
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
* মতভেদে মহাশাস্তির ঘোষণা আল্লাহর।
সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আর আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।
সহিহ আবু দাউদ, ৪৫৭৭ নং হাদিসের (সুন্নাহ অধ্যায়) অনুবাদ-
৪৫৭৭। হযরত সাফীনা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, নবুয়তের খেলাফতের সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। তারপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা বাদশাহী দান করবেন।
হযরত সাঈদ (র.) বলেন, সাফীনা (রা.) আমাকে বলেন, তুমি হিসাব কর। আবু বকরের (রা.) শাসনকাল দু’বছর, ওমরের (রা.) দশ বছর, ওসমানের (রা.) বার বছর, আলীর (রা.) ছ’বছর।হযরত সাঈদ (র.) বলেন, আমি সাফীনাকে (রা.) জিজ্ঞেস করি যে, বনু মারওয়ান ধারণা করে যে, আলী (রা.) খলিফাদের অন্তর্ভূক্ত নন। তিনি বলেন, বনু-মারওয়ানরা মিথ্যা বলেছে।
* নবুয়তের খলিফাগণের আনুগত্য জরুরী ছিলো। তাঁদের সাথে বিরোধ দেখা দিলে আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) কথা অনুযায়ী কাজ করা জরুরী ছিলো।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৯৫০ নং হাদিসের (ফিতনা অধ্যায়) অনুবাদ-
৩৯৫০। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.)বলতে শুনেছি আমার উম্মত পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না। যখন তোমরা উম্মতের মাঝে মতপার্থক্য দেখতে পাবে, তখন সর্ববৃহৎ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
* নবুয়তের খলিফার সাথে বিরোধে সাহাবায়ে কেরামের (রা.)সর্ববৃহৎ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এ বিধি লংঘণ করে যেসব সাহাবা নবুয়তের খলিফাগণের সাথে মতভেদে লিপ্ত হয়েছেন এবং যারা তাঁদের অনুগত ছিলেন তাঁদের প্রতিদান কি?
সূরাঃ ১ ফাতিহা ৫ থেকে ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫। আমাদেরকে সিরাতাম মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে) হেদায়েত প্রদান (পরিচালিত) করুন।
৬। তাদের পথ যাদেরকে আপনি নেয়ামত (অনুগ্রহ) দান করেছেন।
৭। যাদের উপর আপনার ক্রোধ নেই। আর যারা পথভ্রষ্ট নয়।
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
* যেসব সাহাবা (রা.) নবুয়তের খলিফাগণের অনুগত ছিলেন তাঁরা নেয়ামত প্রাপ্ত হবেন। কারণ সাহাবায়ে কেরামের (রা.)সর্ববৃহৎ দল নবুয়তের খলিফাগণের অনুগত ছিলেন।আর নবুয়তের খলিফাগণের সাথে মতভেদে জড়ানো সাহাবা (রা.) ক্ষমা প্রাপ্ত হবেন।নেয়ামত ও ক্ষমার বিবেচনায় নেয়ামত প্রাপ্ত সাহাবা (রা.) মর্যাদার প্রথম স্থানে থাকবেন। নবুয়তের খলিফাগণের অনুগত না হলেও যেসব সাহাবা (রা.) তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত ছিলেন তাঁরা সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যে মর্যাদায় দ্বিতীয় স্থানে থাকবেন। নবুয়তের খলিফার সাথে যুদ্ধ করে যাঁরা ক্ষমা চেয়েছেন এবং খলিফার ক্ষমা পেয়েছেন সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যে তাঁরা মর্যাদায় তৃতীয় স্থানে থাকবেন। নবুয়তের খলিফার সাথে যুদ্ধ করে যাঁরা ক্ষমা চাননি এবং ক্ষমা পাননি সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তাঁরা মর্যাদায় চতুর্থ স্থানে থাকবেন। অনন্তকাল নিজেদের মধ্যে মর্যাদায় প্রথমস্থান না পাওয়া সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মতভেদের মহাশাস্তি। কিন্তু মুসলিমগণ নেয়ামত প্রাপ্ত সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুসারী হবেন। তাঁদের সাথে মতভেদে তারা অন্য তিন দলের অনুসারী হবে না। কারণ প্রথম দলের সাথে মতভেদে অন্য তিন দল সঠিক ছিলেন না।আর কোরআন অনুযায়ী নেয়ামত প্রাপ্তদের অনুসরন হলো সিরাতাম মুসতাকিম।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



