somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোনার কেল্লা অভিযান

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“আটটা নাগাত মনে হল পাহাড়ের উপর কিছু একটা রয়েছে। ক্রমে বুঝতে পারলাম, সেটা একটা কেল্লা। সমস্ত পাহাড়ের উপরটা জুড়ে মুকুটের মতো বসে আছে কেল্লাটা - তার উপর সোজা গিয়ে পড়েছে ঝকঝকে পরিস্কার সকালের ঝলমলে রোদ। আমার মুখ থেকে একটা কথা আপনা থেকেই বেরিয়ে পড়ল – “সোনার কেল্লা”।
ফেলুদা বলল ঠিক বলেছিস। এটাই হল রাজস্থানের একমাত্র সোনার কেল্লা”।
পাঠক, উপরের অংশটি বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের লেখা গোয়েন্দা ফেলুদার রহস্য অ্যাডভেঞ্চার “সোনার কেল্লার”। পরে এই গল্পটিকে নিয়ে সত্যজিৎ রায় “সোনার কেল্লা” ছবি তৈরি করেন।



আমাদের শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল সত্যজিৎ রায়ের “ফেলুদা”, নীহাররঞ্জন গুপ্তের “কিরীটী” , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “সন্তু কাকাবাবু , সমরেশ মজুমদারের “অর্জুন” এবং প্রমুখেরা। “বাদশাহী আংটি , বাক্স রহস্য , কালোভ্রমর , দার্জিলিং জমজমাট” ইত্যাদি বইগুলো আমাদের শৈশবে এতই প্রভাব ফেলেছিলো যে , ছোট্ট চট্টগ্রাম শহরটার আঁকা , বাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় আমরা শুধু রহস্য , রোমাঞ্চের গন্ধ খুঁজে পেতাম। আমাদের স্কুলের (Chittagong Govt. High School) পাশে, মহসিন কলেজের পাহাড়ে , পর্তুগীজ আমলে তৈরি ভবনটাকে “সোনার কেল্লা” মনে করে , ওটার মধ্যে হানা এবং পরে দারোয়ানের তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসা কিংবা পাহাড় ঘেরা দেবপাহাড়ে (চট্টগ্রাম কলেজের উলটো দিকে) , বন্ধু বুলবুল ভট্টাচার্যকে সাথে নিয়ে খাড়া পাহাড় বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা , পরে নামতে না পেরে ভ্যা ভ্যা করে কান্না ইত্যাদি ছিলো চট্টগ্রাম শহরে আমাদের ছোটবেলা ।
সেই সময় থেকে থেকে সত্যজিৎ রায়ের লেখার ভক্ত হয়ার কারনে খুব ইচ্ছা ছিল সোনার কেল্লাকে একবার দেখবো।
গতবছর ঠিক এই সময়ে ভারত ভ্রমনের এক পর্যায়ে রাজধানী দিল্লীতে অবস্থান করছিলাম। ভারতের পর্যটনের স্বর্ণালী ত্রিভুজ বলে পরিচিত দিল্লি-আগ্রা-জয়পুর –আজমির ইত্যাদি ঘুরে এলাম। দিল্লীতে , রাজস্থানের উপর একটা ভ্রমন সহায়িকা (Lonely planet) পড়ার সময় , চোখ থমকে গেল। এ যে সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লা। দিল্লী থেকে খুব একটা দূরে নয়। তবে আর দেরি কেন? ছোট বেলার একটা ইচ্ছা পূরণ হবে। নিয়ে নিলাম উদ্যোগ। সঙ্গে আমার ভাই তুর্য । শুরু হল আমাদের সোনার কেল্লা অভিযান।
এই লেখাটিকে কেন আমি নিছক ভ্রমন কাহিনী না বলে অভিযান বলছি তার কারন একটু পরেই বুঝতে পারবেন।
দিল্লীর হযরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে বিকেল পাঁচটা পঁয়ত্রিশের জয়সলমীরগামী ট্রেন, জয়সলমীর এক্সপ্রেসে চেপে বসলাম। সময় লাগবে ১৩ ঘণ্টা , দূরত্ব ৮৭২ কিলো। আমাদের স্লিপার সিট। সৌভাগ্য ক্রমে আমার সিটটা ছিল নিচে এবং ট্রেন যেদিকে দৌড়ায় , সেদিকে। জানলার বাইরে দৃশ্য দেখতে দেখতে , সোনার কেল্লার শহর , পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী জয়সলমীরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেলুম।
পুরো রাত রেলভ্রমনের পর সকাল ৮ টার দিকে ঘুম ভাঙ্গল। কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন এসে থামলো রামদেওড়া রেলষ্টেশনে , এখানেই সোনার কেল্লার ফেলুদার উটের বহর এসে থেমেছিল। ৪০ মিনিটের চা বিরতি। রামদেওড়া ষ্টেশনটি ছোট এবং গোছানো । কাছেই টি স্টলে গিয়ে আমারা চা এবং জলখাবারের অর্ডার করলাম। চা তে চুমুক দিতেই ভিন্ন ধরনের স্বাদ পেলাম। একটু বুনো গন্ধ এবং সামান্য নোনতা। চা-ওয়ালাকে প্রশ্ন করতেই সে উত্তর দিল এটা রাজস্থানের বিখ্যাত উটের দুধের চা ।
ছবি ২ রামদেওড়া ষ্টেশনে উটের দুধের চা



