
ভাষার জন্য সারা বিশ্বে একমাত্র বাঙালিরাই প্রাণ দিয়েছে। যদিও বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, সামান্য অসচেতনতার জন্য অনেক ক্ষেত্রে আমরা এর প্রাপ্য সম্মান দিতে পারি না। যার উদাহরণ হচ্ছে—ভুল বাংলা বানান। রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, দোকান, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে ব্লগ-ফেসবুক পর্যন্ত এই ভুলের বিস্তার। ‘ভুল’ বানানটাও আমরা অনেক সময় ভুল করে লিখি ‘ভূল’। যে চেতনাবোধে প্রাণিত হয়ে সালাম, রফিক, জব্বার বুকের রক্ত ঢেলে বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই উত্তুঙ্গ চেতনার কিছুই আর পরবর্তীকালে অবশিষ্ট থাকে নি। বিশেষ করে বিগত কয়েক বছরে বাংলা ভাষা ও বাংলা বানান নিয়ে যে ক্রমাগত উল্লম্ফন চলছে, তাতে আশাহত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে।
ধরা যাক, মুমূর্ষু রোগীর অস্ত্রোপচার চলছে। তখন যদি চিকিৎসক ভুল করে রোগীর পেটে ছুরি-কাঁচি রেখে সেলাই করে দেন। তখন এ ভুল কি মেনে নেওয়া যায়? তেমনি বাংলা বানানে ভুল হলেও মেনে নেওয়া কষ্টকর। কেননা বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষার মর্যাদা অর্জনে বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ হয়েছেন বরকত, শফিউর, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক ভাই। এখন যদি আমরা বাংলা বানান ভুল করি, সেটা হবে তাদের প্রতি আমাদের উদাসীনতারই প্রকাশ।

বাংলা একাডেমি ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন-পরবর্তী কালের প্রেক্ষাপটে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন "বর্ধমান হাউজ"-এ এই একাডেমির সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। একাডেমির "বর্ধমান হাউজে" একটি "ভাষা আন্দোলন জাদুঘর" আছে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণা ।
এমন একটি জাতীয় গবেষনা প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে যখন মৃত্যুবার্ষিকীকে জন্মবার্ষিকীঽ হিসেবে উল্লেখ করে গণমাধ্যমে চিঠি দেয়া হয় ( http://goo.gl/mQKfTn) , তখন এজাতীয় গবেষনা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের উদাসীনতা সবাইকে ভাবিয়ে তোলে !!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



