গতকাল ইফতারির পরে নামাজ শেষ করে মাত্র হাসপাতালের আউটডোরে বসেছি এমন সময় মধ্যবয়সী এক মহিলা এলেন তার ছেলেকে কোলে নিয়ে। কিউট একটা বাচ্চা। বাচ্চাটা কাঁদছিল। আমি উঠে যেয়ে বাচ্চাটার তুলতুলে গাল টিপে মাথার চুল এলোমেলো করে দিলাম। বাচ্চাটার কান্না তবুও বন্ধ হল না। আমাকে হয়তো পছন্দ করে নাই।
বাচ্চার মাকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। উনি বললেন সকাল থেকে বাচ্চার জ্বর। সকালে জ্বর হওয়ার পরে উনার স্বামী পাশের ফার্মেসি থেকে একটা নাপা এক্সট্রা এনে খাইয়েছিলেন, এর পরে জ্বর কমেছিল কিন্তু দুপুরের পরে জ্বর আবার এসেছে। এবং মনে হচ্ছে জ্বর আগের চেয়ে বেশি। এজন্য ৫০০ মিগ্রা সাপোজিটর কিনে এনেছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না কি করবেন। আমি বাচ্চাটার ওজন নিলাম এবং জ্বর মেপে দেখি খুব বেশি না ১০১ - ১০২ এর মাঝামাঝি। পরে বাচ্চাটার আরও কিছু পরীক্ষা করে বুঝলাম এটা ভাইরাস জ্বর।
সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময় এটা অনেক বাচ্চাদের হয়ে থাকে। আমি বাচ্চার মাকে বললাম এত ভয় পাওয়ার কিছু নাই। এই সময়ে জ্বর হওয়া খুব স্বাভাবিক। এরপরে আমি Prescription-এ কোন ওষুধ না লিখে বাচ্চার মাকে বললাম বাচ্চাটাকে বাসায় পরিষ্কার জায়গায় শুয়াতে, একটু উষ্ণ পানিতে বাচ্চার পা ধুয়ে দিতে
তাহলে বাচ্চাটার ভালোলাগবে, লেবুর শরবত খাওয়াতে বললাম কারণ লেবুর ভিটামিন সি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আর বাচ্চার মাকে বললাম, বাচ্চা স্বাভাবিক খাবার খেতে না চাইলে তরল খাবার বেশি করে খাওয়াতে যেন বাচ্চা দুর্বল না হয়ে পড়ে। আমি কোন ওষুধ লিখি নাই দেখে উনি
বললেন আপনি ওষুধ দেননি তো। আমি হেসে বললাম ভাইরাস জ্বরে বাচ্চার ওষুধ খাওয়ার দরকার নাই। উনি বললেন তাহলে সাপোজিটর দিয়ে দেন। আমি না করে দিয়ে বললাম আপনি ৩ দিন দেখেন। আমি উনাকে বললাম ওষুধ দিলে অসুখ দ্রুত সারবে কিন্তু বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে না। পরবর্তীতে দেখা যাবে, সামান্যতেই বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়বে।
মহিলা কি বুঝল আল্লাহই জানেন। উনি বের হয়ে গেলেন। আউটডোর থেকে বের হয়েই উনার স্বামীকে কল করে বললেন এই হাসপাতাল ভালো না, ডাক্তার কোন ওষুধ দেয় না, তুমি ____ ডাক্তারের সিরিয়াল নাও। আমি বাবুকে নিয়ে আসতেছি। ঐ সময় আমাদের হাসপাতালের ম্যানেজার বের হয়ে উনার সাথে কথা
বলতে চাইলেন কিন্তু মহিলা কোন কথা না বলেই গজগজ করতে করতে বের হয়ে গেলেন। উনার অভিযোগ আমরা টাকা ( আউটডোর ফি ৫০ টাকা) নিয়ে Prescription দেই না।
আমি তখন কি কি করতে পারতামঃ
১. বাচ্চাটাকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন antibiotic দিতে পারতাম।
২. ৩ দিন পরে আবার আসতে বলতে পারতাম।
এরফলে আমাদের হাসপাতালের বেশ কিছু টাকা লাভ হত। বাচ্চাটা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠত কিন্তু বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ!
এর পরের কাহিনী বেশ লম্বা। ম্যানেজার এসে আমাকে আমাকে অনেক জ্ঞান দিলেন। আবার ল্যাবএইডের Déjà vu. তারপরে আমি বের হয়ে বাসার পথে হাটা শুরু করলাম। মাথায় হাজার চিন্তা।
আমি এখন কি করতে পারি?
জবটা কি ছেড়ে দিবো? নাকি ............
আপনারাই আমাকে বুদ্ধি দেন তো, আমার কি করা উচিত?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


