somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উত্তরাধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য : একটা মনোজ্ঞ বিতর্কালোচনা পরিমার্জিত/রিপোস্টেড

২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উত্তরাধুনিক কবিতার দুর্বোধ্যতা বা অবোধ্যতা নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনা-সমালোচনা ৭১ পরবর্তী সময় থেকে তুঙ্গে। কঠোর সমালোচনার মুখে কোনও কবিই থেমে নেই কলম গুটিয়ে। বরঞ্চ এই আলোচনা যতো জমজমাট হয়, ফলশ্রুত কবিতা যেন আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অপর বাংলার কবিরাও এই বিতর্ক থেকে নিজেদের নিষ্ক্রিয় রাখেননি। সম্প্রতি উত্তরাধুনিক কবিতাকে অবশ্য তাঁরা 'নতুন কবিতা' হিসেবে নামকরণ করেছেন।
কবিতা ধারার নামকরণ যাই হোক না কেন, এই কবিতার বৈশিষ্ট্য কী হওয়া উচিত, এগুলো কবিতাপাঠকের কতোটুকু তৃপ্তি মেটাতে সক্ষম, সব কবিই কি এই ধারার পক্ষপাতী... এই নিয়ে অন্য একটি ওয়েবসাইটে কিছুদিন আগে একটা মনোজ্ঞ আলোচনা প্রত্যক্ষ করেছি। কবিতাপিপাসুদের কাছে ভালো লাগতে পারে বলে তা এখানে তুলে ধরলাম (আজকে অবশ্য পরিমার্জিতাকারে এই ব্লগে রিপোস্ট করা হলো- ২০ অক্টোবর ২০০৯)। এখানে অনেক কবি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, তাই সবাইকে চিনবার উপায় নেই।

নীল :

নেহাত ই কবিতা প্রসঙ্গে বলা, ধরা যাক এই কথা গুলি আমাকে বা আপনাকে কেউ কথা প্রসঙ্গে বলে গেল... তার প্রতিক্রিয়া কী হবে...জানতে ইচ্ছা করে...

যাঁরা কবিতাকে নতুন আকার দেবার প্রচেষ্টায় ব্রতী, তাদের কাছেও আমার একই প্রশ্ন। তাহলে কি কবিতার ভাষা কথার ভাষার থেকে, বা তার সরল বোধ্যতা থেকে আলাদা হবে......
তাহলে কি প্রতিটা শব্দ একই সাথে একাধিক অর্থ বহন করবে পাঠক অন্তরে, তাতেই কবিতার সার্থকতা?
এমনতরো বহু প্রশ্ন পাক খায় মনে, আলোচনার ফলাফল দেখে ভয়ে আর আলোচনা করতে পারি না.........


সোনাবীজ :

নীলকে : কবিতা আর যাই হোক কুইজ বা ধাঁধা নয়।

রুণা :

ঠিক কি যে চাই বুঝে পাই না... তুমি টাকে খুঁজতে খুঁজতে চলন... চাইতে চাইতে চলন যখন আর দিশা খুঁজে পায় না তখন শেষটায় এসে প্রথমের ওই চাওয়াটাকে অস্বীকার করতে চাইছি... খেরোখাতায় হিসেব নিকেশগুলো মিলিয়ে নিতে গিয়ে দেখি আসলে বোধহয় তুমি বলে কেউ নেই, তাই তোমাকে চাওয়ার কোনো scene ই নেই...

নীল ভাই, আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেবার মত ক্ষমতা আমার সত্যিই নেই । তবু আজ যতটুকু বুঝি বা বুঝতে চাইছি তা থেকেই উত্তর দেবার চেষ্টা করছি...ভুল ভ্রান্তিগুলো আপনাদের কাছেই মেরামত করে নেবার আগ্রহ নিয়ে...

প্রতিটি শব্দ একই সঙ্গে একাধিক অর্থ বহন করবে এমনটাই মনে হয় । আসলে শব্দের কোনো অর্থ হয় না । সে একটা প্রতীক মাত্র । যাকে বারীন ঘোষাল বলেন একটা সংযোগ সম্ভব চিহ্ন । অর্থ খুঁজতে গেলে আরো একটা শব্দ বেরোয় যা ভাবের কাছাকাছি । আর সার্থকতা বলতে যদি ভালো লাগা বোঝায় তবে পাঠকের মনে যতক্ষণ না চিত্রটা স্থিরভাবে গড়ে উঠছে ততক্ষণ চেনা অচেনায় রহস্যময়তায় ভালোলাগা চলতে থাকে...তার মানে কখনই ওই প্রতিফলনটা বা রেফারেবল চিত্রটা নিশ্চিতভাবে একটাই নয়। যত পাঠক তত বিভিন্ন তার রূপ... শব্দের যে উত্স সেই ধ্বনির সংকেতময়তার সন্ধান , শব্দের এই শেকড় সন্ধানই বোধকরি নতুন কবিতার মোহ বা আনন্দ

ঝর্ণা :

কেন নেই রুণা... তুমি বলে কেউ নিশ্চয়ই আছে... সে আমাদের লেখার অবলম্বন ধরে নাও। বাস্তবে যাদের খুঁজতে যাওয়া বৃথা। তাই খেরোখাতার হিসাব নিকাশ জমুক। তবে একটাই অনুরোধ, আকাশকে অতীত করো না, ওখানেই যে স্বপ্নরা জমাট বাঁধে...


শালতি :

রূনা, এই আলোচনায় ঢুকি, সে সাহস বা যোগ্যতা কোনোটাই নেই। প্রাসঙ্গিক মনে হওয়াতে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কিছু লাইন তুলে দিলাম-

“আমার এক বন্ধুর ভাগ্নে ছিল আমার কবিতার ভক্ত। একদিন সে কথায় কথায় জিগ্যেস করল - আচ্ছা, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা তোমার কেমন লাগে?
ভালো, কিন্তু সব বুঝতে পারিনা। তুই বুঝিস?
নিশ্চয়। খুবই তো সহজ।
আমার এক কাছের লোককে এভাবে ভাঙিয়ে নেওয়ায় শক্তির ওপর আমার হিংসে হয়েছিল। একদিন দেখি, আমার নিজের ভাইপোকেও কবিতার ফুল শুঁকিয়ে শক্তি তার থলিতে পুরেছে।
ওরা দুজনের কেউই আজ নেই। বেঁচে থাকলে ওদেরটা শুনে হয়ত ওদের মতো করে শক্তির কবিতা বুঝে নিতে পারতাম।
ওরা বুঝেছিল। আমি বুঝিনি।
বোঝা বলতে কি তাহলে অর্থ করা নয়? মনে ধরা?
মন্ত্র থেকে কবিতার জন্ম। কথার জোরে মনস্কামনা পূর্ণ করা। ডাঙায় দাঁড়িয়ে তা হবার নয়। নিজেকে কথার স্রোতে ভাসিয়ে নিতে হবে।
শান্তিনিকেতনে যাওয়ার আগে শক্তি একদিন এসেছিল। আমার জন্মদিনে। ভারিক্কি গলায় বলেছিল, পড়াতে যাচ্ছি।
শুনে ওর ক্লাস করতে যেতে খুব ইচ্ছে হয়েছিল। কবিতা তো লেখা হয় শুনেছি ভাবের ঘোরের মধ্যে। পরে কি তার পুনরুদ্ধার সম্ভব? ডুবো জিনিস ভাসিয়ে তোলারই বা কী পথপ্রণালী?
সে পথে শক্তি কাঁটা দিয়ে গেছে”

“গোঁড়ার দিকে ওর কিছু কিছু শব্দ ব্যবহারে আমার খুঁতখুঁতানি ছিল। সাধুচলিত আর কাব্যিক শব্দপ্রয়োগের ক্ষেত্রে আমি ছিলাম উগ্রচন্ডী। সে তুলনায় শক্তি ছিল সেয়ানা। তাই অর্ধেক ছাড়তে দ্বিধা করেনি।
মেশাল দিলে তবেই লোহা ইস্পাত হয়। শক্তি সেটা জানত।
না শব্দ, না ছন্দ - কোনো কিছু দিয়েই তার কবিতা আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা নয়। তার জাফরি দিয়ে সমানে হাওয়া খেলে।”

“তবু নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে একটা কথা না বলে পারছি না। আমার গোড়ার কথার জের টেনেই বলি - বুঝতে গিয়ে ঠেকেছিলাম। অর্থের বোঝা ঘাড় থেকে নামিয়ে দিয়ে ঝাড়াহাতপা হয়ে কবে যে শক্তির সোনার তরীতে উঠে বসেছিলাম, আজ আর মনে নেই।
আমার কাছে পারানির কড়ি ছিল না। তবুও।”

কবিতা চলুক, সঙ্গে আলোচনাও। আমরা সমৃদ্ধ হই।

রুনা :

ঝরনা শীতল তোমার কথা শুনে কেমন যেন ভরসা হয়। আবার চলতে ইচ্ছে করে, খুঁজতে ইচ্ছে করে। মানুষ তো থেমে থাকতে পারে না, তাকে চলতেই হয়। শুধু পথে বিপথের টানাপোড়েন চলতে থাকে অলক্ষ্যে...

শালতি আপনার উদ্ধৃতি আবার সমৃদ্ধ করল , বা উসকে দিল বলা যায়... সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের এই লাইনগুলো আমারো খুব মনে ধরেছিল... বিশেষ করে "বোঝা বলতে কি তাহলে অর্থ করা নয়? মনে ধরা?" এই ব্যাপারটা...

সত্যি তো আমরা কি ঠিক বুঝতে চাই ? নাকি অনুভবে পেতে চাই ? সাজানো শব্দগুলোর অর্থ পরিষ্কার হয়ে গেলে বা একবার পাঠ করে যে অর্থ পাওয়া গেল প্রতিবার পাঠেই সেই একই অর্থ উঠে আসা , প্রত্যেক পাঠকের কাছে একই অর্থ নিয়ে হাজির হওয়া, এইগুলোতেই কি কবিতা সার্থক হয়ে ওঠে ?

কী জানি , মনে হাজারও প্রশ্ন ভীড় করে আসে , মাথার মধ্যে মিছিল আর আন্দোলন চলতেই থাকে...

শব্দগুলো যখন চলমান দৃশ্যের মধ্যে তার ব্যঞ্জনাকে যোগ করে চলে যায় তখন শব্দও তো মুছে যায়। শুধু থেকে যায় একটা অনুভব যা ট্রিগার করে আমাদের চেতনার কোনো একটা স্তরে। কেমন যেন একটা আকারহীন অবয়ব পায় যাকে ঠিক মত ব্যাখ্যা করতে পারি না...মনের মধ্যে চলে একটা ক্রিয়া বিক্রিয়া...

আপনার দেখে কবিতা বোঝা নিয়ে আমিও একটা উদ্ধৃতি দেবার লোভ সামলাতে পারছি না...

