somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চোখ

০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আব্বু আমাকে রেলস্টেশনের ওয়েটিংরুমের বেঞ্চে বসিয়ে রেখে গেলেন ট্রেনের টিকেট কাটতে। যাব সিলেট, আমার মামার বাড়িতে আমি আর আব্বু। অনেকদিন পর মামা বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছি। ফিলিং সো এক্সাইটেড!!

সাদা ছড়িটা ভাজ করে পাশে রাখলাম। হ্যা, আমি একজন জন্মান্ধ। এই পৃথিবীর রুপ-রস কিছুই নিজ চোখে দেখা হয়নি আমার। আমাকে জন্ম দিতে গিয়ে আমার মা মারা যান, আর আমি হই অন্ধ। আমার বাবা এরপর আর বিয়ে করেননি। আমাকে অনেক কস্ট করে এতদুর এনেছেন বাবা। অন্ধ হলেও জীবনযুদ্ধে হার মানিনি আমি। ব্রেইল পদ্ধতিতে এবার এসএসসি পাশ করেছি আমি।


আমার চোখ দুটি ঠিক করানোর জন্য বাবা সাধ্যমত অনেক চেস্টাই করেছেন, অনেক ডাক্তারের কাছে ছুটে গেছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। কারন আমার চিকিৎসা একটাই, তা হল কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন! কিন্তু অনেক চেস্টা করেও আমার জন্য একজোড়া কর্ণিয়া জোগাড় করা যায়নি, এদেশের মানুষ যে মৃত্যুর পরও নিজের চোখ জোড়া হারাতে রাজি নয়!!!

আমার পাশে বসা কেউ একজন হেসে উঠলেন হঠাৎ করে। শব্দের উৎসের দিকে মাথা ঘুরালাম আমি।

--কি ব্যাপার, হাসছেন কেন?
..................................................................

আমি আতিক। একটি ওষুধ কোম্পানিতে জব করি। সিলেট যাব অফিসের কাজে। ট্রেন আসবে আরো আধা ঘন্টা পরে। টাইম পাস করার জন্য বুকস্টল থেকে “১০০১ টি হাসির কৌতুক” নামক বইটি কিনে ওয়েটিংরুমের বেঞ্চে বসে পড়ছিলাম। কিছুক্ষন পর এক ভদ্রলোক একটি ছেলেকে আমার পাশে বসিয়ে রেখে গেলেন। ছেলেটির বয়স ১৬-১৭ হবে।

বইটি বেশ ভালই। ভাল ভাল কৌতুক আছে। এরমধ্যে একটি পড়ে এত হাসি পেল যে একটু শব্দ করেই হেসে ফেল্লাম আমি............

আমার পাশে বসা ছেলেটি আমার উদ্দেশ্যে কিছু বল্লো বোধহয়। ফিরে চাইলাম ওর দিকে এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ছেলেটি অন্ধ! এর আগে বুঝতে পারিনি আমি। আহারে বেচারা!

--সরি, আমাকে কিছু বল্লে?
--আপনি হাসছিলেন কেন?
--ওহ আচ্ছা, কৌতুকের বই পড়ছি আমি। একটা কৌতুক পড়ে হাসি পেল।
হাসিমুখে জবাব দিলাম।
--কি কৌতুক? আমাকে বলবেন প্লিজ!
--সিউর। এক লোক দেখল যে তার এক বন্ধু খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে। তখন সে তাকে জিজ্ঞেস করল যে কি ব্যাপার, তুই খোড়াচ্ছিস কেন? তখন তার বন্ধু জবাব দিল, “আমার দাঁতে খুব ব্যথা করছে তাই খোড়াচ্ছি!!গাধা কোথাকার!"
--হাহাহহাহাহাহাহাহাহহাহাহাহাহাহাহা......
ছেলেটি প্রান খুলে হাসছে। এত প্রান খুলে কাউকে হাসতে দেখিনি অনেকদিন!! মনটাই ভাল হয়ে গেল!

কিছুক্ষন পর ছেলেটি আবার ফিরে চাইল আমার দিকে,
--আপনার যখন কাজ হয়ে যাবে তখন কি আমাকে দেবেন প্লিজ?
অবাক হলাম আমি! কি চাইছে ও? বইটা?!
--কি, বইটা?
--নাহ.........আপনার চোখ দুটো!
কি কারনে যেন আমার দৃস্টি হঠাৎ ঝাপসা হয়ে গেল! চোখে কোন ময়লা গেল নাকি? নাকি চোখে পানি চলে এলো!!


------------------------------------------------

আপনি চাইলে মৃত্যুর পরও আপনার চোখ দুটি বেচে থাকতে পারে অন্য কারো চোখ হয়ে। দয়া করে মরনোত্তর চক্ষুদান করুন। আপনার-আমার সামান্য ইচ্ছাই যথেষ্ঠ। চোখ দান করার বিষয়ে কোনো ধর্মেই বারণ নেই। কর্নিয়া সংগ্রহের পর বাহ্যিক চেহারা অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু কর্নিয়া সংগ্রহ করে ফাঁকা স্থানে একটি আই ক্যাপ বসিয়ে দেওয়া হয়, যা অপরিবর্তিত চেহারা নিশ্চিত করে। মরণোত্তর চক্ষুদানের জন্য সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিতে যোগাযোগ করুন।


আমার মৃত্যুর পর যে জিনিস আমার বা আমার পরিবারের কোন কাজে লাগছে না সে জিনিসটা কি এমন কাউকে দিয়ে দেয়া যায় না যেটির জন্য সে বছরের পর বছর অপেক্ষা করে আছে? ওয়েটিংরুমের বেঞ্চে বসে থাকা ওই ছেলেটির মত হাজার হাজার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অপেক্ষা করে আছে, আমাদের এই সামান্য ইচ্ছাটুকুর কারনে ফিরে পাবে নিজেদের চোখ, দেখতে পাবে এই অপরুপ পৃথিবীকে আপনার চোখ দিয়েই!!!


এই শ্রীলংকান বিজ্ঞাপনটি অবলম্বনে রচিত


(অনেক আগে প্রথম আলো ব্লগে এই গল্পটি দিয়েছিলাম প্রথম, ওখানে দেয়া আমার প্রথম ও শেষ পোস্ট। ওখানকার ব্লগ আইডি,পাসওয়ার্ড, মেইল আইডি সব ভুলে গেছি,তাই আর পরে ঢুকতে পারি নাই! আজকে মনে হল গল্পটি এখানে শেয়ার করি।)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৪৯
৫৬টি মন্তব্য ৫৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×