FPTP - ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট। বাংলাদেশের ভোটিং পদ্ধতিতে যে-ভাবে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হয়, সেটার নাম ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট। অর্থাৎ, একটা আসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট প্রাপ্ত ব্যক্তিই বিজয়ীই হোন। এ নিয়ে অতীতে বেশ কিছু পোস্টে আমি আলোচনা করেছি। ধরুন, কোনো আসনে বিজয়ী ব্যক্তির প্রাপ্ত ভোট হলো ১০০০০০। তার নিকটতম ব্যক্তির প্রাপ্ত ভোট ৯৯৯৯৯। পার্থক্য মাত্র ১ ভোট। এই ১ ভোটই নির্ধারণ করে দিচ্ছে বিজয়ী ব্যক্তি কে হবেন।
কাকতালীয়ভাবে এবং থিওরেটিক্যালির যদি বাংলাদেশের ৩০০টা আসনেই এভাবে মাত্র ১ ভোটের পার্থক্য নিয়ে একটি দলই ৩০০টা আসন পেয়ে যায়, তাহলে সারাদেশে মাত্র ৩০০ ভোটের পার্থক্য নিয়ে একটা দল বিজয়ী, অন্য দল পরাজিত।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কোনো দল সারাদেশে বেশি ভোট পেয়েও আসন সংখ্যার দিক থেকে পরাজিত হতে পারে।
৯১ নির্বাচনে
বিএনপি ≈ 30.8%, আসন 140
আওয়ামী লীগ ≈ 30.1%, আসন 88
(আমি এ-আই থেকে এটা নিয়েছি। একটা আওয়ামী প্রচার আছে যে ৯১ সালে আওয়ামী লীগ সর্বমোট ভোটে বিএনপির চেয়ে বেশি ছিল, আমি অন লাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যদিও এটার কোনো সত্যতা পাই নি)
১৯৯৬ নির্বাচনে
আওয়ামী লীগ ≈ 37.4%, 146
বিএনপি≈ 33.6%, আসন 116
২০০১ নির্বাচনে
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট≈ 40.9%, 193
আওয়ামী লীগ ≈ 40.1%, আসন 62
উপরের নির্বাচনী ফলাফল থেকে দেখা যায়, সর্বমোট ভোট পার্থক্য খুব কম হলেও আসন সংখ্যার ব্যবধান অনেক বেশি হতে পারে।
এই পদ্ধতির এই দুর্বলতার জন্য পৃথিবীর বহু দেশে এফপিটিপি এবং পি-আর পদ্ধতির মিশ্রণে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।
আমাদের দেশেও জামায়াতসহ আরো বেশকিছু দল শুরুতে শুধু পি-আর পদ্ধতির দাবি তুলছিল। শেষ পর্যন্ত উচ্চকক্ষের বিধান রেখে উচ্চকক্ষে পি-আর পদ্ধতিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়।
খলিল মাহ্মুদ
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




