ডাক্তারের চেম্বারের সামনে একা বসে থাকতে থাকতে স্মিতার মনে হল- এটাই পৃথিবীর সব চেয়ে কষ্টের কাজ। না, স্মিতা একা নয়, এই কক্ষে আরও প্রায় চল্লিশ জন মানুষ আছে। রোগী আছে আরও ১৫-২০ জন, তাদের সবার সাথেই কেউ না কেউ এসেছে। শুধু স্মিতার সাথেই কেউ নেই।
সামনে বসা ১৮-১৯ বছরের তরুণীটি একটু পর পরই তার পাশে বসা ছেলেটির ঘাড়ে মাথা এলিয়ে দিচ্ছে আর ভীষণ আহ্লাদী ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করছে- আর কতক্ষণ বসে থাকবো! স্মিতার হঠাৎ মনে হল- এমন আহ্লাদ করার মতো কেউ কখনো তার জীবনে ছিল না। না পিতা, না প্রেমিক, না স্বামী।তার বাবার সাথে তার সব সময়ই কেমন যেন একটা গ্যাপ ছিল। তার প্রথম প্রেমিক ছিল অসম্ভব রাগী। আর দ্বিতীয় প্রেমিক বা বর্তমান স্বামী হল ভীষণ ব্যস্ত আর লাজুক প্রকৃতির মানুষ।
সিরিয়াল নাম্বার সাত- বেদানা বেগম, সিরিয়াল নাম্বার সাত- বেদানা বেগম . . . ডাক্তারের সহযোগী ডেকেই চলেছেন। অনেক্ষন পর কক্ষের কোনা থেকে দাড়িয়ে একজন মোটাসোটা মধ্য বয়সী নারী বললেন- আইতাছি, আইতাছি বাবা। এই দুঃখের মধ্যেও স্মিতার হাসি পেয়ে গেল। না, বেদানা বেগমকে দেখে না, একটা গল্প মনে করে। স্মিতার বড় আম্মা মানে স্মিতার মায়ের নানীর গল্প, এই গল্প স্মিতা তার মায়ের কাছে অনেকবার শুনেছে। তার মায়ের নানী ছিলেন অসম্ভব রূপবতী একজন মানুষ,তার গায়ের রঙ ছিল দুধে আলতা। তিনি ছিলেন ভীষণ রুপ সচেতন একজন মানুষ। তিনি মনে করতেন বেদানার রস খেলে গায়ের রঙ সুন্দর থাকে। তিনি প্রায় ৯৫ বছর বেঁচে ছিলেন, সেই সময়ও তার রুপ সচেতনতা একটুও কমেনি।মৃত্যুর আগে প্রায় দুই মাস তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।সেই সময়ও তিনি তার দাসীদের বলতেন- ওই আমারে একটু বেদানার রস করে দে, নইলে যে গায়ের রঙ কালো হয়ে যাবে।
মাত্র নয় নাম্বার সিরিয়াল যাচ্ছে, স্মিতার সিরিয়াল পনেরো। ঘর ভর্তি মানুষের মাঝে থেকেও এই একাকীত্ব স্মিতার অসহ্য মনে হচ্ছে। সে ভাবছে-সে কি অপেক্ষা করবে, নাকি ডাক্তার না দেখিয়েই বাড়ি ফিরে যাবে!
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




