
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
* মতভেদে মহাশাস্তির ঘোষণা আল্লাহর।
সূরাঃ ১ ফাতিহা ৫ থেকে ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫। আমাদেরকে সিরাতাম মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে) হেদায়েত প্রদান (পরিচালিত) করুন।
৬। তাদের পথ যাদেরকে আপনি নেয়ামত (অনুগ্রহ) দান করেছেন।
৭। যাদের উপর আপনার ক্রোধ নেই। আর যারা পথভ্রষ্ট নয়।
* মতভেদে মহাশাস্তির ঘোষণা আল্লাহর। ইসলামে অনুসরনীয় হলেন নেয়ামত প্রাপ্তগণ। যারা মতভেদের দায়মুক্ত নয় তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাশাস্তির হুমকিতে রয়েছে। তাঁরা ক্ষমা পেলেও তাঁরা হবেন ক্ষমাপ্রাপ্ত। আল্লাহ ক্ষমা প্রাপ্তদের পথকে সিরাতাম মুসতাকিম না বলে নেয়ামত প্রাপ্তদের পথকে সিরাতাম মুসতাকিম বলেছেন। মতভেদের দায়মুক্ত সাহাবা, তাবেঈ, তাবে তাবেঈ, আলেম ও স্কলার নেয়ামত প্রাপ্ত কারণ তাঁরা মহাশাস্তির হুমকিতে নেই। সুতরাং তাঁরা মুসলিমদের অনুসরনীয় সাব্যস্ত হবেন। তাঁদের মতের সাথে মতভেদের দায়মুক্ত যারা নন তাঁদের মতের গরমিল হলে মতভেদের দায়মুক্তগণের মত গৃহিত হয়ে, যারা মতভেদের দায়মুক্ত নয় তাঁদের মত বাতিল বলে সাব্যস্ত হবে।
সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আর আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।
সহিহ আবু দাউদ, ৪৫৭৭ নং হাদিসের (সুন্নাহ অধ্যায়) অনুবাদ-
৪৫৭৭। হযরত সাফীনা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, নবুয়তের খেলাফতের সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। তারপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা বাদশাহী দান করবেন।
হযরত সাঈদ (র.) বলেন, সাফীনা (রা.) আমাকে বলেন, তুমি হিসাব কর। আবু বকরের (রা.) শাসনকাল দু’বছর, ওমরের (রা.) দশ বছর, ওসমানের (রা.) বার বছর, আলীর (রা.) ছ’বছর।হযরত সাঈদ (র.) বলেন, আমি সাফীনাকে (রা.) জিজ্ঞেস করি যে, বনু মারওয়ান ধারণা করে যে, আলী (রা.) খলিফাদের অন্তর্ভূক্ত নন। তিনি বলেন, বনু-মারওয়ানরা মিথ্যা বলেছে।
* নবুয়তের খলিফাগণের মত সঠিক সাব্যস্ত হওয়ায়। তাঁদের সাথে যারা মতভেদ করেছেন তাঁরা মতভেদের দায়মুক্ত নয়। সুতরাং হযরত আবু বককরের (রা.) সাথে মতভেদকারী আনসারী সাহাবার মত বাতিল সাব্যস্ত হবে। হযরত ওসমানের (রা.) সাথে মতভেদকারী হযরত আবুযর গিফারীর (রা.) মত বাতিল সাব্যস্ত হবে। তারমানে যাকাত দিয়ে সম্পদ সঞ্চয় সঠিক কাজ সাব্যস্ত হবে। হযরত আবুযর গিফারী (রা.) কোনভাবেই সম্পদ সঞ্চয়ের পক্ষে ছিলেন না। হযরত ওসমানের (রা.) মতের বিপরীতে হযরত আবুযর গিফারীর মত ইসলামের বিধান হিসাবে সাব্যস্ত হবে না।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮৬। আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত।সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমাদের ত্রুটি হয় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না।হে আমাদের প্রতিপালক এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।আমাদের পাপ মোছন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন।
* হযরত ওসমান (রা.) হত্যার প্রকৃত অপরাধী খুঁজে বের করতে হযরত আলী (রা,) তদন্তের জন্য সময় চেয়েছেন। কোরআন তাঁর আরজী অনুমোদন করে। কারণ পাঁচ হাজার আসামীর মধ্য থেকে কারা খালাস পাবে এবং কারা মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবে এটা চট জলদি নির্ধারণ করা সাধ্যাতীত কাজ ছিলো। যারা খলিফাকে সময় না দিয়ে তাঁর সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছেন, তাঁরা মতভেদের দায় মুক্ত নন। যারা খলিফার পক্ষে যুদ্ধ করা থেকে বিরত ছিলেন তাঁরাও খলিফার সাথে একমত হতে পারেননি।সুতরাং তাঁরাও মতভেদের দায়মুক্ত নন। সুতরাং খলিফা আলীর (রা.) বিপক্ষে যারা যুদ্ধ করেছেন এবং যারা তাঁর পক্ষে যুদ্ধ করেননি এসন সব সাহাবার (রা.) মত খলিফা হযরত আলীর (রা.) পক্ষে যুদ্ধকরা যাহাবায়ে কেরামের (রা.) মতের গরিমিল হলে উত্ত সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মত বাতিল সাব্যস্ত হবে এবং খলিফা আলীর (রা.) পক্ষের সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মত ইসলামের বিধান হিসাবে সাব্যস্ত হবে।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৯৫০ নং হাদিসের (ফিতনা অধ্যায়) অনুবাদ-
