জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
পঞ্চাশে জীবনসঙ্গী হারিয়ে যারা একাকী জীবন-যাপন করেন তারা বোঝেন একাকিত্ব বা নিসঙ্গতা কত ভয়াবহ। আমাদের সমাজে এই বয়সে নতুন জীবনসঙ্গী খোজাকে ’বুড়ো বয়সে ভীমরতি’ ধরেছে বলবে। কিন্তু আসলেই কি তাই ? কিছুদিন আগে আমেরিকা প্রবাসী এক ডাক্তার একটি ঘটনা বর্ণনা করল। ঘটনাটি হল, ৬০ বছরের এক বৃদ্ধার স্বামী মারা গেছে। বৃদ্ধা খুব কান্নাকাটি শুরু করল এই বলে যে এখন কে তাকে সঙ্গ দেবে ? চরম বিষন্নতার মাঝে ৬ মাস বসবাস করার পর সে আবার নতুন এক সঙ্গী পেল। সে বৃদ্ধার এক সন্তান থাকলেও তিনি তার কাছে যাননি। কারণ এটা তাদের সামাজিকতার মধ্যে পড়ে না। তিনি তার অনুভুতি সন্তানের কাছে বলতে পারবেন না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নি:সঙ্গ বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার অবস্থা আরও করুণ। সঙ্গী মারা গেলে অবশেষে সন্তানের সাথে গিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু যাদের সন্তান নেই বা বিদেশ থাকে তাদের নিস:সঙ্গতাটা আরও বেশি । আবার সন্তানের সাথে থাকলেও সন্তানের কাছে তো সবকিছু শেয়ার করা যায় না। তখন ভেতরে ভেতরে একাকিত্বের যন্ত্রণা তাড়িয়ে বেড়ায়। যেহেতু এ বয়সে বিয়ে করার রেওয়াজ আমাদের দেশে নেই তাই অনেকের শেষ ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম। যা তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় যে সে একা, নি:সঙ্গ । দিন দিন বৃদ্ধাশ্রমে নিস:ঙ্গ মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই। অনেকে চল্লিশেই বিধবা হয়ে যান। এরপর থেকে সারাজীবনই একা থাকতে হয়। পঞ্চাশোর্ধ বয়সে যৌনতা নয় তাদের দরকার একজন জীবনসঙ্গী । তাদের এমন একজন দরকার যার সঙ্গে বাকী জীবনটা আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারেন। আর এজন্য দরকার পঞ্চাশোর্ধ নি:সঙ্গদের নিয়ে বছরে একটি মেলা । জীবনসঙ্গী খোজার মেলা। যেখান থেকে নিজেরাই নিজেদের জীবনসঙ্গী খুজে নিবে। গত বছরের ২০ নভেম্বর ভারতের আহমেদাবাদের মেহেন্দি নওয়াজ মিলনায়তনে এরকম একটি মেলা হয়েছিল। মেলাতে আহমেদাবাদের বিপতœীক জিতেন্দ্র ( ৬২) জীবনসঙ্গী অমি পান্ডে ( ৫২)কে পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছেন। জিতেন্দ্র জানান, বিলাসিতার সবকিছুই আমার আছে। কিন্তু অনুভুতিগুলো প্রকাশ করার জন্য আমার কাউকে দরকার ছিল। আমি তাকে পেয়েছি।।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।