
বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ বলেছেন, "কার্ডের মাধ্যমে দেশের লেনদেনের সঠিক চিত্র তুলে ধরা এবং সঠিক প্লাটফর্ম ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও নীতি নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে লেনদেন হলে দেশে লেনদেনের সঠিক চিত্র তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সহজেই মনিটরিং করা যাবে।এনপিএসবি ব্যতীত অন্যকোন চ্যানেলে লেনদেন করা হলে রেমিটেন্স বহি:মুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। যা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনটি নতুন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কোন বাধা সৃষ্টি করবে না। পিসিআই ডিএসএস সাটিফাইডের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্বচ্চ অবস্থান নিয়ে বলেছে, এনপিএসবি-এর নিরাপত্তা জোরদারে পিসিআই ডিএসএস কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ যদি মাস্টারকার্ড শিল্পের অগ্রগতির পথে বাধা বলে বহুল প্রচারিত হয়, তাহলে আমরা ধরে নিব মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের প্রচলিত রেগুলেটরি আইন স্বচ্চ ভাবে মানছে না। এমনকি এটাও অমূলক নয় যে ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট ট্রাঞ্জেকশনের বিপরীতে প্রাপ্ত ভ্যাট সুবিধায় জালিয়তি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রেগুলেটর হিসেবে NPSB ও BEFTN ট্রানজেকশন ছাড়া বাদবাকি লেনদেনের প্রাইমারি পেমেট রেকর্ড পাচ্ছে না বরং সেকেন্ডারি পেমেন্ট রেকর্ড নিতে ব্যাংক গুলোর উপর নির্ভরশীল। ফলে NPSB ও BEFTN নেটয়ার্কের আওতার বাইরে ঘটা লেনদেনের কোন স্বচ্ছতা নেই। এখানে কালো টাকার প্রবাহ, মানি লন্ডারিং ও বৈদেশিক অর্থ পাচার, জঙ্গী অর্থায়ন সহ বহু ম্যাক্রো এবং মাইক্রো ইকোনমিক বিষয় জড়িত। এর বাইরেও বলতে হয় বাংলাদেশে রাজস্ব বোর্ড প্রায়ই ভুলে ভরা ও কমিয়ে দেখানো আর্থিক ভলিউমের টার্শিয়ারি ডেটার উপর প্যাসিভ প্রসেসে ভ্যাট পোষ্ট প্রসেসে আদায় করে থাকে,ফলে দেশের নাগরিক প্রকৃত যে ভ্যাট পরিশোধ করছে তা রাজস্ব বোর্ডে জমা হচ্ছে না। এতে করে জাতীয় বাজেটে বছর বছর ভ্যাট আদায়ের টার্গেট লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং জনজীবন খরুচে হচ্ছে। কারিগরি উতকর্ষের এই যুগে এসে একটি দেশের আর্থিক রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশে ব্যাংক এর সেকেন্ডারি পেমেন্ট ডেটা এবং রাজস্ব রেগুলেটরি হিসেবে NBR এর টার্শিয়ারি ডেটার উপর নির্ভর করে থাকার কোন যুক্তিই থাকতে পারে না। বরং যারা এই ডিপেন্ডেন্সি গুলো জারি রাখতে চায় তাদের মতলব দুর্বিত্তায়িতই বলে আমরা ধরে নিব। রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও রাজস্ব লোপাট রোধ করতে NPSB ও BEFTN বেইজড স্বচ্চ ও নিরাপদ আইটি ইনফাস্ট্রাকচারে জোর দিতেই হবে। দেশি ও বিদেশী সকল ব্যাংকিং সেবাদানকারি ও মার্চেন্টদের এই আওতায় আসতে হবে। এই অবস্থানে কোনই আপোষ নয়!