কবি বুদ্ধদেব বসুর ,
"কবিতা সম্পর্কে বোঝা কথাটাই অপ্রাসঙ্গিক, কবিতা আমরা বুঝি নে, কবিতা আমরা অনুভব করি। কবিতা আমাদের কিছু বোঝায় না, স্পর্শ করে, স্থাপন করে একটা সংযোগ"

শালতি :

শব্দ, তার অর্থ, ভাবনা নিয়ে আরো কিছু মণিমুক্তো যা আমার কৈশোর কে একদা আচ্ছন্ন করেছিল:


Helen Keller এর The Story of My Life থেকে কিছু লাইন :

"One day, while I was playing with my new doll, Miss Sullivan put my big rag doll into my lap also, spelled "d-o-l-l" and tried to make me understand that "d-o-l-l" applied to both. Earlier in the day we had had a tussle over the words "m-u-g" and "w-a-t-e-r." Miss Sullivan had tried to impress it upon me that "m-u-g" is mug and that "w-a-t-e-r" is water, but I persisted in confounding the two. In despair she had dropped the subject for the time, only to renew it at the first opportunity. I became impatient at her repeated attempts and, seizing the new doll, I dashed it upon the floor. I was keenly delighted when I felt the fragments of the broken doll at my feet. Neither sorrow nor regret followed my passionate outburst. I had not loved the doll. In the still, dark world in which I lived there was no strong sentiment of tenderness. I felt my teacher sweep the fragments to one side of the hearth, and I had a sense of satisfaction that the cause of my discomfort was removed. She brought me my hat, and I knew I was going out into the warm sunshine. This thought, if a wordless sensation may be called a thought, made me hop and skip with pleasure."

"We walked down the path to the well-house, attracted by the fragrance of the honeysuckle with which it was covered. Some one was drawing water and my teacher placed my hand under the spout. As the cool stream gushed over one hand she spelled into the other the word water, first slowly, then rapidly. I stood still, my whole attention fixed upon the motions of her fingers. Suddenly I felt a misty consciousness as of something forgotten–a thrill of returning thought; and somehow the mystery of language was revealed to me. I knew then that "w-a-t-e-r" meant the wonderful cool something that was flowing over my hand. That living word awakened my soul, gave it light, hope, joy, set it free! There were barriers still, it is true, but barriers that could in time be swept away."

"I left the well-house eager to learn. Everything had a name, and each name gave birth to a new thought. As we returned to the house every object which I touched seemed to quiver with life. That was because I saw everything with the strange, new sight that had come to me."

বুদ্ধ :

উপভোগ্য আলোচনা, কিছু প্রশ্ন জাগিয়ে তুলছে। রুণা বলেছেন, "প্রতিটি শব্দ একই সঙ্গে একাধিক অর্থ বহন করবে' এবং "আসলে শব্দের কোনো অর্থ হয় না'। উক্তি দুটি আপাতভাবে পরস্পরবিরোধী। নিঃসন্দেহে শব্দ প্রতীকমাত্র, কিন্তু কোন শব্দ কিসের প্রতীক তা সুনির্দিষ্ট আর এই সুনির্দিষ্ট হওয়াটাই যে কোন ভাষার ভিত্তি। ব্যবহারভেদে শব্দ বিভিন্ন অনুভূতি জাগিয়ে তুলতেই পারে, কিন্তু সেই অনুভূতিও একটা নির্দিষ্ট ডোমেনের মধ্যে। 'সংযোগ সম্ভব চিহ্ণ' ভীষণ ভারী একটা কথা, একে যদি সহজ ভাষায় এসোসিয়েশন মনে করি, তবে ব্যাপারটা ঘুরে ফিরে কিন্তু সেই একই জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় - শব্দ এসোসিয়েশন তৈরী করে কারণ শব্দের অর্থ আছে, প্রতীকটি সুনির্দিষ্ট।

প্রতীক প্রসঙ্গে আরও কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছে, যদিও অপ্রাসঙ্গিক, বর্ণও তো প্রতীক, ধ্বনির প্রতীক, একটি নির্দিষ্ট আকার একটি নির্দিষ্ট ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করবে এই এসাম্পশন যদি পিছলে যায় তবে লিখিত ভাব বিনিময় ক্যাওসে পরিণত হয়।

"Everything had a name, and each name gave birth to a new thought." এই সত্য বোধ হয় অস্বীকার করা যায় না গদ্য বা কবিতায় বা ভাষার কোন আঙ্গিকেই।

নীল :

ভারি প্রাণবন্ত এই আলাপচারিতা; কবিতা সত্যিই বোঝার কিছু নয়, অনুভবের তো বটে, এখানে যে যায়গায় এসে খটকা লাগে যা বোঝা যায় না, তা অনুভব করা যায় কি করে ? ধরা যাক বাংলা হরফে একটা ল্যাটিন কবিতা লেখা হল। ধ্বনি তো সেখানে ও সম্ভব, কিন্তু অনুভব ? বলতে চাইছি ধ্বনি যতোক্ষণ না একটা চিত্র তৈরী করছে (যা আমাদের মস্তিষ্কে পরিচিত) তা কি অনুভবের চৌহুদ্দি পার করতে পারে? এই বার বলা যেতে পারে, চিত্র তৈরী করতে পারা বা না পারা পাঠকের বিষয়, কবি তার দায় বইতে যাবেন কেন......এই খানেই কিন্তু আমার মনে হয়, কবির মুন্সিয়ানা। সামগ্রীক ভাবে (In total) কবি যে আলো আঁধারের মায়াজাল বিস্তার করলেন, তা আদৌ পাঠক কে (এখানে আমি শ্রেনী বিভাজনের পক্ষপাতি নই) কতটা ছুঁতে পারল তার উপর নির্ভর করবে ভাল কবিতা ও না ভাল কবিতা সেই পাঠকের কাছে, সে নতুন বা সনাতন যাই হোক না কেন।
আরো একটা কথা আমার খুব বেশী করে মনে হয়, যুক্তি তর্কে আলোচনায় আমরা প্রায়শই নানা উদ্ধৃতি স্মরণ করি; উদ্ধৃতি ও কিন্তু বিশেষ কাজের নয় তা যতক্ষণ না আমরা আত্মিকরন করছি । যিনি বলেছেন, তাঁর তদকালীন বোধ ও চেতনার থেকে বলেছেন, সেই চেতনা বড় জোর আমাদের ভাবনা কে উসকে দিতে পারে, কিন্তু বলেছেন বলেই তা আমার ক্ষেত্রেও গ্রাহ্য ও শাশ্বত ধরে নিতে হবে...পাঠক বা লেখক হিসাবে তাতে আপত্তি আছে ।
অনেক কথা বলে ফেললাম, মনের কথাও .........বিপরীত যুক্তি গুলি আরো আসুক......আমরা সমৃদ্ধ হই।

[sbসোনাবীজ :

বাহ্! এক্স নিহিলো নিহিল ফিল্ড.................খুব সুন্দর না কথাটা? এবার দয়া করে অনুভব করুন, আর লিস্টি করুন কী কী অনুভব করা গেলো। হা: হা: হা:

আমি বুঝি, যে ধ্বনি বা প্রতীকগুলো সম্মিলিতভাবে একটা বোধের জন্ম দেয়, তা থেকে একেক ব্যক্তির ভেতর একেক অনুভবের জন্ম হতে পারে, কিন্তু যা অর্থহীন বা নিরর্থক, পরস্পর সংযোগবিচ্ছন্ন, তা অন্য অর্থ বা অনুভব......কিছুই দেয় না। আমার উদ্ধৃত বাক্যটি তা দেয় কিনা দেখুন।

আমি নীলের সাথে একমত। আজ কিংবা আগামীর কোনও একদিন আমার এই কথাগুলো আমার অনুসারীরাও উদ্ধৃত করবেন, তাই বলে আমি কিংবা আমার অনুসারীদের এটা দাবি করার কোনও কারণ নেই যে আমার বস্তুটাই সর্বজনীন। এজন্য বারীণ ঘোষালের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তিনি যে ধারার কথা বলছেন, তা নামেমাত্রই একটা নতুন ধারা (যা নতুন কবিতা বলে এখন শুনছি), যে ধারা বাংলাদেশের কবিদের মধ্যেও দেখি (যাঁরা এটাকে উত্তরাধুনিক কবিতা বলে থাকেন)। নাম যাই হোক না কেন, আমি যা লিখলাম তা কবিতা হিসেবে উত্রাতে পারলো কিনা দেখার বিষয় তো আমি মনে করি সেটাই। যেটা লিখলাম, তার অন্তত একজন পাঠক তো থাকবেনই, তা হলো আমি নিজে, আরও থাকতে পারেন আমার পত্রিকার সম্পাদক (যাঁকে এটা ছাপতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে), আমার প্রুফরিডার, আমার স্ত্রী (তাঁর না পড়ে উপায় আছে?)। কিন্তু যতোই আমার বিস্তৃতি বাড়াতে চাই, আমাকে অপরাপর পাঠকের কথা তো ভাবতেই হবে.... বলবেন নিজের আনন্দে লিখছেন? তা ঠিক নয়, ঠিক হলে আপনার লিখা আমাদের নজরেই আসতো না।
অতএব, আমি মনে করি, আমি সম্পূর্ণ নতুন ধারার একটু কিছু প্রডিউস করে ফেলেছি, এসব নিয়ে লাফালাফি না করে গভীর মনে চিন্তা করা উচিত প্রসবিত বস্তুটা আসলে কী দাঁড়িয়েছে। মহাজটিল একটা কিছু বানিয়ে, যাঁর অনুভব বা অর্থ কিছুই না বুঝে তোষামোদকারীরা বাহ্বা বাহ্বা করে গলা ফাটিয়ে ফেলবেন, আমি তা সমর্থন করি না।
(আর আমিও নিশ্চিত, আমার অনুসারীরা একদিন হুবহু এ কথাগুলো কোট করবেন)।

ঝর্ণা :

একটা অফটপিক দিয়ে বলি...সেদিন Last Lea-এর প্রিমিয়ারে দেখলাম ঋতুপর্ণা অমিতাভ সম্বন্ধে বললেন, উনি বাংলা জানেন না ঠিকই, কিন্তু 'ভালো ছেলে' আর 'ছেলে ভালো'র পার্থ্যকাট বেশ বোঝেন...
কী অদ্ভুতভাবে ব্যাপারটা নারা দিল...শুধু শব্দগুলোর উলটপালট দেখলাম কেমন বদলে দিতে পারে সবকিছু...নতুন কবিতাও হয়তো তাই...
তবু কবিতা অনুভবে না ধ্বনিতে কথা উঠলে আমিও হাত মেলাবো অনুভবে...তবে এও বিশ্বাস করি নতুনে ভালোলাগার মাত্রাটাই আলাদা...তাকে শুধু উপলব্ধিই নয়....আরো অনেক কিছু... কবিতাকে লেখা হয় জানি, কিন্তু সময়বিশেষে কবিতাকে খেতেও হয় তার সম্পূর্ণ রস আস্বাদনের জন্য...তেমনি হয়তো নতুন কবিতার সার্থকতা....
এভাবেই তোমাদের কাছে শিখি... তোমাদের কথা পড়ি...আর পড়ে যখন বই তুলে নিই তখন অনেক সহজ হয়ে যায়....
শালতির সংযোজন ছুঁয়ে গেলো...water-এর ভিন্নমাত্রার প্রকাশ w-a-t-e-r e... সত্যিই ভাবালো...যেমন ভাবালো এই লাইনটিও....

"Everything had a name, and each name gave birth to a new thought".

