somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার একটা ডেফিনেশন দেই নিজের মতো করে? কি বলেন !

২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ ভোর ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৭ শে নভেম্বর, ২০১১, রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি তুষার কনা তুলোর মতো গড়িয়ে পড়ছে। আবারও শীত শুরু হলো অফিসিয়ালি, কিন্তু আমার হাত মোজা কেনা হয়নি। কিছু ছবি তুলবো বলে শুধু একটা লেদার জ্যাকেট আর আমার আর্মস ফেটে বেরিয়ে যাওয়া টি শার্টটা ভিতরে চড়িয়ে লেকের সামনে দাড়াতেই ফোনটা বেজে উঠে!

: দোস্ত, তুমি কই?
: লেকের পাড়।
: হিস্যু করার জন্য নাকি ঐডায় ঝাপ দেবার জন্য?
: শিটম্যান, নিজের হিস্যুতে কেউ লাফ দেয়? মেলা দিন পর ফোন দিলি, লন্ডনে কি অখনো স্নোফল শুরু হয় নাই?
: ধুরু তোর লন্ডন! দোস্ত, কিছু টাকা ধার দে, দেশে যামু।
: তারপর?
: দেশে গিয়ে প্রথম দিন বাসার উঠানে বৃষ্টিতে ভিজুম।
: তারপর?
: কয়দিন শান্তিমত ঘুমামু, মায়ের হাতের রান্না খামু, বন্ধুগো লগে জিইসিতে আ্ড্ডা দিমু, আর বিকাল বেলা ভেটেরনারীর মাঠে ফুটবল খেলমু।
: ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, দেশে শীত পড়া শুরু করছে, তাই কোনো বৃষ্টি পাবি না। আর ভেটেরনারীতে কাউকে পাবি না, সবাই পাস আউট।
: না, ও এখনো ঐখানেই আছে!
: তাইলে ওর লগে ডাইরেক্ট দেখা কর, হুদাই মাঠ দাপাইয়া কি করবি? নিজেরে মেসি প্রমান করতে চাস নাকি?
: ধুরু, ওর টিচার জামাই দেখলে ওরে তালাক দিবো। এমনেই শুনছি খালি শুচিবাই করে।
: কেমনে জানলি? কথা হয় নাকি?
: ও কইবো কথা! ওর সাহস আছে নাকি? তয় একটা মেইল করছিলো। খালি লেখছে,"খুব কষ্ট লাগছে, এত বড় পৃথিবীতে কেউ নেই যাকে আমি কিছু বলতে পারি, তাই তোমাকে জানালাম! খুব কষ্ট লাগছে!" তাই খোজ খবর নিছি!
: তুই একটা খবিশ, পরকিয়া করনের লিগা দেশে যাবি? ওয়ার্ক পারমিট পাইছোস, কামে লাগা, টাকা কামা! তারপর এইখান থিকা ফুট। ফ্রান্স বা স্পেন গিয়া পাসপোর্ট বাড়ি দে!
: আরে ধুর, কিছু ভালা লাগতাছে না। কিছু টাকা দে, ২-৩ লাখ, দেশে যামু। আইসা তোরে সব টাকা দিয়া দিমু!
: একখান কাম কর, বার খোলা পাবি দুয়েকটা, জ্যাক ড্যানিয়েলস কিনা খাওয়া শুরু কর, আজকা তো ছুটির দিন!
: গত সপ্তাহে একখান শেষ করছি। আর ভালা লাগে না। দেশে যামু, ফুটবল খেলুম!

