somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিনি ছোট-গল্প

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রহমান সাহেব। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাপারটা খেয়াল করছেন যে উনার স্ত্রী'র মাঝে বেশ পরিবর্তন লক্ষনীয়! কিন্তু স্বভাবতই তিনি সব ব্যাপারে চুপচাপ থেকে বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পছন্দ করেন।

তার স্ত্রী শম্পা রহমান। শপিং, পার্লার করে সময় কাটানই যার কাজ। এসবের ফাকে তিনি মাঝে মধ্যে সন্তানদের সময় দেয়ার সময়টুকুও ভালভাবে পান না। সে ব্যাপারে অবশ্য তার স্বামী বা সন্তানদের কারই আপত্তি নেই।
ইদানিং শম্পা ম্যাডাম কে খুব একটা শপিং এ যেতে দেখা যায় না। বাসার রান্নাবান্না নিয়ে কিছুটা সময় দেন এবং বেশিরভাগ সময় তাকে দেখা যায় বাসার ফুট-ফরমাশ খাটার জন্য আনা ছেলে রাসেল কে পড়ানোর পিছনে সময় ব্যয় করতে! রাসেল এর উপর থেকে কাজের চাপ কমাতে শম্পা ম্যডাম নতুন একজন মহিলা পর্যন্ত রেখে দিয়েছেন বাসায়।

স্ত্রী শম্পার এত বড় পরিবর্তন দেখে রহমান সাহেব বেশ অবাক! যে মহিলা পাশের বাসার ভাবীর চেয়ে দামি শাড়ি না পরলে রাতে ঘুম হত না, যার রোজ বান্ধবীদের সাথে ঘুড়তে না বেরোলে খাবার হজম হত না সেই মহিলা ঘরে! তাও আবার একটি অনাথ ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে! রহমান সাহেব বেশ খুশিও বটে। একটা অনাথ ছেলের তাও একটা গতি হবে।

এরকম চললো টানা কয়েক মাস।
শম্পা ম্যাডাম শেখান। রাসেল শিখে। শম্পা তার পরিক্ষা নেন, রাসেল ভাল করতে থাকে।

একদিনের কথা, রহমান সাহেব কি যেন একটা কাজে বাসায় এলেন হঠাত। দেখলেন তার স্ত্রী পাশের বাসার ভাবীর সাথে গল্প করছেন! সে গল্পের বিষয়বস্তু তার কান এড়াল না,
"আমার বাসার ছেলেটা তো ১-১০০ পর্যন্ত মূখস্ত পুরো"
"কি যে বলেন না ভাবী, আমার রাসেল তো ১০০ পর্যন্ত বানান ই করে লিখতে পারে" .......

গল্প আরো এগোচ্ছিল, কিন্তু রহমান সাহেব আর আগ্রহ পেলেন না। তার কাছে ব্যাপারটা স্পষ্ট হল কেন তার স্ত্রী রাসেল কে নিয়ে খেটেছেন এতদিন! পাশের বাসার ভাবীর কাছে তিনি হারতে রাজি নন, রাসেল ও তার স্ত্রী'র কাছে একটা শাড়ির মত মূল্যবান!
দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর করার কিছুই থাকলো না তার।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:৪২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×