রুনা :

Helen Keller এর গল্পটা সত্যি বড় ভালো লাগল... অনুভবই শেষ কথা বোধহয়... শালতি আপনার কাছে এই সব মণিমুক্তোগুলো কুড়িয়ে পেতে বড় ভালো লাগে... আমি কত কম জানি...কতকিছু জানার বাকি রয়ে গেছে...কত কম পড়াশোনা আমার... আপনার উদ্ধৃতিগুলো আমার ভান্ডার পূর্ণ করুক এই আশায় থাকব...
বুদ্ধ আপনার কথাগুলো খুব ভাবাচ্ছে... শব্দ যখন প্রতীক তখন তা নির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে...ঠিক ই তো... তবে কি কবি আক্ষরিক শব্দের প্রতীকী ব্যবহার থেকে উত্স ধ্বনিটিকে বের করে আনেন এবং আপন অভিজ্ঞতায় জারিত ধ্বনিসংকলন করে তার অনুভবের কাছাকাছি একটি কবিতালিপি তেরি করেন ? ... হয়ত...জানি না ...ভাবছি ... আপনার কথাগুলো...
নীল ভাই আপনার প্রশ্নগুলো খুব স্ট্রাইকিং ... মাথার মধ্যে কিছু ক্রিয়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে...ভাবছি কি হবে এর উত্তর... আমি আর একটু ভাবি... ইতিমধ্যে কেউ যদি উত্তর দেন তবে খুব ভালো হয়।

শালতি :

"আরো একটা কথা আমার খুব বেশী করে মনে হয়, যুক্তি তর্কে আলোচনায় আমরা প্রায়শই নানা উদ্ধৃতি স্মরণ করি; উদ্ধৃতি ও কিন্তু বিশেষ কাজের নয় তা যতক্ষণ না আমরা আত্মিকরন করছি । যিনি বলেছেন, তাঁর তদকালীন বোধ ও চেতনার থেকে বলেছেন, সেই চেতনা বড় জোর আমাদের ভাবনা কে উসকে দিতে পারে, কিন্তু বলেছেন বলেই তা আমার ক্ষেত্রেও গ্রাহ্য ও শাশ্বত ধরে নিতে হবে...পাঠক বা লেখক হিসাবে তাতে আপত্তি আছে ।"

একদম ঠিক বলেছেন এবং সেটা সবার ক্ষেত্রেই সমান। আমরা মূলত তাঁর বা তাঁদের কথাই কোট করি, যাঁর বা যাঁদের ভাবনাকে আমরা গুরুত্ব দি’। এক্ষেত্রে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গীকে ওই জন্যেই টেনে আনা। আর হেলেন কেলার যা লিখেছেন, আমার মনে হয়েছে, ওটা তাৎক্ষনিক নয়, শাশ্বত, অন্তত আমার কাছে। “গ্রাহ্য” ও “শাশ্বত” ব্যাপারটা উল্টো দিকেও একইরকম, তাই না? আর পাঠককে ছোঁয়া ব্যাপারটাও তার মানসিকতার উপর অনেকটা নির্ভরশীল বলেই মনে হয়। মানে, আমার ভালো লাগল বলেই সেটা ভাল, এমনটা নাও হতে পারে। এখানেও “গ্রাহ্য” ও “শাশ্বত” ব্যাপারটা পাঠক অনুযায়ী ঠিক হয়। যদিও জানি ব্যাপারটা বিপুল তর্ক সাপেক্ষ, তবে এটাও ঠিক, নতুনের নামে, যা খুশী খাওয়ানোটাও কোনো কাজের কথা নয়।

বাংলা হরফে লাটিন কবিতা এলে সেটা তো বাংলা বর্ণমালা জানা লাটিনভাষীর জন্য প্রযোজ্য। আমরা সেখানে কোথায়? একবার ভেবে দেখুন, বাংলা হরফে কোনো হিন্দীভাষী যদি নারকেল কে লেখেন, “নারিয়েল”, আমার/আপনার তো মনে হবেই, “না রিয়েল”, সত্য নয়। কী যে করি, সব দোষ অনুভূতির।

আলোচনা চলুক.....

মুনিম :

মাফ চাচ্ছি! আপনার অনেক কবিতা এই মঞ্চে পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। যদি সমুদ্রের তলানি তে পৌছতে পারিনাই তবে ভেসে ভেসে গেলেও একটা ভাল লাগা ভাব আসতো। কিন্তু এটা যেন শক্ত হাড্ডিতে শুধু কামড় পড়লো! এটা বোধহয় কিইউব ইজম টাইপের কিছু একটা হবে।

এই মঞ্চের সবাই সমান ভাবে কবিতা অনুধাবন করেন না, তাতো জানা কথা, তথাপি মাঝে মধ্যে কোন কোন কবিতা, সব ধরনের পাঠক হয়।(যদিও ১০০ভাগ নয়) যেমন অনেক দিন বরতির পর আমাদের প্রিয় কবি সীমার পর পর ৩টি কবিতা পেয়েছি কিন্তু মধ্যের কবিতাটি যে ভাবে প্রায় সকলেরই প্রশংসা পেয়েছিল অন্য ২টি সে ভাবে পায় নাই। আমি বলছি না যে ঐ ২টিতে কাব্য গুণ নেই! আমি বলতে চাচ্ছি অধিকাংশ পাঠকের একটা এভারেজ মান দণ্ড পাওয়া যায়, ঐ মধ্যের কবিতা দিয়ে।

এখানে যারা বলেন কবিতা বুঝার নয় অনুভবের বিষয়, কিন্তু বুঝা ও অনুভবের মধ্যে ব্যাকরণ গত ব্যবধান আছে কি? হয়তো অনুমান হয়তো স্পর্শ, এটা হতে পারে! যা হোক ইদানিং ভালই লাগছে কবিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার জন্য, আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আলোচকদের কে এক গুচ্ছ হাস্নাহেনার সুবাসিত শুভেচ্ছা।

ভূতুম :

কবিতার নাম দেখে আগ্রহ জন্মেছিল। আগ্রহ জন্মেছিল কবির নাম দেখেও। ভেবেছিলাম পঞ্চেদ্রিয় গ্রাহ্য টোটাল কবিতা পাবো। হতাশ হয়েছি। এই লেখা আমাকে কিছু বোঝায়নি,আমাকে স্পর্শ করেনি, কোনো সংযোগও স্থাপন করেনি।
আলোচনাগুলি অত্যন্ত মনোগ্রাহী। আলোচনার শেষের দিকে মনে হল কবি খানিক বিভ্রান্ত। কিংবা বিভ্রান্তি আমারই। আমি সাধারণ গোলা পাঠক। ভাষাতত্ত্ব বুঝিনা, সাহিত্যতত্ত্ব বুঝিনা। কবিতা পড়ে আনন্দবেদনায় দুলতে চাই শুধু।

''তবে কি কবি আক্ষরিক শব্দের প্রতীকী ব্যবহার থেকে উত্স ধ্বনিটিকে বের করে আনেন এবং আপন অভিজ্ঞতায় জারিত ধ্বনিসংকলন করে তার অনুভবের কাছাকাছি একটি কবিতালিপি তেরি করেন ''

উদ্ধৃত অংশটি আমার মনে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যে প্রশ্নের উত্তর না পেলে আমি কবির ভাবনার অংশীদার হতে পারছিনা। কবির সাহায্য চাইছি।

১। 'আক্ষরিক শব্দের প্রতীকী ব্যবহার' মানেই কি শব্দের অর্থ?
২।উৎসধ্বনি কী?
৩।প্রতীকী ব্যবহার থেকে কীভাবে উৎসধ্বনি কে বার করে আনা যায়?(উদাহরণ থাকলে আমার বুঝতে সুবিধা হবে)
৪। ধ্বনিসংকলন কী? কীভাবে তা করা যায়?(এক্ষেত্রেও উদাহরণ প্রয়োজন)
৫।কবিতালিপি কী? গানের যেমন স্বরলিপি থাকে, তেমন কিছু? বিশদ আলোচনা চাইছি।

গৌরানন্দ :


এখানে অনেকেই দেখছি আলোচ্যমান কবিতাটির অর্থ বুঝতে উৎসুক। তাঁদের সাহায্যার্থে এবং শালতি ও রুণা যে বেশ কিছু উজ্জ্বল উদ্ধার করেছেন, তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমারও উদ্ধৃতি দেবার তীব্র বাসনা হল...

কবিতাটির অর্থ হয়তো নিম্নরূপ...

'নিতান্ত সরল অর্থ, অতি পরিষ্কার
বহু পুরাতন ভাব, নব আবিষ্কার।
ত্র্যম্বকের ত্রিনয়ন ত্রিকাল ত্রিগুণ
শক্তিভেদে ব্যক্তিভেদে দ্বিগুণ বিগুণ।
বিবর্তন আবর্তন সম্বর্তন আদি
জীবশক্তি শিবশক্তি করে বিসম্বাদী।
আকর্ষণ বিকর্ষণ পুরুষ প্রকৃতি
আণব চৌম্বক বলে আকৃতি বিকৃতি।
কুশাগ্রে প্রবহমান জীবাত্মবিদ্যুৎ
ধারণা পরমা শক্তি সেথায় উদ্ভূত।
ত্রয়ী শক্তি ত্রিস্বরূপে প্রপঞ্চে প্রকট,
সংক্ষেপে বলিতে গেলে -- হিং টিং ছট।
স্বপ্নমঙ্গলের কথা অমৃতসমান,
গৌড়ানন্দ কবি ভনে, শুনে পুণ্যবান।।'

সোনাবীজ

বাংলা হরফে লাটিন কবিতা এলে....that's the point. যখন একটা ধ্বনির কথা বলা হচ্ছে তখন ভাষা না জানাটা গুরুত্বহীন। পাখি বা অন্য প্রাণীর ধ্বনি থেকেও (যেমন কোকিল, ময়না) আমাদের মনে অনুভূতির জন্ম হয়, কিন্তু পাখি বা নদীর কলতান কোনো কবিতা নয়। আমি যা লিখি তা যদি কিছু সংযোগবিচ্ছিন্ন শব্দমালা হয়ে থাকে তাতো পাখি বা গরু বা কুকুরের শব্দের মতো।
তাই, যা লিখলাম তা বাংলা বা হিন্দি বা ইংরেজি যাই হোক, পরস্পর যোগাযোগ না থাকলে তা greek and latin থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

আরেকদল শুরু করেছেন 'শব্দকবিতা।' (যা আমিও চেষ্টা করে দেখেছি, নাথিং ডিফারেন্ট)। কিছু শব্দ বুনে দিয়ে বলছেন, এই নাও কবিতা খাও। এরপর তাহলে আসবেন জনাব 'ধ্বনি কবিতা'.... হি হি হি, ঘেউ ঘেউ, হাম্বা হাম্বা... বিশেষ পরিস্থিতে ডাকবার জন্য বিশেষ অনুভব! আরও আছে......বাক্য কবিতা, একটামাত্র বাক্য ছেড়ে দিয়ে বলবেন... এই নাও বাণী চিরন্তনী, বাক্যকবিতা। তারপর আছে ছবিকবিতা...ছবি আর কবিতা একসাথে... বাংলাদেশে অনেক নবীন কবির পছন্দের কবিতা... প্রবীণ কয়েকজন কবি তা করে গেছেন অনেক আগে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, যে কোনো একটা দৃশ্য দেখে, একটা কথা শুনে মনের মধ্যে একটা অনুভবের জন্ম হতে পারে, কিন্তু তাই বলে ঐ দৃশ্য বা শব্দটা কোনো কবিতা নয়।
আমার আপত্তি শুধু দুটি বিষয়ে : (১) 'উত্তরাধুনিক কবিতা' বা 'নতুন কবিতা' নাম যে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে। খুবই এলার্জিক। (২) বিষয় নির্বাচন... অমুক বিষয় নিয়ে লিখলে তা উত্তরাধুনিক কবিতা হবে, তার বাইরে তা গতানুগতিক। আরে ভাই, পৃথিবীতে কি অ-নতুন কোনো বিষয় এখনও আছে নাকি, সাহিত্যে? আপনার উপস্থাপনাই বলে দেবে আপনি গতানুগতিক নাকি ডিফরেন্ট।
তাই নিজের কাছে জোর করে বলা... ইহা আমাকে অনেক দিয়েছে... বড্ড ন্যাকামি মনে হয়।
বর্তমানে কিছু অভিজাত সাইট আছে, তাতে এরকম কিছু লেখা দেখবেন... আপনার কবিতা পাঠকের স্বাদ বিবেচনা সাপেক্ষ হতে হবে।
আমি শেষ করতে চাই.... নামে নয়, আপনার কবিতাই বলুক, ও একটা খাদ্য হয়েছে কিনা।

