১৯ নভেম্বর ২০০৯। দুপুর বারটার দিকে মনে হলো গোটা বাংলাদেশই ঘুরে দাড়ালো। আবার নতুন করে। নতুন স্বপ্ন নিয়ে। নতুন সম্ভাবনার আলো জ্বালিয়ে। রায় হলো বহুপ্রতিক্ষিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার। খুনীদের ফাঁসির রায় বহাল থাকলো। চারিদিকে কেবলই বইতে থাকলো আনন্দাশ্রু।
১৯৭৫ থেকে ২০০৯। প্রায় চার দশক। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার স্থপতিকে গোটা পরিবারে খুন করা হলো। সাথে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাও। পারলে হয়তো রাষ্ট্রের সীমানাটাও বদলে দিতো। তা পারে নি। তবে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধানটা বদলে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বুকে যেভাবে গুলি চালিয়েছিল ঠিক সেভাবে সামরিক-বেসামরিক প্রক্রিয়ায় সংবিধানের বুকেও চলেছে গুলি। সংবিধানকেও করা হয়েছে রক্তাক্ত। বাঙালীর অসাম্প্রদায়িক চেতনার জায়গায় স্থান পেয়েছে সাম্প্রদায়িকতা। চাষাবাস হয়েছে এবং হচ্ছে মৌলবাদের। খুনীরা রাষ্ট্রের এতখানি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল যে তাদের শুধু বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে রেহায় দেয়া হয়নি। রাষ্ট্র তাদের চাকরি দিয়ে পুরস্কারও দিয়েছিল। মানব সভ্যতার ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় প্রযোজনায় এতখানি কলংকিত উদ্যোগ এর উদাহরণ সম্ভবত দ্বিতীয়তটি নেই। সে দীর্ঘ কলংকের দাগ কিছুটা হলেও জাতির ললাট থেকে মুছে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা খুব দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হবে। রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। একই সাথে বন্ধ হবে রাষ্ট্রীয় প্রযোজনায় বিচার বহির্ভূত সকল ধরনের হত্যাকান্ড।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


