somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামাজিক মাধ্যমের শক্তি ও সৌন্দর্য

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়েবসাইট ইন্টারনেটওয়ার্ল্ডস-এর দেয়া তথ্য অনুসারে ৩০ জুন, ২০১২ তারিখে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৮০,৫৪,১৯০ জন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২ তারিখে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৯,৮৭,৮২০, যা মোট জনসংখ্যার যথাক্রমে ৫ শতাংশ এবং ১.৯ শতাংশ। শতাংশ হিসেবে এই সংখ্যা অনেক কম হলেও ব্যবহারকারীদের মোট সংখ্যাটি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ বড়ই বলতে হবে। এক ফেসবুক ঘিরেই বিরাট একটা বাংলাভাষী সাইবার কমিউনিটির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিগত সাত বছরে বাংলাভাষীদের একটা বড় ব্লগ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্লগ যেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, বাংলাভাষীদের জন্য তা সামষ্টিক, সামাজিক বা কমিউনিটিভিত্তিক। অনেক ব্যক্তিগত ব্লগ থাকলেও বাংলাভাষীদের মধ্যে ব্যক্তিগত ব্লগ তেমন জনপ্রিয় নয়। ফলে ফেসবুকে এবং ব্লগে ব্যবহারকারীরা পরস্পরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করছে, তর্ক-বিতর্ক করছে, কখনওবা কুতর্কও করছে কিংবা ব্যক্তি আক্রমণ করছে। অনেকে আবার আপনমনে সনতনী ডায়রি লিখনের মতো করে নিজের দৈনন্দিন কার্যাবলিকে লিপিবদ্ধ করে চলেছেন। কেউবা কবিতা-গল্প-চলতি ভাবনা লিখে সৃজনশীলতার চর্চা করছেন। ফটোগ্রাফি বা পেইন্টিং চর্চা এবং শেয়ারিং চলছে। লক্ষ করার বিষয় হলো ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী হিসেবে এরা অক্রিয় নয়। এইসব মিলিয়ে আমরা বাংলাভাষীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠ এক সামাজিক মাধ্যমের দেখা পেয়েছি ইতোমধ্যে, যার উপস্থিতি একেবারে সা¤প্রতিক হলেও স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জনই বলতে হবে। আরও সঠিকভাবে বললে ইন্টারনেটভিত্তিক যে মিথস্ক্রিয়ামূলক পরিসর তৈরী হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, বাংলাভাষী ব্যবহারকারীরা সেই পরিসরকে চিহ্নিত করতে, তাতে অংশ নিতে সফল হয়েছেন। ফেসবুক-ব্লগ মিলিয়ে এটা পরিচিতি পেয়েছে সামাজিক মাধ্যম হিসেবে। এই সামাজিক মাধ্যমের সদস্যরা যেমন নিজেদের মধ্যে ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে যোগাযোগ করেন (এর ভদ্রস্থ নাম দেয়া হয়েছে নেটওয়ার্কিং), তেমনি সামাজিক-রাজনৈতিক নানান ইস্যুতে এই মাধ্যমের অনেকেই সাড়া দেন, নিজ অবস্থান ব্যক্ত করেন, প্রয়োজনে প্রতিবাদও করেন। ভার্চুয়াল প্রতিরোধ অনেক সময় বাস্তব জগত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, অথবা বাস্তব জগতের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম হলো ইন্টারনেটনির্ভর এক ধরনের মাধ্যম, যা ওয়েব টুর আদর্শ ও প্রাযুক্তিক ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে ব্যবহারকারীদের আধেয় তৈরীতে ও তা বিনিময় করতে সহায়তা করে। এখন ওয়েব টু হলো, প্রযুক্তির এমন একটি প্রজন্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা আরেকজনের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করবে, তর্ক-বিতর্ক করবে এবং আলোচনাকে চলমান রাখবে। এটা ওয়েব টু’র একটা আইডলজি বলা যায় বা প্রকৃতি বলা যায়। এটার ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ সাইট গড়ে উঠেছে। এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি এই মাধ্যম ব্যবহার এত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে যে আমেরিকায় কম্পিউটার ব্যবহারের মোট সময়ের শতকরা ২২ অংশ জুড়ে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার হয়ে থাকে। ভারতীয়রা অনলাইনে অন্য কাজের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকেন। আর আমরা অনুমান করতে পারি যে ওয়েবে পর্নোগ্রাফির দেখার ব্যবহারটা বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টা পর্নোগ্রাফিকে ছাড়িয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে আমরা যে ধরনের মিথস্ক্রিয়া দেখি তা হলো সামাজিক সম্পর্ক নির্মাণ, পুরোনো সম্পর্ক খুঁজে বের করে তার সাথে পুনরায় সর্ম্পক তৈরি করা, অথবা নতুন সম্পর্ক তৈরি করা। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তথ্য উৎপাদন ও সরবারাহ করা হয়। উৎপাদন অর্থে নাগরিক সাংবাদিকতার কথা বলা যায়, সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা চটজলদি যেধরনের তথ্য বা সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। আরেকটা হলো বিনোদন। কেউ হয়তো তার প্রিয় গানটি ইউটিউব থেকে নিয়ে ফেসবুকে শেয়ার করছেন। সেটা তার জন্যেও যেমন বিনোদন তেমনি যারা দেখছেন তাদের জন্যও বিনোদন। আরেকটি ধরন আমরা দেখি তা হলো প্রতিরোধ। সমাজে যা ঘটে চলেছে তার বিরুদ্ধে বা সাড়াতে বলি যদি কোন অন্যায়, অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনমত প্রতিরোধ করেন, কোন অনিয়ম ঘটলে তাতে সাড়া দেন।