নীল:

শালতি'র কথায় আবার ফিরে আসা, বা ফিরে দেখা... আমি আপনার সাথে অবশ্যই একমত। উদ্ধৃতি আত্মিকরণ করলে তা অবশ্যই তখন আপনার ও মত; আমার বক্তব্য ছিল সেই আত্মিকরণ বিষয়টা নিয়ে। কেবল মাত্র গুণীজন বলে গেছেন কিন্তু আমার চেতনায় তার প্রতিবিম্ব ধরা পড়ে না, অথচ আমি রেফারেন্স এ সেই কোট কে যুক্তি করি, এটা নিয়েই আমার বক্তব্য।
দ্বিতীয়ত, কবিতা অনুভবে আমি একটা চিত্র বা চিত্রকল্পের সাহায্য প্রার্থনা করি। সেটা গড়ে না উঠলে, সেই কবিতা আমার মননে ছাপ ফেলতে পারে না; এটা আমার অক্ষমতাও হতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় অক্ষমতা কে অস্বীকার করে আমি অতীন্দ্রিয় আস্বাদনে বিহ্বল হব কেবল মাত্র নতুনের সাধনায়।
আমি নতুন কে বা পরীক্ষা কে অস্বীকার করি নি, নিজের বোধ ও অনুভবের সীমাবদ্ধতা কে সামনে এনেছি মাত্র পাঠক ও লেখক হিসাবে।
সব চাইতে ভালো লাগা যা, এই এত বড় থ্রেডে আমরা সবাই একটা বিষয় নিয়ে আড্ডা দিচ্ছি, মতের ভিন্নতা সত্বেও রুচি নিচে নামেনি, এটাই কি কম পাওয়া? হয়ত পূজোর বা ঈদের একটা সুপ্রভাব হতে পারে...মঞ্চ এই বাতাস কে ধরে রাখুক আগামীতে এটাই কাম্য ও প্রার্থনা।

শালতি :

"আমি কত কম জানি...কতকিছু জানার বাকি রয়ে গেছে...কত কম পড়াশোনা আমার... আপনার উদ্ধৃতিগুলো আমার ভান্ডার পূর্ণ করুক এই আশায় থাকব..."

রুনা, আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু অন্য কথা বলছে. আন্তর্জালে বহু সাইটে আপনার লেখা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে. বিভিন্ন বিষয়ের উপর (বিশেষত বিজ্ঞান এবং ইতিহাস) আপনার জ্ঞান মুগ্ধ করেছে বারবার. তবে কি না জেনে, না বুঝে আপনাকে কোথাও ব্যথা দিয়ে ফেললাম? তেমনটি হলে ক্ষমা চেয়ে নিলাম. হেলেন কেলারের ওই লেখা এখনও প্রতিনিয়ত আমাকে ঋদ্ধ করে, আর সে জন্যেই শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারিনি.
ক্ষমা করা হউক....
নীল, খেয়াল করলে দেখবেন, "শিশিরের শব্দের মতো" "সন্ধ্যা" নামতে পারেনা জেনেও লাইনটা দুরন্ত একটা ভালো লাগা রেখে যায়...এভাবেই কি আমি/আমরা অনুভূতির দাস? কী জানি.....

নীল :

শালতি, আপনি আর আমি বোধহয় একই কথা বলছি;
শিশিরের শব্দের মতো......এই "মতো" তে লক্ষ্য করুন একটা দৃশ্যকল্প তৈরী হয়ে গেল, সন্ধ্যা নামার দৃশ্যটা আমরা অনুভবে পেলাম...
কিন্তু যদি এমন হত,

শিশিরের শব্দে সন্ধ্যা নামে
অথবা
শিশিরের শব্দ সন্ধ্যা নামে.........

আপনি কি একই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন? শব্দ বদলে গেলে দৃশ্যপট বদলে যায়......অথচ দেখুন ভিতরের মূল শব্দ গুলি একই আছে, তাই না !

শিশু ও ভাব বিনিময় করে( যার কথা ফোটে নি, শব্দ ফুটেছে মাত্র) আবার আমি আপনি ও করি। মূলগত ভাবে আহ্লাদ প্রকাশ করতে চাইলে আমরা কি সেই প্রথম অস্ফূট শব্দবৃত্তে ফিরে যাব, যা অকৃত্রিম ও ধ্বনি মাত্র কিন্তু ব্যঞ্জনায় প্রবল ও সার্থক? তা পাঠকের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেবে তো?

যে পাঁচ টা ইন্দ্রিয় না থাকলে অনুভব ব্যাপারটাই মিথ্যা হয়ে যায়, যখন তাকে অস্বীকার করে আমরা ইন্দ্রায়াতীত অনুভূতি তে পৌঁছোতে চাই, আমার কেমন ভয় লাগে। জানি না বোঝাতে পারলাম কি না.........

শালতি :

নীল, "শিশিরের শব্দ", আমি কখনও শুনিনি. নাহ, কান পেতেও টের পাইনি. তবু ভালো লাগে, কারণ কবিতায় "শিশির" বা সাগরনীলের মতো করে বললে, "ছদ্ম শিশির" একটা অন্য অনুভূতির জন্ম দেয়. আজকের কবিতায় দেখি "দরজা", "জানালা", "বোতাম" শব্দগুলোর বহুল ব্যবহার. বলতে দ্বিধা নেই, সেগুলোও কিন্তু একইরকম ভালোলাগা রেখে যায়.
মানে, ঘুরে ফিরে সেই অনুভূতির উঠোনেই পাত পেড়ে বসা আর কী!
ঠিকই বলেছেন, "আপনি আর আমি বোধহয় একই কথা বলছি".

নির্জলা :

এই দীর্ঘ আলোচনার একটা সামারি পাওয়া যাবে ?

২-১টা ছোটোখাটো কথা : কবিতালিপিই আমার বা আমার বেশ
কিছু বান্ধবের কাছে কবিতা, অর্থাত্ যেটা আমরা পড়তে বা শুনতে পাই।
একেক কবিতা একেক জনের মনে একেকরকম ভাব, প্রেরণা বা অ্যাকশন জাগিয়ে তোলে এ কথা আদিযুগ থেকে সর্বজনবিদিত ও বলা বাহুল্য!

শব্দ এক-অর্থধারী প্রতীক কিম্বা বহু-অর্থধারী কিম্বা প্রতীক নয়, শব্দের একাধিক ভাবার্থ বা একাধিক অভিধানগত অর্থ আছে অথবা একটিই অর্থ আছে ... এসবই নানা আপেক্ষিকতায় হয়তো সত্যি ... তবে হরফ তো প্রতীক-ই, কারণ একই ক আর k একইরকম উচ্চারণের দিকে নির্দেশ করে ... পাঠককে প্রকৃত স্বাধীনতা ( যদি বহুঅর্থগামীতা বা ‘নতুনত্ব-তত্ত্ব’ই স্বাধীনতা হয়) হয়তো দিতে পারে শূন্য ক্যানভাস বা সুর (আনকোরা, কথাহীন) বা খানিক/পুরো অ্যাবস্ট্রাকশানে আঁকা ছবি ... কবিতাকে হরফ/আবৃত্তি/পাঠ-মুক্ত করা যায় কি ??

আর একটা দুটো শেষ কথা থেকে যায় ....
- রচয়িতা নিজে কি স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুশী তার নিরীক্ষায় বা সৃষ্টিতে
- বেশ কিছু পাঠক (সংখ্যাটা আপেক্ষিক, আর যারা সরাসরি হয়তো ‘কবি/লেখক’ নন) কি স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুশী বা তাদের ‘ভাল’ লেগেছে কবিতা হিসাবে (কবিতা বলতে তারা নিজেরা যা বোঝেন)
২টোর যে কোন ১টা হলে সোনা, ২টো হলে ডবল সোনা

রুনা :

ভুতুম আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব বলে তো মনে হয় না...তবু একটু চেষ্টা করছি...
একটা বস্তুর পরিচয়ের জন্য যে শব্দে তাকে উচচারণ করি তা ওই বস্তুর প্রতীক, তাকেই শব্দের আভিধানিক অর্থ বলা যায়।
বিভিন্ন ভাব বা অবস্থার প্রতীক হতে পারে সেই শব্দ যা বিশেষ ধ্বনি মাত্র। যেমন ভালোবাসা শব্দটা কিছুর প্রতীক নয়। কবি যখন ধ্বনিটা উচচারণ করছেন তখন সেই মুহূর্তের মানসিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ধ্বনির প্রকৃতি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। কিন্তু উচচারণ ছেড়ে যখন আমরা লিপিবদ্ধ করতে যাচ্ছি তখন ধ্বনির প্রকৃতিটা মুছে গিয়ে শব্দের প্রতীকটা নির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর নির্দিষ্ট হলেই সম্ভাবনার পথটিও একমাত্রার হয়ে পড়ে। এখানে শ্রদ্ধেয় বারীন ঘোষালের একটা উদ্ধৃতি দিতে ইচ্ছে করছে,
''সাধারণত অনুভব হচ্ছে চিহ্ন। স্বজ্ঞা থেকে দেখতে পাওয়াই অনুভব, অনেকে তা যুক্তিগত ভাবে উপলব্ধি করেন। যাকে বোঝাপড়া বলাই ভালো। প্রথম দল ব্যবহার করেন চিহ্ন, দ্বিতীয় দল ব্যবহার করেন প্রতীক। চিহ্নই ভাবাবেগ তৈরি করে। প্রতীক আবেগকে নিশ্চিত করে। প্রতীকের কোনো অপর সম্ভাবনা নেই, চিহ্নের অশেষ সম্ভাবনা''
তাই কবি প্রতীকের বেড়া ভেঙে উপলব্ধির উত্সের ধ্বনিটাকে চিহ্নটাকেই লিপিবদ্ধ করতে চাইবেন।
কবি যা অনুভব করেন তা তাঁর চেতনায় ভাবনায় বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে কোনো একদিন সে যখন কোনো অভিজ্ঞতায় স্পার্ক করে তখন সেই অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি থেকে জারিত ধ্বনিগুলো নিয়ে লিপিবদ্ধ করলে প্রথমের ওই অনুভবের কাছাকাছি কিছু প্রকাশ করা সম্ভব হয়। আবার ওই ধ্বনি সমষ্ঠি যদি পাঠকের অভিজ্ঞতায় স্পার্ক করে তবে তিনিও কবিতার কাছাকাছি কোনো অনুভবে পৌঁছন। এভাবেই সঠিক ধ্বনি সংকলন কবি আর পাঠককে একত্র করে এবারে শেষ প্রশ্নটায়... যখন অনুভবে কোনো কবিতা ধরা দেয় তা সম্পূর্ণ ভাষাহীন, তার কোনো কথা নেই। সে কেবলই বোধের কেবলই অনুভবের। কিন্তু যখন তাকে প্রকাশ করতে চাইছি তখন লিপির সাহায্য নিয়ে পৌঁছতে চাইছি সেই অনুভবের কাছাকাছি। তাই লিখিত কবিতাটি কবিতালিপি মাত্র, (স্বরলিপির মতই), যা ওই অনুভবের কবিতার কাছাকাছি হলেও কখনই এক নয়।
(এবার থামি...সম্ভবত শ্রদ্ধেয় বারীন ঘোষাল অলক্ষ্যে হাসছেন আমার বোধের অসম্পূর্ণতা দেখে )
না শালতি ব্যথা নয় বরং একটা ভিশন বলা যায়... অনুভূতির বোধ কত তীব্র হলে চোখের বাইরেও ধরা দিয়ে যায় যা আমার চোখের আলোতেও দৃশ্যমান হয়নি...এই বোধ না থাকলে হয়ত ব্রেল থেকে আমরা আজ অনেক দূরে থাকতাম ।
গৌড়ানন্দজী আপনার কাছে রবিখুড়ো পেয়ে বড় নির্মলানন্দ পেলাম... কিন্তু আপনার উদ্ধৃতির পরে আমি কিন্তু

