।

ধর্ম মানে লেবাস নয়, আনুষ্ঠানিকতা নয়, অন্ধবিশ্বাস নয় । ধর্ম হলো সত্য-ন্যায়-শান্তি অর্থ্যাৎ মানবতার চূড়ান্ত সামষ্টিক সংজ্ঞা । আসলে ধর্ম রক্ষা করার বিষয় না, প্রতিষ্ঠা করার বিষয়। আর ধর্ম প্রতিষ্ঠা মানেই শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামগ্রিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা । বুঝতে হবে ধর্ম রক্ষার জন্য প্রাণ নয়, প্রাণ রক্ষার জন্য ধর্ম । যে ধর্ম রক্ষার জন্য প্রাণ দিতে হয় সেটা ধর্ম নয়, ধর্মের মোড়কে স্বার্থ, প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয় । সে হিসেবে বর্তমান সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অধর্ম । যখনই পৃথিবীতে অধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয় যুগে যুগে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে আবির্ভাব হয়েছেন মহামানব । আমরা তাদের বলি নবী-রাসূল, অবতার-বুদ্ধ । অধর্মের উপর ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মহামানব কৃষ্ণ, মুহাম্মদ সাঃ যুদ্ধ পর্যন্ত করে গেছেন । সর্বশেষ রাসূল বা অবতার বা বুদ্ধ হলেন মুহাম্মদ সাঃ । উনি সেই ধর্ম প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তাঁর উম্মাহকে দিয়ে গেছেন । আসুন আমরা ধর্ম প্রতিষ্ঠা করি । তবেই পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসবে । নিশ্চয়তা হবে নিরাপত্তার ।

তাই বলে এটা ভাববেন না যে, আমি আহ্বান করছি সামরিক যুদ্ধের । যুগটা আর প্রাচীন বা মধ্যযুগ নেই, যখন না ছিলো পারমাণবিক চুল্লী, না ছিলো ইউরোনিয়ামের ব্যবহার, না ছিলো রাসায়নিক অস্ত্র, না ছিলো আজকের ন্যায় উন্নত বিজ্ঞানের প্রায়োগিক ব্যবহার ও প্রযুক্তির বিপুল সমাহার । আজ যুদ্ধ মানে স্রেফ দুটো রাষ্ট্র নয়, দুটো ভূখন্ড নয় । আজ যুদ্ধ মানে তীর-ধনুক, তলোয়ার-গদার ব্যবহার নয়, আজ যুদ্ধ মানে মিশাইল, পারমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা যা কিনা নিমিষেই ধ্বসিয়ে দিতে পারে সমস্ত পৃথিবী । আজ যুদ্ধক্ষেত্র মানে কয়েক বর্গমাইলের সীমানা নয়, আজ যুদ্ধক্ষেত্র মানে পৃথিবী বা মহাবিশ্ব । বুঝতে হবে ধর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য মানব শান্তি । তাই ধর্ম প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে যুদ্ধটারও উদ্দেশ্য হতে হবে মানব শান্তি । আজ যদি ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে সামরিক যুদ্ধের আয়োজন করা হয় তবে সেটা হবে ধর্মের সাথে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত । যার প্রমাণ আমরা ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছি ।

তবে হ্যা, যুদ্ধ হবে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে । সেই যুদ্ধটা আদর্শগত । জিহাদ ( অর্থঃ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা) হবে সত্য-ন্যায়-শান্তি-মানবতা অর্থ্যাৎ ধর্ম প্রচারণার । কিতাল (অর্থঃ যুদ্ধ) হবে মিথ্যাশ্রয়ী আদর্শের সাথে সত্যাশ্রয়ী আদর্শের । কারণ, মহামানবদের তিরোধানের পর প্রত্যেক জাতিতে জন্ম নিয়েছে একধরণের ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির, যারা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ধর্মের নামে যা না তা করেছে । ধর্মকে নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করে রেখে জন্ম দিয়েছে প্রফেশনালি ধর্মব্যবসায়ী পুরোহিত-আলেম-সাদ্দুসাই-ফরিশিদের । পাল্টে দিয়েছে ধর্মের মর্মবাণী । ফলে ধর্ম বিকৃত হয়ে মানুষকে শান্তির বদলে অশান্তিতে নিপতিত করেছে । আরেক দিকে ধর্ম নিমজ্জিত হওয়ার সুযোগে অধর্ম চূড়ান্ত রূপ নিয়ে জন্ম দিয়েছে কলিযুগের বা দাজ্জালের অর্থ্যাৎ আজকের বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতার, যার গোড়াপত্তনই হয়েছে ইহুদী-খৃষ্টানদের ধর্মীয় চূড়ান্ত বিকৃতি ও ধর্মদ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতার হাত ধরে । এই সেই যুগ যাকে সনাতনে বলা হয়েছে কলিযুগ, যাকে ইসলামে রূপকভাবে বলা হয়েছে দাজ্জাল হিসেবে । অধর্ম এর আগে এতোটা শক্ত অবস্থান নিতে পারেনি, অধর্ম এর আগে এতোটা মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারেনি, অধর্ম দ্বারা এর আগে এতোটা প্রবঞ্চনার শিকার হয় নি - আজ যতটুকুন হয়েছে, আজ যতটুকুন পেরেছে। আজ সমস্ত পৃথিবীই মিথ্যাতে পরিপূর্ণ, অশান্তিতে ভরপুর, প্রবঞ্চনায়- ধোঁকায় নিমজ্জিত । এ যেনো অধর্মের মহা কায়া, মহাসাফল্য !

আর স্রষ্টা বললেন, এই যুগে যে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবে, ধর্ম প্রতিষ্ঠাকারীদের সাথে থাকবে তাদের মর্যাদা হবে অনেক বেশি যা মানবমস্তিষ্ক চিন্তাও করতে পারবেনা । তাই আসুন ধর্মান্ধতা নয়, ধর্ম বুঝার চেষ্টা করি, সত্য বুঝার চেষ্টা করি । প্রকৃত ধার্মিক হবার চেষ্টা করি । আসুন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:০৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথাও কেউ নেই!

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩২

ঢাকা সিটিতে সিসিটিভি কি শুধু জরিমানা আদায়ের জন্য?

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন



রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য শুধু ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ছবি ধারণ করে জরিমানা আদায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×