যান্ত্রিক প্রগতিতে মানুষগুলো কেমন জানি আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপরে নিমজ্জিত হয়ে গেছে । তন্মেধ্যে দু একজন হয়তো ব্যতিক্রম । আবার যারা ব্যতিক্রম তারাই আবার সবার কাছে হাসির পাত্র হিসেবে বিবেচিত । সময়ের কি নিষ্ঠুর পরিহাস !
আজকাল “আত্মা” শব্দটা শুনলেই সবাই এমনভাবে আঁৎকে উঠে, যাতে এই শব্দটা এর আগে কখনো শুনেইনি বা ব্যবহার করাই হয় নি । যান্ত্রিকতার যাতাকলে আমাদের আত্মিক ভাগটা আমরা একেবারে বেমালুম ভুলে গিয়েছি । যার ফলে নিজের প্রতি অবিশ্বাস জন্মাতে বেশিক্ষণ লাগেনি ।
এখনতো প্রায় সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন, সাথে মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা । ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ তো আছেই । একটা মজার বিষয় । বর্তমান ভার্চুয়াল জগতটার সাথে আধ্যাত্মিক জগতের বিশাল একটা মিল আছে । আগেকার দিনে ভারাসাম্যহীন আধ্যাত্মিক সুফী - সাধক - সাধিকারা যেমন নিজেদেরকে পার্থিব জগত সংসার থেকে বিমুক্ত করে আধ্যাত্মিক জগতে যুক্ত রাখতো ঠিক তেমনি আজকের প্রজন্মটাও নিজেকে পার্থিব জগত সংসার, প্রাকৃতিক রূপ - সৌন্দর্য্য - আনন্দ থেকে বিমুক্ত করে ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে । অর্থ্যাৎ আধ্যাত্মিক জগতটাকে দখল করে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তি । তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তির লাগামহীন প্রগতির জোয়ারে হয়তো এমন একদিন আসবে যেদিন আমরা সবাই ভার্চুয়াল সাইকো রোগের শিকার এমনভাবে হবো যে, ঘর থেকে বেরোনোর সময় থাকবেনা; নিজের অজান্তেই নিজেকে নিক্ষেপ করবো নিঃসঙ্গতার কারাগারে ।
মান্নাদে’র কফি হাউজের আড্ডাটা সে সময় স্রেফ গান হিসেবেই থাকবে, স্মৃতি হিসেবে নয় । কারণ, সেলফি - নেট ব্রাউজিং - হোয়াটসঅ্যাপ - মেসেঞ্জারিং এর ফাঁকে সবাই মিলে যে গল্প-গুজব হয় সেটার নাম আড্ডা হতে পারে না । ‘জমিয়ে আড্ডা’ তো আজ সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
এতোটা স্মার্টনেস আর পারসোনালিটি মেইনটেইন কি যৌক্তিক যা বন্ধুত্বকে অবমূল্যায়ন করে বন্ধুকে দূরে ঠেলে দেয়, বৈষম্যের সৃষ্টি করে, অহংকার - দাম্ভিকতার প্রশ্রয় দেয়? বন্ধুত্ব এমন জিনিস যার সময় চলে গেলেই তার অভাব বুঝা যায় । আর যার বন্ধু নেই, তার আসলে কেউ নেই, সে-ও কিছুই না, না মানুষ, না অন্য কোনো প্রাণী ।
প্রযু্ক্তি ব্যবহার করা যাবেনা এমনটিওনা। আমরা হাতে অনেকেই ঘড়ি ব্যবহার করি । প্রথম প্রথম কৌতূহল বশত হয়তো একটু পর পর ঘড়ির দিকে তাকাতাম । কিন্তু কয়েকদিন পর কী হলো? যখন ঘড়ির সময় দেখার প্রয়োজন মনে করি, কেবলমাত্র তখনই আমরা ঘড়ির দিকে তাকাই । তাই নয় কি? ঠিক তেমনি আমাদের যখন প্রয়োজন হবে কেবলমাত্র তখনই প্রযুক্তির ব্যবহার করবো । উল্লেখ্য প্রয়োজন মানে এ নয় যে, যখন তখন মনের খেয়াল খুশিতে অভ্যাস বশত ব্যবহার করবো । মনের খেয়াল খুশিতে অভ্যাস বশত যা হয় তা অলসতা ও বদ অভ্যাস ছাড়া কিছুই নয় ।
তাই আমাদের উচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারটা যেন সীমা লঙ্ঘন না করি, আমরা যেনো এটাতে বুদ হয়ে না পড়ি । মানবকল্যাণে যতটুকুন ব্যবহার করা দরকার আমরা যেনো ততটুকুনই ব্যবহার করি । তার সাথে আমাদের আত্মিক দিকটাও বিবেচনা করতে হবে । নিজের পঞ্চইন্দ্রিয়কে কেবল ইমেজ - অডিও - ভিডিও - ইন্টারনেটে আটকে না রেখে প্রাকৃতিক রূপ - সৌন্দর্য্য - ঘ্রাণ - সুরেলা সুমধুর শব্দ, ধ্বনিতে অবমুক্ত করি । তাহলে আত্মা হবে সুস্থ ও সবল, আমরা পাবো শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



