somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৎ ও আত্মসংযমে একে অপরের সহায় হই

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলতে ফিরতে ও মিলামেশায় আমরা আমাদের আশপাশের মানুষের কাছে নিশ্চয়ই এমন ব্যবহার ও এমন কথাবার্তা আশা করতে পারি যা আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক এবং কষ্টদায়ক না।সেটা আমি আপনি হয়তো কেউ পাচ্ছি নয়তো কেউ পাচ্ছি না।

ভাবতে বসে গেলাম, আমরা কি একে অপরকে কষ্ট দিয়ে কথা বলেই মজা পাই বা অহেতুকই কষ্ট দিয়ে কথা দিয়ে কথা বলি।বিষয়টা নিয়ে গবেষণা করে দেখলাম যে, অনেকেই আমাদের কাছ থেকে কোনো কিছু আদায় করতে এমনভাবে কথা বলে ও বিভিন্ন ধরনের ভাবভঙ্গি প্রদর্শন করে যা হৃদয়ে ভয়ের সৃষ্টি করে।আমরা তখন অনেকেই তার কথা ও ভাবভঙ্গিমার কারণে ভয়ে সে যা আদায় করতে চায় তা তাকে দিয়ে দিই। আমরা তখন তার সঙ্গে বা তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করি।আবার এটাও লক্ষ্য করলাম যে, আমরা কেউ আছি এমন যে, কাউকে কোনো কিছু মানতে বাধ্য করতে এমনভাবে কথা বলি যা আক্রমনাত্মক এবং হৃদয়ে ভয় সৃষ্টি কারক।

আমার খুব জেদ হলো যে মানুষ এত খারাপ কেন?ভাবতে ভাবতে দেখলাম অনেক মানুষই কিন্তু ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই এমনটা করে থাকে। অনেক মানুষই কিন্তু সঠিক কিছু মানাতে এমনটা করে থাকে।তখন একটু স্বস্তি লাগলো নিজের মনে।আবার ভাবলাম, এমনটা না করলে কি দাবি আদায় হয় না বা সঠিক কিছু করতে বলা যায় না।

অবশেষে দেখলাম যে, আমার মধ্যে একটা স্বভাব আছে যা অনেকের মাঝেই আছে। স্বভাবটা এমন যে, নিজের মনে ভয়ের উদ্রেক সৃষ্টি না হলে অনেক সময়ই অনেকের ন্যায্যদাবিও পূরণ করতে মনের ভেতর থেকে সায় দেয়না।তখন আমরা তা করিও না।ভালো কোনো নিয়ম মানতে বললে তা মানিও না।ব্যাপারটা বুঝতে পেরে নিজের ওপরই খুব রাগ হয়ে গেল। সেদিন থেকেই আমি সরল মানুষের সরল দাবি পূরণে খুব আন্তরিক হতে থাকি।সরল মানুষের সরল সরল আবদার কোনো নেতিবাচক ভাবে না দেখেই মেনে নেওয়ার চেষ্টা করি। এভাবে আমার বেশ ভালোও লাগলো।আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি অনেক সৎ মানুষকে সৎ থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারছি।তাদের অন্যায়কারী না হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারছি। তাদেরকে আক্রমণাত্মক ব্যবহার ও কথাবার্তা থেকে দূরে রাখতে পারছি নিজের জায়গা থেকে।

এমন ভাবে দিন ভালোই কেটে গেল। কিন্তু হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমার কাছেরই কিছু মানুষ আমার এ গুণ দেখে আমাকে কথার জালে ফাঁসিয়ে আমাকে দিয়ে এমন এমন কাজ করাতে লাগলো যা আমার ওপর অবিচার হয়ে গেল। তারা আমাকে ঠকাতে লাগলো। তারা আমার মনের মধ্যে নেতিবাচক ভাবনার সৃষ্টি করলো।আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হতে লাগলো। একটা সময় গিয়ে দেখা গেল আমি সরল মানুষ গুলোকেও বাঁকা চোখে দেখা শুরু করলাম।আমিও মনের মধ্যে কথা পাকানো শুরু করলাম।এভাবে আস্তে আস্তে আমি ভালো কাজ করার উৎসাহও হারিয়ে ফেললাম।স্থির মানুষ ছিলাম হয়ে গেলাম অস্থির।মান্যকারী ছিলাম হয়ে গেলাম অমান্যকারী।হয়ে গেলাম রাগী মানুষ।

আশপাশের ভালো মানুষ আমার ব্যাপারে কষ্ট পেতে শুরু করলো। আমি বুঝতে পারলাম এভাবে তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছি আমি।আমার কারণে আমার আপনজন কষ্ট পাচ্ছে।তখনই কুরআনের আশ্রয় নিবো বলে ভাবলাম। কুরআনের অর্থও পড়লাম।একটা আয়াতও পেয়ে গেলাম। আয়াতটি হলো - “তোমরা সৎ ও আত্মসংযমে একে অপরের সহায় হও”
আয়াতটি পড়ে বুঝতে পারলাম যে আমারও কোনো দোষ নেই। আর দোষ নেই তাদের যারা সরলমনা। যারা মনের ফাঁক ফোকর রেখে কথা বলে না।যারা ন্যায্য আবদার ও ন্যায্য দাবি আদায়েও সৎ ও আত্মসংযমীই থাকে। আমি পুণরায় তাদেরকে আগের মতোই সৎ ও আত্মসংযমী থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে লাগলাম। আর যারা আমাকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে এড়িয়ে চলতে লাগলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ৯:৩৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×