শ্র্রমের প্রতি উৎসাহ প্রদান :ভিক্ষাবৃত্তির অন্যতম কারণ শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন না করা। তাই মহানবী (সা.) মানুষকে শ্রমের প্রতি উতসাহ প্রদান করেছেন এবং এর যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন। তিণি বলেন, "মানুষের স্বহস্তে উপার্জিত খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার আর নেই ,নিশ্চই আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.) স্বহস্তে উপার্জন দিয়ে আহার করতেন(বুখারি)"
রাসূল (সা.) নিজেও শ্রমজীবি ছিলেন।তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কাবাসীর বকরী চরাতেন(বুখারী)।
এছাড়া অন্য নবীরাও শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করতেন। কিন্তু কারো দুয়ারে প্রাথর্ী হতেন না।
ইচ্ছাকৃত বেকারত্বের প্রতি নিরুৎসাহ প্রদান:মহানবী(সা.) কর্মক্ষম ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত বসে থাকাকে কোনো অবস্থাতে সহ্য করতে পারতেন না। মহানবী (সা.) এর সাহাবী হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, 'কাউকে বেকার দেখলে আমার অত্যন্ত অসহ্য লাগে '(তিবরানি,মাজমাউজ জাওয়ায়িদ)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নামাজ শেষে বেকার বসে না থেকে তথা জীবিকার সন্ধানে পৃথীবিতে ছড়িয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে,"যখন নামাজ শেষ হয় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় , আর আল্লাহর অনুগ্রহ (তথা জীবিকা)অন্বেষণ কর "।(সূরা: জুমা আয়াত-11):মোটকথা হলো, ইসলাম বেকারত্বকে সমর্থন করেনা ।মহানবী (সা.)মানুষের কর্মময় জীবনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
ভিক্ষাবৃত্তিকে হারাম ঘোষনা:মহানবী (সা.) ভিক্ষাবৃত্তিকে হারাম তথা অবৈধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এর ভয়াবহ পরিণামের কথাও স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন। রাসূল (সা.) বলেন " কোনো ধনী, শক্তিশালী ও সুস্থ ব্যক্তির জন্য দান-খয়রাত গ্রহণ করা জায়েজ নয়(তিরমিজি)।
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি নিজেকে ভিক্ষা করার কাজে অব্যস্থ বানায় সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমন অবস্থায় যে, তার মুখে একটুকরা গোশতও থাকবে না"(বুখারি)।
ভিক্ষাবৃত্তি করে ধনী হওয়ার বাসনা সম্পর্কে রাসূল বলেন,"যে ব্যক্তি ধনী হওয়ার উদ্দেশ্যে ভিক্ষা চাইবে কেয়ামতের দিন তার চেহারা ক্ষতবিক্ষত হবে।আর ভিক্ষাকৃত মাল দোজখের উত্তপ্ত প্রস্তরখন্ঠের মতো হবে, যা সে ভক্ষণ করতে থাকবে।এখন যার ইচ্ছা নিজের জন্য এসব জিনিস বেশী পরিমাণে সংগ্রহ করুক আর যার ইচ্ছা কম করুক(তিরমিজ)।"
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা:হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) ভিক্ষাবৃত্তিকে অত্যন্ত অপছন্দেও দৃষ্টিতে দেখতেন। রাসূলে (সা.)-এর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতেন। আনসারিদের এক ব্যক্তি মহানবী (সা.) এর কাছে সাহায্যের আবেদন করলে তিনি তাকে জিঙ্গাসা করলেন , " তোমার ঘরে কি কিছু নেই?লোকটি বলল "একটি কম্বল ও একটি কাঠের পেয়ালা আছে"। মহানবী (সা.) বললেন "উভয়টি নিয়ে আস"।সে উভয়টি নিয়ে এলে রাসূল (সা.) এ দুটি বিক্রি করে বিক্রি করা অর্ধেক অর্থ দিয়ে তার নিজের ও পরিবারের জণ্য খাদ্য ক্রয় করে দিলেন এবং অর্ধেক টাকা দিয়ে 1টি কুড়াল কিণে দিয়ে বললেন যাও কাঠ কাটতে থাক এবং বিক্রি করতে থাক। খবরদার আমি যেন 15 দিন তোমাকে এখানে না দেখি। লোকটি চলে গেল এবং 15 দিন পর রাসুল সা. এর সাথে দেখা করতে আসলো।তখন তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছিল(আবু দাউদ,ইবনেমাজা)।
অবশ্য যারা বাস্তবেই কর্মক্ষমতাহীন ও অভাবী তাদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে রাসূল(সা.) তাদের জণ্য সাহায্য চাওয়া বৈধ বলে ঘোষনা করেছেন।তিনি বলেন, তিন ব্যক্তি ছাড়া অন্যেদের জন্য ভিক্ষা করা বা সাহায্য চাওয়া বৈধ নয় 1.একদম নি:স্ব, 2.দরিদ্র, 3.কঠিন পীড়িত।
কর্মক্ষমতা শূন্য,অভাবীদের জীবিকা নির্বাহ ও তাদের পুনর্বাসনের লক্ষে ধনীদের প্রতি দান-সদকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে "ধনীদের সম্পদে রয়েছে ফকির-বঞ্চিতদের অধিকার(সূরা- যারিয়াত:19)।
মোটকথা মহানবী (সা.) শ্রম দেয়ার যোগ্যতা রাখে এমন সুস্থ ,সবল ও শক্তিশালি ব্যক্তিকে ভিক্ষাবৃত্তি পরিহার করে শ্রমের প্রতি উতসাহিত করেছেন এবং নিজে তাদের কর্মসংস্তানের ব্যবস্থাা করেছেন।আর শ্রম দেওয়ার যোগ্যতা নেই এমন কর্মক্ষমতাশূন্য ব্যক্তির জন্য দান-খয়রাত গ্রহন করার অনুমতি এবং ধনীদের প্রতি তাদের দান করার নির্দেশ দিয়ে এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



