somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিকেট বিড়ম্বনা ও বাংলাদেশের কুরিয়ার সার্ভিস ।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেট আনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুনে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম ।
আশা ছিল হইত সরাসরি খেলা দেখতে পারবো । কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি ।
টিকিটের চাইতে সোনার হরিণ নামক বস্তুটিই মনে হয় বেশী সুলভ ।
টিকিটের জন্য মানুষ আগের দিন , রাত থেকে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে । অনেক জায়গায় নাকি মারামারিও হয়েছে টিকিট সংগ্রহ নিয়ে ।
বাঙ্গালীরা আসলেই ক্রিকেট পাগল জাতি । যাই হোক সারারাত লাইন এ দাড়িয়ে টিকেট কাটার মতো ধৈর্য আমার ছিলনা ।
তাই বাধ্য হয়েই রণে ভঙ্গ দিলাম । সরাসরি খেলা দেখার আশাও ছেড়ে দিলাম । আমি আবার মিরপুর ২ এ থাকি । বাসার পাশেই স্টেডিয়াম ।
স্টেডিয়াম অনেক সুন্দর করে সাজানো হলো । প্রতিদিন স্টেডিয়াম এর পাশ দিয়ে যাবার সময় মনটা ভীষণ খারাপ হয় খেলা দেখতে পারবনা বলে ।
কিছু দিন পরে শুনলাম প্রথম ম্যাচের ২০০ টাকার টিকেট নাকি তিন চার হাজার টাকাই বাইরে বিক্রি হচ্ছে । এতো টাকা দিয়েও মানুষ টিকেট কিনছে ?
বেশ অবাকই হলাম । ভাবলাম দেখি একটু চেষ্টা করে কম দামে টিকিট পায় কিনা ! আমার এক পরিচিত আঙ্কেল ছিলো যিনি রাজশাহী স্টেডিয়ামে চাকরী করতেন ।
তাকে ফোন করলাম । তিনি জানালেন টিকিটতো পাওয়া যাচ্ছেনা তারপরও তিনি পেলে আমাকে জানবেন । আমি অপেক্ষায় থাকলাম যদিও মনে মনে
ধরে নিয়েছি টিকেট পাবোনা । ভার্সিটিতে ক্লাস করছি এমন সময় ওই আঙ্কেল এর ফোন । রিসিভ করতে পারলামনা । স্যারের আবার মোবাইল অ্যালার্জি আছে।
ক্লাস এ ফোন ধরা নিষিদ্ধ । ক্লাস থেকে বের হয়ে আঙ্কেলকে ফোন দিলাম তিনি জানালেন বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড ম্যাচের টিকেট পাওয়া গেছে ।
দাম ৭০০ টাকা । তিনি অনেক কষ্ট করে জোগাড় করেছেন । আমার কিনতে রাজি না হওয়ার কোন কারণ ছিলনা । আমি বললাম আমার রাজশাহীর বাসায়
পাঠিয়ে দিন সেখানেই টাকা দিয়ে দিবে । যাই হোক অবশেষে টিকিট আমার বাসায় পৌছালো ২২ তারিখ । আমিতো সেই রকম খুশি ।
বন্ধুদের বললাম দোস্ত টিকেট তো পেয়েই গেলামরে ।

আমার চাচার ঢাকায় আসার কথা ২৪ তারিখ । তারই টিকিট নিয়ে আসার কথা । কিন্তু ঝামেলা হল ট্রেনের টিকেট কাটতে গিয়ে । ২৩ ও ২৪ তারিখের কোন টিকেট নাই ।
কি আর করার ২৫ তারিখ ট্রেনের টিকেট কাটলেন । এদিকে ২৫ তারিখ খেলা । আমি বললাম কুরিয়ার করে টিকেট পাঠিয়ে দিন । সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে
২৩ তারিখ আমাকে কুরিয়ার করা হলো । ২৪ তারিখ মিরপুর ১০ শাখা থেকে আমার পার্সেলটা বুঝে নিলাম । ভিতরে দারুন উত্তেজনা কাজ করছে । যাক শেষ পর্যন্ত খেলা
দেখতে পারবো । বাসায় আসে তাড়াতাড়ি খাম খুললাম । ভিতরে একটা হলুদ কাগজ । তাই থাকার কথা কারণ আমাকে বাসা থেকে জানানো হয়েছে টিকেটটা হলুদ কাগজে
মুডিয়ে তারপর খামে ভরে পাঠানো হয়েছে । কিন্তু একি হলুদ কাগজের ভিতরে যে কিছুই নেই ! আমি আকাশ থেকে পড়লাম ।সত্যিকার অর্থেই আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি । খামটা
ভালো করে খুজলাম নাহ টিকেট নেই । বাসায় ফোন করে সব খুলে বললাম । বললাম শুধু হলুদ কাগজটাই আছে টিকেট নাই ।
আমার অবস্থা এমন যে পারলে আমি কেঁদে ফেলি ।আমার বুঝতে বাকি নেই কুরিয়ার এর লোকরা আমার টিকেট চুরি করেছে ।
আমি সুন্দরবন কুরিয়ারে ছুটে গেলাম ।ওদিকে রাজশাহীতেও যেখানে বুকিং দেওয়া হয়েছে সেখানে আমার ভাইয়া গেলো । আমি ওদের ম্যানেজারের সাথে কথা বললাম ।
সব ঘটনা শুনে তারা বলে এ ব্যাপারে তাদের নাকি কিছুই করার নাই ।
রাজশাহিতে কমপ্লেইন করেও কোন লাভ হলোনা ।তাদের কথা খামের উপর নাকি লিখা দরকার ছিল এখানে টিকেট আছে তাহলে নাকি চুরি করতে পারত না ।
আমার মেজাজ ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো । মনে হলো এরা মানুষ না কুকুরের জাত ।এদের মুখে থু থু ফেলে চলে আসতে ইচ্ছে করলো ।
কিছুই করলাম না । কি বা করার আছে ? উপস্থিত সবাইকে ব্যাপারটা বললাম । অনেকেই বলল এ ধরনের ঘটনা নাকি প্রায়ই ঘটে । একজন বলল তারও নাকি একি ঘটনা ।
আরেকজন বলল আমের সিজিনে দেখা গেলো ৩০ কেজি আম আসার কথা বাসায় মেপে দেখবেন ২০ কেজি আছে ১০ কেজি এরা চুরি করে নিয়েছে । যারা পার্সেল নিতে
এসেছে তারা আমাকে সিমপ্যাথি জানালো । কিন্তু ওদের কেউ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিলনা । হায়রে বাংলাদেশের কুরিয়ার সার্ভিস । আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত প্রতিটি
পার্সেল এরা খুলে দেখে এবং মূল্যবান কিছু পেলেই এরা তা চুরি করে নেয় । আমি যেহেতু ভুক্তভুগি তাই সবাইকে সাবধান করে বলতে চাই মূল্যবান জিনিস কখনই
কুরিয়ার করবেন না । এরা চোর ছ্যাচড়া এবং ততোধিক নির্লজ্জ ।
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×