“পরিষ্কার অতি পরিষ্কার
দুর্বোধ যা কিছু ছিল হয়ে গেল জল
শূন্য আকাশের মতো অত্যন্ত নির্মল”

বলতে পারলাম না... খোঁজ জারি আছে এখনও...
নির্জলা, নিরীক্ষা চলাকালীন প্রসেসটা আমার ভালো লাগছে কিন্তু এটা সত্যি যে জীবনে এখন পর্যন্ত কোনো কবিতা লিখেই পরিপূর্ণতার স্বাদ পাইনি, সব সময় মনে হয় কিছু বাকি রয়ে গেল, মনে হয় ঠিক এমনটা বলতে চাইনি। সম্পূর্ণতার স্বাদ কেমন আমি জানিনা, হয়ত এ জীবনে জানাও হবে না। যেটুকু আনন্দ পাই সেটুকুই পাথেয় করে পথ চলা...এই আর কি

বুদ্ধ :

রুণা আপনার কথা পড়তে গিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে। আপনি বলছেন, "একটা বস্তুর পরিচয়ের জন্য যে শব্দে তাকে উচচারণ করি তা ওই বস্তুর প্রতীক, তাকেই শব্দের আভিধানিক অর্থ বলা যায়'। এর মানে কি এই যে প্রতীকটি আভিধানিক অর্থ? না কি আভিধানিক অর্থ প্রতীকের আড়ালে থাকা মূলটিকে নির্দেশ করে?

রুণা, শুরুর থেকে শুরু করার একটা চেষ্টা করি -

১) "যখন কোনো অভিজ্ঞতায় স্পার্ক করে তখন সেই অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি থেকে জারিত ধ্বনিগুলো নিয়ে লিপিবদ্ধ করলে প্রথমের ওই অনুভবের কাছাকাছি কিছু প্রকাশ করা সম্ভব হয়" - কি এই ধ্বনি? আমাদের চেনা শব্দ ছাড়া অন্য কিছু? না কি অশ্রুতপূর্ব কোন স্বর? ধ্বনির সমষ্টি বলে যাকে বর্ণনা করছেন তা কি সার্থক কোন বাক্যবন্ধ নয়? যদি এই ধ্বনি অশ্রুতপূর্ব নয়, যদি বাক্যবন্ধ সার্থক, তবে একে ভিন্ন নাম দেওয়ার যৌক্তিকতা কি?

২) 'স্বজ্ঞা থেকে দেখতে পাওয়াই অনুভব' এবং 'যুক্তিগত উপলব্ধি' হল 'বোঝাপড়া' এর মধ্যে কি কোথাও একটা সূক্ষ্ম ফ্যালাসি রয়ে গেছে? স্বজ্ঞা কি যুক্তি বিবর্জিত হতে পারে আদৌ? অধীত বিদ্যা, অভিজ্ঞতা এবং ইন্সটিঙ্কট এইগুলিই কি স্বজ্ঞার মূল নয় এবং ইন্সটিঙ্কটও কি আসলে এমবেডেড কিছু যুক্তিসারণী নয়?

৩) স্বরলিপি এক ধরণের নির্দেশিকা, যা বলে দেয় ঠিক কোন শ্রুতির সাহায্যে গানের কোন অংশ গাওয়া উচিত। কবিতালিপিও কি সেই রকমের কোন নির্দেশিকা দেয় যে কবিতার কোন অংশ কি ভাবে পড়া উচিত?

নির্জলা :

যা কবিতালিপি তাকেই আমরা কিছু সাধারণ মানুষরা কবিতা বলে থাকি - অনুভবে জারিত হয়ে যা অনুভবের মধ্যেই থাকে (কোনো গান, ছবি, কবিতা) তার তো নাম বা প্যারামিটারের প্রয়োজন হয় কি, জানিনা।

একই ভাবে বলতে গেলে আমরা ছবি দেখিনা, দেখি ছবিছবি বা ছবিলিপি, গানও যা শুনি তা গানগান বা গানলিপি (এমনকি গানের স্বরলিপিও প্রকৃতপ্রস্তাবে স্বরলিপি-লিপি - একই স্বরলিপি দেখে হুবহু একইভাবে লিপ দেওয়া বা প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেননা দুজন গায়ক) - বস্তুত বাস্তবও আসলে বাস্তবলিপি, মাধ্যম অন্তরে তা ভিন্নভাবে ধরা দেয়, যেমন জলের মধ্যে দিয়ে যে রিফ্রাকশন হয় হাওয়াতে তা ভিন্ন ....

কাজেই প্রচলিত অর্থে কবিতা কবিতাই, কবিতালিপিও কবিতাই ....
আমার এক বন্ধু বলতেন : কিছু কিছু সিউডো-নতুন তত্ত্ব কেউ ‘‘খায়’’ , কেউ খায়না, যার যাতে আনন্দ আর এই খাদ্যাভাসের ভিন্নতা থেকেই আলোচনা জমে ওঠে ....

কবিতা লিখে অতৃপ্ত থাকা বা আরো ভাল করে নিজেকে প্রকাশ করার বাসনা তো সার্থক স্রষ্টারই লক্ষণ, আমি হয়তো বলছিলাম সব মতামত শোনা-জানার পর আমার সৃষ্টি যেন আমারই স্বতঃস্ফূর্ততায় জারিত থাকে, canned thoughts-এ নয়, আমার নিজস্বতায়, নিজস্ব ভাবনায় ...

পুনশ্চ...

কিন্তু উচচারণ ছেড়ে যখন আমরা লিপিবদ্ধ করতে যাচ্ছি তখন ধ্বনির প্রকৃতিটা মুছে গিয়ে শব্দের প্রতীকটা নির্দিষ্ট হয়ে যায়।

খেয়াল করে দেখবেন, ‘লিপিবদ্ধ’তেই ব্যাপারটা শেষ হয়ে যায়না, ওই হরফগুলোকে আবার আমরা উচ্চারণ করি, মনে মনে বা বাইরে বাইরে, কারণ উচ্চারণ না হলে লিপিবদ্ধতা আমরা জানব কেমন করে, ভেবে দেখবেন।
কাজেই ধ্বনির প্রকৃতি আবার ফিরে আসে, বেড়া ভাঙতে গেলে কবিতাকে হরফ-ধ্বনি-শব্দ-পাতা-স্ক্রিন-সিডি এসব থেকে মুক্ত হতে হবে (? কীভাবে)

কবি প্রতীকের বেড়া ভেঙে উপলব্ধির উৎসের ধ্বনিটাকে চিহ্নটাকেই লিপিবদ্ধ করতে চাইবেন।

এটা ঠিক বুঝতে পারিনি, উদাহরণ কাম্য ... তবে শব্দের নির্দিষ্ট অর্থের বাইরে যে নানা অর্থ হয় নিজে নিজে বা অন্য শব্দের পাশাপাশি বসে তাই নিয়েই তো অলংকার, উপমা, ধ্বনি ঝংকার ইত্যাদি নানা আলোচনা আছে ও হয়ে আসছে।
যে কোনো ‘সার্থক’ কবিতাই বিবিধ পাঠকমনে বিবিধ রসের ও অনুভবের সঞ্চার করে ... একটি কম্প্যুটারের কাছে বা জেরক্স মেশিনের কাছে সেরকম হয়না - অর্থাৎ শব্দের অ্যাপিয়ারেন্স ইত্যাদির বেড়া এইসব মেশিনের কাছে ‘বেড়া’ই থেকে যায়, মানবমনে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি করে বা মাস অ্যাপিল করে, এটাই কি শব্দের বেড়া ভেঙে যাওয়া নয়

ঝর্ণা :

কথা অনেকটাই এগোয়...অনেক কিছু জানতে পারা যায়.... আচ্ছা নতুন কবইটা বলতে অনেক সময় যে লেখা আসে তা কি সত্যি সত্যিই নতুন হয়?.. আমার প্রশ্ন জাগে...
নতুন স্বপন রায়ের এমন লাইন... আমায় ভেবো সারাক্ষণ নয়, এই যেমন ফোঁড়ন দিচ্ছ, চুলের কাছে ভ্রমর তখন...আবার...হঠাৎ ছুটি শীত খুঁজেছে....চিরদিন বদলে এই টাটকা মুহূর্ত... তার চিত্রে দাঁড়ানো কলিমপঙ্গের বাস....
অবশ্য নতুন কবিতা তবে অনুভূতি সর্বত্র...!...বুঝতে তো একটুও কষ্ট করতে হলো না....
সেদিন সাহস করে আমিও লিখলাম...খণ্ডিত ত'য় ওঠ-বস করে দেখলাম দানি'তে আমার পা নেই...ব্যাপারটা বোঝাতে চাইছিলাম যে বহুকিছুর পরেও আমি কোথাও নেই...কিন্তু এটা বুঝতে যাওয়ানোতে আমাকে বুঝতে হবে... অতএব হয়নি কিছুই...
তাই মনে হয় নতুনের ব্যাপারটা এখনো প্রসেসিং... বুঝিয়ে দিতে হয় কেন এই লেখাটা অথবা কোথা থেকে এলো... তবুও চেষ্টা চলছে... ধ্বনিগত হলেও তা েকদিন অনুভূতি নিয়ে আসবে এই বিশ্বাস রাখা যায়...

