somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামুতে আমার দশ বছর

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামুতে আমার দশ বছর পূর্ণ। হঠাৎ গতকাল রাতে লক্ষ্য করে দেখলাম, দশ বছর পেরিয়ে দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে।

আমি সাধারণত বছর শেষে বর্ষপূর্তি -মর্ষপূর্তি পোস্ট তেমন দেই না। এই পর্যন্ত বোধ হয় একবার দিয়েছিলাম, এটা নিয়ে দুবার হচ্ছে! এগুলো শুধু সামুর হার্ডডিস্কের অপচয় ছাড়া তেমন কিছু না, তবে এ সপ্তাহে স্প্রিং ব্রেকে আছি। ল্যাবে আসি, টুকটাক কাজ করি, বসে থাকি, ভাবলাম দু-চারটা মূল্যহীন বাক্য অপচয় করাই যায়!

আমার ব্লগিং শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে, কোনো এক নাম না জানা ব্লগে। এখন নামটা ভুলে গেছি। পরে প্রথম আলোতে ব্লগে ছিলাম ২০১০ সেটা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত। তখন আমি কোরিয়াতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট করছিলাম কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। আলো ব্লগ বন্ধ হলে বেশ কয়েক বছর অন্য কোনো ব্লগে ব্লগিং করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেভাবে আরাম পাইনি। তবে সামুতে শুরু করি ২০১৬ সালে। আমার অনুভূতি ছিল, আমি বুঝি সেই পুরোনো আলো ব্লগেই ফিরে এলাম! তবে অনেক প্রথম আলোর ডাইনোসর আমলের ব্লগারকে এই সামুতেও ফিরে পেলাম। তবে ব্লগিংয়ের ঢং বা কালচারের কথা বলতে গেলে প্রথম আলো এবং সামুর কালচার একটু ভিন্ন। আলো ব্লগে কবি-সাহিত্যিক বেশি ছিল, মন্তব্যে সেভাবে অ্যাটাকিং ছিল না। সামুতে আমার প্রথমদিকে তার অনেকটা উল্টো ছিল, এখানে চাঁচাছোলা ভাবে সমালোচনা করা হত। ব্যাপারটা ভালো, আমি ইতিবাচকভাবে দেখি।

আমার ব্লগিং ধরনের সাথে অনেকেই হয়তো পরিচিত। আমি অনেকটা নিয়মিতভাবে অনিয়মিত ব্লগার! মাঝে মাঝে ধুমায়া ব্লগিং করি, আবার অনেক সময়ের জন্য হাওয়া হয়ে যাই! তবে ব্লগে ঢুঁ মারি। ফেসবুক থেকে ব্লগিং অবশ্যই অনেক ভালো। ফেসবুক অনেকটা শো-অফ এবং যোগাযোগের মাধ্যম বলে মনে হয়। ব্লগিং এক্ষেত্রে অনেকটা ভিন্ন। এখানে যারা ব্লগিং করেন সবাই ভিন্ন ভিন্ন মত বা আদর্শ ধারণ করেন, তবে আমাদের সবাইকে একটি সুতোয় গাঁথে একটি জিনিস, সেটা হল প্রতিটা ব্লগারই কমবেশি সৃজনশীল বা এই দিকে আগ্রহ আছে। এখানে আসলে অন্তত একই আদর্শের মানুষগুলোর সাথে মোলাকাতের সুযোগ হয়। একই আদর্শ বলতে সবারই সৃজনশীল একটি মন আছে, এটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তবে বর্তমানে ব্লগিংয়ে আগ্রহী মানুষ পাওয়া খুব দুষ্কর। নতুন ব্লগার তৈরি হচ্ছে না। অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে এই মাধ্যমটি চাপে আছে। এতে ব্লগের কোনো দোষ দেখি না। বর্তমান পুঁজিবাদের সময়ে যেখানে ফেসবুক, রিলস, ইউটিউবে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে, সেখানে তরুণেরা সেদিকেই ঝুঁকবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। শুধুমাত্র মনের খোরাকের তাগিদে ব্লগিং করা মানুষ খুব কম। যাইহোক, সারা পৃথিবীতেই তাই আমাদের মতো ব্লগিংয়ের চাহিদা কম। যাইহোক আমরা চাই যেভাবেই হোক এই প্রাণের মাধ্যমটি টিকে থাক। অল্প গুটিকয়েক ব্লগার নিয়ে হলেও চলুক না এই পথচলা।

ব্লগিংয়ে আরেকটা বিষয় নজর কাড়ে। অনেক ব্লগারকেই দেখেছি ব্লগে এসেই ধুমাইয়া ব্লগিং করতে। আবার কিছুদিন ব্লগিং করেই অনেকেই নেতিয়ে পড়ত। অনেক আড্ডাবাজ ব্লগার, যারা এসেই জয় করে নিত, অনেকটা কাথা বালিস নিয়ে পরে থাকত ব্লগে, তাদের অনেককেই হারিয়ে যেতে দেখেছি।