রামদেওড়া থেকে জয়সলমীর প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের পথ। ট্রেন চলতে শুরু করল। ধু ধু মরুপ্রান্তরের মধ্য দিয়ে ছুটে চলেছে আমাদের জয়সলমীরগামী ট্রেন। কিছুক্ষণ পর গোগোল মানচিত্র দেখে জানতে পারলাম , জায়গাটার নাম পোখরান। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পারমানবিক সমরাস্ত্র পরীক্ষার জন্য পোখরান বিখ্যাত। এই পোখরানের অদূরে কোন এক মরুপ্রান্তরে ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম তার পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায়। সেই পারমাণবিক বোমার নাম ছিল “Smiling Buddha”. ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখছিলাম ভারতীয় সেনাবাহিনীর কনভয়। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারনে পোখরান থেকে জয়সলমীর পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কিছু সামরিক ঘাটি রয়েছে এবং রয়েছে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিমান ঘাঁটি।
ট্রেন যখন প্রায় জয়সলমীরের কাছাকাছি , জানালা দিয়ে দূরে পাহাড়ের চূড়ায় ডিমের মত আবছা কিছু একটা দেখা যাচ্ছিলো। ধীরে ধীরে সেটা পরিস্কার হতে শুরু করল। সূর্যের আলোয় হলুদ পাথরের কেল্লা সোনার মতো চিক চিক করছিলো। বুঝলাম ওটাই আমাদের সোনার কেল্লা।
ছবি ৩ জয়সলমীর ষ্টেশন



জয়সলমীর রেলষ্টেশনটিকে রাজস্থান পর্যটন সংস্থা (Rajasthan Tourism) প্রায় আর্ট গ্যালারী বানিয়ে রেখেছে। ছোট হলেও এর দেয়ালে দেয়ালে স্থানীয় চিত্রকরদের আঁকা জয়সলমীরের জীবনযাত্রার উপর সব ছবি।
ছবি ৪ জয়সলমীর ষ্টেশনে স্থানীয় শিল্পীদের আঁকা



স্টেশন থেকে সোজা চলে গেলাম আমাদের আগে থেকে ঠিক করে রাখা “ International Youth Hostel , Jaisalmer”. ২৫০ রুপীতে দুদিনের জন্য একটা কামড়াই নিয়ে নিলাম।
ছবি ৫ International youth hostel – Jaisalmer



বেলা বাজে প্রায় তখন ১২টা।পেটে ছুঁচোয় ডন মারছে। একটু খুঁজতেই পেয়ে গেলাম হোস্টেল থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী “জয়সলমীর সদর বাজার” (Sadar Bazar)পেট পুরে খেলাম রাজস্থানি থালি – এর মধ্যে রয়েছে দুরকম ডাল , পাঁপড় ভাজা , ছেঁকা পড়টা , সবজি এবং জয়সলমীরের বিখ্যাত ডাল বাটি চুরমা। সব মিলিয়ে আসলো মাত্র ৮০ রুপি , দু প্লেট থালির জন্যে।
আমার পরিচিত সবাই জয়সলমীর আসার পর পরই তড়িঘড়ি করে সোনার কেল্লা দেখার জন্য বেরিয়ে পরে।
কিন্তু এখানে আসার সময় ট্রেনে , বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করার পর আমার পরিকল্পনাটাকে আমি একটু অন্যভাবে সাজাই।
জয়সলমীর থেকে প্রায় ১২০ কিঃমিঃ দূরে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সেনাছাউনি LONGEWALA চেকপোস্ট। এই LONGEWALA যুদ্ধক্ষেত্রটি ১৯৭১ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের জন্য বিখ্যাত। ৭১ এ পূর্ব ফ্রন্টে আমাদের মুক্তিবাহিনীর হাতে পাকিরা যখন নাস্তানাবুদ , তখন জল্লাদ ইয়াহিয়া খান পাকবাহিনীকে ভারত আক্রমন করার নির্দেশ দেন। পশ্চিম ফ্রন্টে পাকবাহিনী যতোগুলো ফ্রন্টে , ভারতকে আক্রমন করেছিলো তার মধ্যে এই LONGEWALA অন্যতম। ৪ ও ৫ ই মে এই পয়েন্টে পাকিদের অতর্কিত শেলিং এর কারনে ভারতীয়রা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে ভারতীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণের মুখে পাক বাহিনী প্রচণ্ড মার খেয়ে প্রায় ২০০ সেনা হারিয়ে পালিয়ে যায়। যারা BORDER ছবিটি দেখেছেন , উল্লেখ্য বলিউডের এই ছবির প্রেক্ষাপট LONGEWALA যুদ্ধটাকে নিয়ে।
তার উপর আমি আরো উৎসাহিত হয়েছিলাম , এই LONGEWALA সীমান্তে , এক মরুদেবীর প্রাচীন মন্দির রয়েছে। এই মরুদেবীর নাম তানোট রাই। যারা অবধূতের লেখা মরুতীর্থ হিংলাজ বইটা পড়েছেন , উত্তম কুমার অভিনীত ছবিটা দেখেছেন তারা একটু ধারনা করতে পারবেন।
মরুতীর্থ হিংলাজ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে অবস্থিত। প্রাচীন চারণ সাহিত্য অনুযায়ী এই তানোট রাই মাতা , মরুদেবী হিংলাজের একটি অবতার। আর এই তানোট রাই মাতার মন্দির সম্পর্কে আরও একটি রূপকথা প্রচলিত আছে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এই এলাকায় পাকিরা প্রচুর পরিমানে বোমা ছুঁড়েছিল। কিন্তু তানোট রাই মাতার মন্দিরের আশেপাশে ছোঁড়া এই বোমাগুলোর একটিও বিস্ফোরিত হয় নি। স্থানীয়রা মনে করে এটি মরু দেবী তানোট রাই মাতার আশীর্বাদ। অষ্টাদশ শতাব্দীর তৈরি এই প্রাচীন মন্দির দেখতে হলে যেতে হবে থর মরুভূমি এবং শ্যাম বালিয়াড়ির উপর দিয়ে।

