somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাফিউর রহমান ফারাবী
ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাংলাদেশের প্রান্ত হতে আপনাকে হাজার সালাম! ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পিতা মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক

রামুতে বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা ও আরাকানে মুসলিম নির্যাতনের একটা তুলনামূলক পর্যালোচনা

০১ লা নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছুদিন আগে যখন কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ পল্লীতে আগুন দেয়া হল এই আগুন যে কারা লাগাল সরকার নিজে না ঐ এলাকার সাধারন জনগন এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনো আমরা জানি না। আচ্ছা তাও কিছু বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর করা হয়েছে, কিছু বৌদ্ধ ভাই বোনদের ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে তা তো আর অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু কোন বৌদ্ধ ধর্মালম্বীকে কি হত্যা করা হয়েছে ? এর উত্তর না। কোন বৌদ্ধ ধর্মালম্বীকে কি আহত করা হয়েছে ? এর উত্তর না । কোন বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারীকে কি ধর্ষন করা হয়েছে। এর উত্তর না।
আর যেইসব বৌদ্ধ মন্দির ও ঘর বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে তারা কিন্তু ঠিকই ক্ষতিপূরন পেয়েছে। দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা রামুতে গিয়ে নিজ হাতে বৌদ্ধ দের ক্ষতি পূরন দিয়েছেন। আচ্ছা এখন আমরা দেখি রামু থেকে অনতিদূরে বার্মার আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের কি অবস্থা।আরাকানে আজকে ৪০ বছর ধরে প্রায়ই যেটা হয় সেটা হল সুন্দর সুন্দর রোহিঙ্গা মুসলিম মেয়েদের কে বার্মার সেনাবাহিনী এসে ধরে নিয়ে যায়। ১ মাস ২ মাস এই এই সুন্দর সুন্দর রোহিঙ্গা মুসলিম কে তারা ভোগ দখল করে তারপর ইচ্ছা হলে তাদের কে হত্যা করে ফেলে বা অনেকে দয়া পরবশ হয়ে এই রোহিঙ্গা মেয়েদের কে নিজ গ্রামে দিয়ে যায়। সারা জীবন এই রোহিঙ্গা মেয়েরা একটা কলঙ্ক বয়ে নিয়ে বেড়ায়। এই যে আজকে ৪০ বছর ধরে বার্মার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মেয়েদের কে ধর্ষন করছে তাদের কে ঘর থেকে প্রকাশ্যে উঠিয়ে নিয়ে সেনা বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে এসে ভোগ দখল করছে এর কোন বিচার নাই। আর দাঙ্গার সময় রোহিঙ্গা মুসলমানদের কে বৌদ্ধ কর্তৃক হত্যা করা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। রোহিঙ্গারা কার কাছে বিচার দিতে যাবে। বার্মায় কোন আইন আদালত কোর্ট কাচারী আছে নাকি ? মগের মুল্লুক এই শব্দ টা তো বার্মা থেকেই এসেছে। আজকে ৪০ বছর রোহিঙ্গারা কোন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা পায় না, রোহিঙ্গা ছেলে মেয়েরা কোন সরকারী স্কুল কলেজে ভর্তি হতে পারে না। এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কি হতে পারে ?
যেইখানে রামুতে দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা চলে গিয়েছেন আর সেইখানে বার্মার সরকার বলছে জাতিসংঘ যেন রোহিঙ্গাদের ৩য় কোন দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। ছি
সত্যি কথা বলতে কি বার্মা এখন একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকার উচিত বার্মা দেশ টাকে আক্রমন করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ফেলা। এই বার্মার সামরিক জান্তা ঐ দেশের সংখ্যালঘুদের জীবন যাত্রা কে ধব্বংস করে ফেলেছে।

বৌদ্ধরা যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতা পায় তখনই নিজ দেশের জনগন ও সংখ্যা লঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। এটা এদের কে পুরানো খাসলত। যেমন কম্বোডিয়ায় ৭০ এর দশকে যখন পলপট ক্ষমতায় ছিল তখন এই পলপট সমাজতন্ত্রের নামে বিপ্লব করতে যেয়ে লাখ লাখ শহুরে কম্বোডিয়ান নাগরিকদের কে হত্যা করেছে। এই শহুরে নাগরিকদের দোষ ছিল এটাই যে উনারা পলপটের কথা মত শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে কৃষিকাজ করতে রাজি হন নি। চীনের মাওসেতুং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে লাখ লাখ চীনা মুসলমান কে হত্যা করেছে। আর স্টালিন তো নিজের দেশের রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদেরকেও হত্যা করতে ছাড়ে নি। স্টালিনের নৃশংসতার স্বীকার এক বাঙ্গালী বিপ্লবীর কথা এই লিংকে ক্লিক করে জানুন।

জুলাই মাসে যখন আরাকানে মুসলিম নির্যাতন শুরু হল তখন দেশের সকল ইসলামীক রাজনৈতিক দল গুলি যেমন জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মুফতী আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোট, হাফেজ্জী হুজুরের খেলাফত মজলিস এই সব দলের বড় বড় নেতারা বাংলাদেশের বড় বড় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাছে ধর্না দিয়েছিল যেন উনারা কিছু বিবৃতি দেয় যেন বার্মার বৌদ্ধ নাগরিকরা যেন মুসলিম নিধনে আর অংশ গ্রহন না করে। কিন্তু এই বৌদ্ধ ভিক্ষুরা হিংসা ভরে একটা বিবৃতিও দেয় নাই। কিন্তু বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক খ্যাতি আছে। উনারা যদি এখনও একটু এগিয়ে আসে কয়েকটা বিবৃতিও দেয় তাইলেও আশা করা যায় যে বার্মার আরাকানে মুসলিম নির্যাতন কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু আমরা মুসলমানরা কিন্তু ঠিকই রামুতে বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার প্রতিবাদে মানব বন্ধন করছি। আসলে এই বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মন তো হিংসায় ভরা। তারা পারলে আরো ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নাকাটি করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে একটু বেশি ক্ষতি পূরন আদায় করবে কিন্তু তাও নিজ ধর্ম্বালম্বীদের দোষ স্বীকার করে একটি বিবৃতিও দিবে না। এমনকি নেট ও Facebook জগতে কোন বৌদ্ধ ছেলে মেয়েদের কে আমি আরাকানে মুসলিম নির্যাতন এর প্রতিবাদে একটা Status ও দিতে দেখলাম না। এত নীচ বৌদ্ধদের মন মানসিকতা ছি। এদের জন্য এখন আমার ঘৃণা ছাড়া আর কিছু নাই।
১৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×