মহান আল্লাহ নারী-পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়ে। নারীদের শারীরিক গঠন ও গড়ন যেমন লক্ষণীয় তেমনি পুরুষদের ক্ষেত্রেও তাই। দাড়ি হচ্ছে সেসব লক্ষণের সুস্পষ্ট একটি। কোন পুরুষের যদি দাড়ি না উঠে তাহলে সে নপুংসক বলে গণ্য হয়। কত অপমান যে তাকে সইতে হয়! দাড়ি বিহীন হেতু পৌরষ ভাব না থাকলে কোন মেয়েইবা বিয়ে করতে চাইবে তাকে? তার মানে ক্ষেত্রবিশেষে দাড়িটা পুরুষের জন্য আশীর্বাদ। আমরা চুল রাখি সৌ...ন্দর্য্যের জন্য; তেমনি দাড়ি আমাদের সৌন্দর্য্যকে আরো বাড়িয়ে দেয়। তবে চুল, দাড়ি পরিস্কারে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। মুহাম্মাদ *সঃ বলেছেন আমরা যাতে মোছ ছোট করি আর দাড়ি ছেড়ে দেই (লম্বা করি)। যারা নিয়মিত নামায পড়ে তাদের পাঁচবার *ওযু করার কারণে চুল, দাড়ি পাঁচবার ধোয়া-মোছা হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, 'আমরা কেন দাড়ি রাখব?'
সোজা কথায়, আমাদের প্রিয় নেতা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দাড়ি রাখতেন, তাই আমিও দাড়ি রাখি। পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল এসেছেন সবাই দাড়ি রেখেছেন। তাদের সবাইকে মানুষের নেতা হিসেবে পাঠিয়েছেন আমরা যাতে তাদের অনুসরণ করি। দাড়ি রাখা ফরজ, না ওয়াজি্ব, না সুন্নত- এত কিছু খোঁজার ফুরসত নেই। আল্লাহ এটাকে আমাদের শরীরের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে দিয়েছেন। নয়তো কোটি টাকা খরচ করলেও এভাবে দাড়ি উঠানো যেতনা। নবী রাখতেন, ব্যস! নবীর ভালোবাসায় আমিও রাখব। যারা রোনালদোকে ভালোবাসে তারা রোনালদোর স্টাইল খুঁজে। যারা শাহরুখ খানকে ভালোবাসে তারা তার স্টাইল খুঁজে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল সালমান খানের ভালোবাসায় ছিড়া প্যান্ট পড়লেও সেটা স্মার্টনেস। হজ্জ এর জন্য মাথা মুন্ডন করলে কিংবা নবীর সুন্নত মনে করে মাথা মুন্ডন করাটা স্বাভাবিক। যেমনিভাবে বিশ্বকাপ এলে সেলিব্রেটিদের দেখাদেখি মাথা মুন্ডন করলে কোন সমস্যা নেই, সেটা বরং স্মার্টনেস হয়ে দাঁড়ায়।
ক্বিয়ামতের ময়দানে কিছু মানুষ আফসোস করবে যে, হায় আমি যদি নবীর পথ, নবীর সুন্নত অনুসরণ করতাম! নবীর সুন্নত তো পালন করি না আবার যে পালন করে তার সাথেও হাসি ঠাট্টা করি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। সঠিক বুঝ দিন। একটা সময় আসবে তখন নিজ চিন্তায় কেউ আল্লাহ এবং রাসুলের মত আপন হতে চাইবে না। বরং কিছু দেওয়ার ভয়ে লুকাবে। নিজের বাবা-মা ও ক্বিয়ামতের ময়দানে আমাদের কোন সাহায্যে এগিয়ে আসবে না একমাত্র আল্লাহ এবং তার রাসুল ছাড়া। আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, "হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।" (সুরা লুকমান - ৩৩)
আমাদের নবী বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে প্রকৃত মুমিন (আল্লাহ বিশ্বাসী) নয় যে আমাকে তার বাবা-মা, ভাই-বোনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারেনি'। আমরা কি প্রকৃত মুমিন হতে চেষ্টা করতে পারি?
মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে রাখুন, আমীন!
ধন্যবাদ!
*ওযু = মুখমন্ডল পুরোপুরি ধোয়া, দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়া, মাথা মসেহ করা, দুই পা গোড়ালি পর্যন্ত ধোয়া ফরয। তবে তিনবার করে ধোয়া সুন্নত।
*সঃ = নবী, রাসূল, মুহাম্মদ পড়ার পর অবশ্যই 'সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম' পড়ে নিবেন। এটাকে সংক্ষেপে 'সঃ' লিখা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