৩৯৫০। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.)বলতে শুনেছি আমার উম্মত পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না। যখন তোমরা উম্মতের মাঝে মতপার্থক্য দেখতে পাবে, তখন সর্ববৃহৎ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
মেশকাত ৫৭৬৪ নং হাদিসের (সাহাবীদের ফজিলত ও মর্যাদা অধ্যায়) অনুবাদ-
৫৭৬৪। হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, আমি আমার প্রতিপালককে আমার ইন্তেকালের পর আমার সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি অহীর মাধ্যমে আমাকে জানিয়ে দিলেন যে, হে মোহাম্মদ! আমার নিকট তোমার সাহাবীদের মর্যাদা হল আসমানের নক্ষত্রদের তুল্য। এর একটি আরেকটির তুলনায় অধিক উজ্জ্বল। অথচ প্রত্যেকটির মধ্যেই আলো বিদ্যমান; সুতরাং তাদের মতভেদ হতে যে কোন ব্যক্তি কোন একটি অভিমত গ্রহণ করবে, সে আমার নিকট হেদায়াতের উপরই প্রতিষ্ঠিত। হযরত ওমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, আমার সাহাবীগণ হল তারকাসদৃশ। অতএব তোমরা তাদের মধ্য হতে যে কোন এক জনের অনুসরন করবে হেদায়াত লাভ করবে – রাযীন।
* সাহাবায়ে কেরামের (রা.)সর্ববৃহৎ দলের মত ইসলামে সঠিক সাব্যস্ত। সুতরাং তাঁদের মতের গরমিল কোন সাহাবার মত ইসলামের বিধান হিসাবে সাব্যস্ত হবে না। মতভেদের দায়মুক্ত যে কোন সাহাবার (রা.) অনুসরন ইসলামে সঠিক সাব্যস্ত হবে। সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াত সাহাবার (রা.) অনুসরণে মতভেদের দায়মুক্তির শর্ত যোগ করেছে। সুতরাং এটি অস্বীকার করার কোন সুযোগ নাই।
সহিহ আল বোখারী, ৩৩৮৫ নং হাদিসের (আম্বিয়া কিরাম অধ্যায়) অনুবাদ-
হযরত এমরান ইবনে হুছাইন (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যামানা। অতঃপর তার পরবর্তী যামানা। অতঃপর তার পরবর্তী যামানা।এমরান বলেন রাছুলুল্লাহ (সা.) তাঁর যামানার পর দু’ যামানার উল্লেখ করেছেন, না তিন যামানার উল্লেখ করেছেন ত’ আমার সঠিকভাবে মনে নেই।এরপর তোমাদের পর এমন কিছু লোকের আবির্ভাব যারা সাক্ষ্য দান করবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। তারা বিশ্বাস ঘাতকতা করবে। সুতরাং তাদেরকে কখনও বিশ্বাস করা যাবে না। তারা খুবই মোটা সোটা ও হৃষ্টপুষ্ট দেহের অধিকারী হবে।
সহিহ আল বোখারী, ৩৩৮৬ নং হাদিসের (আম্বিয়া কিরাম অধ্যায়) অনুবাদ-
৩৩৮৬। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত।রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম সময হলো আমার সময়। অতঃপর তৎপরবর্তীদের সময়। অতঃপর তৎপরবর্তীদের সময়। তারপর এমন একদল লোকের উদ্ভব ঘটবে যাদের কেউ শপথ করার পূর্বে সাক্ষ্য দিবে এবং সাক্ষ্য দিবার পূর্বে শপথ করবে। ইব্রহীম নখয়ী (র.) বলেন, আমাদের মুরুব্বঈরা আমাদেরকে সাক্ষ্য দিবার জন্য ও ওয়াদা করার জন্য প্রহার করতেন। তখন আমরা ছোট ছিলাম।
সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৯৫০ নং হাদিসের (ফিতনা অধ্যায়) অনুবাদ-
৩৯৫০। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.)বলতে শুনেছি আমার উম্মত পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না। যখন তোমরা উম্মতের মাঝে মতপার্থক্য দেখতে পাবে, তখন সর্ববৃহৎ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
* তাবেঈ ও তাবে তাবেঈগণের সর্ববৃহৎ দলের মত ইসলামে সঠিক সাব্যস্ত হবে। সুতরাং যারা তাঁদের সাথে মতভেদ করেছে সেইসব তাবেঈ ও তাবে তাবেঈ মতভেদের দায় মুক্ত নন। এমন তাবেঈ ও তাবে তাবেঈর অনুসরন ইসলামে বাতিল সাব্যস্ত হবে।
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।
সূরাঃ ২৯ আনকাবুত, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩।এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করে থাকি, যেগুলো কেবল আলেমরাই বুঝে থাকে।
সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৯৫০ নং হাদিসের (ফিতনা অধ্যায়) অনুবাদ-
৩৯৫০। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.)বলতে শুনেছি আমার উম্মত পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না। যখন তোমরা উম্মতের মাঝে মতপার্থক্য দেখতে পাবে, তখন সর্ববৃহৎ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
* আলেমগণের সর্ববৃহৎ দল সঠিক সাব্যস্ত। সুতরাং তাঁদের সাথে মতভেদকারী সুফী, আলেম ও স্কলার সঠিক নয়। সুতরাং আলেমগণের সর্ববৃহৎ দলের সাথে মতভেদ কারী সুফী, আলেম ও স্কলার মতভেদের দায়মুক্ত নয় বিধায় ইসলামে তাদের অনুসরন সঠিক নয়। কারা আলেম?
