somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রমীলা

২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- আমি তোর প্রেম চাই, প্রমীলা।

স্থির চোখে তাকালে। চোখের ভাষা আমি কোনোদিনই বুঝি নি।
কেউ বলে খরা, কেউ বলে ঝড়। আগুন বা সমুদ্র বলে কেউ কেউ।
ক্রূর বা কোমলও হতে পারে এ চাহনি।

অনেকটা সময় ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বললে,
ওরে ও ছন্নছাড়া, এভাবে কি প্রেমিক হওয়া যায়?

কীভাবে প্রেমিক হওয়া যায়, পাঠ্যপুস্তকের কলামে এরকম
কোনো রচনা আমরা পড়ি নি। চিকন চিরুনিতে মাথার চুল
সাজাতে সাজাতে বড়ো বুবুরা কখনো বলেন নি প্রেমিক হতে হলে
আমাকে কী কী শিখতে হবে, কী কী জানতে হবে।

কাজী নজরুলের বোধন থেকে দীক্ষা নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা
মসীময় করে তোমার পদ্মহৃদয়ে অর্ঘ্য দিয়েছি।
আমি তো জন্ম থেকেই প্রেমের কবিতা লিখেছি, চাই নি কখনো
বিপ্লবী হতে; বারুদের গন্ধ মুছে দিতে চেয়েছি প্রেমের সুবাসে
আমাকে প্রেম দে, প্রমীলা। আমি তোর প্রেম চাই।

- ওরে ও ছন্নছাড়া, এভাবে প্রেমিক হওয়া যায় না।

আমার নীললোহিত আমাকে টেনে তোলেন নিকষ
গহ্বর থেকে। প্রেমের জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিই।
হিমালয়শৃঙ্গের বরফখণ্ড মাথায় নিয়ে ডুব দিই
ভিসুভিয়াসের গলন্ত লাভায়।
আমি বাঁচবো না প্রেম ছাড়া। আমাকে প্রেম দে, প্রমীলা।

- ওরে ও অভাগা, পারলি না তুই। পারবি না প্রেমিক হতে।

আজও আমি জানি না প্রমীলা, কে তোমার প্রেমিক,
কে তোমার মন খুঁড়েছিল। আজও আমি শিখতে পারি নি
কী কী শর্তে বা যোগ্যতায় যুবকেরা প্রেমিক হয়ে ওঠে।
তোমার অনীহা কিংবা অবহেলা- কোন বিষে আমাকে
নীলকণ্ঠ করেছিলে, আমাকে কিছুই না জানিয়ে
কোথায় হারিয়ে গেলে।

কবিরা দুঃখের কবিতা লেখেন। দুঃখেরা পেছনে টেনেহেঁচড়ে
শতচ্ছিন্ন করে। দুঃখদের বাকলে আঁকড়ে থাকলে জীবনের
আলো ফোটে কি কখনো? আমি তো জেনেছি, বিমর্ষ বিলাপে
বক্ষ বিদীর্ণ করে সেখানেই জ্বলে ওঠে সুখসুখ চারাগাছ।
আমিও দুঃখ বুনেছি তাই। দুঃখে দুঃখে জীবন ধাবমান।

খা-খা আকাশ। তুমি কোথায় হারিয়ে গেছো, কিংবা লুকিয়ে,
তোমাকে কতদিন দেখি না। আমার চোখ পুড়ে যায়
পুড়ে যায় বুক। প্রমীলা- আমি তোর প্রেম চাই,
আমারে প্রেম দে প্রমীলা, আমারে প্রেম দে-
হৃদয়বিদারী চিৎকারে ফেটে খান খান হয়ে যায়
গনগনে আকাশ

সময় খুঁড়িয়ে হাঁটে, পেছনে চমকায় দুর্ধ্বর্ষ যৌবন।
প্রেম বা বাৎসল্য সবার জন্য হয় না। একফোঁটা অশ্রু বা
আশিস আমার জন্য নয়। সব কবিদের মতো আমিও অলীক
অন্বেষায় বিভোর- একদিন অকস্মাৎ আসমানের সিঁড়ি বেয়ে
নেমে আসবে অচেনা একজন; কোনো এক উদাসীন পথিকের
পেছনে দাঁড়াবে, আলগোছে কাঁধে রাখবে হাত; তারপর
নরম কণ্ঠে বলে উঠবে :

আমি তোর প্রেমিকা নই তাতে কী, বান্ধবী তো!

৭ এপ্রিল ২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×