ন্যাশনাল পেমেন্টে সুইচ বাংলাদেশ (NPSB) মাধ্যমে লেনদেন নিরাপদ নয় দাবি করে মাস্টারকার্ড বলেছে "বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি নেটোয়ার্ক Payment Card Industry Data Security Standard (PCI DSS) কমপ্লায়েন্ট নয়। এই বক্তব্য মিসলিডিং। মূলত ক্রেডিট কার্ড মোঘল মাস্টারকার্ড, ভিসা,এমেরিকান এক্সপ্রেস নিজেরা একটি প্লাস্টিক ক্রেডিট কার্ড সিকিউরিটি স্টান্ডার্ড তৈরি করে যা মুলত ক্রেডিট কার্ড বিপনণকারী মার্চেন্টদের জন্য প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি সুইচিং সিস্টেম PCI DSS কম্পায়েন্ট মানতে বাধ্য নয়। তবে সিকিউরিটি পারসস্পেক্টিভে এটা একটা উপদেশ হিসেবে আসতে পারতো যা কমপ্লায়েন্ট করে নেয়া অবশ্যই ভালো। মাস্টারকার্ড স্পষ্ট ভাবে বলতে পারে কোথায় কোথায় সিকিউরিটি ব্রেচ ও থ্রেট রয়েছে এবং সেসব উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে একযোগে কাজ করতে পারে।(এখানে আমরা স্বরণ করতে পারি, ওয়েব ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের সিকিউরিটি প্রসঙ্গ। গুগল মাইক্রোসফটকে তার ব্রাউজারের সিকিউরিটি ব্রেচ গুলো সমাধান সহ ধরিয়ে দিয়ে নিরাপদ অনলাইন সেবায় এক বিরাট মহানুভবতা দেখিয়েছে)। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড বাজারজাত করছে না বরং সে আন্তঃ ব্যাংক পেমেন্ট সীম লেইস করার একটা ট্রান্সপারেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্ম শুধু সীমিত তথ্য রেকর্ড করেবে যেমন সোর্স ও ডেস্টিনেশন একাউন্ট এবং আর্থিক ভলিউম। বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোন তথ্য রেকর্ড করবে না যদি না ট্রাঞ্জেকশন সন্দেহ যুক্ত হয় (লন্ডারিং, পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন কিংবা কালো টাকার প্রবাহ)।
মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ) সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেছেন, "অন্যান্য দেশে পেমেন্ট সিস্টেম গেটওয়ে ব্যাংকিংখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাইরে কারও কাছে থাকে। বাংলাদেশে এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে। সুতরাং নিয়ন্ত্রক সংস্থা আমাদের প্রতিযোগী। আমরা চাই একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ড এবং লেনদেন গেটওয়ে নির্ধারণের বিষয়টি ব্যাংকগুলোর উপর ছেড়ে দিতে।" এই বক্তব্যেই আসল মটিভ লুকিয়ে আছে যেখানে সন্দেহ হয় যে আসলে বিজনেইস কম্পিটিশন বাড়ার ভয়েই মাস্টারকার্ড নিরাপত্তার অস্পস্ট অভিযোগ এনেছে। এই বক্তব্যও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং মিসলিডিং কেননা ন্যাশনাল পেমেন্টে সুইচ বাংলাদেশ (NPSB) ও বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্র্যান্সফার নেটয়ার্ক (BEFTN) আন্তঃ ব্যাংক ফান্ড ট্রানজেকশন ইলেকট্রনিক ওয়ার এর মাধ্যমে সীমলেইস ও রিয়েল টাইম করার ইনফাস্ট্রাকচার, এটা ছাড়া বাংলাদেশের লোকাল ট্রানজেকশন ইলেকট্রনিক করা অসম্ভব।এর ফলে ব্যাংকিং লেনদেন সহজ ও দ্রুত হবে। ভিসা মাস্টারকার্ড এমেরিকান এক্সপ্রেসের পাশাপাশি লোকাল ট্রানজেকশনের জন্য স্থানীয় ক্রেডিট কার্ড বিজনেইসের দিগন্ত উন্মুক্ত হবে। উপরন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃ ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফারকে কম খরচে আনতে এমনকি খরচহীন করতে চায়। বাংলেদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফারে চার্জ রাখে না, রেগুলেটর হিসেবে রাখতে পারেও না। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিযোগী হয়ে উঠার কথা হীনমান্যতা। বরং আমরা স্পস্ট বলতে চাই, এইধরনের বক্তব্য ও তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি পূর্নাঙ্গ "পেমেন্ট গেইট ওয়ে" সুচনা করার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নিজেরা ব্যবসা একচেটিয়া ব্যবসা করতে চাইছে।একটি দেশের স্থানীয় লেনদেনে "স্থানীয় পেমেন্ট গেইট ওয়ে" থাকবে না বরং স্থানীয় লেনদেনে এক বা একাধিক বিদেশী কোম্পানি একচেটিয়া ব্যবসার অধিকার চাইবে এটা রীতিমত ন্যাক্কারজনক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভিসা মাস্টারকার্ডসহ অনলাইন লেনদেনের যাবতীয় কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনপিএসবির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। বর্তমানে মাস্টারকার্ডের লেনদেন এনপিএসবির আওতার বাইরে রয়েছে। দেশে বর্তমানে ৮০ লাখ মানুষ ডেবিট কার্ড, ২০ লাখ মানুষ ক্রেডিটকার্ড ব্যবহার করেন। তবে মাস্টারকার্ড ব্রান্ডেড কার্ড কি পরিমাণ আছে তার সঠিক তথ্য চাইলেও দিতে রাজি হয়নি মাস্টারকার্ড। বাংলাদেশে যাত্রার শুরুর চার বছর পার হলেও কতো সংখ্যক গ্রাহকের কার্ডে কত টাকার লেনদেন হয়েছে তার কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই। সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সব ধরনের লেনদেনের হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিলেও মাস্টারকার্ড কখনোই তা দেয়নি। এটা রীতিমত ন্যাক্কারজনক যে, অব্যহত সিকিউরিটির এই বৈশ্বিক অনিরাপদ সময়ে ২০ লাখ ক্রেডিট কার্ডের সন্দেহ যুক্ত ট্রানজেকশনেও বাংলাদেশের রেগুলেটরের কোন প্রাইমারি ডেটা এক্সেস নেই!
