আজ ঈদুল আযহার খুশির দিনে সকল মুসলিম উম্মাহ খুব আনন্দ , উদ্দীপনা ও ভাব-গাম্ভীর্যের সাথে ঈদ উদযাপন করেছেন । খুব সকালে ঈদগাহেতে ঈদের সালাত আদায় করে সকলে বাড়ি ফিরে কুরবানী করেছেন ।
আজকের এই কুরবানীর দিনে গরু , মহিষ , ভেড়া ও ছাগল প্রভৃতি প্রাণী জবাই করে কেউ কেউ হয়তো নিজে নিজেই প্রাণীর গোস্ত কাটা-কুটি করেছেন । তবে বেশিরভাগ লোকই মওসুমী কসাইদের দ্বারস্থ হয়েছেন । যে কসাইগুলো মূলত পেশাদার কোন কসাই নয় । এদের বেশির ভাগই হয়তো রিকশাওয়ালা নয়তো গ্রামের কৃষিজীবি খেটেখাওয়া মানুষ । তারা এই সময়টিতে বেশ তৎপর থাকে গরু-ছাগল কাটার কাজ বাগিয়ে নেয়ার জন্য । তাদের এই কাজের প্রতি পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা ও ধারণা না থাকায় বহু ঝামেলায় পড়তে হয় তাদেরকে ।
আজ কুরবানির সময় যা দেখলাম তাতে অবাক না হয়ে পারিনি । এক কসাই জবাইয়ের সময় জবাইকারীকে সামান্য একটা পোচ দিয়ে সরে যেতে বলে । জবাইকারীকে সরিয়ে দিয়ে সে গরুর মাথাটা উল্টো করে ঘাড়টা মটকিয়ে দেয় । এমনটা করার কারণ কি জানতে চাইলে জবাবে সে বলে “ঘাড় না মটকাইলে গরু তাড়াতাড়ি মরেনা” । আরেকজন তৎক্ষণাৎ গরুর পায়ের রগ কাটা শুরু করে দেয় । গরুটাকে স্বাভাবিক ভাবে মরতেও দিলনা । অবস্থা দেখে মনে হলো এদের মাঝে মনুষত্ব্য বোধ বলতে কিছু নেই । নিয়ম অনুযায়ি প্রাণী জবাই করার পর প্রাণীর প্রাণ যখন একেবারে চলে যায় এবং পরিপূর্ণ নিস্তেজ ও ঠান্ডা হয়ে যায় তখন আস্তে আস্তে চামড়া ছেলাই করার কথা তাদেরকে বললেও সে কথায় তাদের কোনো কর্ণপাত তো নেইই উল্টো আরো দম্ভি প্রকাশ করে বলে “আমাগো আরো বহুত জাগাত কাম বাকি আছে , এইডা শেষ কইরা আরেক জাগাত জাওন লাগবো ”।
একজন মানুষের সামনে আরেকজন মানুষকে যদি জবাই করা হয় আর সে মানুষটিকেও যদি জবাইয়ের সিরিয়ালে দাড় করিয়ে রাখা হয় তাহলে এই পরিস্থিতি অবলোকন করতে সেই মানুষটির কেমন লাগার কথা ? অথচ এই নির্মম কাজটা আমাদের কসাই মহোদয়েরা কত সহজেই না করছে ! কেন , পশুরা নির্বাক বলে কি তাদের বোধ শক্তি ও নেই ? আমার তো মনে হয়না পশুরাও আমাদের মতো নির্বোধ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