জয়সলমীর শহর থেকে একটা জিপ ভাড়া নিয়ে নিলাম। ৫০০ রুপির বিনিময়ে আমাদের জায়গামতো পৌঁছে দেবে। সময় দু থেকে আড়াই ঘণ্টা। বেশ কিছুক্ষণ পর আমাদের জিপ জয়সলমীর শহরের বাইরে চলে গেলো।
ছবি ৬ আমাদের ভাড়া করা জীপ



দুপাশে বিস্তীর্ণ মরুভূমি এবং মাঝখানে পিচঢালা রাস্তা। বিশ্বের ১৭ তম বৃহত্তম মরু – থর মরুভূমির উপর দিয়ে আমাদের মহেন্দ্র জিপ এগিয়ে চলেছে। মরুভূমিতে যত ফণীমনসা এবং ঝোপঝাড় জাতীয় উদ্ভিদ।


আর একটা ব্যপার লক্ষ্য করলাম। থর মরুভূমির বিশাল এলাকাজুড়ে প্রচুর বায়ুকল (Windmill)। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম এটা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বায়ুকল পার্ক , যার মাধ্যমে প্রায় ১০৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। প্রায় ১ ঘণ্টার মত জিপ ভ্রমণের পর হঠাত আমাদের জিপটি বিকল হয়ে যায়। আমি আগেই বলেছিলাম , কেন আমার এই লেখাটিকে আমি ভ্রমন না বলে অভিযান বলছি। আমাদের রাজস্থানি গাড়িচালক অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও গাড়ীর কোন কূলকিনারা করতে পারলো না। বুঝলাম সমস্যাটা গাড়ীর ইঞ্জিনে। সমূহ বিপদ। বেলা প্রায় বিকেল ৪টা তখন। রাস্তায় হাত দেখিয়ে অন্য জিপগুলোকে থামানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোনও সাড়া পাচ্ছিলাম না। প্রায় ১ ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করলাম। কোন লাভ হল না। তখন আমাদের গাড়ী চালকের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। তার প্রস্তাব অনুযায়ী এলহন আমরা যে জায়গায় আছি , এখান থেকে মিনিট ১৫ হেঁটে গেলে পাবো “শ্যাম বালিয়াড়ি”। শ্যাম বালিয়াড়ি থেকে ৪০ মিনিট উট ভ্রমন করলে আমরা পৌঁছব রামগড় বড় রাস্তায়। সেখান থেকে আরেকটা জিপ নিয়ে তাও প্রায় ৪০ মিনিট পর আমরা পৌঁছব LONGEWALA চেকপোস্ট। অবশ্যই আমরা এই প্রস্তাবে রাজী হলাম না। কারন জায়গাটা সম্পূর্ণ আমাদের অচেনা। তার উপর রাজস্থানের আরাবল্লি পর্বতের ডাকাতদের কথা আমি আগেই পড়েছি। সাথে দামি সেলফোন , টাকাপয়সা , ক্যামেরা ইত্যাদি।
আমাদের রাজস্থানি জিপচালক অভয় দিয়ে বলল “ আমি আপনাদের সাথে যাবো”। তখন কিছু করারও ছিল না। অতএব রাজী হয়ে গেলাম। বেলা প্রায় বিকেল ৫টা। শুরু হল আমাদের থর মরুভূমির উপর দিয়ে হাঁটা। কিছুদূর গিয়ে এলো শ্যাম বালিয়াড়ি। এই জায়গাটা সাধারন মরুভূমি থেকে ভিন্ন। বালিতে আমার পা দেবে গেলো। কোন লতা , গুল্ম বা উদ্ভিদ নেই। চারেদিকে শুধু বালি আর বালি। উঁচু উঁচু বালির টিলা ও ডিবি। যেখানে পৌঁছলাম , সে জায়গাটাকে মোটামুটি উটের স্টেশন বলা চলে। ১০-১২ জন উট ওয়ালা তাদের উট নিয়ে বসিয়েছে জটলা। সাথে ছোট একটা চার দোকান।
ছবি ৮ উটের ডিপো



