দাদা তার নাম ‘আফজাল’ মিয়া রেখেছিল, কিন্তু বড়ো হতে হতে
সে দেখলো, সে হয়ে গেছে ‘আবজাইল্যা’।
সকালে ‘আবজাইল্যা’ কাঁচামরিচে বাসি পান্তাভাত খেয়ে কামলা দিতে যায়
তার শুকনো শরীর, বউয়েরও।
বিয়ে করেছে ৭ বছর হলো; এরই মধ্যে ৪টা বাচ্চা তার
প্রথমটা মেয়ে ছিল। বছর না ঘুরতেই আরেকটা। সেটাও মেয়ে।
ছেলে হলে বাপের সাথে কামলায় যেতে পারবে, কিন্তু ৩ নম্বরটাও মেয়ে
তারা পরিবার-পরিকল্পনা বোঝে না। রাতের বেলা বিনোদন ঐ একটাই।
৪ নম্বরটা মেয়ে হবার পর রাগে-ক্ষোভে-দুঃখে সে বউকে পিটিয়েছিল
এরপর মাঝে-মাঝেই পেটায় আর ‘অলইক্ষ্যা মাইয়া’ বলে বকাবকি করে
ভাঙা তলপেট নিয়ে ‘আবজাইল্যা’র বউ মাঝি বাড়িতে সকালসন্ধ্যা কাজ করে
বড়ো সাহেবের নেকনজর পাবার চেষ্টা সে করে নি তা নয়, কিন্তু
চামড়া-ঝুলে-পড়া তার শরীরের প্রতি বড়ো সাহেবের কোনো আগ্রহ বোঝা যায় নি
খিদের চোটে মেয়েগুলো খাবলাখাবলি করে; আবজাইল্যা হয়ত
আরও কিছু মেয়ের জন্ম দিতে পারবে, কিন্তু ওদের জন্য থালা ভরে ভাত
এনে দিতে পারবে কিনা, তা সে জানে না
আমাদের আফজাল মিয়াদের গল্প এমনই। ওদের জন্য চিন্তা করার
কেউ থাকতে পারে, এটা যেমন তারা ভাবে না, বা বোঝে না,
তেমনি ওদের জন্য কেউ চিন্তা করে কিনা, তাও তারা
কখনো জানতে পারে না। তবে, ওদের জীবনের চিন্তা ওদেরই যে করতে হয়,
সেটা তারা ঢের ভালোভাবে জানে।
২১ এপ্রিল ২০১০ রাত ১১:২৩
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২১ রাত ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




