বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেট আনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুনে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম ।
আশা ছিল হইত সরাসরি খেলা দেখতে পারবো । কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি ।
টিকিটের চাইতে সোনার হরিণ নামক বস্তুটিই মনে হয় বেশী সুলভ ।
টিকিটের জন্য মানুষ আগের দিন , রাত থেকে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে । অনেক জায়গায় নাকি মারামারিও হয়েছে টিকিট সংগ্রহ নিয়ে ।
বাঙ্গালীরা আসলেই ক্রিকেট পাগল জাতি । যাই হোক সারারাত লাইন এ দাড়িয়ে টিকেট কাটার মতো ধৈর্য আমার ছিলনা ।
তাই বাধ্য হয়েই রণে ভঙ্গ দিলাম । সরাসরি খেলা দেখার আশাও ছেড়ে দিলাম । আমি আবার মিরপুর ২ এ থাকি । বাসার পাশেই স্টেডিয়াম ।
স্টেডিয়াম অনেক সুন্দর করে সাজানো হলো । প্রতিদিন স্টেডিয়াম এর পাশ দিয়ে যাবার সময় মনটা ভীষণ খারাপ হয় খেলা দেখতে পারবনা বলে ।
কিছু দিন পরে শুনলাম প্রথম ম্যাচের ২০০ টাকার টিকেট নাকি তিন চার হাজার টাকাই বাইরে বিক্রি হচ্ছে । এতো টাকা দিয়েও মানুষ টিকেট কিনছে ?
বেশ অবাকই হলাম । ভাবলাম দেখি একটু চেষ্টা করে কম দামে টিকিট পায় কিনা ! আমার এক পরিচিত আঙ্কেল ছিলো যিনি রাজশাহী স্টেডিয়ামে চাকরী করতেন ।
তাকে ফোন করলাম । তিনি জানালেন টিকিটতো পাওয়া যাচ্ছেনা তারপরও তিনি পেলে আমাকে জানবেন । আমি অপেক্ষায় থাকলাম যদিও মনে মনে
ধরে নিয়েছি টিকেট পাবোনা । ভার্সিটিতে ক্লাস করছি এমন সময় ওই আঙ্কেল এর ফোন । রিসিভ করতে পারলামনা । স্যারের আবার মোবাইল অ্যালার্জি আছে।
ক্লাস এ ফোন ধরা নিষিদ্ধ । ক্লাস থেকে বের হয়ে আঙ্কেলকে ফোন দিলাম তিনি জানালেন বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড ম্যাচের টিকেট পাওয়া গেছে ।
দাম ৭০০ টাকা । তিনি অনেক কষ্ট করে জোগাড় করেছেন । আমার কিনতে রাজি না হওয়ার কোন কারণ ছিলনা । আমি বললাম আমার রাজশাহীর বাসায়
পাঠিয়ে দিন সেখানেই টাকা দিয়ে দিবে । যাই হোক অবশেষে টিকিট আমার বাসায় পৌছালো ২২ তারিখ । আমিতো সেই রকম খুশি ।
বন্ধুদের বললাম দোস্ত টিকেট তো পেয়েই গেলামরে ।
আমার চাচার ঢাকায় আসার কথা ২৪ তারিখ । তারই টিকিট নিয়ে আসার কথা । কিন্তু ঝামেলা হল ট্রেনের টিকেট কাটতে গিয়ে । ২৩ ও ২৪ তারিখের কোন টিকেট নাই ।
কি আর করার ২৫ তারিখ ট্রেনের টিকেট কাটলেন । এদিকে ২৫ তারিখ খেলা । আমি বললাম কুরিয়ার করে টিকেট পাঠিয়ে দিন । সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে
২৩ তারিখ আমাকে কুরিয়ার করা হলো । ২৪ তারিখ মিরপুর ১০ শাখা থেকে আমার পার্সেলটা বুঝে নিলাম । ভিতরে দারুন উত্তেজনা কাজ করছে । যাক শেষ পর্যন্ত খেলা
দেখতে পারবো । বাসায় আসে তাড়াতাড়ি খাম খুললাম । ভিতরে একটা হলুদ কাগজ । তাই থাকার কথা কারণ আমাকে বাসা থেকে জানানো হয়েছে টিকেটটা হলুদ কাগজে
মুডিয়ে তারপর খামে ভরে পাঠানো হয়েছে । কিন্তু একি হলুদ কাগজের ভিতরে যে কিছুই নেই ! আমি আকাশ থেকে পড়লাম ।সত্যিকার অর্থেই আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি । খামটা
ভালো করে খুজলাম নাহ টিকেট নেই । বাসায় ফোন করে সব খুলে বললাম । বললাম শুধু হলুদ কাগজটাই আছে টিকেট নাই ।
আমার অবস্থা এমন যে পারলে আমি কেঁদে ফেলি ।আমার বুঝতে বাকি নেই কুরিয়ার এর লোকরা আমার টিকেট চুরি করেছে ।
আমি সুন্দরবন কুরিয়ারে ছুটে গেলাম ।ওদিকে রাজশাহীতেও যেখানে বুকিং দেওয়া হয়েছে সেখানে আমার ভাইয়া গেলো । আমি ওদের ম্যানেজারের সাথে কথা বললাম ।
সব ঘটনা শুনে তারা বলে এ ব্যাপারে তাদের নাকি কিছুই করার নাই ।
রাজশাহিতে কমপ্লেইন করেও কোন লাভ হলোনা ।তাদের কথা খামের উপর নাকি লিখা দরকার ছিল এখানে টিকেট আছে তাহলে নাকি চুরি করতে পারত না ।
আমার মেজাজ ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো । মনে হলো এরা মানুষ না কুকুরের জাত ।এদের মুখে থু থু ফেলে চলে আসতে ইচ্ছে করলো ।
কিছুই করলাম না । কি বা করার আছে ? উপস্থিত সবাইকে ব্যাপারটা বললাম । অনেকেই বলল এ ধরনের ঘটনা নাকি প্রায়ই ঘটে । একজন বলল তারও নাকি একি ঘটনা ।
আরেকজন বলল আমের সিজিনে দেখা গেলো ৩০ কেজি আম আসার কথা বাসায় মেপে দেখবেন ২০ কেজি আছে ১০ কেজি এরা চুরি করে নিয়েছে । যারা পার্সেল নিতে
এসেছে তারা আমাকে সিমপ্যাথি জানালো । কিন্তু ওদের কেউ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিলনা । হায়রে বাংলাদেশের কুরিয়ার সার্ভিস । আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত প্রতিটি
পার্সেল এরা খুলে দেখে এবং মূল্যবান কিছু পেলেই এরা তা চুরি করে নেয় । আমি যেহেতু ভুক্তভুগি তাই সবাইকে সাবধান করে বলতে চাই মূল্যবান জিনিস কখনই
কুরিয়ার করবেন না । এরা চোর ছ্যাচড়া এবং ততোধিক নির্লজ্জ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