ব্লগিং ছাড়ার বা ব্লগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকে। এখানে আমার পর্যবেক্ষণে কিছু তুলে ধরলাম। প্রথমত, অনেকে কিছুদিন ব্লগিং করে পরে উহ-আহ করত, আগে অনেক ভালো ব্লগিং হত, অনেক হেভিওয়েট ব্লগার ছিল। আসলে এগুলো মানুষের স্বাভাবিক আচরণ। নতুন ব্লগার যখন প্রথম আসে এবং সহ-ব্লগার হিসেবে যাদের পায় তাদের সাথে ব্লগিং করতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য ফিল করে। এই মানুষগুলো হারিয়ে গেলে অনেক ব্লগারের কাছেই ব্লগিং তখন পানসে মনে হতে থাকে। অনেকের ব্লগিং ছাড়ার আরেকটি কারণ আমার মনে হয়, সময়ের সাথে মানুষের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সামাজিক, বৈবাহিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মানুষের প্রায়োরিটি পরিবর্তন হয়। একসময় ব্লগিং যতটা গুরুত্ব পেত, পরিবর্তীতে হয়তো জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্য কিছু গুরুত্ব পায়, এটাই স্বাভাবিক। পেট থেকে কবিতা শুধু শুধু বের হয় না, তার জন্য অনেক কিছুই জড়িত। তৃতীয় কারণ অনেকে ব্লগে বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য বা প্রোপাগান্ডা নিয়ে আসেন, তারাও অকালে ঝরে যায়। আরেকটি কারন হতে পারে অভিমান। অনেক অভিমানি ব্লগারও দেখেছি, অভিমান করে ব্লগ ছাড়তে! কিছু বললেই মুখ ফুলিয়ে কান্না কাটি করে ব্লগ ছাড়তে দেখেছি। আসলে ব্লগিং করতে হলে পিঠে ছালা বেদে ব্লগিং করতে হয়! কম জোর ইনসানের জন্য ব্লগ না! যাইহোক, ব্লগ ছাড়ার আরো অনেক কারণ থাকতে পারে।

তবে আমার ব্লগের প্রতি কোনো অনাগ্রহ হয়নি। আগেও যেমন প্রচণ্ড ভালো লাগত, এখনও নাই। হয়তো আমি নিয়মিতভাবে অনিয়মিত ব্লগার তাই! এই ব্লগের সাথে আমিও প্রতিনিয়ত পরিণত হয়েছি। শুরু করেছিলাম যখন আমি কোরিয়াতে ছাত্র ছিলাম, আর এখন আমেরিকাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক। ছিলাম সিঙ্গেল, হলাম মিঙ্গেল।

বাংলা ব্লগ এগিয়ে যাক।
(সাময়িক পোস্ট)

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এনসিপি কেন পারল না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:১৬


প্রশ্নটা শুনতে বেশ ভারী আর দার্শনিক ঠেকছে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়ার ইনটেলেকচুয়াল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গম্ভীর প্রফেসর , সবাই ইদানীং কপালে ভাঁজ ফেলে এই এক প্রশ্নই করছেন। নেপালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ইরান গাজা নয়" - অরুন্ধতী রয়, (মার্চ ৯, ২০২৬)

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৬


ছবিসূত্র

আমার কিছু বলার আছে - কারণ আমি আমার মায়ের মেয়ে, এবং বুক চিতিয়ে কাঁধ সোজা করে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলার গভীর প্রয়োজন এই মুহূর্তে আমি বোধ করছি। সমগ্র পৃথিবীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি চান আপনার মৃত্যুর পরে সামুর ব্লগাররা আপনাকে স্মরণ করুক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৫৯

আমাদের একজন ব্লগার মারা গিয়েছেন। কিন্তু, কেন যেন সামু'র প্রথম পৃষ্ঠায় শোকের কোন চিহ্ন দেখছি না! তাঁর সম্মানে কি অন্তৎঃ কিছু দিনের জন্যে সামুর ব্যানারে একটু পরিবর্তন আনা যেতো না?!... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানসিক ভারসাম্য

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:২৯



আপনি ইরানের বিপক্ষে, আপনি নিরপরাধ নারী শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ মানুষ হত্যার পক্ষে! - কারণ, আপনি অসুস্থ। মানসিক ভারসাম্যহীন। মানসিক ভারসাম্যহীনের সাথে হাসি মজা আলোচনা বিতর্ক কোনোটাই চলে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আমার দশ বছর

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৮

সামুতে আমার দশ বছর পূর্ণ। হঠাৎ গতকাল রাতে লক্ষ্য করে দেখলাম, দশ বছর পেরিয়ে দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে।

আমি সাধারণত বছর শেষে বর্ষপূর্তি -মর্ষপূর্তি পোস্ট তেমন দেই না। এই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×