somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারি ফ্যাসিজম, নো পাসারান: ছাড়ান নাই হে নব্যরাজাকার

০৩ রা জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই লেখা এভাবে লিখতে হচ্ছে কারণ বেশিরভাগ বেসরকারি টেলিভিশন বিটিভি দ্বারা ‌'অধিকৃত' হয়ে গেছে। প্রচার করছে সরকারি ভাষ্য। তারা একটি গাড়ির ওপর চড়াও হওয়ার বিচ্ছিন্ন ঘটনাকেই প্রধান করে তুলছে, ঢাকছে পুলিশি অত্যাচার। কর্মীরা রাস্তায় নামার আগেই কাউকে জাতীয় কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ের দরজা থেকে, কাউকে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহবাগ থেকে পল্টন পর্যন্ত আজ যে কোনো তরুণ-তরুণীই ছিল গ্রেফতার ও প্রহারযোগ্য। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আচরণকারীদের ওপর সম্পূর্ণ পুলিশী আক্রোশের খবর প্রচারিত না হওয়া স্পষ্টতই বারিধারারস্থ কাশিমবাজার কুঠির নির্দেশ।

তারপরো লক্ষণ শুভ, আঘাতে আঘাতে তারা জাগিয়ে তুলছে মানুষকে, প্রহারে প্রহারে খরচ করছে শক্তি। স্বৈরশাসনের পতনের শুরু এভাবেই হয়।

শাহবাগে, পল্টনে, মীরপুরে, মোহাম্মদপুরে, ঢাবিতে কেবল গ্রেফতার আর গ্রেফতার। ভোর সাতটায় জাদুঘরের সামনে থেকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পিটিয়ে একজনের পা ভাঙ্গে পুলিশ, একজনের চোখে আঙ্গুল ঢুকানোর চেষ্টা করে, মেয়েদের প্রত্যেকেই হয় চড়-থাপড়ের শিকার। তুলনায় পল্টন এলাকায় ভোরের গ্রেফতারে নির্যাতন কম ছিল। সবার আগে গ্রেফতার হন আনু মুহাম্মদ। অবশ্য, গনঅসন্তোষের ভয়ে ঘন্টাখানেক পরেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধসাজে ছিল পুলিশ ও র‌্যাব, জলকামান, টিয়ার-কামান। এ পর্যন্ত গ্রেফতার শতাধিক।

ভোরেই শাহবাগ-আজিজ মার্কেট-চারুকলা এলাকায় চলে পুলিশের দাঙ্গাবাজি অ্যাকশন। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে গ্রেফতার হন কবি অভিজিত দাস। সাড়ে আটটার দিকে সিপিবির পাশের গলি থেকে নিশ্চিত গ্রেফতার জেনে স্লোগান দিতে দিতে আসেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জোনায়েদ সাকি, আবু বকর রিপন, ছাত্র-যুব আন্দোলনের কামরুল ইসলাম সবুজ। দেখামাত্রই তাদের আটক করা হয়, ‘রক্ত দেব জীবন দেব, তেল-গ্যাস দেব না’ স্লোগান দিতে দিতে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন তাঁরা। নেতাদের গ্রেফতার দেখে দূরে দাড়ানো দীপক রায় স্থির থাকতে পারেনি। ছুটে আসা মাত্রই তাকেও আটক করা হয়। এখন পল্টন থানার হাজতঘর ভরা বিপ্লবী নেতাকর্মী।

মিছিল নিয়ে এগতে গিয়ে গ্রেফতার হন শ্রমিকনেত্রী মোশরেফা মিশুসহ তার কয়েকজন সহযোদ্ধা। জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল্লাহর সঙ্গে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নেতা লেখক ফিরোজ আহমেদ, লেখক ও কর্মী নাসরিন সিরাজ অ্যানি, কর্মী বিথী চৌধুরী। পুলিশ তুলে নিয়ে যায় তাদেরও।
১১টায় যখন ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ শেষ করে চলে যাচ্ছিল জাতীয় কমিটির ছাত্রকর্মীরা, ঠিক তখনই শতশত পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। টিসএসসির ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের খুঁজে খুঁজে গ্রেফতার করে। রমনা পার্কে পালিয়েও রেহাই পায়নি অনেকে। শাহবাগ থানার হাজত ভরে গেছে ঢাবির শিার্থীদের দিয়ে। খবর পাচ্ছি সামারি কোর্টে অনেকেরই কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে।

১১.৫০ এ বাসদের গলিতে চলছিল সমাবেশ। সেখানে পুলিশ হামলে পড়ে, ইচ্ছামতো লাঠিচার্জ করে, মেয়েদের রাস্তায় ফেলে পেটায়। আওয়ামী গণতন্ত্রের স্বাদ বিএনপি জামাতের গণতন্ত্রের মতো বড়ই মধুর। বিএনপি যা করেছিল ফুলবাড়ী-কানসাটে, আওয়ামী লীগ আজ তার করার মহড়া দিল রাজধানী শহরে।