আন্দালীব :

বিভিন্ন আলোচনায়/অভিজ্ঞতায় দেখেছি 'নতুন কবিতা' শব্দবন্ধ খুব মিসআন্ডারস্টুড একটা টার্ম। আমি আপনার অংশটুকু কয়েকবার পড়ে দেখেছি। আপনার আপত্তির জায়গাগুলো মোটামুটি ঠিকই আছে- এমন মনে হয়েছে। সব নতুন কবিতাই নতুন, একে ট্যাগ লাগিয়ে লেবেলাইজ না করলে কোনই ক্ষতি নেই। আসলে বিষয়টার সর্বজনগ্রাহ্য নাম খুঁজে নেয়াটা দুস্করই বটে। তবে এটুকু আমরা বুঝতেই পারি যে, এই 'নতুন কবিতা' আসলে চর্বিত বিষয়াষয়কে এড়িয়ে যেতে চায়। এখন এই এড়িয়ে যাওয়ার প্রনালীটি কেউ কেউ সযতনে করে থাকেন; আর যারা সযতনে করে যাচ্ছেন বা করছেন তারাই কিন্তু কিছু ফর্মূলা প্রেসক্রাইব করছেন। আপনি অভিজাত সাইট বলতে কাদের দিকে অঙ্গুলি তাক করেছেন আমি ধরতে পেরেছি।

ওনারা উত্তরাধুনিক কবিতা লেখবার কিছু পন্থা আমাদের সামনে হাজির করেছেন। এইটা কতোটা ভালো কাজ হয়েছে সেটা তর্কস্বাপেক্ষ, তবে আমি নিজে কারো প্রেসক্রিপশন মেনে কখনো লেখালিখি করতে যাইনি। আমার মনে হয়, কবিতা লেখালিখি যারা করেন তাদের জন্য এ যেন এক অনুশীলনের মতো ব্যপার হয়ে দাঁড়াবে। তাই, স্কেল দিয়ে ইঞ্চি মেপে কবিতা লেখার স্ট্রেইট বিপরীতেই আই দাঁড়াতে চাই।

এখন এই 'নতুন কবিতা' যেই চর্বিত বিষয়গুলো/প্রকাশগুলোকে এড়িয়ে যেতে চায়... এই বিষয়টাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হবে। কিন্তু নতুন প্রকাশভঙ্গীর পন্থাকে নির্ধারণ করার চেষ্টা হলে সেই বিষয়টা স্বতঃস্ফূর্ততা হারাতে বাধ্য। তাই, এই বিষয়ে কোনো কিছু নির্ধারণ করে না দেওয়া হোক... এই বিষয়ে আমি অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।
'নতুন কবিতা'র সেইসব পন্থায় তারা যেসব কথা বলেছেন সেইসব নিয়েও কিছু পাল্টা চিন্তাভাবনা আমার রয়েছে-
আগেও কিছু লেখায় বলার চেষ্টা করেছি... এখানেও সেই চেষ্টাটি করি।
তাদের এইসব নির্ধারণের বিপরীতে আমার কিছু জিজ্ঞাসা জন্ম নিয়েছে। বিষয়গুলোকে সামনে আনা যাক-

# নতুন কবিতা ফর্মুলায় বলা হচ্ছে, প্রতীক বা রূপককে ভেঙ্গে ফেলবার কথাঃ

মানে একটা বস্তু যেভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে তাকে সেইভাবেই দেখবার চেষ্টা করা। অর্থাৎ একটা বস্তুকে তার নিজের আলোয় বা বস্তুগুনের বৈশিষ্টে দেখবার চেষ্টা। অর্থাৎ, একটা ঘুড়ি শুধুই একটা ঘুড়ি। এর ভেতরে কোন দাসত্বমুক্তির ইঙ্গিত বা কৈশোরিক নস্টালজিয়ার বিষয় জড়িত নেই। তো, এই ঘুড়ি'র কথা যখন কবিতায় লেখা হচ্ছে তখন সেটা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শুধুই একটা অবজেক্ট- ঘুড়ি।

এখন আমার জিজ্ঞাসাটি এইখানে যে, আমরা শিল্পের (Art) ক্ষেত্রে যা দেখি বলা হয়ে থাকে বা আমরা আড্ডাপ্রসূত বিভিন্ন আলোচনায় জেনেছি শিল্প বা আর্ট বিষয়টি বস্তুতঃ Indirect. মানে শিল্প প্রসঙ্গটি সর্বদাই সরাসরি প্রকাশের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে আছে। আর শিল্পের সেই মাধ্যমটি যদি হয় কবিতা তাহলে সরাসরি প্রকাশটা কতোটা জরুরি? 'নতুন কবিতা'য় যদি ঘুড়িকে শুধু ওই নির্দিষ্ট অবজেক্ট হিসেবেই লেখা হয়, অর্থাৎ সরাসরি যদি এর প্রকাশ হয় তাহলে এরকম কি বলা যায়না যে, 'নতুন কবিতা' তার গোচরে বা অগোচরে বা তার নিজেরই অজান্তে শিল্পের সুক্ষ্ম রেখাটিকে অতিক্রম করে যাচ্ছে না?

এইখানের আলোচনা নিজের ভেতরের অনেক দ্বিধাচিত্র সামনে নিয়ে আসতে প্রনোদনা দিচ্ছে....
এজন্যেই এতো কথা বলা আর কী।

সোনাবীজ

আমি আপনার সাথে একমত, কবিতা লেখার জন্য আবার নতুন প্রেসক্রিপশনস কী? উত্তরাধুনিক নামটা মোটামুটি চলে, কিন্তু নতুন কবিতা'য় জ্বালা ধরে গায়। ৭ম শতাব্দীর যে কবিতা আমি আজ প্রথম পড়ছি, ওটা তো আমার কাছে নতুন কবিতা। আর কবিতায় নতুন তো কিছু দেখি না। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে একজন কবি নতুন হচ্ছেন, তাঁর ভাবনারা হচ্ছে নতুন, তাঁর সর্বশেষ কবিতাটিও তাঁর আগের কবিতা থেকে ভিন্নতর ও নবতররূপে প্রকাশ করতে চান। নতুন কোনও বিষয় নিয়ে যদি নতুন কবিতা হয়, তাহলে বৈজ্ঞানিক হতে হবে, বিজ্ঞান ছাড়া তো নতুন আবিষ্কার অসম্ভব। ১৮০০ সাল থেকেই ধরে একটা গবেষণা করে দেখুন, এক দশকের কবিতা তার অব্যবহিত আগের দশক থেকে অবয়ব পাল্টেছে, তাই বলে প্রতি নতুন দশকে কি নতুন কবিতা-১, -২ ইত্যাদি হয়েছে? আর ২০ বছর পর উত্তরাধুনিকের কী নাম হবে? বা নতুন কবিতা নাম পাল্টে কী নামে হবে? তাই এসব নামধাম আমার কাছে গাঁজাখুরি মনে হয়।
বারীণ ঘোষাল, সৌমিত্র সেনগুপ্ত, আরও অনেকের কবিতা তো পড়লাম, কিন্তু এতে নতুন জিনিসটা কী? ১৯৩০-এর পর থেকেই তো এ ধারার প্রচলন। সৈয়দ আলী আহসান, শামসুর রাহমান, সৈস্য সামসুল হক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, নির্মলেন্দু গুন, মহাদেব সাহা, আবিদ আজাদ, আলাউদ্দীন আল আজাদ... বারীণ ঘোষাল... পার্থক্যটা কোথায়.... প্রকাশ, নির্মাণ, বিষয়.... কোথাও তো দেখি না। একটা নাম দিয়ে তার জনক হওয়া কারো সাধ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।
সর্বোপরি, কবি তাঁর নিজের স্বাধীনতায় কবিতা লিখবেন, কবিতা নিজের ঐতিহ্য আর গতিতে সামনে এগোবে, কারও প্রেসক্রিপশনের দরকার নেই, যখন আপনি অলরেডি একজন কবি।
ধন্যবাদ আন্দালীব ভাই আপনার সুগভীর মন্তব্যের জন্য।

হিমালয়৭৭৭ :

আমি কবিতা লিখি না, ছড়া লিখি, তবে কবিতার প্রতি প্রচ্ছন্ন এক ভালো লাগা আছে... সেই ভালো লাগার নিরিখেই এই পোস্টটি স্থিরচিত্র হয়ে থাকবে বহুকাল মনের মানসে... যাইহোক, আধুনিক কবিতাকে দু'একটি ব্যতিক্রম বাদে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিকৃষ্ট এবং জঘন্যতম মনে হয়... এর নেপথ্য কারণ হিসেবে দুর্বোধ্যতার চেয়েও প্রধান কারণ বলবো অর্থহীন এবং নিরর্থক উপমা প্রয়োগ... বিষয়বস্তু নিয়ে কোনোকালেই আমার অভিযোগ ছিল না, কারণ একটি সাধারণ দেয়াশলাই কাঠি কিংবা চিল পাখি নিয়েও অসাধারণ কবিতা লেখা সম্ভব। কিন্তু এই আধুনিক কবিরা কবিতাকে ঠিক কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় বা কবিতা নিয়ে তাঁদের ভাবনাটাই বা কী সেটাই আমার প্রধান দুর্ভাবনা। এ প্রসঙ্গে বিবর্তনবাদী কিছুদিন আগে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সম্ভবত আধুনিক কবিরা যে কবিতা লিখেন সেটির অনুভূত-ব্যঞ্জনা-বোধ যা-ই বলেন সেটি তাঁরা নিজেরা ছাড়া কেউই বোঝেন বলে মনে হয় না... আরো লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে..কিন্তু তুলে রাখলাম... ব্লগে আসার পর সম্ভবত এই প্রথম একটি পোস্ট পেলাম যেটি অনেক বিশ্লষণ এবং নিরীক্ষণের দাবি রাখে... অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে..

মায়া :

একই ভাবে বলতে গেলে আমরা ছবি দেখিনা, দেখি ছবিছবি বা ছবিলিপি, গানও যা শুনি তা গানগান বা গানলিপি ( এমনকি গানের স্বরলিপিও প্রকৃতপ্রস্তাবে স্বরলিপি-লিপি - একই স্বরলিপি দেখে হুবহু একইভাবে লিপ দেওয়া বা প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেননা দুজন গায়ক ) - বস্তুত বাস্তবও আসলে বাস্তবলিপি, মাধ্যম অন্তরে তা ভিন্নভাবে ধরা দেয়, যেমন জলের মধ্যে দিয়ে যে রিফ্রাকশন হয় হাওয়াতে তা ভিন্ন ....

খুব ভালো লাগলো আপনার এই নতুন তত্ত্ব। দিনভর খালি গাঞ্জা টানেন বুঝি? চালিয়ে যান মাশায়, আপনার জন্য দেখি একটা 'নভেল' প্রাইজের ব্যবস্থা করা যায় কিনা।
এক পাগলে গান গায়, বাকি পাগলে হাততালি দেয়... একটা পাগলা গারদ!

নির্জলা :

মায়া, আপনি হয়তো ভুল বুঝলেন। আমি কোনো নতুন তত্ত্ব বলতে চাইনা, বলিও নি। কবিতা আর কবিতালিপির ডিফেরানসিয়েসান করলে শিল্পকলার অন্যান্য ক্ষেত্রেও সেরকমটা হতে পারে, হয়তো বাহুল্যবোধে এরকম করা হয়ে আসছেনা, এ কথাই বলছিলাম।
নতুন তত্ত্ব নয়, প্রায় ২০-২৫ বা তারও বেশি পুরোনো নতুনত্ব-তত্ত্ব সম্পর্কেই আমার বা পরিচিত বান্ধবদের ধারণা আলোচনাবশতঃ বলছিলাম।

আপনার প্রশ্নের উত্তরে জানাই গাঁজা টানিনা, মদও খাইনা। কোনরকম পুরস্কারও চাইনা। আপনার অযৌক্তিক সারকাসমের সুরটি আমার ভাল লাগেনি।

কবিতার মেন-স্ট্রিম, নন-মেনস্ট্রিম, আপস্ট্রিম, ডাউনস্ট্রিম ইত্যাদি বিভাজন আমার বা পরিচিত বান্ধবদের আকর্ষণ করেনা। এই নিয়ে অবশ্য কোনো ‘ডকট্রাইন’ প্রচার করিনা, ইমেল-ক্যানভাসিং করিনা, নিবন্ধও লিখিনা - শুধু আলোচনা হলে আলোচনার পিঠে খোলাখুলি আলোচনা করি।

আলোচনা চলুক ...