সামনে এগিয়ে যাওয়াঃ
১। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে NPSB এর সাথে সংযুক্ত বেসরকারি ব্যাংক ও কার্ড বিপণন কারী মার্চেন্ট গুলোর আইটি ইন্টারফেইসকে সিকিউরড করতে উচ্চ মান কাজ করা। প্রতিটি ব্যাংক ও মার্চেন্টের ক্লায়েন্ট ইন্টারফেইস ভিপিএন কানেক্টেড থাকবে এবং প্রতিটি ক্লায়েন্ট সিকিউরিটি গেইট ওয়ে হয়ে NPSB সার্ভারে রাউটেড হবে। এখানে ক্লায়েন্ট গুলো সার্টিফিকেইট অথোরিটি এবং সার্টিফিকেইট রেজিস্টারের সেন্ট্রাল এক্সেস পেয়ে সিকিউরড সেশন কানেক্ট করবে।
২। ব্যাংক গুলোকে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দুই স্তরের পাসয়ার্ড দিয়ে (সাধারণ লগইন পাস এবং কোড জেনারেটর দিয়ে রি-অথেন্টিকেইট, Challenge-Response বা Multi Factor Authentication) সিকিউরড করতে হবে ও এনক্রিপ্টেড ওয়েব ব্রাউজিং নিশ্চিত করতে হবে।
৩। যেহেতু NPSB ভেন্ডর (রাউটার ও সুইচ নির্মাতা) বিশ্বখ্যাত মার্কিন জায়ান্ট "সিসকো" তাই বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি "CISCO"র সাথে সিকিউরিটি গেইটওয়ে (SGw), IPSec/TSL/SSL Protocol, সিকিউরিটি সার্টিফিকেশন (CA, RA Client-Server Certificate Authorization) এবং সর্বোপরি AES (এডভ্যান্স সিকিউরিটি এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড) নিয়ে কাজ করতে পারে। AES একটি তিন স্তরের স্ট্রং এনক্রিপসন স্পেসিফিকেশন মেকানিজম যা ১৯২,২৫৬ ও ৫১২ বিটের সিকিউরিটি কি সাইজ নিয়ে পর পর তিন ধাপে ডেটা এনক্রিপশন করে (Tripple DES) যা সার্টিফিকেশন KEY সাইজ ২০৪৮ পর্যন্ত এক্সটেন্ড করে অতি উচ্চ নিরাপত্তা বিধান করে। সেই সাথে পয়েন্ট টু পয়েন্ট এঙ্ক্রিপশন (P2PE), Tokenization ইত্যাদি যাতে সফটওয়ার সাপোর্টে কভার থাকে তাও খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু CISCO এই খাতে মার্কেট লিডার তাই এটা ধর্তব্য যে CISCO routing/switching systems এইসব সাপোর্ট করে। শুধু দরকার সঠিক ও সিকিউরড নেটোয়ার্ক ডিজাইন ও বাস্তবায়ন। এই ধরনের উচ্চ সক্ষমতার সিকিউরড নেটোয়ার্ক খুব সহজেই PCI DSS কম্পায়েন্স পেয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশে ব্যাংকের উচিৎ বাইরের মিসলিডীং ইনফোতে কান না দিয়ে সরাসরি CISCO'র সাথে সিকিউরিটি প্রোজেক্টে যাওয়া।
৪। তবে বাংলাদেশের অনলাইন ব্যাংকিং সার্ভিস প্রভাইডার গুলো (ব্যাংক এবং অন্যান্য) PCIDSS, ISO 8583 এবং ইনফরমেশন সিকিউরিটির ISC^2 বা ISO 27001 ফলো করছে কিনা তার একটা অডিট হবার দরকার আছে। আমরা কিছু বিকাশ স্ক্যামিং (এটা অনলাইন ব্যাংকিং নয়, টেলি ব্যাংকিং। তথাপি এখানে সিকিউরিটি মেজার নিতে হবে ) এর কথা শুনেছি যেগুলো ষ্ট্যান্ডার্ড ফলো করলে ঠেকানো যেত। এখানে দুই স্তরের অথেটিকেশন প্রবর্তন, Challenge-Response বা Multi Factor Authentication বা এই ধরণের কোন ম্যাকানিজম নেই। সাধারণ ভাবে ব্যাংকগুলো অবশ্য PCI-DSS মানছে কারন তা না হলে VISA, Master, AMEX এসব অপারেট করতেই পারতো না। তথাপি একটা এন্ড টু এন্ড ( কোর নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে সার্ভিস প্রভাইডারের হাব নেটোয়ার্ক হয়ে ডিভাইস পর্যন্ত) মানসম্পন্ন সিকিউরিটি অডিটের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বেশি চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং টেলিকম ও নন টেলিকম ইন্টারফেইস (বিশেষ করে ussd gateway’র নন টেলিকম এপ্লিকেশন ইন্টারফেইস গুলো),মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই দেশের সিংহ ভাগ মানুষ টাকা লেনদেন শুরু করেছেন এবং এটা দ্রুত বর্ধনশীল।
