somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোথায়, কখন, কিভাবে ইসলাম কায়েম করবেন?

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে একশত জন থাকলে এক হাজার কাফিরের উপর জয়ী হবে।কারণ তারা বোধশক্তিহীন সম্প্রদায়।
৬৬। আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন।তিনিতো অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দূর্বলতা আছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশত জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজন উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা দুই হাজারের উপর বিজয়ী হবে।আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী প্রস্তত রাখবে। এর দ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত রাখবে আল্লাহর শত্রুকে, তোমাদের শত্রুকে, এছাড়া অন্যদেরকে যাদের সম্পর্কে তোমরা জাননা, আল্লাহ জানেন।আল্লাহর পথে তোমরা যা ব্যয় করবে এর পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৯। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের (সত্যবাদী) সাথে থাক।

* নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে কোন এলাকার মসজিদ সমূহে অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা করে সেই এলাকার এক তৃতীয়াংশ নাগরিক ধৈর্যশীল ইসলামী অনুশাসন পালনকারী বানিয়ে যখন সেই এলাকার অন্য দুই তৃতীয়াংশ অন্য নাগরিক ইসলামী অনুশাসন পালনকারীগণের ইব্রাহীম (আ.) বংশীয় নেতার অবাধ্যতায় সন্ত্রস্ত থাকলে তখন সেই এলাকা শাসন করার জন্য একটা সনদ তৈরী করে সেই সনদে সেই এলাকায় বসবাসকারী পক্ষ সমূহের সম্মতি গ্রহণ করে সেই এলাকায় ইসলাম কায়েম করতে হবে। উপরোক্ত পরিস্থিতি ব্যতীত কোন পক্ষ কোন এলাকায় ইসলাম কায়েমের কথা বললে তাদেরকে মিথ্যাবাদী জেনে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।

ইব্রাহীম (আ.) বংশীয় মহানবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) উপরোক্ত পদ্ধতিতে মদীনায় ইসলাম কায়েম করেছেন। তাঁর নাতি হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ইয়াজিদী খেলাফতে উক্ত পদ্ধতি অনুসরন না করে ইসলাম কায়েম করতে গেলে ইয়াজিদের লোকেরা তাঁর মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়। ইমাম হোসেন (রা.) বংশীয় ফাইজুল করীম শায়েখে চরমোনাই (র.) বরিশালে শেখ হাসিনার শাসনে নিজ শাসন কায়েম করতে গেলে শেখ হাসিনার পক্ষের লোকদের থেকে ঘুষি প্রাপ্ত হন। শেখ হাসিনা দেশছেড়ে চলেগেলে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম করার কথা বলে কি প্রাপ্ত হন সেটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। তবে এ বিষয়ে এখনো ইতিবাচক কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। তিনি সমগ্র বাংলাদেশের মসজিদ সমূহে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা না করে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ নাগরিক ধৈর্যশীল ইসলামী অনুশাসন পালনকারী না বানিয়ে ইসলাম কায়েম করার কথা বলায় তাঁকে মিথ্যাবাদী নয় মনে করার সংগত কোন কারণ নাই।

মক্কার এক তৃতীয়াংশ নাগরিক ধৈর্যশীল ইসলামী অনুশাসন পালনকারী না বানিয়ে রাসূলের (সা.) ভায়রাপুত্র হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) মক্কায় ইসলাম কায়েম করলে আব্দুল মালেকের পক্ষের সেনাদল তাঁকে হত্যা করে মক্কার রাজপথে তাঁর লাশ ঝুলিয়ে রাখে। কিন্তু আবুল আব্বাস আসসাফফাহ তাঁর অনুগত ধৈর্যশীল বিরাট সেনাদল গঠন করে মারওয়ার বংশীয় বাদশাহকে হত্যা করে তাঁর শাসন কায়েম করে। যা সাড়ে সাতশত বছর স্থায়ী ছিল। তাদের শত্রুরা তাদের ভয়ে সন্ত্রস্ত না হওয়ায় তারা আব্বাসীয়দের থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নেয়। তাদের শত্রু অমুসলিম পক্ষ তাদের উপর ক্ষমতাশালী হওয়ায় মুসলিম পক্ষ তাদের তাবেদারে পরিণত হয়েছে। তাদের একপক্ষ স্বল্পকাল পূর্বে গাজা ধ্বংস করেছে।এখন তারা ইরান ধ্বংসের সুযোগ খুঁজছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৯
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সক্কাল বেলা একটা জোক্সস শোনাই

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৬


বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার আমলে যতটা নিকৃষ্ট ভাবে ভোট চুরি হয়েছে আর কারো আমলে হয় নি। এমন কি এরশাদের আমলেও না। ...বাকিটুকু পড়ুন

গো ফুলের নিয়ামত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এখন নাকি বিবেক বুদ্ধির জন্ম হচ্ছে-
ঘুরপাক বুড়োরা মৃত্যুর কুলে দুল খাচ্ছে;
রঙিন খাট পালঙ্কে- মাটিতে পা হাঁটছে না
শূন্য আকাশে পাখি উড়ু উড়ু গো ফুলের গন্ধ
উঠান বুঠানে বিবেক বুদ্ধির বাগান... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

=দাও হেদায়েত ও আল্লাহ=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৫


পাপ মার্জনা করো মাবুদ,
দয়া করো আমায়,
না যেন আর মোহ আমায়
মধ্যিপথে থামায়!

শুদ্ধতা দাও মনের মাঝে
ডাকি মাবুদ তোমায়
দিবানিশি আছি পড়ে
ধরার সুখের কোমায়!

হিংসা মনের দূর করে দাও
কমাও মনের অহম ,
ঈর্ষা হতে বাঁচাও আমায়
করো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×