এই অর্থে সামাজিক মাধ্যমকে জনপরিসর বলা যায়। জার্মান দার্শনিক যুর্গেন হ্যাবারমাস জনপরিসরের ধারণাটি দেন। জনপরিসর হলো সামাজিক জীবনের এমন একটি এলাকা যেখানে মানুষ মুক্তভাবে সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে এবং আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ একত্রিত মানুষেরা সমাজের কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে এবং তার সমাধানে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবে। হ্যাবারমাস আশা করেছিলেন একটি আধুনিক বুর্জোয়া সমাজে মিডিয়ার মাধ্যমে জনপরিসর গঠিত হবে এবং সেখানে এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা সম্ভব হবে। কিন্তু মূলধারার মিডিয়া নানান সীমাবদ্ধতার কারণে সেই জনপরিসরটি তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু অনলাইনে মানুষ এক জায়গায় মিথস্ক্রিয়া করছে, আলোচনা করছে এবং সমাধানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, বিডিআর বিদ্রোহের সময়ে দেখা গেছে কোনো একটি ব্লগে একজন ব্লগার বলছেন যে বিডিআরের ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে, বাইরে থেকে শব্দ পাচ্ছি। তারপরে হয়তো বাকীরা বলছেন যে আপনি একটু আপডেট দিতে থাকেন, কোনো অগ্রগতি আছে কী না। পরে এরকম আপডেট দেয় হয়েছে। সম্ভবত এটাই প্রথম কোনো নিদর্শন যা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তথ্য বিলি করেছে। জরুরি ক্ষেত্রে এরকম নাগরিক সাংবাদিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, অন্তত তথ্যটা পৌঁছে দিতে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমগুলো বিকল্প মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে। বিকল্প মাধ্যম হলো মূলধারার সাংবাদিকতার বিপরীতে এমন এক ধরনের সাংবাদিকতার যেটা সামাজিক পরিবর্তনের জন্য এক ধরনের অ্যাডভোকেসি করে। সামাজিক মাধ্যমে এরকম অ্যাডভোকেসি প্রায়শই দেখা যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বেশ কয়েকবছর ধরেই ব্লগাররা তৎপর রয়েছেন। আবার ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত খননপদ্ধতির বিরুদ্ধে যারা কাজ করে চলেছেন, তারা তাদের অ্যাডভোকেসির জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছেন।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন যে ভার্চুয়ালিটি সমাজ হলো প্রথাগত সমাজেরই প্রাযুক্তিক সংস্করণ। যেমন হাওয়ার্ড রেইনগোল্ড বলেছেন, শিল্পায়নের পরে পশ্চিমা সমাজে বা আধুনা সমাজে, শহুরে সভ্যতায়, আগের কৌম বা প্রথাগত সমাজ, যখন মানুষের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়া অনেক গভীর ছিল তা বিলুপ্ত ঘটেছে। এখানে আধুনিক মানুষ পরষ্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। আগেরকার কমিউনিটি-অনুভূতি তাদের মধ্যে নেই এবং ব্যক্তিস্বতন্ত্রতা বিচ্ছিন্ন মানুষে পরিণত করেছে। কিন্তু মানুষের সাইকিতে, আগের কমিউনিটিতে বাস করার যে অভ্যাস, তা যখন জারি রাখা যাচ্ছে না তখন তার মাঝে কমিউনিটি গড়ার একটি ক্ষুধা চলে আসছে। একাকীত্ব খুব সুখের বিষয় নয়, ফলে কমিউনিটি গড়ার ক্ষুধা থেকে যাচ্ছে। সেই ক্ষুধা থেকেই যখন মানুষ দেখেছে যে ভার্চুয়াল হলেও অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব, তখন তারা ভার্চুয়াল কমিউনিটিতে দ্রুত যুক্ত হয়েছে।

