বড় হয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়! না না, মা-বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছুনা। উদয়ন এ পড়াশোনা করসি ক্লাস টু থেকে। ছোটবেলা থেকে মা-বাবা খুব বেশি খোজ নিত না তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা টা ঘুড়ে বেড়াতাম মনের আনন্দে। এই এলাকার প্রতি আমার ভালোবাসা সর্বোচ্চ। তখন থেকেই ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। [ কপালে কি আছে জানিনা,সবাই দোয়া করবেন ]
একটু পার্টওয়ালা পাবলিক আমি
২০১৫ সালের ম্যাট্রিক পরিক্ষার্থী ছিলাম আমি। জানতাম এসএসসি কিছুনা। কিন্তু গোল্ডেন পাওয়ার জন্য কুত্তার মত খাটসি শুধুমাত্র এই জন্যে যে গোল্ডেন ছাড়া ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া সম্ভব না। বাবা পাগল মার্কা লোক, পড়াশোনার খোজ-খবর রাখেন না, কিন্তু এই স্যার ঐ ম্যাডাম এর কাছে পাঠান, ফুপু শিক্ষক, উনি বইলা দেন কই কই যাইতে হবে। আর ছাত্র ও অত খারাপ আমি না।
এসএসসি দিসি ২মাস লাগাইয়া, হরতাল-অবরোধ এর মইধ্যে ঈদ-ঈদ মুডে এসএসসি দিসি। উদয়নে বহুত ক্ষমতাওয়ালা লোকের পোলাপান পড়ে, তাই পরিক্ষার হলে আমাদের যে কোন সমস্যা হবে না তা প্রথম পরিক্ষা দিয়াই বুইঝা গেসিলাম। কিন্তু এর আগেই কাহিনী হয়ে গেসে। বাংলা পরিক্ষায় বাশ মেরে দিসে
ঈদ ঈদ মুড নিয়া ম্যাট্রিক দিলাম।
রেজাল্ট দিল, এ+ পাইলাম। কিন্তু বায়োলজি, ধর্ম, সমাজ এ এ+ নাই, বাংলায় কিন্তু ঠিকই আছে। যে ৩টায় মিস গেসে ঐ ৩টা কোপাইয়া দিসিলাম পরিক্ষা! এই ৩টায়-ই মিস, গোল্ডেন নাই। কিন্তু বাপে খুশি, সাইন্স এর সব সাবজেক্টে এ+ পাইসি!! কিন্ত আমার পরিবারের লোকজন আমার বাপের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত, তাই আমার আর আমার মা এর মর্যাদা এমনি নিচে তার উপর গোল্ডেন পাই নাই......... তারসাথে ফেসবুকে ঢোকা টা হারাম হইয়া গেল, যারা ৫সাবজেক্টে ফেল করতো তারা গোল্ডেন। বাসা থেকে বের হওয়া কইমা গেল, সামনের বাসার আঙ্কেলের মেয়ে গোল্ডেন, যারে ফিজিক্স বুঝাইসিলাম আমি নিজে কয়দিনের জন্যে
দেশের ইতিহাসের প্রথমবার অনলাইন এর মাধ্যমে ভর্তি করানো হবে কলেজে। ৫টা চয়েজ দিতে দিল। বাপে কইল দেশসেরা ৫টা কলেজ দিতে, আমি জানতাম আমার একটায় ও হবেনা। বাপের লোকজন আছে জানাশুনা কিছু, কইল আমারে ঢাকা কলেজে ভর্তি করার দায়িত্ব বাপের!!
আশা নিয়া বইসা রইলাম। প্রথম মেরিট গেল, দ্বিতীয় মেরিট গেল।। কিন্তু এখনো কলেজ পাই নাই। ওদিকে সব বন্ধুরা ঢাকা কলেজে। বাপ-মা'র ও মেজাজ বিগড়ায় উঠলো, যাদের সাথে ঘুড়ি ওরা সবাই এক জায়গায়, আমি আলাদা কেন?
তৃতীয় মেরিটে নতুন করে ১০টা কলেজের জন্য আবেদন করতে বললো সরকার। দিলাম ১০টা কলেজ। এর মাঝে আবার খাতা চ্যালেঞ্জ করসিলাম, বায়োলজি তে এ+ আইসা পরসিল।
তৃতীয় মেরিটের রেজাল্ট দিল, ঢাকা সিটি কলেজ আসলো। যে কলেজে ছেলে পড়ায় ঐটাও জানসিলাম কয়দিন আগে
বাধ্য হয়ে সিটি কলেজে ভর্তি হইলাম। বাবা বললো, যেভাবেই হোক আমাকে ঢাকা কলেজে এনে দিবেন। কিন্তু পরিবারের চোদ্দ গুশটি মিলা সবাই খুশি। সিটি কলেজের মত কলেজে আমি পড়বো এটা কেউ ভাবে নাই!!!
তদবির এর দিন ফুরাইসে, ঢাকা কলেজে তদবির কাজ হয়না। এটা স্বাগত জানাই, কিন্ত আমার স্বপ্ন টা পূরন হইল না আরকি
সিটি কলেজে পড়তেসি ৭/৮ মাস হয়ে গেল। আমি পুরা একা, যে বন্ধুদের সাথে ১০ বছর ছিলাম ওরা একসাথে, আমি আলাদা। ছোটাছুটি কইরা অভ্যাস আমার, আর বন্দী হইয়া আছি একটা গ্যারেজ এ। যে মেয়েটার সাথে ৩বছর ছিলাম, ও ঐদিন আমার বন্ধুকে বলসে আমি যদি গোল্ডেন পাইয়া একটা ভাল কলেজে চান্স পাইতাম তাহলে আমাকে আরেকটা সুযোগ দিত
একটা গোল্ডেন অনেক কিছু পরিবর্তন করে দিসে । জীবনে যে কিছু করবো না তা না, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাই সব। কিন্তু একটা গোল্ডেন এর ক্ষমতা তিনি এত রাখলেন কেন বুঝিনা।
২০১৬ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা
জয়তু গোল্ডেন
[ লেখা পড়ে কেউ বিরক্ত হয়ে থাকলে দু;খিত। ফজলুভাই নিজের দু;খ শেয়ার করলো আরকি, আর কিছুনা
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