কারা দেশদ্রোহী? যারা দেশ বিক্রি করে তারা, নাকি যারা দেশের সম্পদ বাঁচাতে জানবাজি লড়ে তারা? হরতাল করা যদি দেশদ্রোহ হয় তাহলে হাসিনা-খালেদা কতবার দেশদ্রোহ করেছেন? যে জুলুম আজ সরকারি বাহিনী করেছে, তা সেনাশাসনকেও হার মানাবে। স্পষ্টতই মার্কিন দূতাবাসের হুকুমে জাতীয় কমিটির কর্মীদের ওপর তারা নির্যাতন-গ্রেফতারের স্টিমরোলার চালিয়েছে। সরকারি দাপট দেখে প্রভুরা খুশি হবে, কিন্তু এই জুলুমবাজি তোমাদের ‘রাজাকার’ হিসেবে দেশবাসীর কাছে চিনিয়ে দিল। যে বিএনপি চুক্তির কপি দেখেনি বলে হরতাল সমর্থন করতে পারেনি, সেই বিএনপি-জামাত এখন মসনদলোভী হরতাল ডেকেছে ৪৮ ঘন্টার। স্পষ্টতই তাদের এই হরতাল ডাকা জাতীয় কমিটির আন্দোলন এবং সরকারি নির্যাতন-নিপীড়নকে কিছুটা আড়াল করতে সহায়ক হবে। তারা আগেও রাজাকার ছিল, এখন বাড়তি যোগ হয়েছে রাজনৈতিক লুম্পেন চরিত্র।

লুটপাটের সরকারের প্রতিহিংসাই আজ চিনিয়ে দিচ্ছে কারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, কারা জাতীয় সম্পদের পাহারাদার। যে অদৃষ্টপূর্ব ধড়পাকড় নির্যাতন চললো, তা ফ্যাসিবাদের সামিল। দেশবিক্রির ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সরকার আজ প্রমাণ করলো, জাতীয় কমিটিই জাতির হয়ে কথা বলছে। মুখোশ খসে পড়ছে আর ভীত হয়ে পড়ছে তারা। জাতীয় কমিটির প্রতিপক্ষতা করে সরকার জাতীয় কমিটিকে জনগণের কমিটি হিসেবে এক ধাপে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেল। প্রচার আন্দোলন এভাবেই পরিণত হচ্ছে প্রতিরোধ আন্দোলনে। প্রশ্ন হচ্ছে, সহস্র সাহসীরা বুক পেতে যে নির্যাতন-গ্রেফতার-লাঞ্ছনা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদের দালালদের রুখে দিচ্ছেন, তখন আপনি/আপনারা কী করছেন?
লক্ষণ শুভ, আঘাতে আঘাতে তারা জাগিয়ে তুলছে মানুষকে, প্রহারে প্রহারে খরচ করছে শক্তি। স্বৈরশাসনের পতনের শুরু এভাবেই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৪
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরমে নিউইয়র্কের লোকজন ক্রেংককি হয়ে যায়।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৮:৩৯



ঐতিহাসিক ঘটনা, আমি তখনো চাকুরীতে ছিলাম; আগষ্ট মাসের সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছি সাবওয়ে ট্রেনে; এই সময় সাবওয়ের ষ্টেশনগুলো দোযখের মত গরম, ডিজাইনে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা; ব্লগার হাসান কালবৈশাখী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। কবিতা-স্পর্ধিত মিলন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:১৭



কখনো সখনো নকল মলিন
হয় মনে এই জীবনবেলা
ধুসর বিকেলবেলা
শুধাই অস্ফুট স্বরে ‘হ্যাগা’
বাটপাড়ি অথবা জোচ্চুরি
কিছুইকি হয়নি শেখা লেকাজোকা
জীবন নামক অন্ধকুঠরিতে
গামছা দিয়ে চোখ দুটো বাঁধা
অথবা
তমসা ঘেরা চাঁদহীন নধর রাতে
প্রহরী ঘোরে নিঃশব্দে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেলস ফ্রম দ্য ক্যাফেঃ যে ক্যাফে আপনাকে নিয়ে যাবে অতীত ভ্রমনে

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৩১

যদি আপনি জানতে পারেন যে আপনার শহরেই এমন এমন একটা ক্যাফে আছে যেখানে গিয়ে আমি অতীতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন তাহলে আপনার মনভাব কেমন হবে? এমন যদি কিছু সম্ভব হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েরা বেবি বাম্পের ছবি দিলে তোমাদের জ্বলবে কেন???

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬



- ছবিতে - আরমিনা।

আমরা যখন কোন স্পেশাল মুহূর্ত সেলিব্রেট করি তখন ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করি। এটা এখন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ প্রিয় মানুষের সাথে রেস্টুরেন্টে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখ মুরালি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৫৬


ফুলটি দেখতে যে,ন সুন্দর তার নামটিওচমৎকার "সুখ মুরালি"।
২০১৮ সালের কথা, বৃক্ষকথা গ্রুপের বেশ কয়েকজন বৃক্ষপ্রেমির সাথে আমি গিয়েছিলাম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে। হাঁটতে হাঁটতে দেখতে দেখতে একসময় গার্ডেনের পশ্চিম-উত্তর কোনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×