রুণা :

বুদ্ধু আপনি ঠিকই বলেছেন, আমার বাক্য গঠনে ভুল থাকতে পারে। শব্দ বস্তুর প্রতীক কিন্তু বস্তু কারো প্রতীক নয়। সে নিজেই সম্পূর্ণ। আপনার ১ নং প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমার মনে হাজারো প্রশ্নের পাহাড় জমছে এবং বুঝতে পারছি আমার পাঠ কত অসম্পূর্ণ। কিন্তু যেটা ভালো লাগছে এই প্রশ্ন উওরের চেষ্টা থেকে নিজের বোঝাপড়াকে ফিরে দেখা যায়।
২ নং প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর জানা নেই। উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতা যুক্তির পথ ধরে কিন্তু কেমন যেন মনে হয় সমস্ত কিছু যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারিনে। যেমন শিশিরের শব্দ আমি যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারিনি তবু কেন মনে হয় শিশিরের শব্দ আমি অনুভব করতে পারি। এ সবের কোনো কংক্রিট উত্তর আমার জানা নেই কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে।

“কবিতালিপিও কি সেই রকমের কোন নির্দেশিকা দেয় যে কবিতার কোন অংশ কি ভাবে পড়া উচিত?”- বোধহয় তাই। কারণ যা অনুভব করলাম সেটাই কবিতা কিন্তু যা লিপিবদ্ধ করলাম তা সেই কবিতার অনুবাদ মাত্র। কে যে মাথার দিব্যি দিয়েছিল সত্য অনুভবটা প্রকাশ করতে কি জানি , করতে গিয়েই যত গন্ডগোল। শব্দ হাতড়ে হাতড়ে দেখি কোনোটাই সেই অনুভবের সঙ্গে সঠিক মিলছে না।

নির্জলা কি দারুণ বললেন বাস্তবলিপি “বস্তুত বাস্তবও আসলে বাস্তবলিপি, মাধ্যম অন্তরে তা ভিন্নভাবে ধরা দেয়, যেমন জলের মধ্যে দিয়ে যে রিফ্রাকশন হয় হাওয়াতে তা ভিন্ন” তার মানে কি কোথাও একটা রিফ্র্যাকটিভ ইন্ডেক্সের পার্থক্য হয় ? কোথায় ? চেতনায় ? যদি হয় তাহলে কবির চেতনায় যে স্ফুলিঙ্গ যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল তা কখনই পাঠকের চেতনায় একই তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারবে না, কারণ একটা এঙ্গেলের ডিফারেন্স থেকেই যাচ্ছে। সেটা কি দূর করা সম্ভব ? কি করে? এই রকম হাজারো প্রশ্ন ঘোরে...তার তালে আমিও ঘুরি...

স্বরলিপি দেখে গান করে যেমন দুজন গায়কের গান দুরকম মনে হয় তেমনি কবিতালিপি দেখেও একই কবিতা দুজন পাঠকের দুরকম মনে হয়। আপনি ঠিকই বলেছেন , “আমার সৃষ্টি যেন আমারই স্বতঃস্ফূর্ততায় জারিত থাকে, canned thoughts-এ নয়, আমার নিজস্বতায়, নিজস্ব ভাবনায়” ...অবশ্যই , নিজস্বতায় হারিয়ে গেলে পড়ে রইল কি ? আপনার কথা গুলো কেমন অমোঘ বাণীর মত মনে হল, কেউ যেন আমাকে ধরে প্রচন্ড নাড়া দিল । আমি একটা নতুন জগতে এসেছি , ভ্রমণ করছি এখানে ওখানে, দেখছি “নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা" না বলে স্বদেশ সেন বললেন, “নীল রবারের থাবা পড়ে গেছে ওই সব আকাশের গায়ে” তখন থমকে গেলাম, চমকিত হলাম, কোথাও মেঘ শব্দটা নেই কিন্তু আছে আভাষ। এই নতুন প্রকাশ ভঙ্গিটা ভালো লাগল। “গান উঠছে পাহাড়ে/হালকা একটা গানবো পড়েছে” (বারীন ঘোষাল) নতুন গানবো শব্দটা শুনে খানিক উল্লাসবোধ, আভিধানিক অর্থ নেই অথচ কেমন সুন্দর করে রেফার করল পরিচিত প্রতীকিটা... এই সব আর কি...

সেরেছে!! ঘরে পা ছড়িয়ে বসে চেনাশোনা পাঁচ জনে কেমন ঘরোয়া আড্ডা হচ্ছিল...কিন্তু ফারিয়ান ভাই আপনি একেবারে কপি পেষ্ট... ওরে বাবা রে... শালতি আপনার শালতিটা একটু ধার দিন প্লিজ...আমি শালতি চেপে পলাতক হই...

সীমা :

এই আমি এসেছি, রুনাকে সালতি চেয়ে নিয়ে যাবার জন্য...

আরে বাব্বাহ, আমি তো এইসব কবিতার কিছুই বুঝি না... পড়ে যাই যখন দেখি। আর ওয়াহ, খুব সুন্দর কথা তো, ব্যস।
ভালো লেগেছে, অপূর্ব, ওয়ান্ডারফুল।

নির্জলা :

যদি হয় তাহলে কবির চেতনায় যে স্ফুলিঙ্গ যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল তা কখনই পাঠকের চেতনায় একই তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারবে না, কারণ একটা এঙ্গেলের ডিফারেন্স থেকেই যাচ্ছে। সেটা কি দূর করা সম্ভব ?

না, সম্ভব হয়তো নয়, কতটা সম্ভব বা কতটা নয় তার ডিগ্রি ভ্যারিস ফ্রম সিচুয়েশন টু সিচুয়েশন ... সম্ভব করার দরকারও তো নেই ...
কবিতা. ছবি, গান সবই তো এই রকম, তাই সৃষ্ট কবিতা. ছবি, গান আর পাঠকমনে তার প্রাপ্তির পরে যা হয়, তাদের আলাদা আলাদা বিশেষ্য-বিশেষণে ডাকা বাহুল্য অনেকে বা কেউ কেউ মনে করেন

‘‘কোথাও মেঘ শব্দটা নেই কিন্তু আছে আভাষ’’ - এরকম নানা লাইন ও নানা আভাষ বহু বহু বছর ধরে কবিতা বা বাংলা কবিতায় আছে ...
এ গুলিই উপমা, অলংকার, শৈলী, প্রকরণ ইত্যাদি নানা নামে নানা ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে, নিবন্ধিত ও গ্রন্থিতও হয়ে আসছে ...

আলোচনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ
আলোচনা চলুক ....

তেমনি কবিতালিপি দেখেও একই কবিতা দুজন পাঠকের দুরকম মনে হয়।

আমরা বরং বুঝি আর বলি :
তেমনি একই কবিতা পড়ে দুজন পাঠকের দুরকম মনে হয়,
[অর্থাত্ দুরকম অনুভব / বোধ /ভাল লাগা না লাগা তৈরি হয়]

এতে ব্যাপারটা বোধহয় সরল থাকে ?

'আর ওয়াহ, খুব সুন্দর কথা তো, ব্যস।
ভালো লেগেছে, অপূর্ব, ওয়ান্ডারফুল।'

এটাই বোধহয় বেশিরভাগ পিওর পাঠকের মনের কথা, কবিতার তত্ত্ব কথা কবিতার ডকট্রাইন প্রচারকদের/শাস্ত্রকারদের বা কবিদের তৈরি করা ... তা পাঠকদের তৈরি করা নয় ... এখানে কবিতা মূলতঃ কার - কবির না পাঠকের, স্বল্পসংখ্যক বোদ্ধা পাঠকের না অগণিত গোলা পাঠকের এই পরিসরে যাচ্ছি না ....

নতুন গানবো শব্দটা শুনে খানিক উল্লাসবোধ, আভিধানিক অর্থ নেই অথচ কেমন সুন্দর করে রেফার করল পরিচিত প্রতীকিটা

ঠিক একইভাবে যিনি জীবনানন্দ আজ পড়লেন প্রথম বা বিনয়ম তারও এরকম আনন্দ-উল্লাস হয় .... আবার অন্য প্রান্তে আমার অনেক বন্ধু বান্ধব এরকম প্রয়োগ গত ১৫/২০বছর পড়ে পড়ে আর তত উল্লাস-আনন্দ পাননা ... হয়তো পাঠকের পাঠ-ইনডেক্সের সঙ্গে ভ্যারি করে এই সৌন্দর্যবোধ বা উল্লাসবোধ, এমনকি নতুনত্ব .....

ব্রাত্য :

"সঠিক ধ্বনি সংকলন কবি আর পাঠককে একত্র করে এবারে শেষ প্রশ্নটায়... যখন অনুভবে কোনো কবিতা ধরা দেয় তা সম্পূর্ণ ভাষাহীন, তার কোনো কথা নেই।"

ধ্বনিসংকলন, ধ্বনির উত্স, উত্সধ্বনি ইত্যাদিই যদি আমাদের উদ্দেশ্য হয় তাহলে শব্দের শৃঙ্খল, বিশেষতঃ লিখিত শব্দ থেকে পাঠককে মুক্ত করে যন্ত্রসঙ্গীতই পৌঁছে দেওয়া উচিত! তাহলে যে উদ্দেশ্যে এত আলোচনা তা হয়তো সার্থক হতে পারে। কবিতা বোধহয় পরিচিত শব্দ দিয়ে সাজানো আর ভাবের গুণে পরিচিতের অধিক অনুভূতি ফুটিয়ে তোলে। অপরিচিত শব্দজোট (বা শব্দঘোট) দিয়ে ঘাবড়ে দিতে চায়না। যে খানে নতুন কোন শব্দ বা শব্দজোট তৈরি হয়, চৌকাঠটা অনন্তঃ সহজ ও মসৃণ রাখা হয়, যাতে হোঁচট না খেতে হয়।

অনুভবে যে কবিতা ধরা দেয় তা ভাষাহীন, "তার কোনো কথা নেই।" এগুলোর একরকম মানে বুঝলাম, কিন্তু ভাল কবিতা পড়ে তো অনেক সময় তখন বা পরে অথবা বহুবছর পরেও আমরা হুবহু এক দু লাইন বলতে পারি বা বেশ কিছু লাইন ঠিক পর পর অনুভবে জেগে ওঠে, গুণগুণ করে ওঠে, তা তো ভাষাহীনও নয়, কথাহীনও নয়। এই ব্যাপারটি তাই একমত হতে পারলামনা। তবে জানতে ইচ্ছে করছে আপনার কাছে, আপনারও কি এরকম হয়, অর্থাৎ ভাল লাগা কবিতা আপনার কাছে কথাহীন অনুভবমাত্র হয়ে যায়? অথচ আপনিই আবার ভাল লাগার অনুভব থেকে ভাল লাগা লাইন উদ্ধৃতি করেছেন কথাসমেত! এই ধোঁয়াশা একটু খোলসা করবেন।

রুণা :

ব্রাত্য আপনি ধোঁয়াশায় ছিলেন সে বরং ভালো ছিল, আমার মত কম বুদ্ধির মানুষের কাছে কিছু শুনলে হয়ত ধোঁয়াশা ছেড়ে কুয়াশায় আবৃত হবেন

তবু একটু চেষ্টা দিই...
আমি যে ভালো লাগা লাইন উদ্ধৃতি দিয়েছি তা কবির ভাষাহীন অনুভব নয়, উত্স কবিতার কবিকৃত অনুবাদ। এখন প্রশ্ন হল উত্স কবিতা কি?