আমাদের রাজস্থানি জিপচালক , উট ওয়ালার সাথে কথা বলে ১০০ রুপিতে রাজী করাল , আমাদের রামগড় মেইন রোড পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। আমি এই উট গুলোকে ভালোভাবে দেখছিলাম। উট ওয়ালারা খুব বাহারি পোশাকে সাজিয়েছে তাদের উট গুলোকে। কিছু উটের গলাও দেখলাম লাল চাদর দিয়ে ঢাকা এবং চাদরের উপর কারুকাজ করা।
ছবি ৯ “শ্যাম” বালিয়াড়ি


শুরু হল আমাদের শ্যাম বালিয়াড়ির উপর দিয়ে উটযাত্রা। মনে পড়ল সোনার কেল্লার লালমোহন বাবুর দুরবস্থার কথা। ও বাবাগো...... মাগো।
ছবি ১০ উটের পিঠে



আমার অবস্থাও ওরকম। আমাদের উটটি উচ্চতায় প্রায় সাড়ে ছ ফুটের উপরে। আমাদের এই উটভ্রমন যদি সমতল মরুভূমির উপর দিয়ে হত , তাহলে কোন কথায় ছিল না। কিন্তু এটা বালিয়াড়ি । উট চলছে ছোট ছোট বালির টিলা এবং সমতলের মধ্য দিয়ে। উঁচু বালির টিলা থেকে উট যখন নিচে সমতলে নামছে , তার দুলুনিতে মনে হচ্ছে এই বোধ হয় আমি সাড়ে ছ ফুট উটের পিঠের থেকে নিচে পড়ে , ভবলীলা সাঙ্গ করবো। এটা একবার না , বেশ কয়েকবার।


খুব শীঘ্রই সুয্যিমামা বিদায় নেবে। শ্যাম বালিয়াড়িতেই উপভোগ করলাম মরুভূমিতে সূর্যাস্ত। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর আমরা রামগড় মেইন রোডে পৌঁছলাম। মেইন রোডেই পেয়ে গেলাম আরেকটি জিপ , যেটা আমাদের LONGEWALA চেকপোস্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। উটের দুলুনির ধাক্কায় আমার পুরো শরীর তখন ব্যাথা।
ছবি ১২ “শ্যাম” বালিয়াড়িতে সূর্যাস্ত



প্রায় ঘণ্টাখানেক পর আমরা পৌঁছলাম LONGEWALA চেকপোস্টে।
এখানে আমাদের নিবন্ধন করা হবে। কর্তব্যরত সামরিক জওয়ান সাফ জানিয়ে দিলো এই চেকপোস্ট অতিক্রম করতে হলে জয়সলমীর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এদিকে আমার ভাই , আবার পরিচয় দিয়ে দিলো , আমি আবার বিদেশী নাগরিক। লে হালুয়া। একি যন্ত্রণা। ভারতীয় নাগরিক অনুমতি পেতে পারে , কিন্তু বিদেশী নাগরিক প্রশ্নই ওঠে না। অনেক বুঝিয়েও ওই মাথামোটা জওয়ানটিকে রাজী করাতে পারলাম না। হঠাত ওখানে উপস্থিত হল , সামরিক বাহিনিতে কর্মরত টারবান পরিহিত এক “শিখ” জওয়ান। আমি তাকে হিন্দির পরিবর্তে পাঞ্জাবি ভাষায় অভিভাধন জানালাম “সাস্রিকাল” (পাঞ্জাবিতে এর মানে নমস্কার) । তিনি চমকে প্রশ্ন করলেন তুমি এ ভাষা জানো কিভাবে ? আমি তাকে সংক্ষেপে আমার প্রবাস জীবনে আমার অনেক পাঞ্জাবি বন্ধু ছিল এটা বললাম এবং প্রত্যেক কথার শেষে “হ্যাঁ জী” (মানে হ্যাঁ মাননীয় ) শব্দটা ব্যবহার করলাম। তিনি আমার কথায় একটু সদয় হলেন। বললেন ঠিক আছে “তোমরা এমনি যাবে কিন্তু আমরা তোমাদের কোন নিবন্ধন করব না , তোমরা যাবে আমার পরিচিত হিসেবে। আর ২০ মিনিট জিপ ভ্রমনের পর আমরা পৌঁছলাম ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকা BP609.
ছবি ১৩ BP 609