হাসবো না কাদবো কিছু মনে হচ্ছে না! ওর একটা গল্প বলি। ২০০৮ এ যখন ও ইউনিতে ভর্তি হয় তখন দেখে কিছু মেয়ে সুন্দর সুন্দর পা জোড়া আর বুকের ৫০% খোলা রেখে সবাইকে বিনা পয়সায় প্যাকেট বিলাচ্ছে। সেদিন ছিলো ভ্যালেন্টাইনস ডে। তো মামা আমার ফ্রিতে ৩-৪ টা প্যাকেট নিয়ে আর ওদেরকে ১০-১৫ মিনিট চোখের দেখা দেখে ক্লাসে ঢুকে। ওদের ইউনিতে মাঝে মাঝেই এরকম চকলেট বা চুইঙ্গাম বিলায় বিভিন্ন কোম্পানী থেকে। তো ক্লাস হচ্ছে আর্টিফিসিয়াল এলগরিদমের উপর তাই মুখে দু একটা চকলেট বা গাম না দিলে জমে না। এই ভেবে প্যাকেট খুলে মুখে দিয়ে ফুলাতে গিয়ে দেখে একটা বেলুনের মতো ফুলছে। ওমনি ক্লাসের ম্যাডাম হা হয়ে তাকিয়ে আছে। ও একটু খেয়াল করে দেখে, এটা চকলেট বা চুইঙ্গাম না, এটা একটা কনডম!
যাই হোক, সহজ সরল বন্ধুটি কোনো খেলাই ভালো পারে না, তবে যেদিন শুনলো ওর গার্লফ্রেন্ড ওকে কথা দিয়ে ভেটেরনারীর কোনো এক টিচারকে বিয়ে করেছে, তখন থেকেই ফুটবল খেলা শিখতে লাগলো!
প্রশ্ন হলো মনের দুঃখে মানুষ কবিতা লেখে অথবা গান গায়, সে কেনো ফুটবল খেলে। ওকে জিজ্ঞেস করতেই বলে চট্টগ্রাম ভেটেরনারীর পাশে ওর ছোটবেলা কাটছে। ওর ছোটবেলার বেকার বন্ধুরা নাকি এখনো ওখানকার মাঠে ফুটবল খেলে প্রতিদিন বিকালে। তাই!
ওর স্বপ্ন ছিলো ইউকে ফেরত ডিগ্রি নিয়ে ঐ মেয়ের বাবা মায়ের সামনে দাড়াবে, ঐ মেয়ের জন্য প্রস্তাব দেবে। কে জানতো ইউকে ফেরত সম্ভাবনাময় ইন্জ্ঞিনিয়ারের চেয়ে ভেটেরনারীর শিক্ষকের ভবিষ্যত অতি উজ্জল!
তাই পড়ালেখা বাদ দিয়ে ও ফুটবল খেলা শুরু করে!

আশ্চর্য্যের ব্যাপার হলো মাস্টার্সের শেষের দিকে ও একটা এলগরিদম লেখে, যেটা অনেকটা ফুটবল খেলার ডিফেন্স সিস্টেমের উপর। ও এটা আইটির একটা প্রোটোকলে ব্যাবহার করে, ওর ইউনির টিচারকে ও দেখায় যে ওর এলগরিদমটা শুধু আইটি ফিল্ডেই না, এগুলো ছোট ছোট ডাব্লুএসএন ক্লায়েন্টের উপর কাজ করবে। ও দেখালো যে এখানে প্যাকেট লস খুব কম আর সিক্যুরিটি দুটোই খুব ভালো আর এক্সেস পয়েন্ট খুবই ডায়নামিক, যদিও এটা কঠিন একটা ব্যাপার যে কঠিন সিকিউরিটিতে ডায়নামিক লিড ক্লায়েন্ট অটোম্যটিক সিলেক্ট করা বেশ কঠিন ব্যাপার কারন তাতে প্রসেসরের কাজ করতে হবে বেশয়য়, কিন্তু ওরটা খুবই শর্টে কাজ করবে।

তারপর আমি যেটা জানি সেটার উপর ওর টিচার একটা জার্নাল পাবলিকেশন করিয়ে দিয়েছে, ও ইউকের নতুন নিয়ম চেন্জ্ঞ হবার আগে ওয়ার্ক পারমিটের এপ্লাই করলে পেয়েও যায়। এখন মামার শখ হইছে ফুটবল খেলা দেখানোর। আমার সন্দেহ বেচারা আর ইুউকেতে আসবে না, সারাজীবন ঐ চট্টগ্রামের ভেটেরনারীর মাঠে খেলেই যাবে। ঐ মেয়ের জীবন অতিষ্ট করবে, তারপর ওর সংসারটা ভাংবে।

ও কি ঐ মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে?

যদি করতে পারে, তাহলে আমি বুঝবো ব্যাটা একটা জেনুইন পাগল, একটা বিবাহিত মেয়ের জন্য মানুষ নিজের ক্যারিয়ারের পায়ে কুড়াল মারে?

আর যদি ও বিয়ে না করে তাহলে বুঝবো এটাই ঠিক। আসলেই ব্যাটা ম্যাচিউরড হইছে, মানুষ হইছে এটলিস্ট!

হয়তো আমার কাছে ও মানুষ কারন আমি ভালোবাসার সংজ্ঞা জানি না!

আর ভালোবাসার সংজ্ঞা মনে হয় এটাই।

"জান

তুমি যেখানেই থাকো, যে অবস্হায় থাকো, আমি আসছি, তোমাকে আমি আমার করবো, যদি আজ সাগর উল্টে পুরোটা স্হলভাগ ভাসিয়ে নিয়ে যায়, অথবা ঐ চাদ পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে সব কিছু উজাড় করেও দেয়, মনে রেখো আমি তোমার পাশেই থাকবো, তোমার আগে যেনো আমার মৃত্যু হয়, আমি তোমার বুকেই মরতে চাই!"


হায়রে শালার প্রেম! হয়তো এরকম প্রেম আমরা করতে পারি না বলে এরকম মন ভাঙ্গার মিছিলে চোখ ভিজাই!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ১০:৩৬
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×