somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবাহিত জীবন যেনো একখানা ফাঁটা বাঁশ। {একখানা বিবাহ বিরোধী প্রযোজনা}

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইনাস দুই ডিগ্রীতে লেপের নীচে মজা মারিয়া ঘুমাইতেছিলাম। ঘুমাইবার পূর্বে হিটিং ছাড়িয়া রাখায় ঘরে ওঁম শান্তি আবহাওয়া বিরাজ করিতেছিলো। আচমকা মধ্যনিশীতে শিশু কন্যার চিৎকারে ঘুম ভাংগিয়া গেলো। স্বপনে নাকি দেখিয়াছে একখানা কর্কট তাহাকে কামড়াইতেছে। তাই উচ্চশব্দে বিউগল বাজাইতে বাজাইতে তাহার ঘর হইতে আমাদের ঘরে আগমন।পরদিন অতি প্রত্যুষে আমার কর্ম থাকা শর্তেও উঠিয়া তাহাকে শান্ত করিতে হইলো। কিন্তু, মস্তকে বায়ু চড়া হওয়ায় সহজে আর ভাংগা ঘুম জোড়া লাগিলো না। ফলাফল স্বরূপ পরদিন কর্মক্ষেত্রে ঝিমানি আর ম্যানেজারের ঝাড়ি বর্ষণ। মনে মনে অভিসম্পাত দিলাম, আল্লায় যেনো সারাজীবন তোর সংগীকে বাঁজা করিয়া রাখে। শাপ-শাপান্তির পর মনে হইলো ঈসরে কি ভূল করিয়া তাহাকে শাপে বর করিয়া দিলাম। ওই ব্যাটা তো একজন গে, সংগী গর্ভধারণ করিলেই বরং ব্যাটার অনাথ হইয়া যাইবে। ঠিক ওই মুহুর্তে দোস্ত তোর কথা মনে পড়িলো। বিবাহ না করিয়া বরং তুই সুখে আছিস। সন্তানের ঝামেলা নাই, রাত্তিরে ঘুমের ব্যবচ্ছেদও নাই ফলে খচ্চর ম্যানেজারের অহেতুক জ্বালাতন নাই।

আরেকদিনের দূঃখের কথা বলিয়া আজিকে সমাপ্ত করিবো, সেই শীতল রাত্তিরে মজা মারিয়া ঘুমাইতেছিলাম। স্বপনে শাকিরার সহিত "পুলা তো নয় যেনো আগুনের গোলা" নাচিতেছিলাম। পিঠে যেনো কার যেনো খোঁচা লাগিতেই ঘুম ভাংগিয়া গেলো। পাশ ফিরিতেই দেখিলাম গিন্নী মুখ বিকৃত করিয়া কহিতেছে, মিনসের মড়ার ঘুম তাহলে ভাংগিয়াছে। ওগো আমার অম্বলের বেদনা উঠিয়াছে একটু জল দাও না। গিন্নীর জীবন বাচাঁইতে শাকিরার সহিত স্বপনের কবর রচনা করিয়া কম্বলের ওঁমের মায়া ত্যাগ করিয়া নিচতলা হইতে জল আনিয়া দিলাম। আবারও মস্তকে বায়ুচড়া হওয়ায় ঘুমের তেরটা এবং যথারীতি পরদিন ম্যানেজারের ঝাড়ি বর্ষণ ও শাপ-শাপান্ত। ক্লান্ত দেহখানা যখন টানিতে টানিতে আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছিলাম তখনই মুঠোফোনে গিন্নীর বাজারের লিস্টু নাজিল হইলো। সুপারমার্কেট হইতে হাতে-পায়ে একগাঁদা প্যাকেট লইয়া বাড়িতে ফিরিলাম গিন্নী গোস্বা করিয়া বলিলো, আহারে! কাল রাত্তিরে যখন অম্বলের বেদনায় ভুগিতেছিলাম তুমি একটু সেবা করিলে না। করিবেই বা কেনো? আমি মরিয়া গেলে তো নতুন আরেকখানা জুটিবে।

আহারে জীবন, বিবাহ যেনো করি নাই, মাইনকা চিপায় পড়িয়াছি। বিবাহিত জীবন একখানা ফাঁটা বাঁশ।ধারে ও ভারে উভয়ভাবেই কাটিবে। ভাইরে, তুই বড়ই ভালো আছিস। জানি একদিন এই জীবনের অবসান হইবে তবে যতদিন সম্ভব লেন্জা না কাঁটিয়া থাকা মংগল।

আমাদিগের ভালোবাসা হইয়া গেলো ঘাস, খাইয়া লইলো গরু দিইয়া গেলো বাঁশ।{একটি পুরুষ নির্যাতন বিরোধী লেখা}
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৭:৩৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×