৫। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ইন্টারফেইস সিকিউরিটির, ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি, স্টরেইজ সিকিউরিটির, সেশন সিকিউরিটির ইমপ্লিমেন্টেশনের এন্ড টু এন্ড স্কোপের বাইরে ইউজার ডিভাইস,ইউজার ডেটা সিকিউরিট, এন্টিভাইরাস ইত্যাদি নিয়েও কাজ করতে হবে। সিকিউরিটি ভালনারাবেলিটি নির্নয়ে সঠিক এলার্ম সিস্টেমও থাকা চাই। উপোল্লিখিত এন্ড টু এন্ড উচ্চ মান আইটি অডিটে এইসব ভালনারেবিলিটির দিকগুলো বেরিয়ে আসবে।
৬। পেমেন্ট সিস্টেমের আধুনিকায়ন, ই-ট্রাঞ্জেকশন ফেসিলিটেইট করা, ক্যাশলেইস সোসাইটি বাস্তবায়ন এবং একটি পুর্নাঙ্গ লোকাল পেমেন্ট গেইটওয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সূচনা করতে NPSB'র কোন বিকল্প নেই।NPSB এবং BEFTN একটি পুর্নাঙ্গ "পেমেন্ট গেইট ওয়ে" বাস্তবায়নের অত্যাবশ্যকীয় প্রাথমিক ধাপ যার সুফল ইতমধ্যেই ব্যাংক টু ব্যাংক ই ট্রানজেকশনে দৃশ্যমান। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে হলে সকল ব্যাংক, মার্চেন্ট এমনকি সকল বিজনেইসকে ন্যাশনাল পেমেন্ট ইনফাস্ট্রাকচারের ইউনিক ও সীম লেইস আমব্রেলার নিচে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আসতেই হবে। এর কোন ধরণের বিকল্প অপশন রাখা দেশের আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থ বিরোধী।
৭। পরবর্তি ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংককে সকল ইনফাস্ট্রাকচার ও মার্কেট প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে আধুনিক বিশ্বের নতুন ধারার পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম "NFC(Near field communication)" বাস্তবায়ন করতে হবে। যেখানে স্মার্ট ফোনর NFC প্ল্যাটফর্ম সরাসরি ব্যাংক একাউন্টের সাথে সংযুক্ত থাকবে (টেলি চার্জ ভিত্তিক ওয়ালেট নয়), ফলে স্মার্ট ফোন ডিজিটাল ব্যাংকিং এটিএম কার্ড হয়ে উঠে (স্মার্ট ফোন NFC এটিএম)।NFC ধীরে ধীরে কিছুটা অনিরাপদ প্ল্যাস্টিক কার্ডকে রিপ্লেইস করবে, এতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্মার্ট ফোনে বায়োমেট্রিক ইনপুট যোগ করাও সম্ভব হবে। আর NFC স্থানীয় গেইটওয়ের মাধ্যমে NPSB ও ইন্টার্নাল এক্সটার্নাল পেমেন্ট গেইটওয়ে গুলোর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যাশ লেইস ও সত্যিকারের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বেনিয়া ও দুর্বিত্ত মোটিভকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক নাগরিকের আর্থিক লেনদেনকে স্বচ্চ ও সাশ্রয়ী করে দেশের অর্থনিতিকে সামনে এগিয়ে নিতে সঠিক, অনৈতিক প্রভাবহীন নেতৃত্ব দিবে, যেকোন মিসলীডীং আপত্তি ও প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে একটি পুর্নাঙ্গ "পেমেন্ট গেইট ওয়ে" বাস্তবায়নের ধাপ গুলোর কাজ অতি দ্রুততায় এগিয়ে নিবে" সেটাই সচেতন নাগরিক প্রত্যাশা! একটি পুর্নাঙ্গ লোকাল পেমেন্ট গেইটওয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সূচনা করতে NPSB কানেক্টিভিটির কোন বিকল্প নেই। আর্থিক ইনফাস্ট্রাকচার নিরাপদ ও দুরদর্শি হোক। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