সূরাঃ ২১ আম্বিয়া, ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭। তোমার পূর্বে আমি ওহীসহ পুরুষ পাঠিয়েছিলাম; তোমরা না জানলে আহলে যিকরকে জিজ্ঞাসা কর।
সূরাঃ ১৬ নাহল, ৪৩ ও ৪৪ নং আয়তের অনুবাদ-
৪৩।তোমার পূর্বে আমরা পুরুষ ভিন্ন (বার্তা বাহক) প্রেরণ করিনি। আমরা তাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছিলাম।অতএব আহলে যিকরকে জিজ্ঞাস কর, যদি তোমরা না জান।
৪৪।সুস্পষ্ট প্রমাণ ও কিতাব সমূহ সহ।আর মানুষকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা, সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা আপনার প্রতি নাজিল করেছি যিকর। যেন তারা চিন্তা ভাবনা করতে পারে।
* আলেম হলেন আহলে যিকর। কারা আহলে যিকর?
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৯ নং আয়াতের অনুবাদ।
৯। হে মুমিনগণ! জুমুয়ার দিন যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝ।
সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৭। আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, তারা শপথ করেই বলবে তারা ভাল কিছু করার জন্যই ওটা করেছে; আর আল্লাহ সাক্ষি দিচ্ছেন নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।
সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৯৫০ নং হাদিসের (ফিতনা অধ্যায়) অনুবাদ-
৩৯৫০। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.)বলতে শুনেছি আমার উম্মত পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না। যখন তোমরা উম্মতের মাঝে মতপার্থক্য দেখতে পাবে, তখন সর্ববৃহৎ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
* যাদের দায়িত্বে সম্পন্ন যিকিরে সামিল হতে আল্লাহ দৌড়ে যেতে আদেশ করেছেন সেই সেই জুমুয়ার খতিবগণের সর্ববৃহৎ দল আহলে যিকর। কারণ মুসলিমদের মাঝে বিভেদ তৈরী করতে যেসব মসজিদ তৈরী করা হয়েছে সেসব মসজিদের জুমুয়ার খতিব আহলে যিকর নয়। সুতরাং জুমুয়ার খতিবগণের সর্ববৃহৎ দলের সাথে মতভেদকারী জুমুয়ার খতিব আহলে যিকর নয়। জুময়ার খতিবগণের সর্ববৃহৎ দল আলেম হওয়ার কারণ হলো আলেম দেখেই জুমুয়ার খতিব নিয়োগ করা হয়। সুতরাং তাঁদের সাথে মতভেদ কারী মতভেদের দায়মুক্ত নয় বিধায়। তাদের সাথে মতভেদকারী সুফী, আলেম ও স্কলার ইসলামে অনুসরনীয় নয়। জালাল উদ্দীন রুমী আলেমগণের সর্ববৃহৎ সাথে মতভেদে লিপ্ত হওয়ায় তিনি ইসলামে অনুসরনীয় বিবেচিত হবেন না।
ইসলামে যারা অনুসরনীয় নয় তাদের অনুসরন থেকে বিরত থেকে ইসলামে যাঁরা অনুসরনীয় তাঁদের অনুসরন করলেই মুসলিম ইসলামের সিরাতাম মুসতাকিম বা ইসলামের সঠিক পথে থাকবে। আর যারা মোটে ইসলামে অনুসরনীয় নয় তাদের রেফারেন্স টেনে ইসলামের সমালোচনা করা সঠিক নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৭:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



