চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড। রাত ১১ টা। ইভিনিং এ ১২ বছর বয়সের মেয়ে ভর্তি হয়েছে। ইন্টেস্টিনাল টিবি’র কেস। বাচ্চাটা থেকে থেকেই চিৎকার করছে, আংকেল আমার ব্যাথাটা কমিয়ে দেন। টিবির কারনে খাদ্যনালীর কিছু যায়গা চিকন হয়ে গেছে (ইন্টেস্টিনাল স্ট্রিকচার)। যখনই পেরিস্টলসিস হচ্ছে বাচ্চার চিকন হয়ে যাওয়া নাড়ির অংশে প্রবল ব্যাথা তৈরি করছে। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা ছাড়া এটা কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেই। যতক্ষণ না অপারেশন করা যাচ্ছে পেইন কিলার দিয়ে ব্যাথা কমানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে বাচ্চার সিভিয়ার এনিমিয়া। হেমোগ্লোবিন লেভেল ৬। স্যার ব্লাড ট্রান্সফিউশনের অর্ডার দিয়ে গেছেন। উল্লেখ্য এটা ছিল এডমিশন নাইট এবং পুরা ওয়ার্ডে ডাক্তার বলতে আমি একা। একের পর এক রোগী আসছে। এদের রিসিভ করতে হিমশিম খাচ্ছি। স্যার বলেছিলেন ফ্রেস ব্লাড দিতে। বি + ব্লাড গ্রুপ। বাচ্চার মা বলছিলেন চিটাগাং এ আমার জানাশোনা কেউ নেই। তাই মা নিজেই ব্লাড দিচ্ছেন। রাত ১২ টার দিকে নার্স খবর দিল ব্লাড রিএকশন হচ্ছে। সি এ কে কল দিলাম। উনি বললেন ব্লাড খুলে দিয়ে আবার এক ঘন্টা পর চেষ্টা কর। এদিকে বারান্দা, ওয়ার্ডের মেঝে কোথাও যায়গা খালি নেই। এতগুলা রোগীকে আমি একা ম্যানেজ করছি। রাত তিনটা। হঠাত খেয়াল হল, আমি তো বেমালুম ভুলে গেছি বাচ্চার ব্লাড আবার লাগিয়ে দিতে। তো সিএকে আবারও কল দিলাম। উনি বললেন এই ব্লাড আর দেয়া যাবে না। তুমি আরেক ব্যাগ ব্লাড যোগাড় করতে বল। মা কে বললাম এই ব্লাড দেয়া ঠিক হবে না। উনি কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করলেন, চিটাগাংএ আমার জানাশোনা কেউ নেই। তাই নিজেই রক্ত দিয়েছি। আপনি আমার এই রক্তটাও নষ্ট করে ফেললেন? তাঁকে আস্বস্ত করলাম, ফ্রেস ব্লাড যোগাড় হবে। ব্লাড ব্যাংকে চলে গেলাম। আমার রক্ত দিয়ে এলাম এবং ক্রসম্যাচ করতে বললাম। যদি না মেলে এই ব্লাড অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েন। যাই হোক ব্লাড মিলে গেল। রক্ত লাগিয়ে দেয়া হল। রোগীর মা বলল স্যার এই পানি আর জ্যুসটা এনেছি। আপনি খান প্লীজ! পরদিন ইভিনিং ডিউটিতে গিয়ে দেখলাম বাচ্চাটা নেই। নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম বাচ্চা মেয়েটা কোথায়? নার্স বলল ওরা চলে গেছে স্যার।
এক টুকরা স্মৃতি!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ধূসর ওয়ালেট
একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।