somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাসূল (সা:) কে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ(শেষ পর্ব)

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বাংশ এখানে পড়ুন
Click This Link

*ওহুদের যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় তখন শত্রুপ রাসুল (সা:) লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করছিলো । এ অবস্থায় হযরত আবু তালহা (রা:) অস্থির হয়ে পড়েন রাসূল (সা:) কে হেফাজত করার জন্য । অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি রাসূল সা: এর উপর উপুড় হযে পড়েন, ফলে নিক্ষিপ্ত তীর টি তার পিঠে আঘাত হানে । আর এভাবেই তিনি রাসূল (সা:) কে নিজের জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করেন ।এজন্যই তাকে কে রাসূলের ঢাল বলা হয়ে থাকে....


*ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের মনোবল ভেঙ্গে ফেলার জন্য একটি গুজব ছড়ানো হলো যে রাসূল (সা:) ইন্তেকাল করেছেন।মদিনার এক আনসার মহিলা এ সংবাদ শুনে অস্থির হয়ে পড়েন এবং যুদ্ধ প্রান্তের দিেেক দৌড়াতে থাকেন । পথিমধ্যে একপথিক মহিলাকে বললো তুমি কোথায় যাচ্ছ ? মহিলা বললো, আমার রাসূলের কাছে যাচ্ছি। পথিক বললো , তুমি কি জানো যুদ্ধে তোমার স্বামী শহিদ হয়েছেন । প্রতিউত্তরে তিনি বললেন রাখ স্বামীর কথা আগে বলো আমার রাসূলের খবর কি??এ কথা বলে সামনের দিকে দৌড়াতে শুরু করে । পথিমধ্যে আরেক পথিকের সঙ্গে সাাৎ , তুমি কি শুনতে পেয়েছ যে তোমার ছেলে শাহাদাৎ বরন করেছে? তিনি জানতে চাইলেন আগে বলো আমার রাসূলের খবর কি ? এবং ব্যাস্ত হয়ে ছুটতে লাগলেন।

পথিমধ্যে অপর এক ব্যক্তি সংবাদ দিলেন যে, তুমি কি জানো যুদ্ধে তোমার পিতা শাহাদৎ বরণ করেছেন..... তিনি আবরও জানতে চাইলেন আগে বলো আমার রাসূলের খবর কি???

এ বলে দ্রুত যুদ্ধের ময়দানে পৌছলেন এবং রাসূল সো:) কে দেখে শান্ত হলেন এবং হে আল্লাহর রাসূল আপনাকে দেখে আমার সব মসিবত হালকা হয়ে গেলো ।

অর্থাৎ স্বামী, সন্তান ও পিতা হারানোর বেদনা রাসূলকে দেখে হালকা হয়ে গেলো। তিনি রাসূল (সা:) কে তার স্বামী , সন্তান , পিতা থেকেও বেশী ভালোবেসেছে ।

আর এধরনের নজির কিন্তু অনেক রয়েছে ইতিহাসের পাতায়...

রাসূল (সা:) নিজেই তার মহব্বতের তাৎপর্য এভাবে তুলে ধরেছেন ু "আমার সুন্নতকে যে ভালোবাসলো, সে যেন আমাকে ভালোবাসলো , আর যে আমাকে ভালোবাসলো , সে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবে (বুখারী)"

তাই আসুন সবাই মিলে রাসূলকে ভালোবেসে, রাসূলের আদর্শকে ভালোবেসে প্রকৃত মুমিন রুপে সুন্দর ও সূখী জীবন গড়ে তুলি এবং সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।

তবে এ কথা আমাদের অবশ্যই স্বরন রাখতে হবে যে, সন্তানকে তার পিতা-মাতার প্রতি এবং পিতা-মাতাকে তার সন্তানের প্রতি , স্বামীকে তার স্ত্রীর প্রতি এবং স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য এর কথা কোরআন ও নবী করীম (সা:) উল্লেখ করেছেন তা যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে....


রাসূল (সা:) বলেন " মহান আল্লাহ তাআলা তার ইচ্ছা অনুযায়ী সকল পাপই মা করেন, কিন্তু পিতামাতার অবাধ্যতার পাপ তিনি মা করেন না( বায়হাকী)

আরো বলেন "তারাই( পিতামাতা) তোমার বেহশত ও দোযখ" (ইবনে মাজাহ)

আর সন্তানের প্রতি পিতামাতার কর্তব্যের কথা বলতে গেলে ....

হাদিস শরীফে বর্নিত আছে , সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পরই পিতামাতার উপর তাদের চারটি হক আসিয়া দাড়ায়"

আর সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে তা আরো বৃদ্ধি পায়।

আবার স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্যের কথা বলতে গিয়ে..... হজরত (দ:) বলিয়াছেন " যে স্ত্রীলোক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়িয়াছে, রমজানে রোজা রাখিয়াছে, িনজের শরম গাহকে( কুকার্য হইতে) পবিত্র রাখিয়াছে এবং স্বামীর খেদমতে নিজেকে নিয়জিত রাখিয়াছে, সে বেহশতের 8টি দরজার যে কোন একটি দ্বারা প্রবেশ করিতে পারিবে নিজের ইচ্ছেমত"

তিনি আরো বলেন "যখন স্বামী আপন বিবিকে ডাকিবে তখনই আসিয়া হাজির হইতে হইবে, যদিও সে স্ত্রী তন্দুরের( দুধ জাল দেওয়ার কাজে নিবিষ্ট) উপর থাকে ।"

স্ত্রীর উপর স্বামীর যেমন কতগুলো হক আছে তেমনি স্বামীর উপরও স্ত্রীর কতগুলো হক আছে....এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন " ( হে মুসলমানগন) তোমরা নিজ বিবিদের সহিত সদাচার ও সদ্ব্যবহারে জীবন যাবন কর "
এ সম্পর্কে রাসূল (সা:) বলেছেন " তোমাদের কেহ যেন নিজের স্ত্রীকে ক্রীতদাসের ন্যায় প্রহার না করেন, অথচ তারপর দিবসের শেষভাগে ( অর্থাৎ কোনও সময়) তাহার সহিত সঙ্গম করিবে "
( বোখারী, মোছলেম)

(শেষ)


( আমি এ লেখাটি লিখতে অনুপ্রানিত হয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের লেকচারার এর লেকচার শুনে।একটি অনুষ্টানে তিনি এ সম্পর্কিত একটি বিবৃতি পেশ করেন।উনার নামটা মনে না আসাতে বলতে পারলাম না ।এ লেখাটি উনাকে উৎসর্গ করলাম)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×