somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্তানের কাছে খোলা চিঠি।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথম আলো

প্রিয় সন্তান
আমি যখন বার্ধক্যে যাব, আশা করব, তুমি আমাকে বুঝবে এবং আমার সঙ্গে আচরণে ধৈর্যশীল হবে। ধরো, আমি যদি হঠাৎ খাওয়ার প্লেট ভেঙে ফেলি অথবা টেবিলে স্যুপ ফেলে নষ্ট করি, বুঝবে আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। আশা করি, তখন তুমি চিৎকার করবে না। আর যদি উঁচু স্বরে কথা বোলো, বুঝবে তখন আমি নিজের কাছে খুব ছোট হয়ে যাই, অসহায় আর অপরাধী মনে করি নিজেকে।
যখন আমার শ্রবণশক্তি শেষ হয়ে আসছে এবং শুনতে পাচ্ছি না আমাকে তুমি ঠিক কী বলছ, তখন আমাকে ‘বধির’ বলা উচিত নয়। দয়া করে তুমি আবার বলো অথবা লিখে দেখাও।
আমি দুঃখিত বাবা। বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, আমার পা দুর্বল হয়ে আসছে। আমি মনে মনে চাই, তোমার ধৈর্য থাকবে আমাকে দাঁড়াতে সাহায্য করতে। যেভাবে আমি তোমার পাশে ছিলাম, যখন তুমি ছোটবেলায় হাঁটতে শিখছিলে। আমার কিছু কথা শোনো, যখন আমি অসহায়ের মতো তোমাকে কিছু বলব...তোমার কাছে ভাঙা রেকর্ডের মতো লাগলেও আমার কথা শুনে বিরক্ত হোয়ো না। তোমার মনে আছে? তুমি ছোট থাকতে আমার কাছে একটা বেলুন চেয়েছিলে। সেটা না পাওয়া পর্যন্ত বারবার আমাকে সেটাই বলতে। সারাক্ষণ জিজ্ঞেস করতে, ‘কখন দেবে, কখন দেবে...।’
দয়া করে আমাকে গোসল করার জন্য জোর কোরো না। আমার শরীর দুর্বল। ঠান্ডায় বয়স্ক মানুষ খুব তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে যায়। তুমি যখন ছোট ছিলে...আমাকে তোমার পেছনে দৌড়াতে হতো। কারণ, তুমি গোসল করতে চাইতে না।
তোমার অলস সময়ে, আশা করব তুমি আমার সঙ্গে একটু সময়ের জন্য হলেও কথা বলবে। আমি সব সময় একাকিত্বে ভুগি এবং কথা বলার মানুষ পাই না। জানি তুমি ব্যস্ত থাকো কাজে অথবা আমার কথায় ও গল্পে আনন্দ পাও না তেমন, তবু আমার জন্য কিছু সময় রেখো। তোমার কি মনে পড়ে? যখন ছোট ছিলে, তখন তোমার টেডি বিয়ারের গল্প আমি শুনতাম।
যখন আমার মৃত্যু আসবে, তুমি কি আমার হাত ধরে থাকবে? যা আমাকে সাহস জোগাবে। তুমি চিন্তা কোরো না, যখন আমার সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে দেখা হবে, আমি তাঁর কানে কানে অবশ্যই বলব, তোমাকে অনুগ্রহ করতে...। কারণ, তুমি তোমার মা-বাবাকে ভালোবেসেছিলে।
ভালো থাকবে সব সময়

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ২:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×