আমি এক শিক্ষিত গাঁজাখোর বলছি
গল্পের শুরুটা হয় একটা ফোন কল দিয়ে । ক্লাস টেন এ পড়ার সময় এক রাতে ফোন কথা বলার সময় আমার ই এক বন্ধু বলে, “চল দোস্ত, তোকে আজ এক মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। আমার ক্লাস মেট ।” উল্লেখ যে, আমরা ক্লাস নাইন এ পড়ার সময় আমার বন্ধুর বাবার বদলি হয় । আর সেই সুবাদে ব্যাটা অন্য শহরে নতুন স্কুল এ ভর্তি হয় ।
তো আমি স্বাভাবিক ভাবেই তাকে বলি কল দিতে । ও বলল যে, “আমার টায় টাকা নাই, তুই কল দে ।” আমাকে নাম্বার দিল, আমি কল দিলাম । উদ্দেশ্য কনফারেন্স করার।
কল দিলাম । প্রথম বার ধরল না । এখানে বলে রাখা ভাল, রাত তখন একটা বাজে । আর পাঠকরা এটা ভেবে বসবেন না যে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হবে এজন্য আমি খুব উৎফুল্ল । স্কুল ভাল ছাত্র, ভাল বিতার্কিক, ভাল অ্যাথলেট হিসেবে আমার সুনাম ছিল । আর তাই আমার মেয়ে বন্ধুর অভাব ছিল না। তাই নতুন কোন মেয়ের সাথে কথা হবে এই ধরনের কোন চিন্তাই আমার মাঝে ছিল না।
যাই হোক । আবার চেষ্টা করলাম । এই বার ধরল । ঘুমজরিত কণ্ঠের “হ্যালো” শুনতে পেলাম । আর সেই “হ্যালো” শুনে আমি আর আমার মাঝে নেই । বিতর্ক করায় অনেক মেয়েকে দেখেছি, অনেক মেয়ের কণ্ঠই শুনেছি । কিন্তু, হটাৎ রাত একটায় এই মেয়ের কণ্ঠ আমার কেন এত ভাল লাগল আমি আজও বুঝতে পারি নি ।
যাক, কনফারেন্সে দিলাম । পরিচয় হল । তার পর থেকে মোটামুটি প্রায়ই কথা হত । মেয়েটিকে আমি তখনও দেখেনি । কিন্তু কি যে অপূর্ব ভাল লাগা ছিল তার জন্য আমি তা বলে বুঝাতে পারব না । কিন্তু প্রবল আত্মসম্মানের কারনে আমি তাকে বলি নি আমার ভাল লাগার কথা । ধীরে ধীরে এস এস সি চলে আসল । কিন্তু মেয়েটির চিন্তায় আমি তখনও পড়াশোনা কিছুই করিনি । টেস্টেও ফেইল করি । কিন্তু আগে ভাল ছাত্র ছিলাম, এজন্য আমাকে টিচাররা দয়া করে allow করে দেন। শেষ পর্যন্ত, পরীক্ষার এক মাস আগে আমি তাকে জানাই আমার ভালবাসার কথা । এর মাঝে, সে আমাকে দেখে ফেইসবুক এর কল্যাণে, কিন্তু তাকে আমার সৌভাগ্য হয় না।( যদিও পরীক্ষার পর আমি তার সাথে দেখা করতে যাই) আমি না দেখেই তাকে আমার ভাল লাগা জানিয়ে দেই । আর সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয়, মেয়েটি রাজি হয় । Dat wz the most hapiest day o’ my life. Dat day, I studied aftr a long tym wid a happy heart n light mind. আমার তখন একটাই চিন্তা যে, যে করেই হোক, আমাকে ভাল রেজাল্ট করতেই হবে আর মেয়েটির শহরে কোন একটা কলেজে ভর্তি হতে হবে । বলেই দেই, ও থাকত ঢাকায় আর আমি চট্টগ্রাম এ । আর আল্লার কি অশেষ রহমত, আমি এস এস সি তে গোল্ডেন প্লাস পেয়ে যাই । কিন্তু মা বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায়, তাঁরা আমাকে যেতে দিলেন না। ঠায় হল চট্টগ্রামের বিখ্যাত একটি কলেজে ।
যাই হোক, সম্পর্ক থাকাকালীন আমাদের মাঝে নানাবিহয় নিয়ে ঝগড়া হত। মাঝে মাঝেই তাকে রাত এ ওয়েটিং এ পেতাম । আমি বার বার কল দিচ্ছি দেখেও ফোন ধরত না। আর জিজ্ঞেস করলে বলত, খালা ফোন দিয়েছে, চাচা ফোন দিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি । তার উপর, তার প্রচুর ছেলে বন্ধু ছিল। যাদের সাথে সে most of da tym ই ফোন এ কথা বলত আর তখন যদি আমি কল দিতাম, আমার ফোন কেটে দিত। প্রথমে আমি কিছুই বলি নি । আমি ভাবতাম, ঢাকায় থাকে, আলট্রা মডার্ন, opnen minded etc etc ভেবে আমি চুপ থাকতাম। কিন্তু, সহ্য করারও একটা সীমা আছে। soh, ঝগড়া হত, কথা কাটাকাটি হত । কয়েকদিন কথা বন্ধ থাকত। কিন্তু না পেরে আমিই তাকে আবার কল দিতাম। সবকিছু ঠিক করতাম।
আমার বন্ধুরা মাঝে মাঝেই বলত যে মেয়েটি ভাল না। অনেকের সাথেই flirt করে। charectar এ প্রবলেম আছে। তুই সম্পর্ক রাখিস না হেন তেন হাবি জাবি। কিন্তু আমি কারও কথাই কানে নেই নি। আমি তাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করতাম। আর আমার এই মোহ ভাঙল একটা কল রেকর্ডিং শুনে। যেখানে, ও তার আরেক boyfrnd এর সাথে ফোন সেক্স করছে। wen I wz listenin 2 dat recordin, I wz juz nt in me. . . মনে হচ্ছিল যে, আমার পা এর নিচে কোন মাটি নেই । আমার দুনিয়া এক নিমিষেই আঁধার হয়ে যায়।
আমি সম্পর্ক রাখিনি । আর কোন মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়াইও নি। শুধু একটাই কারন, আমি এখনও ভুলতে পারিনি সেই মেয়েটিকে । হয়ত সে আমাকে ভালবাশে নি, কিন্তু আমি তো ভালবেসে ছিলাম তাকে, মন থেকে চেয়ে ছিলাম। নিখাদ ভালবাসা যাকে বলে তাই ছিল আমার মাঝে। কোন ঘাটতি ছিল না আমার ভালবাসায়। I knew dat long distance relationship doesn’t live long, bt I tried my best. . I tried heartly. . I tried soully. .
আজ আমি সমাজের চোখে শিক্ষিত গাঁজাখোর । আমি শিক্ষিত মাতাল। আর এখন একটাই প্রার্থনা, আমার মতো অসহায়, শিক্ষিত মাতাল, শিক্ষিত গাঁজাখোর যেন আর না জন্মায়। b alwz very careful abt ur luv n abt ur heart. . . .
*** প্রত্যক্ষ করা একটি ঘটনা ***

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