এখানেই সেই বিখ্যাত LONGEWALA যুদ্ধ হয়েছিলো।
দূর থেকে দেখা যাচ্ছিলো পাক বর্ডার , ওদের সেনারা ওদের এলাকায় টহল দিচ্ছে। প্রায় মিনিট ১০ ঘুরাঘুরি করার পর , আমরা এখান থেকে আরও ১৩ কিঃমিঃ দূরে তানোট রাই মাতার মন্দিরেরে দিকে রওয়ানা হয়ে গেলাম।

ছবি ১৪ মরুদেবী তানোট রাই



তানোট রাইয়ের মন্দিরটি পুরোপুরি ভারতীয় BSF এর তত্তাবধানে। ঘুরে দেখলাম পুরো মন্দির এলাকা। স্মৃতিস্তম্ভে দেখলাম শুধুমাত্র ভারতীয় বাহিনীর নয় , পাক সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এখানে এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে।

ছবি ১৫ পাকিদের ছোঁড়া অবিস্ফরিত সেল



এবার ফেরার পালা। আমাদের জিপ চালকের সাথে আমাদের আগেই কথা হয়েছিলো রাতটা আমরা কাটাবো শ্যাম বালিয়াড়ির কাছেই অবস্থিত মরুতাঁবুতে।
জায়গাটা মরুভূমির প্রায় মাঝখানে। এটাকে মরুতাঁবু বললে ভুল হবে। আমি মনে মনে কল্পনা করে রেখেছিলাম বেদুঈনদের মত তাঁবু টাঙিয়ে , আগুন জ্বালিয়ে , আমরা থাকব। না , সেটা নয়। মরুভূমির মাঝখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি করা প্রায় ৫০টার মত ছোট ছোট কটেজ। মাঝখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ছোট পাথর বাঁধানো মাঠের মতো।
ঢুকতেই একটি রাজস্থানি কিশোরী আমাদের কপালে সিঁদুরের বড় লাল চিহ্ন এঁকে দিয়ে অভ্যর্থনা জানালো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে রাত ১১টায়। সাথে খাবার পরিবেশন। পুরো অনুষ্ঠানটি রাজস্থান ট্যুরিজম এর তত্ত্বাবধানে।
প্রথমেই গানের জলসা। রাজস্থানি লোকজ গান – মাঙ্গানিয়ার। শিল্পীরা সবাই রাজস্থানি পোশাক পরিহিত – কুর্তা , পাগড়ী , পাজামা। বেশিরভাগই রাজস্থানের দক্ষিণাঞ্চলের। যোধপুর , জয়সলমীরের। এই মাঙ্গানিয়াররা জাতিতে মুসলমান। পর পর নটি গান তারা পরিবেশন করলেন।
ছবি ১৬ মরুতাঁবুতে গানের আসর



শেষ গানটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত ছিলাম । “Nimbooda Nimbooda Nimbooda Arre Kaacha Kaacha Chhota Chhota , Nimbooda Layi Do” – বলিউডের “hum dil de chuke sanam” ছবিতে এই গানের সাথে অভিনয় করেছেন Aishwarya Rai Bachchan। তবে শিল্পীদের দাবি এটা রাজস্থানের লোকজ সঙ্গীত।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল লোকজ রাজস্থানি নৃত্য – কাল বেলিয়া (kalbelia)। এটা মূলত রাজস্থানি সাপুড়েদের নৃত্য। এই সাপুড়েরা সাধারণত রাস্তায় সাপের খেলা দেখায় এবং এই সাপের খেলা দেখানোর সময় সাপুড়ে মহিলারা গান গায় এবং দর্শনার্থীদের থেকে দর্শনি সংগ্রহ করে। এই ধরনের গান এবং নৃত্যই পরে কাল বেলিয়া নৃত্য হিসাবে জনপ্রিয় হয়। কাল বেলিয়া সুর সৃষ্টির জন্য POONGI এবং BEEN নামক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। নৃত্য শিল্পীরা দুটি পরিবেশনা করল। এক কথায় অসাধারন।


সকালে প্রাতরাশের পর এলাকাটা ঘুরে দেখলাম। খুব সুন্দর ও পরিপাটী করে রেখেছে রাজস্থান ট্যুরিজম।
ছবি ১৮ সকালে মরুতাঁবু



