somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুশোচনা

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ইন্টারনেটে ঘুরাঘুরি করতে করতে এই সুন্দর ছবিটা চোখে পড়ে মন খারাপ হয়ে গেলো । কেন মন খারাপ হলো, বলছি । তখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি, বয়স আর কতোইবা হবে, চার কিংবা পাঁচ । সারাদিন ছোটাছুটি দৌড়াদৌড়ির শেষ নেই। আমাদের বাসায় তখন হোসেনা নামের একজন আপু কাজ করতো। তো একদিন দেখলাম হোসেনা আপু ঘুরেফিরে বাসার পেছনে কি জানি দেখতে যায়, ওনার বন্ধুদের সাথে কানাকানি করে কিন্তু আমি জানতে চাইলে আর কিছুই বলে না। আমিও কম কিসে ? ঠিকই গোয়েন্দাগিরি করে বের করে ফেললাম বাসার পেছনে ছোট একটা ডুমুর গাছে পাখি বাচ্চা ফুটিয়েছে ।

কী পাখি মনে নেই তবে দেখতে এই রকমই ছিল। তখনো চোখ ফোটে নি । কাছে গেলেই হা করে থাকতো খাবারের জন্য। পাখির কিউট কিউট বাচ্চা,তাও আবার আমার উচ্চতার নাগালের মধ্যে, আমি যেন আকাশের চাঁদ পেয়ে গেলাম। আমার খুশি আর দেখে কে ? নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে সারাদিন পাখির বাচ্চা দেখতে যাই। আর সবাইকে বলে বলে বেড়াই।

দু,তিন দিনের জন্য সবই ঠিক ছিল, কিন্তু কাছে গেলেই ওরা হা করে খাবারের জন্য কিচিরমিচির করতো বলে আমার খুব মায়া হয়। ইচ্ছে হলো কিছু খেতে দেই। কি খেতে দেয়া যায় চিন্তা করতে করতে কেন যেন বাসা থেকে ঘামাচির ট্যালকম পাউডারের কৌটা এনে অল্প করে ওদের মুখে ছিটিয়ে দেই। পরদিন সকালে এসে দেখি একটা বাচ্চাও বেঁচে নেই, যা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি । কেন বেঁচে নেই তার কারণটাও বুঝতে পারলাম না। মন খারাপ হলো , তারপর আস্তে আস্তে একদিন ভুলে গেলাম।

কিন্তু আজ প্রায় দুই দশক পর ছবিটা দেখে আবার সব মনে পড়লো। আর এখন যখন বুঝতে পারলাম, ইচ্ছা করছে টেনে নিজের মাথার সব চুল ছিঁড়ে ফেলতে। না বুঝে যে ভুল আমি করেছি তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না :(
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৪১
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে সূর্যটা রানুর জন্য উঠেছিল....

লিখেছেন ফয়সাল রকি, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৫৫



অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ আমার দ্বিতীয় গল্গ্রন্থ যে সূর্যটা রানুর জন্য উঠেছিল আসছে নৈঋতা ক্যাফে-এর ব্যানারে। নয়টি ছোটগল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে এ সংকলনটি। বন্ধুবর জাহিন জামাল বইয়ের ফ্ল্যাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দগুলি কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:১৩



ছবি- গুগল

জীবন যত আগাচ্ছে, বয়স বাড়ছে, জীবন থেকে আনন্দ, শান্তি যেন ততই দূরে চলে যাচ্ছে। নানাবিধ চিন্তায় মন মস্তিষ্ক সব সময় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে।

এক সময় খেলতে খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়িওয়ালা বনাম ভাড়াটে--কে ভালো, কে খারাপ?

লিখেছেন জাহিদুল ইসলাম ২৭, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:১৪


ঢাকার বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ।তারা বছর বছর,সময়-অসময়ে ইচ্ছে মতো বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে।মেইনগেট রাতে বন্ধ রাখে এবং মেইন গেটের চাবি কাউকে দেয় না।বাড়ির ছাদ ভাড়াটিয়াদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী ........

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৩




দার্জিলিঙের রাস্তায় কখনো হাঁটা হয়নি । রডনস্ট্রিট , গোড়িয়াহাটার মোড়, বউ বাজার, ধর্মতলা কিংবা ছত্রিশ চৌরঙ্গী লেন। না কোন কিছুই দেখিনি , যাওয়া হয়নি। 'ছত্রিশ চৌরঙ্গী লেন' নামে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শার্লক হোমসঃ সৃষ্টি যখন স্রষ্টাকে ছাপিয়ে গিয়েছে

লিখেছেন শের শায়রী, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০০



শার্লক হোমসঃ সৃষ্টি যখন স্রষ্টাকে ছাপিয়ে যায় তখন তাকে কি বলবেন? এমনই ঘটনা ঘটছে গোয়েন্দা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি শার্লক হোমসকে নিয়ে। শার্লক হোমসের নাম শোনে নি এমন মানুষ বোধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×