তবে এই সাইবার কমিউনিটিতে যারা বসবাস করেন তাদের অনেকেই প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সামনে আসেন না। তারা মেকী পরিচয় নিয়ে থাকেন এবং তাদের আলোচনার যে বিয়য়বস্তু সেটাও খুব বেশি সিরিয়াস কিছু হয় না। বুদ্ধিবৃত্তিহীন এবং অনেক ক্ষেত্রেই দায়িত্বহীন ভাবেই তারা এ ধরনের কাজ চালিয়ে থাকেন। আর সমাজিক মাধ্যমগুলো নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা ও আপত্তির মধ্যে একটি হলো, এটি হলো অপেশাদার, নির্ভর করা মুশকিল। যেমন একজন কোনো একটা কিছু দেখে লিখে ফেললেন সবকিছু যাচাই বাছাই না করে লিখেছেন, যেটা অনেক সময় গুজব তৈরীতে সহায়তা করে যা একসময় ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে ফেসবুকের মতো বড় সাইটগুলোর বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ আছে যে, ভেতরে ভেতরে ব্যবহারকারীদের অনেক তথ্য ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সাথে শেয়ার করে। সামাজিক মাধ্যমের আরেকটি সমালোচনা হলো এটার এলিটত্ব। আমাদের মতো দেশের শতকরা কত ভাগ লোকই বা সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত আছে? শহুরে-আধুনিক-শিক্ষিত কিছু মানুষ এর সাথে যুক্ত।

তবে আরব বসন্তে কিংবা পশ্চিমা অকুপাই আন্দোলনে সামাজিক মাধ্যমগুলোর সফল ব্যবহার দেখে সরকারগুলোর দিক থেকে সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার নানান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশেও বিডিআর ট্র্যাজেডি, সীমান্ত হত্যা, সাংবাদিক দম্পতি হত্যা, রামুতে সা¤প্রদায়িক আক্রমণ ইত্যাদি নানান বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা সরব থেকেছেন। আমাদের যে শাসক শ্রেণী, তারাও এ সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। একবার কিছুদিনের জন্য ফেসবুক বন্ধ ছিল, এখন বন্ধ আছে ইউটিউব, একজন ব্লগাারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে লিখে আইনের ফ্যাসাদে পড়েছিল একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রেরক ও গ্রহীতার সম্পর্ক পাল্টে গেছে। এখন গ্রহীতাও প্রেরকের মতো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন। একজন প্রেরক যখন কোনো কথা বলছেন তখন গ্রাহক তার সম্পর্কে কোনো উত্তর দিচ্ছেন বা মন্তব্য করছেন তখন তার অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে গ্রহীতার অবস্থানে চলে যাচ্ছে। আদি প্রেরক আবার গ্রহীতার জায়গায় চলে যাচ্ছেন। অর্থাৎ এক ধরনের মিথস্ক্রিয়া চলছে এবং তা চলছে বলেই সর্ম্পক তৈরী হচ্ছে। তথ্য প্রবাহের ইতিহাসে এই প্রথম দ্বিমুখী তথ্যপ্রবাহ দেখছি আমরা। আর সম্ভবত এই প্রথম মতপ্রকাশের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পাওয়া গিয়েছে। তবে যা-ইচ্ছা-তাই লেখার পাশাপাশি যাচ্ছেতাই লেখার উদহরণও প্রচুর। অনেক ব্যবহারকারীই এই স্বাধীনতার জন্য স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। অনেক আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, প্রতিহতকরণ চলতে থাকে। ব্যক্তি আক্রমণ হয় ও নানা অ্যাবিউজের শিকার হন অনেকে। এসব কারণে আইনী প্রয়োজনের কথা এসেছে। শাসক শ্রেণীর পক্ষ থেকে কিছু কিছু আওয়াজ চলে আসছে এই সোশ্যাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। কিন্তু এর ব্যবহারকারীরা সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের যেকোনো উদ্যোগের ঘোর বিরোধী। বিশেষত এক্ষেত্রে জোর যুক্তি এই যে যদি কেউ দেশবিরোধী, প্রচলিত আইনবিরোধী বা যেকোনো ধরনের সাইবার অপরাধ করেই থাকেন, তবে তাকে শাস্তি দেবার জন্য প্রচলিত আইনই যথেষ্ট। ইতোমধ্যে যেকয়েকটি বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে তা বিদ্যমান আইনের আওতায়ই করেছে।