এবার আমাদের ফেরার পালা। ফেরার পথে আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দুটো জায়গা দেখে জয়সলমীর ফিরে যাবো। সকাল ৮টায় যাত্রা শুরু হল। কুড়ি মিনিট পরে , পৌঁছে গেলাম “বড় বাগ”। মহারাজা JAI SINNGH II রাজপরিবারের সদস্যদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এই বাগানটি তৈরি করেন। পরে রাজপরিবারের সদস্যদের স্মৃতিতে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য স্মৃতিস্তম্ভ । এই বড় বাগটি একটি ছোট পাহাড়ে অবস্থিত। ছবি তোলার জন্য চমৎকার জায়গা।
ছবি ১৯ বড়া বাগ



দ্বিতীয় জায়গাটার নাম কুলধারা – যা রাজস্থানের প্রেতপুরী নামে পরিচিত।
এই এলাকাটা সম্পর্কে অনেক গুলপট্টি শোনা যায়। রাতে নাকি এখানে প্রেতরা নাচানাচি করে , অদ্ভুদ শব্দ শোনা যায় ইত্যাদি ...... আমি বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ – অতএব এসব থেকে অনেক দূরে। তাই কুলধারায় আমি হতাস হলাম। পরিত্যক্ত একটা গ্রাম। তবে গোছানো ও সুন্দর। আগে এই গ্রামে পালিওয়াল ব্রাহ্মণরা থাকতো। কথিত আছে কোন এক অত্যাচারী দেওয়ানের কারনে , গ্রামবাসী এক রাতে গায়েব হয়ে যায়। তবে বাড়ীগুলোর নকশা দেখার মতো।

ছবি ২০ কুলধারা প্রেতপুরী



কুলধারা থেকে আমরা সোজা পৌঁছে গেলাম জয়সলমীর শহরে। সকাল ১১ টা বাজে। Youth Hostel এ ব্যাগটা রেখে বেরিয়ে পরলাম জয়সলমীর শহরটা পায়ে হেঁটে দেখতে।
মজার একটা ব্যপার খেয়াল করলাম। এই শহরে যত হোটেল, লজ আছে , দামী থেকে শুরু করে একশো রুপির হোটেল – সব জায়গাতেই ইংরেজি , হিন্দির পাশাপাশি বাংলায় নাম লেখা। প্রত্যেকটা বড় খাবারের রেস্তোরাঁয় লেখা “এখানে সুস্বাদু বাঙালি খাবার পাওয়া যায়”। বোঝা যায় বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে আসে সোনার কেল্লা দেখতে।
জয়সলমীর শহরের প্রায় সব বাড়ীই হলুদ বেলে পাথর (Yellow sand stone) দিয়ে তৈরি। কোনটাই তিন থেকে পাঁচতলার বেশি উঁচু নয়। এদেরকে বলা হয় “হাভেলি (Haveli)। একঘণ্টা ঘোরাফেরা করার পর আমারা সোনার কেল্লার পথ ধরলাম।

ছবি ২২ হলুদ বেলে পাথরের হাভেলি – ১



ছবি ২৩ হলুদ বেলে পাথরের হাভেলি – ২



ছবি ২৪ হলুদ বেলে পাথরের হাভেলি – ৩



ছবি ২৫ হলুদ বেলে পাথরের হাভেলি – ৪



সোনার কেল্লা যাওয়ার দুটো রাস্তা আছে। প্রথমটা গাড়ী করে সরাসরি কেল্লার চুড়োয় উঠে যাবেন।
দ্বিতীয়টা পায়ে হেঁটে – দেখতে পাবেন কেল্লার দেওয়ালের অপূর্ব স্থাপত্য, কেল্লার পথে পথে রমণীয় সব রাজিস্থানি হস্তশিল্পের দোকান , খাবারের পসরা নিয়ে বসে আছে দোকানী ...... কেল্লার বাসিন্দাদের নিজস্ব সুর ও লয়। তবে পথ খুব একটা ছোট নয়। আধ ঘণ্টার খাঁড়া , উঁচু রাস্তা। মনে জোড় থাকা চাই।

ছবি ২৬ সোনার কেল্লায় ঢোকার সময়



ছবি ২৭ সোনার কেল্লায় ওঠার রাস্তা



ছবি ২৮ সোনার কেল্লায় ওঠার রাস্তা



সোনার কেল্লায় , ওঠার পর আমরা একশো রুপির বিনিময়ে স্থানীয় একটা গাইড নিয়ে নিলাম। বিকানীরের এই ছেলেটি হিন্দিতে আমাকে বলল “আপনারা বাঙালি পর্যটকরা আছেন বলেই আমরা এখনো দুমুঠো খেতে পাই”। কারণটা জিজ্ঞেস করতে সে উত্তর দিলো “আগে জয়সলমীর মানে বলা হতো যা-শালে-মর। আর আজ সোনার কেল্লার পর এই শহরটাই জেগে উঠেছে এক নতুন রূপে। সে বলল যে , সত্যজিৎ রায় আমাদের ভাস্কো- ডা- গামা। যিনি আজ পঞ্চাশ বছর আগে মুকুলকে নিয়ে আমাদের জয়সলমীর শহরটা আবিষ্কার করেছেন। ওনার জন্যই আমরা আজ বেঁচে আছি – “যা-শালে-মর” এর শহর দিব্বি রাজার হালে”।

