somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাপ্রাচীর

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চীনের বেইজিং থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাদালিং গিয়েও এই প্রাচীরের দেখা মেলে। এখানে মহাপ্রাচীরের এই অংশটি তৈরি করেছিলেন মিং বংশের সম্রাটরা। অনতিউচ্চ পাহাড়ের মাথায় ময়াল সাপের মতো সর্পিল আকারে দূরে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে গেছে মহাপ্রাচীর।

এই প্রাচীরে একের পর এক নজর-মিনার রয়েছে। অতীতে এখান থেকেই নজর রাখতেন সীমান্তরক্ষীরা। উত্তরদিক থেকে কোনও শত্র“পক্ষীয় সৈন্যদল এগিয়ে আসতে দেখলে তারা মশাল জ্বেলে সংকেত পাঠাতেন প্রতিবেশী নজর-মিনারের রক্ষীদের, তারা সংকেত পাঠাত পরের মিনারকে। মুহূর্তের মধ্যে সারা অঞ্চলজুড়ে শত্র“ আক্রমণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ত। একটা মশাল জ্বলার অর্থ একশ’ জন শত্র“। দুটি মশাল জ্বলার অর্থ পাঁচশ’ জন শত্র“। তিন মশাল জ্বললে বুঝতে হতো এক হাজার শত্র“। চারটি মানে পাঁচ হাজার শত্র“। আর পাঁচটি মশাল জ্বলে উঠলে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’।

মহাপ্রাচীর ছাড়াও বেইজিং শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে চীনের সুবিখ্যাত রাজপ্রাসাদ, উইনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ‘ফরবিডেন সিটি’। ১৪০৩ খ্রিস্টাব্দে মিং সম্রাট ইয়ুথালে পুরনো রাজধানী নানজিংয়ের বদলে নতুন রাজধানী গড়ে তোলেন বেইজিংয়ে। নতুন রাজধানীতে যথোপযুক্ত করে আনুমানিক দশ লাখ শ্রমিক গড়ে তোলে এক দৈত্যাকৃতি রাজপ্রাসাদ ‘নিষিদ্ধ নগরী’। এমন নামকরণের কারণ, সম্রাটের অনুমতি ছাড়া এখানে প্রবেশ করার অর্থ ছিল মৃত্যুদণ্ডকে আহ্বান করা। ১৪০৬ থেকে ১৪২০ এই ১৪ বছর ধরে গড়ে ওঠে এই নগরী। বারবার ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচশ’ বছর ধরে, প্রথমে মিং এবং পরবর্তীকালে চিং বংশের সম্রাটরা এই প্রাসাদ থেকে তাদের বিশাল সাম্রাজ্য চালাতেন। এখানে দশ লাখ বর্গমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আটশ’ বাড়ির নয় হাজার ঘর দেখতে একদিন যথেষ্ট নয়। এক সময় এই বিশাল প্রাসাদে শ’য়ে শ’য়ে রানী, উপপতœী, দাসী আর খোঁজা প্রহরীর মধ্যে একমাত্র পুরুষ সম্রাটই রাত্রিবাস করতেন। ১৯২৪ সালে শেষ সম্রাট পুয়ি নিষিদ্ধ নগরী ত্যাগ করেন এবং তারপর প্রজাতান্ত্রিক সরকার এই প্রাসাদকে প্রেস মিউজিয়াম হিসেবে জনগণের জন্য উš§ুক্ত করে দেয়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

গর্ব (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও কেউ নেই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×