সামাজিক মাধ্যম যে অনন্য অবয়ব-বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে তার শক্তি ও সৌন্দর্যের দিকটি উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি পাটাতন, মানুষে মানুষে মিথস্ক্রিয়ার একটি পরিসর, সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের একটি যোগাযোগস্থল। এটিকে ব্যক্তিআক্রমণ, কুৎসা কিংবা অপরাধের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার অর্থ হলো এর শক্তি ও সৌন্দর্যের দিকটিকে অবজ্ঞা করা। সামাজিক মাধ্যম যেমন ব্যক্তির শ্বাস ফেলার জানালা হতে পারে, তেমনি সমষ্টির অগ্রবর্তিতা ও কল্যাণ সাধনের জন্য যাবতীয় উদ্যোগের কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।

প্রথম প্রকাশ: ইত্তেফাক, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:২৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কৈফিয়ত

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:০০


(ছবি নেট হতে)

আউযুবিল্লাহিমিনাশশাইত্বোয়ানিররাজিম।
বিসমিল্লাহিররাহমানিররাহিম।
আসসালামুআলাইকুম।

উপরের মত করে সূচনা যাদের নিকটে বিরক্তিকর মনে হয়, তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করে বলছি,

এভাবে শুরু করার ফলে আমার বিভিন্ন সুবিধা হয়ে থাকে। যেমন ঐ অংশটা লিখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবনঃ কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।

লিখেছেন জাদিদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:১৪

১।
মেয়েকে রুমে একা রেখে বাথরুমে গিয়েছিলাম। দুই মিনিট পরে বের হতে গিয়ে দেখি দরজা বাইরে থেকে লক। পিলে চমকে উঠে খেয়াল করলাম পকেটে তো মোবাইলও নাই। আমি গেট নক... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্নরচিত গল্পনাটক

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:৪৪

গত কয়েকদিন ইউটিউবে প্রচুর নাটক দেখেছি। বেশিরভাগই কমেডি ড্রামা, অল্প কিছু ছিল সামাজিক নাটক। নাটক দেখার পর মন জুড়ে আনন্দের রেশ জেগে থাকতো। সেই রেশ এভাবে স্বপ্নেও স্থান করে নিবে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঘের অক্ষর, ইতিউতি এবং অন্যান্য

লিখেছেন জুনায়েদ বি রাহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ ভোর ৪:৩৫

'ইতিউতি'


সন্ধ্যাতারা কলি মেলেছে মোহনকান্দার আকাশে
বাতাসে লকডাউনের ভাপসা গন্ধ আর নিশিতা বড়ুয়ার বিরহী সঙ্গীত-

'বন্ধু তোমায় মনে পড়ে, বন্ধু তোমায় মনে পড়ে....'

রুমমেট ডুবে আছে বিরহী রোমান্টিসিজমে।

আমি পাঠ করছি অতন্দ্রিতার সংসারকাব্য- মেঘের স্মৃতিকথা...
করোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোটিপতি এবং বাংলাদেশীদের সুইস ব্যাংকের হিসাব।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:১৮



স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬... ...বাকিটুকু পড়ুন

×