বিশ্ব ও ব্রহ্মান্ডের সমস্ত পদার্থ ও প্রাণীর উত্সকণা (কোর মেটিরিয়াল) আর তাদের সিস্টেম এক। সুতরাং একই তরঙ্গ সৃষ্টি করে। আর সেই তরঙ্গ সমুদ্রেই আমরা বসত করি। যখন এই তরঙ্গের স্পন্দন সৃষ্টি করে একটি স্ফুলিঙ্গ, তা অস্বাভাবিক ঘটনায় আমাদের অবহিত করে এবং তৈরি করে একটি ভাবনা। এই ঘটনার বোধই হল কবিতা। যেটাকে বারীন ঘোষাল বললেন উত্স কবিতা। যেহেতু কবিতা ভাষাহীন একটি অনুভব, তাই তাকে প্রকাশ করার জন্য কবি ব্যবহার করেন নিজস্ব কাব্যভাষা। এইখানে কবি ওই উত্স কবিতাটাকে অনুবাদ করে একটি কবিতালিপি তৈরি করলেন। যা ওই উত্স কবিতার কাছাকাছি কিছু প্রকাশ কিন্তু কখনই এক নয়। আবার পাঠক যখন পড়লেন দ্বিতীয়বার অনুবাদ হল। যতবার পাঠক পড়বেন ততবার অনুদিত হবে (রেফঃ "অতিচেতনার কথা"-কবি বারীন ঘোষাল)

সুতরাং যে লাইন টা মনে রাখি তা ওই অনুদিত কবিতা, যা মূল কবিতা থেকে বিচ্যুত। আসলে পাঠক কবির অনুবাদ করার মুন্সিয়ানাকে প্রশংসা বা নিন্দা করেন, কবিতাটির নয়।

ব্রাত্য :

"আমি যে ভালো লাগা লাইন উদ্ধৃতি দিয়েছি তা কবির ভাষাহীন অনুভব নয়, উত্স কবিতার কবিকৃত অনুবাদ।"

এখন কথা হচ্ছে যে আপনি এই অনুবাদ স্মরণে রাখছেন কি করে ? কি করে কখনো কখনো কিছু লাইন গেঁথে যাচ্ছে অনুভবে ? যা আমার আপনার অনুভবে চিরস্থায়ী স্পন্দন রাখছে আবার সেই স্পন্দন উদ্ধৃতিআকারে আরেকটি বা আরো বহুমানবমনে চিরস্পন্দন রাখছে তা কি স্বয়ং মহান কবিতা নয় ? বলুন আপনি নিজে বলুন, উদ্ধৃতির বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে এসে বলুন।

তথাকথিত উত্সকবিতা থেকে অনুবাদ করা একটি কবিতালিপি বা অনুদিত কবিতাকেই তো আমরা সোজাসাপটা ভাষায় "কবিতা" বলি। নাকি??

কবিতার পেছনে কবির মনের একটি ভাব, স্ফুলিঙ্গ, তরঙ্গ বা ভাবনা কাজ করে, শব্দে তা অনেকটা ধরা যায় বা কিছুটা ধরা যায় এরকমই আমরা জেনে এসেছি, আবারও পাঠকের মনেও এই ভাবের অনেকটা বা কিছুটা বা ভিন্ন ভাবের সঞ্চার ঘটে । এই যা কিছু ঘটে তা ঐ লিখিত বা আবৃত্তি করা যে বস্তুটি ঘিরে তাকেই আমরা কবিতা বলে জানি । কবির মনের ভাবই তো কবিতার উত্স এতো স্বতঃসিদ্ধ । আমরা কি তবে ভুল জানি, কিন্তু যুক্তি বা আবেগ কোনোটা দিয়েই তো ভুল পাচ্ছিনা যে এই অযথা ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে কেন যেতে হবে!!

তবে জানতে ইচ্ছা করছে আপনার নিজের ভাবনা কোনটি, আমি যেটি বললাম নাকি আপনি যাকে বারবার উদ্ধৃত করছেন তারটি, নাকি তৃতীয় কিছু?

এ ছাড়াও আরেকটি ব্যাপারে আমার ঘোরতর দ্বিচারিতা লাগছে, উদ্ধৃত কবি বা তার কবিতার বইয়ের সংকলনে বলা থাকেনা - এটির কবির নয়, কবিতালিপিকারের বই, তা না থাক, এটা তো বলে দেওয়া জরুরী বিজ্ঞাপনে বা বইতে যে এগুলি কবিতালিপির সংকলন বা অনুদিত কবিতার সংকলন ? নতুন কবিতা নয়, নতুন কবিতালিপি !! এই মহাকুটিল ধোঁয়াশা অনুগ্রহ করে দূর করুন তাতে কুয়াশা এলেও আশা করি রোদ্দুরও আসবে!

সরলম :

"বিশ্ব ও ব্রহ্মান্ডের সমস্ত পদার্থ ও প্রাণীর উত্সকণা (কোর মেটিরিয়াল) আর তাদের সিস্টেম এক। সুতরাং একই তরঙ্গ সৃষ্টি করে। আর সেই তরঙ্গ সমুদ্রেই আমরা বসত করি। যখন এই তরঙ্গের স্পন্দন সৃষ্টি করে একটি স্ফুলিঙ্গ, তা অস্বাভাবিক ঘটনায় আমাদের অবহিত করে এবং তৈরি করে একটি ভাবনা।"

এই ভাবনা কি শুধু কবিতারই জন্ম দেয়? ছবি, গান, গল্প এগুলোর জন্ম দেয় না?

এইবার এই সরলম নিবেদন চার্টটা দেখা যাক

নতুন নাম যে নামে আমরা জানি
------------------------------------------------------------------------
উত্সকবিতা == কবির মনের ভাব ইত্যাদি
কবিতালিপি == কবিতা
অনুবাদ, ২য়, ৩য় ও পরবর্তী == পাঠকের মনের ভাব সময়াভেদে যা ভিন্ন

অর্থাৎ একই বস্তুর ট্যাক্সোনমিকাল বা টার্মিনোলজিকাল পরিবর্তনের স্বপক্ষে ও বিপক্ষে আলোচনা হচ্ছে। যে টার্মিনোলজিতে এ যাবত্ আমরা অভ্যস্ত তাতে মনে হয় না কোন অসুবিধা হচ্ছে। এই ধরণের বাহ্য পরিবর্তন ঘটিয়ে আসল বস্তুটি পাঠকের পাতে যা দেওয়া হয় তার মান অথবা বাংলা ভাষার প্রীতি-প্রসার কিম্বা সাহিত্য অনুরাগীদের অনুরাগ এ যাবত্ বাড়ানো গেছে এমনও নয়।
তাই, গাঁয়ে যা মানবে তাকেই প্রাধান্য দিলে কেমন হয়?

মায়া :

ব্রাত্য ও সরলম-এর প্রশ্ন ও ব্যাখ্যাগুলো খুব সঙ্গত ও গ্রহণীয় মনে হচ্ছে। একটা লেখা (গল্প বা কবিতা) পড়ে তার উত্স (উত্সলেখা বা লেখকমনের ভাব) জানার প্রয়োজন আমাদের কতখানি? তা না জানলে কি আমরা লেখার স্বাদ আস্বাদনে ব্যর্থ হই? না মনে হয়। রুনাদেবীর জবাব জানতে পারলে ভালো হত।
খুব হৃদয়গ্রাহী ও মূল্যবান আলোচনা। চলতে থাকুক।

কায়া :

Old wine in new bottle
Kavi-r maner vabna, tar actual lekha ar pathak tar bivinna bayase tar ja mane karen egula to kichu kichu parimane alada hay, hatei pare. Amra ta bes valoi jani. Anek samay lekhakrao bale thaken ja vebechilam, ja chaichilam ta sabta futiye tulte parini lekhatay.
Ajatha nam-dham change kare lav achhe ki !!!!!!!!!!!!

প্রাপঞ্চ :

বিশ্ব ও ব্রহ্মান্ডের সমস্ত পদার্থ ও প্রাণীর উৎসকণা (কোর মেটিরিয়াল) আর তাদের সিস্টেম এক। সুতরাং একই তরঙ্গ সৃষ্টি করে।

সুতরাং আপনার বা কারোর উদ্ভাবিত উত্সকবিতা আর কবিতালিপিও কোর মেটিরিয়াল আর সিস্টেমগতভাবে এক, তাদেরকে আলাদা নামে ডাকব কেন ?

সুতরাং একই তরঙ্গ সৃষ্টি করে।

তাই যদি হবে তাহলে শব্দতরঙ্গ, বিদ্যুত্ ইত্যাদি নানা তরঙ্গ খেলে বেড়ায় কেন ? হয়তো এক তরঙ্গ আরেক তরঙ্গে রূপান্তরিত করা যায়, কিন্তু তারা স্বাভাবিকভাবে আলাদা আলাদা প্রাপ্য।
এছাড়াও সবার কোর মেটেরিয়াল এক এটাও ঠিক নয়, পৃথিবী আর ব্ল্যাক হোলের কোর মেটেরিয়াল কি এক?

সিদ্ধার্থ :

Asole pathok Kobir Onubaad korar munshiana ke proshongsha Ba ninda koren, kobitatir noi.....

Quoted and preserved with care.....

রুণা :

আপনাদের এইসব মূল্যবান আলাপ আলোচনা আমার খোঁজকে আমার জিজ্ঞাসাকে আরো তীব্র করুক...আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা আপনাদের সবাইকে... এভাবেই আমাদের দিগন্ত আদিগন্ত হোক এই কামনায়...

সকলে ভালো থাকুন...
সবাইকে ঈদ ও দুর্গাপূজোর অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই...

কবিতার উপর আমার নিজের একটা লেখা : আমার কবিতা-ভাবনা; কবির যন্ত্রণা


পরিমার্জিত/রিপোস্টেড
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৪৪
১৬টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১০)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২৫


আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-৯)

চাও নাহি চাও, ডাকো নাহি ডাকো,
কাছেতে আমার থাকো নাহি থাকো,
যাবো সাথে সাথে, রব পায় পায়, রব গায় গায় মিশি-

পরদিন সকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ল্যান্ড অব অপরচুনিটি

লিখেছেন সালাহ উদ্দিন শুভ, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৪



বাংলাদেশ..
বলা হয়ে থাকে ল্যান্ড অব অপরচুনিটি।
গভর্নমেন্ট থেকে শুরু করে ইয়ুথ ফোরামগুলো সবাই আপনাকে উদ্যোক্তা হতে বলবে। আপনিও অনার্স পাস করে শুরু করবেন লাখ টাকা ইনভেষ্টে আপনার পদযাত্রা। অতঃপর আসল... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমন যদি হতো আহা!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯



©কাজী ফাতেমা ছবি

এমন যদি হতো হঠাৎ, ঘুমের ঘোরে আমি,
ডানা মেলে উড়ে গিয়ে, মেয়েবেলায় থামি!
যেখানটাতে গরুর রশির, দোলনা আছে পাতা,
মাথার উপর যেখানটাতে, বটবৃক্ষের ছাতা।

এমন কেনো হয় না আহা, অতীত পাই না... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই!

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৭


রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবী তুলাই যায়, তবে আপনাকে বুঝতে হবে এমন ঘটনা বাংলাদেশে এবারই প্রথম নয়। এদেশে এরকম ভূরিভুরি ঘটনার জন্ম হয়ে অপ্রাপ্ত অবস্থাতেই মৃত্যু ঘটেছে। সুতরাং কেউ যদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাপড় দেবো- খুলে.....

লিখেছেন কিরমানী লিটন, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৪



শুনো প্রভু, নাটের গুরু
শুনো প্রিয় মোদি,
দেশটা পুরো নিতে পারো
বিনিময়ে গদি।

ফেনী সেঁচে পানি দেবো
ইলিশ দেবো ফাও,
মংলা দেবো পায়রা দেবো
টিপাই যদি চাও।

পদ্মা বেঁধে রাস্তা দেবো
সাগর দেবো তুলে,
যুদ্ধ বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×