
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।
সূরাঃ ৫৩ নাজম, ৩ নং ও ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। আর সে মনগড়া কথা বলে না।
৪। এটাতো ওহি যা তার প্রতি ওহি হিসেবেই পাঠানো হয়।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৬৮। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সেজন্য তোমরা মহাশাস্তিতে আক্রান্ত হতে।
৬৯। যুদ্ধে যা লাভ করেছ তা’ বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর। আর আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।
* ওহী অনুযায়ী আবশ্যিকভাবে রাসূল (সা.) যেসব কাজ কাজ করতেন সেসব কাজে আল্লাহর সুন্নতই রাসূলের (সা.) সুন্নাত ছিল এবং তা’ শতভাগ সঠিক ছিল। কিন্তু ওহী অনুযায়ী ঐচ্ছিকভাবে রাসূল (সা.) যেসব কাজ কাজ করতেন সেসব কাজে কোন কোন সময় রাসূলের (সা.) সুন্নাত আল্লাহর সুন্নাত ছিল না এবং তা’ সঠিক ছিল না। বদর বন্দীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর সুন্নাত ছিল তাদেরকে হত্যা করা, কিন্তু ওহী অনুযায়ী তাদেরকে হত্যাকরা বা ছেড়ে দেওয়া রাসূলের (সা.) জন্য ঐচ্ছিক বিষয় ছিল। এ ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন যা সঠিক ছিল না বলে আল্লাহ জানিয়েছেন। ঐচ্ছিক বিষয়ে বেঠিক কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর পূর্ব বিধান ক্ষমা। আল্লাহর এ পূর্ব বিধান লংঘন করে রাসূল (সা.) ও সাহাবার দোষধরা কুফুরী। এ কুফুরী করে শিয়া, ইবাদী ও সালাফী। সাহাবার (রা.) দোষ সাহাবা ধরার ক্ষেত্রে আল্লাহর পূর্ব বিধান সাহাবার (রা.) জন্য ক্ষমা। অসহাবার জন্য এটা কুফুরী। এটা শিয়া, ইবাদী ও সালাফী না বুঝে এমনকাজে যুক্ত হয়ে কাফের হয়ে যায়।নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ থেকে বেরিয়ে হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়া (রা.) পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়েছেন এবং পরস্পরের প্রতি লানত দিয়েছেন। আল্লাহর পূর্ব বিধান তাঁদের প্রতি ক্ষমা। কিন্তু অসাহাবা যারা তাঁদের দোষ ধরেছে তাদের সবাই কাফের ও জাহান্নামী। হযরত ওসমানের (রা.) হত্যাকান্ডে যুক্ত পাঁচ হাজার লোকের সবাই কাফের ও জাহান্নামী ছিল। হযরত আলী (রা.) এ কাফেরদের মাওলা হয়েছিলেন এবং দুই দল সাহাবা (রা.) এ বিষয়ে তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন। তাঁদের এসব কাজ আল্লাহর সুন্নাত ছিল না বলে এসব কাজে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে আল্লাহ বিরত ছিলেন। তবে আল্লাহর পূর্ব বিধান তাঁদের প্রতি ক্ষমা। সেজন্য এসব বিষয়ে আর একচুল সামনে অগ্রসর হওয়া অসাহাবার জন্য কুফুরী।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
সূরাঃ ৬ আনআম, আয়াত নং ১৫৯ এর অনুবাদ-
১৫৯। যারা দ্বীন সম্বন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন শিয়ায় (দল) বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়। তাদের ব্যবস্থ্যা করার দায়িত্ব আল্লাহর।আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।
* হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা রাসূলের (সা.) জন্য ঐচ্ছিক বিষয় ছিল। কিন্তু চল্লিশ বছরের কমে মাওলা বানানো আল্লাহর সুন্নাতের বাইরের কাজ ছিল। কারণ আল্লাহর সকল মাওলা চল্লিশ বছরের ছিলেন। হযরত ঈসার (আ.) বয়স চল্লিশের কম থাকলেও আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। তিনি আল্লাহর ওলীর দায়িত্ব পালনে আবার আসবেন তবে এসময় তিনি আর নবী থাকবেন না। এসময় তিনি ওলী হিসাবে কাজ করবেন। তারমানে নবি কোন ক্ষেত্রে চল্লিশের কমে হলেও ওলী হওয়া চল্লিশের কমে কোন ক্ষেত্রেই সঠিক নয়। সেজন্য রাসূল (সা.) যাঁদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দিয়েছেন তাঁদের কতিপয় ছাড়া অন্যরা তাঁকে ওলী মানেননি। কারণ তাঁরা রাসলকেই (সা.) তাঁদের ওলী মেনেছেন। হযরত আলীকে (রা.) ওলী না মানায় আল্লাহর পূর্ব বিধান সাহাবার (রা.) প্রতি ক্ষমা। এ বিষয়ে অসাহাবার সাহাবার দোষ ধরা কুফুরী। হযরত আলী (রা.) আল্লাহর সুন্নাতে মাওলা না হওয়ায় আল্লাহ তাঁকে মানুষ হতে রক্ষা করেননি। এ বিষয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে বিভিন্ন শিয়ায় বিভক্ত হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে হত্যার ব্যবস্থা করেন। এ বিষয়ে হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইতও রক্ষা পাচ্ছে না। এ ধারাবাহিকতায় ইদানিং আলী খামেনী নিহত হয়েছে। শিয়ারা সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) অভিশাপ দিতে গিয়ে নিজেরা অভিশপ্ত ও জাহান্নামী হয়।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।
* মুমিনগণ হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও অন্যান্য সাহাবা বিষয়ে অশোভন আচরণে সম্মত নয়। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও অন্যান্য সাহাবা বিষয়ে অশোভন আচরণ করে শিয়া, ইবাদী ও সালাফী কাফের হয়ে জাহান্নামী হয়ে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