একটা গল্প , একটা “Regional film” একটা শহরেরে মানচিত্র বদলে দিতে পারে এটা এক অভূতপূর্ব ঘটনা।


ছবি ২৯ সোনার কেল্লার ম্যাপ



সোনার কেল্লার উচ্চতা দুশো পঞ্চাশ ফুট। দৈর্ঘ্যে দেড় হাজার ফুট আর প্রস্থে সাতশো পঞ্চাশ ফুট। সারা কেল্লা পনেরো ফুট উঁচু পাথরেরে দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এককথায় সবদিক থেকেই সুরক্ষিত।

ছবি ৩০ সোনার কেল্লার ভেতরে



ছবি ৩১ সোনার কেল্লার ভেতরে



ছবি ৩২ রাজা জয়সল



ছবি ৩৩ সোনার কেল্লার ভেতরে



ছবি ৩৪ সোনার কেল্লার ভেতরে



সব রাজপুত শহরেরই প্রাণকেন্দ্রই হল এক একটি দুর্গ। ভারতের যদু বংশের কোন এক কীর্তিমান পুরুষ ৭৩১ খ্রিস্টাব্দে রাজপুতানার এই পার্বত্য মরুভূমির মরূদ্যানের উপর এই শহরেরে পরিকল্পনা করেছিলেন। এই পরিকল্পনাকেই কেন্দ্র করে ১১৫৬ খ্রিস্টাব্দে গড়ে উঠল শহর জয়সলমীর।
রাজা তখন রাওয়াল জয়সল। ত্রিকুতা পাহাড়ের উপর অবস্থিত ৮৫০ বছরের পুরনো এই সোনার কেল্লায় বর্তমানে প্রায় ৫০০০ লোকের বাস, যা জয়সলমীর শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। সাধারণত ব্রাহমিন (Brahmin) , এবং দারোগা (Daroga) সম্প্রদায়ের লোকের এখানে বাস , যাদের বেশিরভাগই ভাটি রাজপুত রাজা জয়সলের সময় থেকেই এখানে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে।

গাইড আমাদের পুরো কেল্লাটা ঘুরে দেখাল। কেল্লার উঁচু জায়গাটা থেকে পুরো জয়সলমীর শহরেরে নয়নাভিরাম দৃশ্য। ভেতরে রয়েছে রানী মহল, পুরনো অস্ত্র , সস্ত্রে সজ্জিত জাদুঘর ইত্যাদি।

ছবি ৩৫ কেল্লার ভেতরে জাদুঘরে



ছবি ৩৬ জাদুঘরে মরুদেবী তানোট রাই



ছবি ৩৭ সোনার কেল্লার বারান্দা থেকে জয়সলমীর শহর



ছবি ৩৮ সোনার কেল্লার বারান্দা থেকে জয়সলমীর শহর



ছবি ৩৯ সোনার কেল্লার বাইরে আমি



কেল্লার জাদুঘর থেকে বেরিয়ে গাইডকে প্রশ্ন করলাম কোথায় সোনার কেল্লার শুটিং হয়েছিলো? মুকুলের বাড়িটাই বা কোন দিকে ? সে আমাদের পথ বাতলে দিল। সামান্য হেঁটে অলিগলি পেরিয়ে হাজির হলাম মুকুলের বাড়ীর সামনে , যেখানে নকল হেমাঙ্গ হাজরা গুপ্তধন খুঁজছিল , পরে আক্রান্ত হল ইত্যাদি .........

ছবি ৪০ মুকুলের বাড়ীর সামনে আমারা



সামনে এগোলাম। মুকুলের নামে এখানে আছে “Mukul stone shop”. ঢোকা মাত্রই খাস বাংলায় “আপানারা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?” - বাঙালি কর্মচারী। কিনলাম সোনার কেল্লার ফেলুদার “সোনার পাথর বাটি (Yellow sand stone) ” এবং “জীবাশ্ম পাথর (fossil stone)” এর তৈরি মগ।

