সাহিত্যকে আমি বুঝি না। আরো বুঝি না কনটেম্পোরারি কবিতা (আধুনিক আর সমকালীন দুটার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য)। কোন লেখার আলোচনা-সমালোচনা করার দুঃসাহস ও আমার নাই। সাহিত্যকে ভালো বা মন্দ,শ্লীল বা অশ্লীল ইত্যাদি কোন মাপকাঠিতে পরিমাপ করাও আমার কাছে যথার্থ মনে হয় না।যদি করা হত হলে মহাভারত-রামায়ন আর বাইবেলের কিছু অংশও অশ্লীল হয়ে যেত। একসময় যেটা মন্দ পরবর্তী সময়ে সেটা হয়ে উঠে অসাধারণ। চরম অশ্লীলতার দায়ে একসময় সমালোচিত ও নিষিদ্ধ সাহিত্যই হয়ে উঠে কালজয়ী। "লেডি চ্যাটারলিজস লাভার' অথবা “কোয়েটজার সোনাটা” এর বিরাট উদাহরণ। সাহিত্যের মাপকাঠিটা আমার কাছে শুধুই ভালো বা মন্দ লাগার। তবে এতটুকু বুঝি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যকে ধরে নেয়া যায় সেই সময়ের সেরা সাহিত্য কাজের অন্যতম। সেটা যদি হয় ''প্রথম আলো'র" মত হাই প্রোফাইল ব্র্যান্ডের তাহলে তো কথাই নাই।
একজন কবির পূর্ণ স্বাধীনতা আছে তার যা ইচ্ছা ভাষা ব্যবহার করার, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সাহিত্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার। এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত। আবার একটা ব্যক্তিগত-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা আছে নিজস্ব উদ্যোগে পুরস্কার প্রদানের। যাকে ইচ্ছা সে পুরস্কার দিতে পারে। এই দুইটা স্বাধীনতার দারুণ প্রয়োগ আমরা দেখলাম সাইয়িদ জামিল ও প্রথম আলো'র। একজন চরম অশ্লীল ভাষার সাবলীল প্রয়োগ করেছন তার কবিতায় আরেকজন তাকে ধন্য ধন্য করে দিয়েছন পুরস্কার।
আমি অভাজন; "সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা" টাইপ কোন রচনা আমি লিখতে বসি নাই, "প্রথম আলো " কাকে কি পুরস্কার দিলো সেটা নিয়ে বলার এক্তিয়ার ও আমার থাকার কথা না। তবুও কথা বলছি কেননা সাইয়িদ জামিল কে যে পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে তা কবি জীবনানন্দ দাসের নামে। আর এই খানেই আমার এক্তিয়ার। জীবনানন্দ দাস আমারও কবি, প্রথম আলোর বাপের সম্পত্তি না। আর যাই হোক “রবীন্দ্রনাথ কে থাপড়ানো ও তাহার পোস্টারের উপর মুত্র বিসর্জন করা” কবিতাকে রূপসী বাংলার কবির নামে পুরস্কার দেয়া মেনে নেয়া যায় না। “অশ্বত্থের ডাল ও করিবে প্রতিবাদ আর আমি তো ভেতো বাঙ্গালী।
তবে "প্রথম আলো" যদি ভুল করে "রসময় গুপ্ত সাহিত্য পুরস্কার" দিতে গিয়ে " জীবনানন্দ দাস সাহিত্য পুরস্কার" দিয়ে ফেলে আমার কোন কথা বলার নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




