somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবাদকর্মীর গায়ে হাত

২২ শে মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক সমাজ এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য তথ্য অধিকার আইন অত্যনত্দ জরম্নরি। বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইনের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এ তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সম্প্রতি আরটিভির এক নারী সাংবাদিক সরকারদলীয় এক এমপির হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। 'শুধু একজন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হওয়ায় কামাল মজুমদার এভাবে একজন সংবাদকর্মীর গায়ে হাত তুলতে পারলেন। এমপি বলেই তিনি এ কাজটি করতে পেরেছেন। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম সে মুহূর্তে তিনি আমার বুম হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আমার হাতেই মারে। কথাগুলো জানালেন আরটিভির রিপোর্টার অপর্ণা সিং। ৩ জানুয়ারি সকালে অতিরিক্ত ফি আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরটিভির প্রতিবেদক অপর্ণা সিংহসহ চার সংবাদকর্মী মনিপুর স্কুলে সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় আহত এক সাংবাদিক এবং মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপৰ মিরপুর থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি জিডি করে। রাজধানীর একটি আসন থেকে নির্বাচিত এ সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বলেন, 'আমার বিরম্নদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও সাজানো। আমি তাদের মারিনি। রাগের মাথায় শুধু হাত দিয়ে বুম ও ক্যামেরা সরিয়ে দিয়েছি।' তিনি আরো বলেন, বেসরকারি চ্যানেলটি তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে আমার ম্যানেজিং কমিটিকে সন্ত্রাসী বানিয়েছে। সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কামাল আহমেদ মজুমদারের দৃষ্টানত্দমূলক শাসত্দির দাবিতে ৪ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে সরকারদলীয় এ সংসদ সদস্যের দৃষ্টানত্দমূলক শাসত্দি দাবি করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় শিৰা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদনত্দ কমিটির স্বচ্ছতা দাবি করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এর আগেও কামাল আহমেদ মজুমদার সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়েছেন। এমনকি তাদের হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। সংসদ সদস্যের এ ধরনের আচরণে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান গণমাধ্যমকর্মীরা। এখানে তথ্য-সন্ত্রাস করা হয়েছে উলেস্নখ করে কামাল মজুমদার_ ভিডিওতে দেখানো হয়েছে আমি হাত মুচড়ে মাইক্রোফোন ফেলে দিচ্ছি। তার আগেরটুকু দেখানো হয়নি। জোড়াতালি দেয়া হয়েছে। এদিকে কামাল আহমেদ মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'তবু আপনারা যদি মনঃৰুণ্ন হন তাহলে আমি ৰমা চাইছি।' নিন্দা: মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারম্নজ্জামান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, মনিপুর স্কুলের দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা ও সাংবাদিকের ওপর হামলা করে সংসদ সদস্য গণতান্ত্রিক চর্চার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী আচরণ করেছেন। তিনি জাতীয় সংসদের অবমাননা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার নৈতিক যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। একজন পেশাজীবী নারীর প্রতি এমন অশোভন আচরণ অমার্জনীয় অপরাধ। আইন ও সালিশ কেন্দ্র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, 'আমরা মনে করি, এ ধরনের হামলা সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ৰতিগ্রসত্দ করবে।' এছাড়া সাংবিধানিক অধিকার ফোরাম, জিয়া সেনা, প্রগতিশীল শিল্প ও গণমাধ্যমকর্মী ফোরাম ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। এখানে উলেস্নখ করা প্রয়োজন যে,পাকিসত্দানের লাহোরে ২০০৯ সালে এশিয়ার নারী সাংবাদিকদের সংগঠন ঝঅডঘ ুএর প্রথম আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে ঘোষণা করা হয় যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনে নারী সাংবাদিকদের বিপজ্জনক ঝুঁকি সম্পর্কে এ সম্মেলন সচেতন। ও সম্মেলনে দাবি করা হয় যে তথ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লৰ্যে দৰিণ এশিয়ার সরকারসমূহকে কার্যকর আইন ও বিধিমালা গ্রহণ করতে হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নারী গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সুরৰার ব্যবস্থা করতে হবে।' কিন্তু আমাদের দেশের প্রেৰাপটে নারী সাংবাদিকরা কি পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাবোধ করছে?

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×