ছবি ৪১ ফেলুদার সোনার পাথর বাটি ও ফসিল পাথর গ্লাস



কেল্লা শেষ করে চলে গেলাম সদর বাজারেরে দিকে। এখানে রয়েছে সংগ্রাহকদের জন্য সস্তায় অসংখ্য হস্তশিল্পের দোকান। আর কিছুদূর গেলেই পড়বে ভাটিয়া বাজার। জয়সলমীর শহরে যতোগুলো হস্তশিল্পের অভিজাত দোকান রয়েছে , একই জিনিষ এই বাজারগুলোতে পাবেন হাজারগুণ সস্তায়। কেনাকাটার সাথে , সামান্য জলযোগ। জয়সলমীরেরে বিখ্যাত জিলাবি। অতিব সুস্বাদু। পথিমধ্যেই দেখে নিলাম পাতোয়ান কি হাভেলি , তাজিয়া টাওয়ার ইত্যাদি।
আমারা যখন ভাটিয়া বাজারে , রাস্তায় এক রাজস্থানি বাদ্যকার ফুটিয়ে তুলছে অদ্ভুত রহস্যময় সুর। থমকে দাঁড়ালাম। জানলাম এই বাদ্যযন্ত্রটির নাম রাভনাহাতা (RAVANAHATHA)।

ছবি ৪২ ভাটিয়া বাজারের সেই অদ্ভুত সুর





বিকেল ৫টা। সব শেষ করে আমরা চলে এলাম আমাদের শেষ লক্ষ্য গাদিসর লেক। লেকের পাড়টা পুরোটাই হলুদ পাথর দিয়ে বাঁধানো। বইছে প্রান জুড়ানো হাওয়া। সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম যেন নিমিষেই উবে গেলো।

ছবি ৪৩ গাদিসর লেক



এবার ফেরার পালা। গোছগাছ করে হোস্টেলের ছাদে রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসলাম। এবার পুরোটাই বাঙালি খাবার। হোস্টেলের ছাদ থেকে রাতের
আলো-আঁধারিতে রহস্যময় সোনার কেল্লা।

ছবি ৪৪ রাতের সোনার কেল্লা ও জয়সলমীর শহর



আমাদের রাত এগারোটার ট্রেন। জয়সলমীর শহরটার হলুদ পাথরগুলোর একটা জাদু আছে। এই হলুদ পাথর গুলোই প্রান প্রতিষ্ঠা করে মানুষের মনে। আমাদের যোধপুরগামী ট্রেন সোনার কেল্লার শহর জয়সলমীর ছেড়ে গেলো।

ছবি ৪৫ রাতের জয়সলমীর ষ্টেশন ও বিদায়



টীকাঃ যারা সংগ্রাহক (Collector) , তাঁদের জন্য রয়েছে ছোট একটি নির্দেশনা, যা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। কি কিনবেন এবং কোথায় সস্তায় পাবেন ?
১) ফেলুদার সোনার পাথর বাটি ও ফসিল পাথর গ্লাস – সোনার কেল্লার ভেতরে মুকুল স্টোন সপ। দামঃ ৩০০ রুপি ।
২) রাজস্থানি পাগড়ী এবং কুর্তাঃ ভাটিয়া বাজার , পাগড়ী ১০০ রুপি , কুর্তা ১৫০ রুপি ।



৩) জয়সলমীর পুতুল নাচের পুতুলঃ সদর বাজার , একজোড়া ৫০ রুপি



৪) কাঠের তৈরি উট ও ময়ূরঃ ভাটিয়া বাজার , ১০০ রুপি



৫) জয়সলমীরের মানুষঃ ভাটিয়া বাজার ,একজোড়া ৫০ রুপি



৬) সাপুড়েদের বাঁশি ও ঢোলঃ কেল্লার সামনে সাপুড়েরা বিক্রি করে , ৫০ রুপি



৭) উটের চামড়ার ডায়েরিঃ সদর বাজার , ২০০ রুপি



৮) জয়সলমীরের হাতে তৈরি টেবিল ল্যাম্পঃ সদর বাজার , ৪০০ রুপি



৯) পোস্ট কার্ডঃ কেল্লার সামনে ফুটপাথ , দরদাম করতে হবে , প্রতিটি ২ রুপি।



Reference:

1. http://raj.bsf.gov.in/mata/mata.pdf
2. Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:১১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবুক

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৪


ছেলেটি ভাবুক ,
তার কোন দুঃখ নেই ,মনে মনে জাগতিক যত স্বাদ তার নেওয়া হয়ে গেছে ,
ভাবুক মনের কল্পনায় ।
গাছের নতুন পাতা যেমন আলোর ছটা খেলে যায় , তেমনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১১)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:১৩




আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১০)


কেহ উঁকি মারে নাই তাহাদের প্রাণে
ভাঙ্গিয়া দেখে নি কেহ, হৃদয়- গোপন-গেহ
আপন মরম তারা আপনি না জানে।

দুপুর আড়াইটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বায়োস্কোপ জীবন

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৬


যেখানে রাস্তাটা উঁচু হয়ে গেছে অনেকদূর।
যেখানে উঠলেই বাড়িগুলোর ছাদ দেখা যেতো রাস্তা থেকে।
ছয় মিনিটের সেই পথটুকু শেষ হোক চাইনি কখনো!
কিছু পথ থাকে,যেখানে গেলে চেনা গন্ধর মত তুমি।
সেখানেই দেখা হয়েছিল আমাদের।
তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×