[এক]
-হুজুর! যদি লুকিয়েই রাখতে হবে, তবে কেন নারীকে স্রষ্টা এতো সৌন্দর্য্য দিলেন!
-বৎস! বলছি। আগে বলো, তোমার হাতে কী আর এরকম কচ্ছপের মতো হাটছো কেন?
-হুজুর, এগুলো ডিম। জোরে হাটলে ভেঙ্গে যাবে তো, তাই।
- ভাঙলে অসুবিধে কী! ডিম ভেঙ্গেই তো খেতে হবে।
-কী যে বলেন হুজুর! ভেঙ্গে গেলে তো সর্বনাশ। ডিম যাবে, রাস্তাও নষ্ট হবে। কেউ আবার তাতে পিছলে পড়ে আমাকে গালি দেবে।
-তার মানে, তুমি কি ডিম ভেঙ্গে খেতে চাও না?
-খেতে হলে আমি এই রাস্তায় ভাঙবো কেন! বাসায় নেয়ার পর আম্মু কিচেনে নিয়ে রান্নার সময় ভেঙ্গে রান্না করবেন।
-দেখো! সামান্য একটা ডিম ভাঙ্গার জন্য নির্দিষ্ট স্হান, কাল এবং পাত্র আছে, সবাই জানে; অথচ সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ জাতি নারীর সৌন্দর্য্য যেথায় সেথায় প্রদর্শন করবে, নির্দিষ্ট স্থান কাল এবং পাত্র থাকবে না, সেটা কি যুক্তিযুক্ত হল?
শুনো, বৎস! সৌন্দর্য্য প্রদর্শনের নির্দিষ্ট স্হান আছে, কাল আছে, পাত্র আছে।
[দুই]
-হুজুর! রাস্তায় বেপর্দা নারীদের দেখলে শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়। যদি চক্ষু হিফাযাতের কোনো সহজ দোয়া বা টিপস দিতেন।
-বৎস! দিচ্ছি। এর আগে mp3’টা বাজাতে বাজাতে এই মগ নিয়ে বাজারে গিয়ে আধা লিটার দুধ নিয়ে আসো। সাবধান! যদি এক ফোটা দুধ মাটিতে পড়ে টিপস তো দূরে থাক, আমার আশেপাশেও থাকতে পারবে না।
-জী, হুজুর! যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
(দুধ নিয়ে ফিরে এসে)
-হুজুর! এই যে দুধ এনেছি। এক ফোটাও পড়ে নি।
-মাশা-আল্লাহ। এবার বলো, রাস্তায় কতজন নারী তোমার চোখে পড়েছে? তাদের কতজন পর্দায় এবং কতজন বেপর্দা ছিল?
-এটা কী বলেন, হুজুর! যাওয়ার সময় আপনার লেকচার এতো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম যে, রাস্তায় দেখা কারো চেহারা মনে নেই। আর ফেরার সময় তো আপনার শাস্তির ভয়ে মগ থেকে চোখই সরাতে পারি নি, মানুষ দেখা তো দূরে থাক।
-চিন্তা করো, আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের শাস্তির ভয়ে রাস্তায় নারীদের সৌন্দর্য্য তোমাকে আকর্ষণ করে নি, তাকাতেই পারো নি, আর পরাক্রমশালী মহা বিচারক আল্লাহ (ﷻ)’র শাস্তির ভয়ে তোমার চক্ষু অবনমিত হয় না!
☆শুনো, বৎস! যে অন্তরে জান্নাতের আকর্ষণ এবং জাহান্নামের ভয় ঢুকে যাবে, সেই অন্তর কখনো চোখকে কুমন্ত্রণার দিকে নিয়ে যেতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



