somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

FPTP ভোটিং পদ্ধতিটা এমন যে সারাদেশে ভোট পার্থক্য ৩০০ হলেও এক দল ৩০০, অন্য দল ০ আসন পেতে পারে

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

FPTP - ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট। বাংলাদেশের ভোটিং পদ্ধতিতে যে-ভাবে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হয়, সেটার নাম ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট। অর্থাৎ, একটা আসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট প্রাপ্ত ব্যক্তিই বিজয়ীই হোন। এ নিয়ে অতীতে বেশ কিছু পোস্টে আমি আলোচনা করেছি। ধরুন, কোনো আসনে বিজয়ী ব্যক্তির প্রাপ্ত ভোট হলো ১০০০০০। তার নিকটতম ব্যক্তির প্রাপ্ত ভোট ৯৯৯৯৯। পার্থক্য মাত্র ১ ভোট। এই ১ ভোটই নির্ধারণ করে দিচ্ছে বিজয়ী ব্যক্তি কে হবেন।

কাকতালীয়ভাবে এবং থিওরেটিক্যালির যদি বাংলাদেশের ৩০০টা আসনেই এভাবে মাত্র ১ ভোটের পার্থক্য নিয়ে একটি দলই ৩০০টা আসন পেয়ে যায়, তাহলে সারাদেশে মাত্র ৩০০ ভোটের পার্থক্য নিয়ে একটা দল বিজয়ী, অন্য দল পরাজিত।

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কোনো দল সারাদেশে বেশি ভোট পেয়েও আসন সংখ্যার দিক থেকে পরাজিত হতে পারে।

৯১ নির্বাচনে

বিএনপি ≈ 30.8%, আসন 140
আওয়ামী লীগ ≈ 30.1%, আসন 88
(আমি এ-আই থেকে এটা নিয়েছি। একটা আওয়ামী প্রচার আছে যে ৯১ সালে আওয়ামী লীগ সর্বমোট ভোটে বিএনপির চেয়ে বেশি ছিল, আমি অন লাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যদিও এটার কোনো সত্যতা পাই নি)

১৯৯৬ নির্বাচনে

আওয়ামী লীগ ≈ 37.4%, 146
বিএনপি≈ 33.6%, আসন 116

২০০১ নির্বাচনে

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট≈ 40.9%, 193
আওয়ামী লীগ ≈ 40.1%, আসন 62

উপরের নির্বাচনী ফলাফল থেকে দেখা যায়, সর্বমোট ভোট পার্থক্য খুব কম হলেও আসন সংখ্যার ব্যবধান অনেক বেশি হতে পারে।

এই পদ্ধতির এই দুর্বলতার জন্য পৃথিবীর বহু দেশে এফপিটিপি এবং পি-আর পদ্ধতির মিশ্রণে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।

আমাদের দেশেও জামায়াতসহ আরো বেশকিছু দল শুরুতে শুধু পি-আর পদ্ধতির দাবি তুলছিল। শেষ পর্যন্ত উচ্চকক্ষের বিধান রেখে উচ্চকক্ষে পি-আর পদ্ধতিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়।

খলিল মাহ্‌মুদ
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×