somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে তাদের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিওতে হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, যৌন কাজ করার পর অর্থ পরিশোধ না করায় তারা জুবায়েরকে আটক করে ভিডিও ধারণ করেছেন।

অন্যদিকে জুবায়ের ও তার সঙ্গীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, পরিবাগ ওভারব্রিজ এলাকার সিন্ডিকেটের অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক ও ছিনতাই সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তারা অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলতে গেলে তারা উল্টো হামলার শিকার হন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তারা বিষয়টি শাহবাগ থানাকেও অবহিত করেছিলেন।

এখানেই একটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। জুবায়েরের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ তাসনিমের আগের কিছু স্ট্যাটাস থেকে মনে হয়, তারা ওই এলাকায় ট্রান্সজেন্ডারদের উচ্ছেদ বা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। আবার কিছু সহপাঠী ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা নাকি কাউকে উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাহলে আসল উদ্দেশ্যটা কী ছিল? উচ্ছেদ, উদ্ধার নাকি সাংবাদিকতা? উদ্দেশ্য পরিষ্কার না হলে পুরো ঘটনাটি বিচার করা কঠিন।

তবে হিজড়াদের সঙ্গে জড়িয়ে জুবায়েরের বিরুদ্ধে যে ধরনের যৌন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে, সেটাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া কঠিন। আমাদের দেশে কোনো অভিযোগের সত্যতা বা প্রমাণের অপেক্ষা না করেই ভিডিও দেখে একজনের সামাজিক সম্মান নষ্ট করা বা ভাইরাল করা নেটিজেনদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডাকসুর রাজনীতি ও শিবিরের মোরাল পুলিশিং নিয়ে ঢাবি এলাকার ভাসমান মানুষ, চা বিক্রেতা ও প্রান্তিক মানুষের মধ্যে আগে থেকেই ক্ষোভ থাকতে পারে। আবার জুবায়েরের নিজেরও কিছু বিতর্কিত অতীত আছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগে ইমি নামের এক তরুণীকে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে মারধর করে থানায় দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আছে। ফলে জুবায়েরের ওপর অনেকেরই আগে থেকে রাগ রয়েছে এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মোসাদ্দেককে নিয়েও নানা কথা আছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শ্রেণীর মানুষ যেভাবে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগকে বিনোদন বানিয়ে জুবায়েরের চরিত্র হনন করছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের আচরণ। একজন মানুষকে অপছন্দ করা আর তাকে মিথ্যা অভিযোগে সামাজিকভাবে ধ্বংস করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জুবায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তারও একটা সম্মান আছে।

একই সঙ্গে এই ঘটনার আড়ালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চাপা পড়ে যাচ্ছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের পর থেকে সমাজে প্রান্তিক ও ভাসমান মানুষদের ওপর এক ধরনের নতুন নৈতিক পুলিশিং ও ক্ষমতা দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কখনও ভাসমান যৌনকর্মীদের ওপর অত্যাচার, আবার কখনও মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষদের ধরে মাথার চুল দাড়ি কেটে দেওয়ার নামে হয়রানি দেখা যাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে সাইকো সম্রাটের কথা মনে পড়ে। পুলিশ ফাঁড়ির কাছে একটি পরিত্যক্ত ভবনে ভাসমান নারী যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর তাদের হত্যা করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। মানসিকভাবে অসুস্থ বলা হলেও সে একা এটি করত নাকি পেছনে কোনো স্বার্থ কাজ করত, সেই তদন্ত না হতেই থানায় তার মৃত্যু হয়। কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহ নামে এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি জায়গা দখল করে মসজিদ বানাতে চেয়েছিল। এসব ঘটনায় মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষকে কেউ ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার । পরিবাগের ঘটনায় সরাসরি যোগসূত্র না থাকলেও প্রান্তিক মানুষদের ওপর বলপ্রয়োগের এই মানসিকতা দুটোতেই স্পষ্ট।

অনলাইনের মানুষজন জুবায়েরের ঘটনাটিকে সস্তা ট্রলে রূপ দিয়েছেন। জুবায়েরকে অপছন্দ করা যেতে পারে, কারণ হিজড়া জনগোষ্ঠী, বাউল বা মাজারে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করার জায়গা আছে। কিন্তু তাই বলে প্রমাণ ছাড়াই তাকে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। একইভাবে হিজড়া বা ভাসমান মানুষ বলেই তাদের কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করারও সুযোগ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪১
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"কর্পোরেট_ফ্যাক্টসমুহ"

লিখেছেন মামুন রেজওয়ান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"কর্পোরেট_ফ্যাক্ট_২১"



সব সময় ইন্টার্ভিউ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমরা জানতে পারি অনলাইনে। কিন্তু যারা ইন্টার্ভিউ নেন বিভিন্ন পজিশনের জন্য তাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা জানা হয়না আমাদের। তাই আমরাও যারা মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×