somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিময় পাথরঘাটা (ভালবাসার গল্প-১ম পর্ব)

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশ্চর্য ব্যাপার। তুমি তো অদ্ভুত মানুষ। এখনও খাওয়া-দাওয়া করনি। কয়টা বাজে? ঘড়ি দেখেছ? তুমি আসবেনা? এক নি:শ্বাসে কথাগুলো বলল আশরাফ। ফোনে তার কথা শেষ হতে না হতেই বিছানা থেকে তড়াক করে উঠে তাসনীম। না খেয়েই ঝটপট নিজের বানানো জামা পড়ে তাড়াতাড়ি সেজেগুজে বের হয়।
আকাশে মেঘ জমেছে। দিনের আলো হারিয়ে অন্ধকার হতে যাচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে। এখন কী করবে, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। এখন কিভাবে যাবো? নাহ কথা দিয়েছি যেতেই হবে। তার সাথে দেখা করতেই হবে। পাথরঘাটা যাওয়ার ব্যাপারে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল তাসনীম।
এদিকে আশরাফ তার অপেক্ষায় বসে থাকে। সে কখন আসবে। কখন দেখা হবে। অপেক্ষার সময় যেনো শেষ হতে চায় না।
তাসনীম বাবা-মায়ের সর্ব কনিষ্ট সন্তান। প্রচন্ড ভালবাসায় বড় হয়েছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেনো গোলাপ কাননে সদ্য গজানো ফুলের কলি। বেশ আকর্ষণীয়, অপূর্ব সুন্দরী, প্রখর মেধাবী। ব্যক্তিজীবনে কঠোর পরিশ্রমী। সে এবার দক্ষতার সহিত এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছে।
আশরাফ বর্ষাকাল পছন্দ করে--

মাহবুব কবির আশরাফ। তাকে সবাই আশরাফ নামেই চিনে। তার বাবা এলাকার স্বনামধন্য ব্যক্তি। তিনি মারা গেছেন ২০০১ সালে। তার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করছে। প্রখর মেধাবী। যেমন ভদ্র তেমন সুদর্শন নয়। তার দক্ষতা, যুগ্যতা, সাহিত্যিক কর্মকান্ড ও মেধার কারণে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে যেতে হয়। এভাবে কোন এক অনুষ্ঠানে তাসনীমের সাথে আশরাফের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কটা এমন, যেনো বিনিসুতার মালা। কেউ কাউকে ছাড়তে পারেনা। একজনকে ছাড়া অপরজনকে কল্পনাই করা যায় না। দু’জনের মাঝে বয়সের সামান্য পার্থক্য থাকলেও মনের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।
তাসনীম পাথরঘাটায় এসে আশরাফকে উষ্ণ অভিবাদন জানাল। আশরাফ ওর হাতে একটি টকটকে লাল গোলাপ দিয়ে বলল, আই লাভ ইউ। তারপর দু’জনে চুপচাপ অনেকটা সময় একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিলো। তাসনীম লজ্জা পেলো। ও আশরাফের গালটা ছুঁয়ে বলল, আমিও।
ঈদের পর দু’জনের সাক্ষাৎ হওয়ায় একে অপরকে বখশিশ দিল। সাথে নীল খামের চিঠিও। দু’জনে মিলে ঘুরতে লাগল। নদীর পারে কাশফুল, মাঝিদের পালতোলা নৌকা চালানো, জেলেদের মাছ ধরা, নদীর উপর নীল আকাশে রঙবেরঙ্গের পাখি উড়া, লঞ্চ-স্টীমার ইত্যাদি দেখে মন জুড়িয়ে যায়। বেশ ভালই কাটছিল মুহূর্তগুলো।
চলবে
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×